• https://www.langdonparkatwestcovina.com/
  • Mbokslot
  • https://wise.wika.co.id/daftar-tamu
  • http://103.206.170.246:8080/visi/
  • https://ejeutap.edu.co/preguntas-frecuentes
  • https://slotplus777mantap.com/
  • https://www.thebraidsreleaser.com/pages/our-founders
  • https://apps.ban-pdm.id/sispena-paud/index.php/login
  • https://pmb.stkippgri-bkl.ac.id/info-prodi
  • https://pastiwin777.cfd/
  • mbokslot
  • https://solarcity.vn/mua/
  • https://wise.wika.co.id/syarat-dan-ketentuan
  • https://tbhconsultancy.com/join-us/careers/
  • https://www.langdonparkatwestcovina.com/floorplans
  • https://silancar.pekalongankota.go.id/newsilancar/
  • https://app.mywork.com.au/login
  • SLOT PULSA: Deposit Pulsa 100% Tanpa Potongan Gacor dan Slot Deposit 1000 Terpercaya
  • https://aeress.org/noticias/
  • https://aimtamagot.social//
  • https://naturf.net/ser-distribuidor/
  • https://perdami.or.id/web/perdami/1
  • https://tpfx.co.id/jurnal/
  • Mbokslot
  • http://103.81.246.107:35200/templates/itax/-/mbok/
  • https://alpsmedical.com/alps/
  • https://www.atrium.langdonparkatwestcovina.com/
  • https://elibrary.rac.gov.kh/
  • https://heylink.me/Mbokslot.com/
  • https://gentledentalharrow.co.uk/contact-us
  • https://www.capitainestudy.fr/quest-ce-que-le-mba/
  • হেরিটেজ Archives - Bhramon Online https://www.bhramononline.com/category/heritage/ Bengali Travel Tips & News | Bhraman Online Tue, 21 Oct 2025 14:54:30 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 https://www.bhramononline.com/wp-content/uploads/2018/07/cropped-logo-footer-1-1-32x32.png হেরিটেজ Archives - Bhramon Online https://www.bhramononline.com/category/heritage/ 32 32 181502987 অচেনা কলকাতা, পর্ব ৪ https://www.bhramononline.com/heritage/old-calcutta-tram-ride-heritage-lost-glory/ https://www.bhramononline.com/heritage/old-calcutta-tram-ride-heritage-lost-glory/#respond Tue, 25 Feb 2025 03:02:58 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=119587 কলকাতায় ঐতিহ্যের ট্রাম ১৫২ বছরে পদার্পণ। কলকাতায় ট্রাম ১৫২ বছরে পড়লো। সেই উপলক্ষে সম্প্রতি এসপ্ল্যানেড ডিপোতে ছিল একাধিক অনুষ্ঠান। ১৮৮০

    The post অচেনা কলকাতা, পর্ব ৪ appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    কলকাতায় ঐতিহ্যের ট্রাম ১৫২ বছরে পদার্পণ।

    কলকাতায় ট্রাম ১৫২ বছরে পড়লো। সেই উপলক্ষে সম্প্রতি এসপ্ল্যানেড ডিপোতে ছিল একাধিক অনুষ্ঠান।

    ১৮৮০ সালে ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ পথ হাঁটা শুরু করে। সেকালের চিতপুর রোডে ঘোড়ায় টানা ট্রাম লাইন বসে। প্রথম ঘোড়ায় টানা ট্রাম চলেছিল শিয়ালদা থেকে আর্মেনিয়ান ঘাট পর্যন্ত। ১৯০২ সালে বিদ্যুৎ চালিত ট্রাম শহরে চালু হয়। উত্তর কলকাতা ধরে ট্রাম যেতো বিবাদী বাগ।

    ১৮৮২ সালে বেশ কিছুদিনের জন্য বাষ্পচালিত ট্রাম আমাদের শহরে চলেছিল। খিদিরপুর-এসপ্ল্যানেড, গড়িয়াহাট-বিবাদী বাগ, বালিগঞ্জ-টালিগঞ্জ, বেলগাছিয়া-এসপ্ল্যানেড, শ্যামবাজার-এসপ্ল্যানেড রুটে ট্রামের সঙ্গে যুক্ত মানুষের কত স্মৃতি। সেই সময়ের স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ট্রাম।

    শৈশবে দুপুরে ট্রামে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরা, ৭০-এর দশকে প্রেম, নস্টালজিয়া, সঙ্গীত, রাজনীতি এই সব একটি যানকে নির্ভর করে মানুষের আবেগ সহজাতভাবে এসেছে।

    আজও ট্রামের গায়ে লেখা থাকে ‘এই গাড়ি আপনার দয়া করে যত্ন নিন।’ এক এক করে অনেকগুলো রুটের ট্রাম শহরে বন্ধ হয়েছে। সব বাধা পেরিয়ে আজো এই মন্থর গতির যান আছে। পরিবহন দপ্তর জানিয়েছেন, তারা ঐতিহ্যবাহী ট্রাম চালাতে আগ্রহী। কয়েকটি রুটে ট্রাম চলছে।

    The post অচেনা কলকাতা, পর্ব ৪ appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/heritage/old-calcutta-tram-ride-heritage-lost-glory/feed/ 0 119587
    অচেনা কলকাতা, পর্ব ২ https://www.bhramononline.com/destination/kolkata-lost-heritage-jatrapara-chitpur/ https://www.bhramononline.com/destination/kolkata-lost-heritage-jatrapara-chitpur/#respond Thu, 06 Feb 2025 05:37:14 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=119488 পর্ব ২ চিৎপুরের যাত্রাপাড়া: কলকাতা জন্মের আগে চিৎপুর রোড। সাহেবরা জানতেন এই রাস্তা ছিল তীর্থ ভ্রমণের পথ। সেকালের মানুষ এই

    The post অচেনা কলকাতা, পর্ব ২ appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    পর্ব ২

    চিৎপুরের যাত্রাপাড়া:

    কলকাতা জন্মের আগে চিৎপুর রোড। সাহেবরা জানতেন এই রাস্তা ছিল তীর্থ ভ্রমণের পথ। সেকালের মানুষ এই পথ ধরে চিত্তেশ্বরী মন্দির হয়ে কালীঘাট দর্শনে যেতেন। শোনা যায় শোভাবাজার রাজবাড়ির হাত ধরে কলকাতায় যাত্রাপালার সূচনা। এরপর শহরে যাত্রার ইতিহাস প্রায় তিনশো বছরের।

    চিৎপুর রোডের দুপাশে আজও অপেক্ষায় থাকে অপেরা হাউজের মালিকেরা। কখন আসবে বায়না নিতে। অফিসের মাথায় বাঁধানো বোর্ড। যেখানে জ্বল জ্বল করছে নাম। চারপাশে একাধিক পালার ছবি। একটার পর একটা এগোলে ম্যাজিক। দেওয়ালে পরপর সাজানো পুরনো বোর্ড। তাতে কত রকম নতুন পুরনো পালার ছবি। যাত্রাপাড়ার অমূল্য রতন!

    রথের দিন বিভিন্ন অপেরা হাউজ নতুন পালার নাম আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষনা করেন। ওইদিন যাত্রার বায়না হয়। শোনা যায়, গৌড়বঙ্গের চৈতন্য মহাপ্রভু ষোড়শ শতাব্দীতে রুক্মিণী চরিত্রে পালায় অভিনয় করেছিলেন। নাট্যাচার্য শিশির কুমার ভাদুড়ি বলতেন, আমাদের জাতীয় নাট্য বলিয়া যদি কিছু থাকে তাহাই যাত্রা।

    উচ্চ শব্দ ও চড়া আলোর ব্যবহার যখন মঞ্চে ব্যবহার হয়, দর্শকদের মধ্যে আলোড়ন ফেলে দেয়। হাততালির জোয়ার আসে। মঞ্চে নাটকীয় উপস্থাপনায় ও যাত্রার গানে মানুষের ঘোর লাগে। গ্রামে গঞ্জে উপচে পড়ে ঠাসাঠাসি ভিড়। মুখ দেখে যাত্রার মালিকেরা।

    উত্তর কলকাতার বাগবাজারে এই বছর শুরু হলো এক মাস ব্যাপী যাত্রা উৎসব। একবার যাত্রা মঞ্চে ঘুরে আসুন। যাত্রাপালা দেখে নস্টালজিক হয়ে পড়বেন। বাগবাজারের ফনিভূষণ বিদ্যাবিনোদ মঞ্চে যাত্রা উৎসব চলবে। ৬ মার্চ ‘আমি তালপাতার সেপাই’ পালা দিয়ে শেষ হবে যাত্রা উৎসব।

    (চলবে)

    The post অচেনা কলকাতা, পর্ব ২ appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/destination/kolkata-lost-heritage-jatrapara-chitpur/feed/ 0 119488
    কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে নতুন রূপে সেজে উঠতে চলেছে ডালহৌসি স্কোয়ার https://www.bhramononline.com/travel-news/b-b-d-bagh-strand-heritage/ https://www.bhramononline.com/travel-news/b-b-d-bagh-strand-heritage/#respond Tue, 28 Jan 2025 09:54:03 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=119369 কলকাতা পুরসভার হেরিটেজ বিভাগের খবর, নতুন রূপে গোটা বিবাদী বাগ অঞ্চলটি সাজিয়ে তোলা হবে। অবশ্য সাজানোর পরিকল্পনা আগেও নেওয়া হয়েছিল।

    The post কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে নতুন রূপে সেজে উঠতে চলেছে ডালহৌসি স্কোয়ার appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    কলকাতা পুরসভার হেরিটেজ বিভাগের খবর, নতুন রূপে গোটা বিবাদী বাগ অঞ্চলটি সাজিয়ে তোলা হবে। অবশ্য সাজানোর পরিকল্পনা আগেও নেওয়া হয়েছিল। তবে আধিকারিকরা জানিয়েছেন বেশ কিছু কাস্ট আয়রনের রেলিং, বেঞ্চের হাতল, বিভিন্ন বাতিস্তম্ভের অংশ খোয়া গিয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে এরমধ্যে রয়েছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ সামগ্রী।

    রাইটার্স বিল্ডিং, সেন্ট জোন্স চার্চ, লাল দীঘি, মিশন রো, জিপিও সহ সমগ্র চত্বরটি আবার সাজিয়ে তোলবার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার গোটা এলাকায় থাকবে। সরকারি সম্পত্তি যাতে রক্ষা পায় সর্বসময় সেদিকে নজরদারি থাকবে।

    বিবাদী বাগে কি দেখবেন:
    কলকাতার বিশেষ কিছু ঐতিহ্যবাহী জায়গা শীতের মরশুমে ঘুরে আসুন। গভর্নর হেস্টিংস সাজিয়ে তুলেছিলেন সাহেবদের হোয়াইট টাউন। যেহেতু সাদা চামড়ার মানুষের বাস তাই বলা হতো হোয়াইট টাউন। বিবাদী বাগ এলাকায় রাজভবন, গঙ্গা পাড়ে হেস্টিংসে সেন্ট জোন্স চার্চ, জব চার্নকের সমাধি, রাইটার্স বিল্ডিং, স্কটিশ সেন্ট অ্যান্ড্রু চার্চ, জিপিও, আরবিআই মিউজিয়াম পায়ে হেঁটে দেখে নিতে পারেন।

    দর্শনের সময়:
    সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে জায়গাগুলো ঘুরে নিন।

    The post কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে নতুন রূপে সেজে উঠতে চলেছে ডালহৌসি স্কোয়ার appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-news/b-b-d-bagh-strand-heritage/feed/ 0 119369
    বোলপুরের কাছেই গুপ্ত, পাল, সেন প্রভৃতি আমলের নিদর্শন! যেন এক সংগ্রহশালা https://www.bhramononline.com/history-and-architecture/deuli-pal-sen-period-lost-glory-ajoy-river/ https://www.bhramononline.com/history-and-architecture/deuli-pal-sen-period-lost-glory-ajoy-river/#respond Fri, 10 Jan 2025 08:19:49 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=119153 মুকুট তপাদার পর্ব ১ সপ্তাহান্তে ঘুরে আসুন, ‘ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া’। খুব দূরে নয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভরপুর বীরভূমের

    The post বোলপুরের কাছেই গুপ্ত, পাল, সেন প্রভৃতি আমলের নিদর্শন! যেন এক সংগ্রহশালা appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    মুকুট তপাদার

    পর্ব ১

    সপ্তাহান্তে ঘুরে আসুন, ‘ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া’। খুব দূরে নয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভরপুর বীরভূমের অজয় নদের পাড়ে সেনকাপুর ও দেউলী থেকে। আর ইতিহাস ভালবাসেন? তাহলে এই জায়গাগুলো ঘুরতে যাওয়ার জন্য এক বিশেষ তৃপ্তি আছে।

    অতীতের বজ্রভূমিতে ছড়িয়ে আছে একাধিক জায়গা। আর প্রাচীনকালের বজ্রভূমি হল আজকের বীরভূম। কঠিন বজ্রের মত মাটি।

    পুণ্ড্ৰ, বঙ্গ, সমতট, রাঢ়, গৌড়, হরিকেল, বরেন্দ্র এই সকল জনপদ ভৌগলিক সীমারেখা নির্দেশ করে। রাঢ় দেশে তখন বজ্রযান বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বাস। সেই বজ্রযান নাম থেকে বীরভূম। অজয়ের তীরে সেনকাপুর ও দেউলী গ্রামে বৌদ্ধ যুগের প্রমাণ পাওয়া যায়।

    শোনা যায়, রামপুরহাটের কাছে অতীতে বৌদ্ধদের মঠ ছিল। বজ্রযান বৌদ্ধদের বৌদ্ধ বিহার ও মঠ এখানকার বিভিন্ন অঞ্চলে এককালে ছড়িয়ে ছিল। কিছু প্রত্নস্থল থেকে অতীতের এইসব নিদর্শন আজও মাঝেমধ্যে মাটি খুঁড়লে বেরিয়ে আসে।

    বৌদ্ধ কাহিনী ‘দিব্যাবদান’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, বুদ্ধদেব এই সকল অঞ্চলের উপর দিয়ে ধর্মপ্রচার করেছেন। গন্তব্য ছিল অতীতের পুণ্ড্রবর্দ্ধন ও সমতট অঞ্চল। এটি জৈন ধর্মেরও এক তীর্থস্থান। জৈন তীর্থঙ্কর মহাবীর এখানকার নানা জায়গায় বাস করেছিলেন। জৈন শাস্ত্রের লেখক ভদ্রবাহুর গ্রন্থে এখানকার জৈনধর্মাবলম্বীদের কথা জানা যায়। শুধু যে পীঠস্থান বা সতীপিঠের জন্য নয়, যেন নানা ধর্মের মিলনক্ষেত্র। চীনা পন্ডিত হিউয়েন সাঙ এর ভ্রমণ বিবরণীতেও সেকথা পাওয়া যায়।

    অজয় নদের পাড়ে দেউলীতে উৎখননের ফলে একাধিক পাল ও সেন যুগের মূর্তির নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। দেউলিতে স্থানীয় পুকুর থেকে জল নিষ্কাশন ও খননের ফলে পাল ও সেন যুগের বহু মূল্যবান মূর্তি উদ্ধার হয়েছে। এখানকার স্থানীয় মন্দিরগুলোতে তাদের পুজো করা হয়। বেশিরভাগই বিষ্ণুমূর্তি। কিছু মাটির তলদেশ থেকেও উদ্ধার হয়। ঐতিহাসিক গবেষণার কাজে মূর্তিগুলি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

    পাল রাজারা ছিলেন শিল্পের অনুরাগী। দশম থেকে দ্বাদশ শতকের মধ্যে দেউলীর কারুকাজ করা পাথরের মূর্তিগুলো অনুমান করা যায়। মূর্তিগুলোতে দাঁড়িয়ে থাকা বা বসার জন্য আছে পাদপীঠ। পাল আমলের রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক। ধর্মপাল ও দেবপালের মতো রাজারা ছিলেন ধর্মীয় আচারে বৌদ্ধ। সেই সময়কার নিদর্শনও এখান থেকে পাওয়া যায়।

    দেউলিতে অজয় নদের বন্যায় ভেসে এসেছে কিছু প্রাচীন পাল যুগের মূর্তি। নদীর ধার থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। সেগুলিকে স্থানীয় মন্দিরে রেখে বর্তমানে পুজো-অর্চনা করা হচ্ছে। পুরাতত্ত্ববিদদের গবেষণায় জানা যায় যে, পাল রাজাদের প্রতিষ্ঠিত এরমধ্যে একটি দ্বিখণ্ডিত বিষ্ণুমূর্তিও এখানে পূজিত হচ্ছে।

    মন্দির গুলোর কাছ দিয়েই বয়ে গেছে অজয় নদ। কত প্রাচীন জনপদ এই নদীকে কেন্দ্র করে। কোন এক অপরাহ্ন বেলায় দাঁড়িয়ে মনে হবে, এই নদ বয়ে নিয়ে চলেছে কারো বীরত্ব বা কারো ঐতিহাসিক খ্যাতি।

    (চলবে)

    The post বোলপুরের কাছেই গুপ্ত, পাল, সেন প্রভৃতি আমলের নিদর্শন! যেন এক সংগ্রহশালা appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/history-and-architecture/deuli-pal-sen-period-lost-glory-ajoy-river/feed/ 0 119153
    পদব্রজে কলকাতা: ভাষা দিবসে উত্তরের অলিতেগলিতে ‘বর্ণপরিচয় ওয়াক’ https://www.bhramononline.com/heritage/kolkata-walk-2-a-walk-through-the-lanes-of-north-kolkata-on-the-day-of-international-mother-language-day/ https://www.bhramononline.com/heritage/kolkata-walk-2-a-walk-through-the-lanes-of-north-kolkata-on-the-day-of-international-mother-language-day/#respond Tue, 02 Mar 2021 07:02:57 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=114003 শ্রয়ণ সেন চমৎকার একটি বাড়ি। সাবেকি। লম্বা টানা রক। সবুজ খড়খড়ি আর দরজা। নামটাও তার চমৎকার– ‘চমৎকার বাড়ি।’ হাঁদাভোঁদা, বাঁটুল

    The post পদব্রজে কলকাতা: ভাষা দিবসে উত্তরের অলিতেগলিতে ‘বর্ণপরিচয় ওয়াক’ appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    শ্রয়ণ সেন

    চমৎকার একটি বাড়ি। সাবেকি। লম্বা টানা রক। সবুজ খড়খড়ি আর দরজা। নামটাও তার চমৎকার– ‘চমৎকার বাড়ি।’

    হাঁদাভোঁদা, বাঁটুল দি গ্রেট, ছবিতে রামায়ণ, ছবিতে মহাভারত – সব কিছুই এই বাড়ি থেকেই প্রকাশিত হয়। কারণ এই বাড়িতেই যে রয়েছে দেব সাহিত্য কুটিরের প্রেস। উত্তর কলকাতার ঝামাপুকুর লেনের এই বাড়িটায় এক সময়ে বরেণ্য সব মানুষের যাতায়াত লেগে থাকত। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের সেই গোলাপি মলাটের ‘বর্ণপরিচয়’ও তো পরবর্তী কালে এই বাড়ি থেকেই প্রকাশিত হয়।

    ‘বর্ণপরিচয়’-এর মধ্যে দিয়ে সংস্কৃত ভাষার অযৌক্তিক শাসনজাল থেকে বাংলা ভাষাকে মুক্ত করেন বিদ্যাসাগর। সেই সঙ্গে যুক্তি ও বাস্তবতাবোধ প্রয়োগ করে বর্ণমালাকে সংস্কার করেন তিনি। সেই কারণেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে উত্তর কলকাতা অলিতেগলিতে ঘুরিয়ে দেখানোর যে পরিকল্পনা ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’ করেছিল, তার নামকরণ হয়েছিল ‘বর্ণপরিচয় ওয়াক’।

    সংগঠনের দুই কান্ডারি – দীপ ভট্টাচার্য আর অয়ন মণ্ডল। ২০১৯ সালে এই দু’ জনের উদ্যোগে জন্ম ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’-এর। উদ্দেশ্য ছিল, নিজেরা যেমন কলকাতার সঙ্গে পরিচিত হবেন, তেমনই অন্যদেরও শহরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন। আমার সঙ্গে দু’ জনেরই পরিচয় হল গত মাসে। ২৬ জানুয়ারিও এমনই একটা হাঁটা হেঁটেছিলাম আমরা। তেমনই আজ আবার পথে। আগের বারের মতো এ বারও কোভিডের সব রকম বিধি কঠোর ভাবে মেনেই হাঁটা হয়েছে।

    প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মিলিত হয়ে হাঁটা শুরু। প্রথমে দাঁড়ানো হল সংস্কৃত কলেজের সামনে। বিদ্যাসাগর মহাশয় এই কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালীন এই কলেজের পরিচিতি বাড়ে। এই কলেজের নিয়মনীতি সংস্কার করে ১৮৫১-এর জানুয়ারিতে কায়স্থদের জন্য এবং ১৮৫৪-এর ডিসেম্বরে সব বর্ণের হিন্দুদের জন্য কলেজের দরজা খুলে দেওয়া হয়।

    এ দিনের হাঁটায় মাঝেমধ্যেই ফিরে এসেছেন বাঙালির সমাজসংস্কারের অন্যতম কান্ডারি বিদ্যাসাগর। তবে সংস্কৃত কলেজের পর আমাদের গন্তব্য ছিল উত্তর কলকাতার এক বিখ্যাত মিষ্টির দোকান, পুঁটীরাম (দোকানের সাইনবোর্ডে এই বানানই লেখা)। উদ্দেশ্য প্রাতরাশ করা। আলুর তরকারি-সহ চারটে কচুরি, নতুন গুড়ের রসগোল্লা এবং ১০০ গ্রামের এক ভাঁড় মিষ্টি দই খেয়ে ফের হাঁটা শুরু।

    কলেজ স্কোয়ারে ডেভিড হেয়ারের সমাধিস্থল, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মৃত্যু বরণ করা বাঙালি সেনাদের সৌধটি দেখে চলে এলাম উত্তর কলকাতার বিখ্যাত গলিগুলিতে। এই রাস্তাগুলোর পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। এখান দিয়ে হাঁটলে এবং বাড়িগুলোর দিকে তাকালে সময় যে কয়েক দশক পিছিয়ে যাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

    হাঁটতে হাঁটতেই এগিয়ে চলা। ঝামাপুকুর লেন দিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই চলে এল রামকৃষ্ণ সংঘ। এটা আদতে দিগম্বর মিত্রের বাড়ি, যা পরিচিত ছিল ঝামাপুকুর রাজবাড়ি হিসেবে। দাদা রামকুমারের হাত ধরে কলকাতায় পৌঁছে ঝামাপুকুর লেনের এই বাড়িতেই উঠেছিলেন গদাধর চট্টোপাধ্যায় তথা শ্রীরামকৃষ্ণ। বাড়িটি খুব ভালো ভাবে সংস্কার করা হয়েছে। ঠাকুর দালানে শ্রীরামকৃষ্ণ, জগজ্জননী সারদা দেবী এবং স্বামী বিবেকানন্দের ছবি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নিত্য পুজো হয় সেখানে।

    বাড়ির দালানে বেশ কিছুটা সময় জিরিয়ে নেওয়া গেল। ফের হাঁটা শুরু। এসে পৌঁছোলাম সেই ‘চমৎকার বাড়ি’তে।

    দেব সাহিত্য কুটির-এর বীজ বুনেছিলেন বরদাপ্রসাদ মজুমদার। কলকাতার বটতলা অঞ্চলে থাকতেন তিনি। বটতলা তখন ছিল কলকাতার প্রকাশনার এক কেন্দ্র। তাঁর যে স্বল্প সঞ্চয় ছিল তা নিয়েই তিনি আবির্ভূত হলেন পুস্তকবিক্রেতা হিসাবে। এই কাজে আয়‌ও হচ্ছিল ভালোই।

    বরদাপ্রসাদ শীঘ্র‌ই বেশ কিছু টাকা জমিয়ে নিজের একটা ছোটো প্রেস খুললেন। বরদাপ্রসাদের সেজো ছেলে আশুতোষ উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার ব্যবসার অধিকারী হলেন। সেই সময় থেকেই তিনি ডিকশনারি প্রকাশের পরিকল্পনা করেন। শীঘ্র‌ই এই ডিকশনারি প্রকাশিত হল।

    এর পর ১৯২৪ সালে তিনি বিদ্যাসাগর মহাশয়ের অনেক পাঠ্যপুস্তকের স্বত্বও কিনে নেন। তার মধ্যে অবশ্যই ছিল বর্ণপরিচয়। ওই বছর‌ই প্রতিষ্ঠিত হল ‘দেব সাহিত্য কুটির’। ব্যাবসায় লক্ষ্মী মুখ তুলে চাইলেন। প্রচুর সম্পত্তি হল আশুতোষ দেবের।

    প্রায় ৩০টি বাড়ির মালিক হলেন তিনি। ঝামাপুকুর লেনে ৫টি বাড়ি কেনেন তিনি। ২১ নম্বর লেনের বাড়ির নাম রাখলেন নিজের স্ত্রী, চমৎকার সুন্দরী দাসীর নামে – ‘চমৎকার বাড়ি’। আর তার পাশে ২১/১-এর নাম – বরদাকুটীর।

    পথ চলতে চলতে ফের বিদ্যাসাগর মশাই এসে গেলেন। সেই সূত্র ধরেই এ বার তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যাওয়া। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রথম জীবনে নিজের জন্য কোনো বাড়ি না করলেও পরে তাঁর বিপুল গ্রন্থসম্ভার রাখার জন্য ১৮৭৬-এ মধ্য কলকাতায় ২৫ বৃন্দাবন মল্লিক লেনে, অধুনা ৩৬ বিদ্যাসাগর স্ট্রিটে এক খণ্ড জমির ওপরে একটি দোতলা বাড়ি তৈরি করেন৷ জীবনের শেষ চোদ্দো বছর মাঝেমধ্যে তিনি কাটিয়েছেন এই বাড়িতে৷ এই বাড়িতেই মারা যান তিনি।

    বাড়িটিতে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। তাই সামনের বাগান ছাড়িয়ে বাড়ির ভিতরে ঢোকা গেল না। সংস্কারের কাজ শেষ হলে একদিন সবাই আসব, এই প্রতিজ্ঞা করে শেষ দফার হাঁটা শুরু হল। এ বার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রোড পেরিয়ে ঢুকলাম গড়পাড় রোডে। কিছুটা এগোতেই ডান দিকে দেখলাম এক বিদ্যালয় ভবন।

    ঢোকার দরজার ওপরে একটি ফলকে লেখা এথেনিয়াম ইনস্টিটিউশন। পাশেই রয়েছে তিন মহাপুরুষের মূর্তি। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, সুকুমার রায় এবং সত্যজিৎ রায়। ১৯১৪ সালে উপেন্দ্রকিশোর ১০০এ গড়পাড় রোডের ওপর এই বাড়িটি তৈরি করেন। এখানেই ১৯২১ সালের ২ মে জন্মগ্রহণ করেন সত্যজিৎ রায়। ঐতিহাসিক এই বাড়িটি এথেনিয়াম বিদ্যালয় কিনে নেয় ১৯৩১ সালে।

    এখানেই শেষ হল রবিবারের ‘বর্ণপরিচয় ওয়াক।’ শেষ করার আগে ফের একবার স্লোগান উঠল, ‘শহর চিনতে হলে হেঁটে দেখো বন্ধু।’ সেই সঙ্গে আওয়াজ উঠল “আসছে মাসে আবার হবে।” ‘বর্ণপরিচয় ওয়াক’ হয়তো শেষ, কিন্তু হাঁটা শেষ করছে না ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক।’ ফের রাস্তায় নামবে তারা, হয়তো সামনের মাসেই।

    আরও পড়ুন: পদব্রজে কলকাতা: অরবিন্দ, যতীন দাস, ১১-এর বিজয়ী, নেতাজি, সত্যেন বসুকে প্রণাম করে ভগৎ সিংয়ের ডেরায়

    The post পদব্রজে কলকাতা: ভাষা দিবসে উত্তরের অলিতেগলিতে ‘বর্ণপরিচয় ওয়াক’ appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/heritage/kolkata-walk-2-a-walk-through-the-lanes-of-north-kolkata-on-the-day-of-international-mother-language-day/feed/ 0 114003
    পদব্রজে কলকাতা: অরবিন্দ, যতীন দাস, ১১-এর বিজয়ী, নেতাজি, সত্যেন বসুকে প্রণাম করে ভগৎ সিংয়ের ডেরায় https://www.bhramononline.com/heritage/a-walk-through-the-north-kolkata-lanes-visiting-various-historical-places/ https://www.bhramononline.com/heritage/a-walk-through-the-north-kolkata-lanes-visiting-various-historical-places/#respond Mon, 22 Feb 2021 06:20:32 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=113969 শ্রয়ণ সেন কলকাতার মধ্যেই রয়েছে আরও একটা কলকাতা। উত্তর কলকাতার অলিতেগলিতে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। যাকে চেনার জন্য হাঁটতে

    The post পদব্রজে কলকাতা: অরবিন্দ, যতীন দাস, ১১-এর বিজয়ী, নেতাজি, সত্যেন বসুকে প্রণাম করে ভগৎ সিংয়ের ডেরায় appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    শ্রয়ণ সেন

    কলকাতার মধ্যেই রয়েছে আরও একটা কলকাতা। উত্তর কলকাতার অলিতেগলিতে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। যাকে চেনার জন্য হাঁটতে হয়। শহরের সেই ইতিহাস জানতেই সক্কাল সক্কাল বেরিয়ে পড়েছিলাম ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’-এর সঙ্গে। সাধারণতন্ত্র দিবসের সকালে কলকাতার বহু অজানা ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হতে।

    কলকাতাপ্রেমিক দুই বন্ধু অয়ন মণ্ডল আর দীপ ভট্টাচার্য। কলকাতার অলিতেগলিতে হেঁটে শহরকে নতুন করে চেনার তাগিদ দু’ জনেরই। ২০১৯ সালে এই দু’ জনের উদ্যোগে জন্ম ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’-এর। উদ্দেশ্য ছিল, নিজেরা যেমন কলকাতার সঙ্গে পরিচিত হবেন, তেমনই অন্যদেরও শহরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন।

    কোভিডের কারণে প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর ফের নতুন ভাবে হাঁটার পরিকল্পনা করল ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’। সাধারণতন্ত্র দিবসের সক্কালে। উত্তর কলকাতার গলি এবং রাজপথে লুকিয়ে থাকা কিছু ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হতে যোগ দিলাম সেই ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’-এ।

    আমাদের প্রথম গন্তব্য ছিল ১০৮ অরবিন্দ সরণি। এক কালে এই বাড়ির ঠিকানা ছিল ৪৮ নম্বর গ্রে স্ট্রিট। আলিপুর বোমা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ১৯০৮ সালের ২ মে এই বাড়ি থেকেই গ্রেফতার হন বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষ, যিনি পরিবর্তী কালে ঋষি অরবিন্দ হন। বাড়িটার রক্ষণাবেক্ষণ এত বেশি মাত্রায় হয়েছে যে ইতিহাসের সঙ্গে মেলাতেই কষ্ট হয় এখন। তবে বাড়িটির সামনে থাকা একটি ফলকই তার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা জানান দেয়।

    ফের বিধান সরণি দিয়ে হাঁটা। অভিমুখ শ্যামবাজার। এই রাস্তাটার ঐতিহাসিক গুরুত্বও অপরিসীম। এর ধারেই তো একাধিক ঐতিহাসিক বাড়ি রয়েছে। রাস্তা দিয়ে যে কত স্বাধীনতাসংগ্রামী, বিপ্লবী, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব হেঁটে গিয়েছেন, তার কোনো হিসেব নেই।

    অরবিন্দ ঘোষের পর এ বার গন্তব্য যতীন দাস। বিপ্লবী ভগৎ সিংয়ের সহকর্মী যতীন্দ্রনাথ দাস লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত হয়ে ১৯২৯ সালের ১৪ জুন গ্রেফতার হন। জেলবন্দিদের অধিকারের দাবিতে ওই বছরই ১৩ জুলাই অনশন শুরু করেন তিনি। ৬৩ দিন অনশনের পর ১৩ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে জেলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

    ‘১বি গনেন্দ্র মিত্র লেন’-এর বাড়িতে জন্মেছিলেন যতীন দাস। বাড়িটির অস্তিত্ব এখন আর নেই বললেই চলে। তবে তার সামনে যতীন দাসের একটি মূর্তি বসানো হয়েছে।

    এর পর মোহনবাগান লেনে ঢুঁ মারলাম। ১৯১১ সালে সবুজমেরুনের সেই বিখ্যাত আইএফএ শিল্ড জয় স্মরণে এখানে সেই দলের ১১ জনেরই মূর্তি রয়েছে। মোহনবাগান ক্লাবের বীজ বপন হয়েছিল এই সব অলিগলির মধ্যেই। বিধান সরণিতে এসে ফের হাঁটা শুরু। তবে এ বার উলটো পথে।

    থমকালাম ‘লক্ষ্মীনারায়ণ সাউ অ্যান্ড সন্স’-এর সামনে। দোকানকে ঘিরে রেখেছেন নেতাজি। জানা যায়, কলেজে পড়াকালীন সুভাষচন্দ্র বসু এই দোকানটিতে নিয়মিত আসতেন বিকেলবেলা। পেঁয়াজি আর আলুর চপ, সঙ্গে অল্প মুড়ি নাকি তাঁর খুব প্রিয় ছিল। প্রতি বছর নেতাজির জন্মদিনে বিনামূল্যে সবাইকে তেলেভাজা খাওয়ানো হয় এখানে। কোভিডের আবহেও সেই ধারা এ বারও বহাল ছিল এখানে।

    এ বার গন্তব্য ২২ নম্বর ঈশ্বর মিল লেন। এই বাড়িতেই জন্মেছিলেন বিশ্বখ্যাত এক বিজ্ঞানী। আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে যৌথ ভাবে যিনি কাজ করেছিলেন, যা পরবর্তী কালে পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার বলে বিবেচিত হয়। হ্যাঁ, উত্তর কলকাতার এই বিখ্যাত গলিতে এই বাড়িতেই থাকতেন বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু।

    যে হেতু এক বছর পর নতুন করে হাঁটার এই ব্যাপারটা চালু করা হয়েছে, আর এখনও কোভিডের চোখরাঙানি যথেষ্টই রয়েছে, তাই সংগঠকরা বলেই দিয়েছিলেন দেড়-দু’ ঘণ্টার বেশি হাঁটা হবে না। অলিগলি দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কখন যে সময় পেরিয়ে গেল তা বুঝতেই পারিনি। তবে শেষ মুহূর্তে আরও একটি চমক অপেক্ষা করছিল।

    আর্যসমাজ মন্দির। আজকের ঠিকানা ১৯ নম্বর বিধান সরণি। এক দিকে আর্যকন্যা উচ্চ বিদ্যালয়। অন্য পাশে হার্ডিঞ্জ হল। এই বাড়িটা আজও যে কোনো ভারতীয়ের কাছে আবেগের, শ্রদ্ধার। ১৯২৭-এর ১৭ ডিসেম্বর ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার জন স্যান্ডারসকে হত্যা করে ছদ্মবেশে কলকাতায় পালিয়ে আসেন ভগৎ সিং। উঠেছিলেন এই আর্যসমাজ মন্দিরে।

    কলকাতা ছাড়ার আগে আর্য সমাজ মন্দিরের প্রহরী তুলসীরামকে নিজের থালা এবং লোটা দিয়ে যান ভগৎ সিং।জানা যায় যে তুলসীরাম সম্ভবত ওই অসামান্য সামগ্রীর মর্মই বোঝেননি। তিনি সেটা নিজের কাছেই রেখে দিয়েছিলেন এবং পরে সেগুলোর আর কোনো হদিশ পাওয়া যায়নি।

    ভগৎ সিং খ্যাত এই বাড়িতে এসেই আজকের মতো শেষ হল ‘রিপাবলিক ডে ওয়াক।’ একটা গ্রুপ ছবির মধ্যে দিয়ে শেষ হল ইভেন্ট। সেই সঙ্গে স্লোগান উঠল, “শহর চিনতে হলে, হেঁটে দেখো বন্ধু।”

    তাঁদের নানা রকম উদ্যোগের কথা বলছিলেন দীপ এবং অয়ন। ভবিষ্যতে এই ধরনের আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান দু’জনেই। ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’-এর ফেসবুক পেজে নজর রাখলেই সব তথ্য পাওয়া যাবে। তবে একটা ব্যাপারে নিশ্চিত, আমি কিন্তু এই সঙ্গ আর ছাড়ছি না।

    ছবি: লেখক

    আরও পড়ুন: কলকাতা দর্শন: দেখে আসুন ‘রাজ-এর তাজ’ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল

    The post পদব্রজে কলকাতা: অরবিন্দ, যতীন দাস, ১১-এর বিজয়ী, নেতাজি, সত্যেন বসুকে প্রণাম করে ভগৎ সিংয়ের ডেরায় appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/heritage/a-walk-through-the-north-kolkata-lanes-visiting-various-historical-places/feed/ 0 113969
    কলকাতা দর্শন: দেখে আসুন ‘রাজ-এর তাজ’ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল https://www.bhramononline.com/heritage/kolkata-tour-pay-a-visit-to-victorial-memorial/ https://www.bhramononline.com/heritage/kolkata-tour-pay-a-visit-to-victorial-memorial/#respond Sat, 02 Jan 2021 12:16:01 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=113674 ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: কলকাতা মহানগরীর বহু দ্রষ্টব্যের পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। তেমনই একটি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল। ব্রিটিশ ভারতে রানি ভিক্টোরিয়ার

    The post কলকাতা দর্শন: দেখে আসুন ‘রাজ-এর তাজ’ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: কলকাতা মহানগরীর বহু দ্রষ্টব্যের পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। তেমনই একটি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল। ব্রিটিশ ভারতে রানি ভিক্টোরিয়ার স্মৃতিতে তৈরি হয়েছিল এই স্মারক। করোনাভাইরাস সংক্রমণের জেরে দেশ জুড়ে লকডাউন শুরু হতেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। ১০ নভেম্বর এই স্মৃতিসৌধ আবার খুলেছে।

    ইতিহাস

    ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতায় এ রকম একটি চোখধাঁধানো স্মৃতিসৌধ নির্মাণের চিন্তা প্রথম মাথায় আসে ভাইসরয় লর্ড কার্জনের। ভারতে ইংল্যান্ডের রানি ভিক্টোরিয়ার শাসনকালকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য কার্জন এর পরিকল্পনা করেন। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর রানি ভিক্টোরিয়া ভারতের শাসনকর্তা হন। আমৃত্যু তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন, ১৯০১ সালে তিনি মারা যান। কার্জন চেয়েছিলেন রানি ভিক্টোরিয়াকে উৎসর্গ করা এই সৌধটি হবে বিশাল প্রশস্ত রাজকীয় এবং থাকবে একটি মনোরম উদ্যান। ১৯০৬ সালে সৌধের শিলান্যাস করেছিলেন প্রিন্স অফ ওয়েলস পঞ্চম জর্জ। ১৯৩৫ সালের গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া আইন অনুসারে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালকে জাতীয় গুরুত্বের প্রতিষ্ঠান হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

    স্থাপত্য

    ৫৭ একর জমির উপর তৈরি এই শ্রদ্ধাজাগানো অনন্য সৌধটির নকশা করেন রয়্যাল ইনস্টিটিউট অফ ব্রিটিশ আর্কিটেকচার–এর প্রেসিডেন্ট স্যার উইলিয়াম এমারসন। ইন্দো-ব্রিটিশ স্থাপত্যের সব চেয়ে সুন্দর নিদর্শন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। এই স্মৃতিসৌধকে ‘রাজ-এর তাজ’ নামে অভিহিত করা হয় অর্থাৎ ব্রিটিশরাজের আমলে তৈরি তাজমহল। ইন্দো-স্যার‍্যাসেনিক শৈলীতে তৈরি এই সৌধে রয়েছে মিশরীয়, ভেনেশীয়, মুঘল ও অন্যান্য ইসলামি শৈলীর ছোঁয়া। শিল্পকলার সম্পূর্ণ চারটি বিপরীত ক্ষেত্র, স্থাপত্য, ভাস্কর্য, চিত্রকলা এবং উদ্যানশিল্পের নজিরবিহীন মেলবন্ধন ঘটেছে এই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে। ১৮৪ ফুট উঁচু এই সৌধ নির্মাণ করা হয়েছিল মকরনার শ্বেতপাথর দিয়ে। রাজস্থানের জোধপুর থেকে এই পাথর নিয়ে আসা হয়েছিল।

    উদ্যান

    ব্রোঞ্জের সিংহাসনে উপবিষ্ট রানি ভিক্টোরিয়ার ব্রোঞ্জ মূর্তি।

    ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের উদ্যানে রয়েছে অসংখ্য ভাস্কর্য। মেমোরিয়ালে প্রবেশের মুখেই রয়েছে ব্রোঞ্জের সিংহাসনে উপবিষ্ট রানি ভিক্টোরিয়ার ব্রোঞ্জ মূর্তি। উদ্যানে ঘুরলে দেখতে পাবেন সপ্তম এডোয়ার্ড, লর্ড কার্জন, লর্ড হেস্টিংস এবং লর্ড ডালহৌসির মূর্তি। রূপক বর্ণনা করা হয়েছে এমন প্রচুর ভাস্কর্য রয়েছে এই উদ্যানে, যেমন – মাতৃত্ব, স্থাপত্য, বিচার, শিক্ষা ইত্যাদি।

    গ্যালারি ও প্রদর্শিত বস্তু

    মিউজিয়ামের ৯টি গ্যালারিতে ২৮৩৯৪টি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছে। এই সব শিল্পকর্মে ধরা হয়েছে আমাদের জাতির তিন শতকের বেশি সময়ের ইতিহাস, যার শুরু ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে। এই সব শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে তেলরঙ ও জলরঙে আঁকা চিত্রকলা, স্কেচ ও পেন্সিল ড্রয়িং, লিথোগ্রাফ, আলোকচিত্র, তাম্রফলকে খোদাই, বিরল গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপি, স্ট্যাম্প ও ডাক বিভাগের নানা স্টেশনারি, মুদ্রা ও পদক, অস্ত্রশস্ত্র, ভাস্কর্য, কস্টিউমস, ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন এবং সংরক্ষণযোগ্য দলিলপত্র।

    জোহান জোফানি, জোশুয়া রেনোল্ডস, উইলিয়াম হজেস, জর্জ চিনারি, রবার্ট হোলমস, টমাস হিকি, টিলি কেট্‌ল, বালৎজার সোলভিনস, চার্লস ডি ওলি, এমিলি ইডেন, জন ফ্লেমিং এবং স্যামুয়েল ডেভিসের মতো অষ্টাদশ ও উনিশ শতকের নামকরা শিল্পীদের চিত্রকলার সংগ্রহ রয়েছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মিউজিয়ামে। বিখ্যাত কাকা-ভাইপো শিল্পীজুটি টমাস ও উইলিয়াম ড্যানিয়েলের চিত্রকলার সব চেয়ে বেশি সংগ্রহ রয়েছে এই মিউজিয়ামে। একটিমাত্র ক্যানভাসে আঁকা পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম চিত্রকলা রয়েছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সংগ্রহে। এটি রুশ শিল্পী ভাসালি ভেরেস্তশাগিনস-এর আঁকা। ১৮৭৬ সালে প্রিন্স অফ ওয়েলস-এর জয়পুর আগমন উপলক্ষ্যে যে মিছিল হয়, সেই মিছিলই এই চিত্রকলার বিষয়বস্তু।

    রাতের ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। ছবি পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের সৌজন্যে।

    এ ছাড়াও ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সংগ্রহে রয়েছে ফারসি ভাষায় লেখা নানা পাণ্ডুলিপি – যেমন, সম্রাট আওরঙ্গজেবের হাতে লেখা সচিত্র কোরান, আবুল ফৈজ ফৈজির করা নল-দময়ন্তী কাহিনির অনুবাদ, দারাশিকোর করা উপনিষদের অনুবাদ, আইন-ই আকবরি ইত্যাদি। এ ছাড়াও রয়েছে টিপু সুলতানের ব্যক্তিগত ডায়েরি, পলাশির যুদ্ধে ব্যবহৃত কামান ও কামানের গোলা,  মহারাজ রণজিৎ সিংয়ের ব্যক্তিগত তলোয়ার, তাঁতিয়া টোপির ওভারকোট ইত্যাদি।      

    ইদানীং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সংগ্রহ আরও সমৃদ্ধ হয়েছে রবীন্দ্রনাথ, গগনেন্দ্রনাথ, যামিনী রায়-সহ বেঙ্গল স্কুল অফ আর্টের বিভিন্ন শিল্পীর প্রায় ৫০০ শিল্পকলা রবীন্দ্রভারতী সোসাইটির কাছ থেকে আসায়।  

    ৯টি গ্যালারিতে এই সব শিল্পকলা প্রদর্শিত হচ্ছে –

    দ্য রয়্যাল গ্যালারি, এনট্রান্স হল, পোর্ট্রেট গ্যালারি, দ্য কুইন্‌স হল, দ্য প্রিন্স হল, ন্যাশনাল লিডার্স গ্যালারি, ইন্ডিয়ানস স্কুল্‌স অফ আর্ট, ক্যালকাটা গ্যালারি এবং দরবার হল।

    দর্শনের সময়

    গ্যালারিতে প্রবেশের সময়

    সোমবার ও জাতীয় ছুটির দিন ছাড়া অন্যান্য দিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা।

    উদ্যানে প্রবেশের সময়

    প্রতি দিন সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা। কোনো দিন বন্ধ নয়।  

    গোধূলির আলোয় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল।

    টিকিটের হার

    গ্যালারিতে প্রবেশের জন্য

    ভারতীয়দের ক্ষেত্রে জনপ্রতি ২০ টাকা, বিদেশিদের জন্য জনপ্রতি ২০০ টাকা। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের (স্কুল ইউনিফর্ম পরা থাকতে হবে) এবং সেনাকর্মীরা বিনা টিকিটে প্রবেশ করতে পারবেন।

    উদ্যানে প্রবেশের জন্য

    ভারতীয়দের ক্ষেত্রে মাথাপিছু ২০ টাকা। ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য বার্ষিক ১০০০ টাকা এবং অন্যদের ক্ষেত্রে বার্ষিক ২০০০ টাকা।

    টিকিট কাউন্টার খোলা থাকে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত। কাউন্টার থেকে টিকিট কেনা ছাড়া অনলাইনেও টিকিট কেনা যায় http://www.victoriamemorial-cal.org/ থেকে।  

    করোনাবিধি

    ৫০০ জনের বেশি দর্শনার্থীকে উদ্যানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না আর মিউজিয়ামে সর্বাধিক ২০০ দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন।  

    মাস্ক ছাড়া মিউজিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে চলতে হবে। দর্শনার্থীদের স্যানিটাইজ করা হবে এবং থার্মাল স্ক্রিনিং করে ঢোকানো হবে।    

    কিছু পরামর্শ

    মূল ভবনের ভিতরে ছবি তোলা নিষিদ্ধ।

    যাঁরা শুধু ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের উদ্যানে ঘুরে বেড়াতে চান, তাঁদের জন্য আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা আছে। টিকিট কাউন্টারে খোঁজ করলেই বলে দেবে।

    অতিরিক্ত আকর্ষণ

    ঘোড়ার গাড়ি চেপে ময়দান ঘুরে নিতে পারেন।

    ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের উত্তর দিকে মূল ফটকের কাছেই দাঁড়িয়ে থাকে অনেক সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়ি। আপনাকে কলকাতার ময়দান এলাকায় জয়রাইড করানোর জন্য তারা প্রস্তুত। ঘোড়ার গাড়ি চেপে ময়দান ঘুরে নিতে পারেন, একটা অন্য অভিজ্ঞতার স্বাদ পাবেন। এক সময়ে এই ঘোড়ার গাড়িই ছিল ‘সিটি অফ জয়’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন। বেশ কয়েক দশক আগে মহানগরীতে ঘোড়ার গাড়ির যাত্রা কেমন ছিল তা অনুভব করতে একটা জয়রাইড করে নিতেই পারেন।

    আরও পড়ুন: কলকাতা দর্শন: দেখে আসুন সেন্ট পল্‌স ক্যাথিড্রাল 

    The post কলকাতা দর্শন: দেখে আসুন ‘রাজ-এর তাজ’ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/heritage/kolkata-tour-pay-a-visit-to-victorial-memorial/feed/ 0 113674
    কলকাতা দর্শন: দেখে আসুন সেন্ট পল্‌স ক্যাথিড্রাল https://www.bhramononline.com/heritage/kolkata-tour-pay-a-visit-to-st-pauls-cathedral/ https://www.bhramononline.com/heritage/kolkata-tour-pay-a-visit-to-st-pauls-cathedral/#respond Sat, 26 Dec 2020 12:21:00 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=113615 ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: কলকাতা মহানগর এক সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্র। নানা ধর্ম,  নানা জাতির মিলনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠেছে এই শহর। প্রায় সব ধর্মের

    The post কলকাতা দর্শন: দেখে আসুন সেন্ট পল্‌স ক্যাথিড্রাল appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: কলকাতা মহানগর এক সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্র। নানা ধর্ম,  নানা জাতির মিলনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে উঠেছে এই শহর। প্রায় সব ধর্মের উপাসনাস্থল রয়েছে তিলোত্তমা কলকাতায়। আর সেই সব উপাসনাস্থল বহন করে চলেছে এক ঐতিহ্য যা জুড়ে গিয়েছে কলকাতার ইতিহাসের সঙ্গে। পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমী মানুষের কাছে মহানগরীর এই সব দ্রষ্টব্য বিরাট আকর্ষণের। এমনই একটি উপাসনাস্থল হল সেন্ট পল্‌স ক্যাথিড্রাল।           

    ইতিহাস

    এই গির্জার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঔপনিবেশিক ইতিহাস। শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, স্থাপত্যের দিক থেকেও এর গুরুত্ব অপিরিসীম।

    ইন্দো-গথিক স্থাপত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন এই গির্জা। এটি কলকাতার বৃহত্তম ক্যাথিড্রাল। ভারতের অন্যতম প্রধান ক্যাথলিক গির্জা। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনস্থ যতগুলি দেশ ছিল তার মধ্যে ভারতের এই কলকাতা শহরেই প্রথম তৈরি হয় এই ক্যাথিড্রাল।

    ১৮১৯ সালে তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মার্কুইস অফ হেস্টিংস-এর অনুরোধে সামরিক ইঞ্জিনিয়ার উইলিয়াম নেয়ারন ফোর্বস এই গির্জার নকশা তৈরি করেন। সেই নকশা অনুযায়ী ক্যাথিড্রাল নির্মাণ অত্যন্ত খরচসাপেক্ষ বলে এ ব্যাপারে আরও এগোনো হয়নি। ১৮৩২ সালে বিশপ ড্যানিয়েল উইলসনের উদ্যোগে ক্যাথিড্রাল নির্মাণের প্রকল্প পুনরায় গৃহীত হয়। বিশপের অনুরোধে উইলিয়াম নেয়ারন ফোর্বস আবার নকশা প্রস্তুত করেন। নরউইচ ক্যাথিড্রালের আদলে সেন্ট পল্‌স গির্জার টাওয়ার ও মোচাকৃতি চূড়াটির রূপদানে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন স্থপতি সি কে রবিনসন। ১৮৩৯ সালের ৮ অক্টোবর ক্যাথিড্রালের শিলান্যাস হয় এবং ঠিক ৮ বছর পরে ওই গির্জা সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এই ক্যাথিড্রাল প্রাচ্যের প্রথম এপিসকোপাল চার্চের মর্যাদা পায়।        

    সেন্ট পল্‌স ক্যাথিড্রালের উপাসনাগৃহ।

    এই গির্জা তৈরি করতে খরচ হয়েছিল ৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ৬৬৯ টাকা। ভারতের আবহাওয়ার উপযোগী করে ইন্দো-গথিক শৈলীতে নির্মিত এই গির্জা দৈর্ঘ্যে ২৪৭ ফুট, প্রস্থে ৮১ ফুট, উচ্চতায় ২০১ ফুট। ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে গির্জার চূড়াটি ভেঙে পড়ে, পরে এর পুনর্নিমাণ করা হয়। ১৯৩৪-এর ভূমিকম্পে ফের মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই গির্জা। ক্যানটারবেরি ক্যাথিড্রালের সেন্ট্রাল বেল হ্যারি টাওয়ারের অনুকরণে ১৯৩৮-এ গড়ে ওঠে চুড়ো।

    কী দেখবেন

    সেন্ট পল্‌স ক্যাথিড্রাল তৈরি হয়ে যাওয়ার পর একে ইংল্যান্ডের নরউইচ ক্যাথিড্রালের সঙ্গে তুলনা করা হত।

    ১৮৪৭ সালের ৮ অক্টোবর যথাবিহিত উপাসনার জন্য ক্যাথিড্রালকে উৎসর্গ করা হয়। এই উৎসর্গ অনুষ্ঠান স্মরণীয় করে রাখার জন্য রানি ভিক্টোরিয়া রুপোর গিলটি দশটি পাত পাঠিয়েছিলেন। ক্যাথিড্রালের ভল্টেড ছাদ, ধনুকাকৃতি অপ্রশস্ত তীক্ষ্ণাগ্র জানলা, পুব দেওয়ালের রঙবেরঙের কারুকার্য, পশ্চিম দিকের জানলাটিতে ১৮৮০ সালে লর্ড মেয়োর সম্মানে স্যার এডওয়ার্ড বার্ন জোন্‌স-এর নকশা করা রঞ্জন (স্টেনড) কাচে সূর্যাস্তে সূর্যালোকের প্রতিফলন মনোহর। আর ফ্লরেন্টাইন রেনেসাঁ স্টাইলের ফ্রেস্কো দু’টি অনবদ্য। টাওয়ারে রয়েছে পাঁচটি ঘড়ি। সেন্ট পলের জীবনের বিভিন্ন মুহূর্ত, যেমন ‘দ্য অ্যানানশিয়েশন’, ‘দ্য অ্যাডোরেশন অফ দ্য ম্যাজাই’, ‘দ্য ফ্লাইট ইনটু ইজিপ্ট’ ইত্যাদি খোদিত আছে ক্যাথিড্রালের দেওয়ালে। এ সবই স্যার আর্থার ব্লুমফিল্ডের কাজ। ক্যাথিড্রালের পুব দিকের দেওয়ালে সেন্ট পলের জীবনচিত্র আঁকা আছে। এ-ও ব্লুমফিল্ডের আঁকা। লন্ডনের হেনরি উইল্‌স অ্যান্ড সন্‌স-এর তৈরি অর্গানটিও দেখার। এটি এখনও ব্যবহার করা হয়।

    কলকাতার দ্বিতীয় বিশপ হিবারের অনবদ্য একটি মূর্তি এই ক্যাথিড্রালে রয়েছে। দ্বিতীয় বিশপের ‘হাঁটু মুড়ে বসে থাকা’ সেই ভাস্কর্য তৈরি করেন ভাস্কর ফ্রান্সিস লেগ্যাট চ্যান্ট্রে।

    গথিক শৈলীর জানলা।

    ক্যাথিড্রাল চত্বরে পশ্চিম দেহলির পাশেই রয়েছে একটি লাইব্রেরি। বিশপ উইলসনের উদ্যোগে এই লাইব্রেরি তৈরি করা হয়। এখানে বিশপ উইলসনের একটি ভাস্কর্যও রয়েছে। প্লাস্টিক শিল্পকলা এবং স্মারকদ্রব্যের একটি প্রদর্শশালাও রয়েছে।  

    ক্যাথিড্রালের পাশেই রয়েছে বিশপ্‌স হাউস, অনবদ্য স্থাপত্যশৈলীর আরও এক নিদর্শন। ক্যাথিড্রালের বাগানটিও দেখার মতো। এই উদ্যানে ৬৪ প্রজাতির গাছ আছে।

    বিশপ ড্যানিয়েল উইলসন, অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি স্যার জন প্যাক্সটন নরম্যান, ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ার আর্থার উইলিয়াম গার্নেট প্রমুখকে এই সেন্ট পলস ক্যাথিড্রালে সমাধিস্থ করা হয়। গির্জা সংলগ্ন সমাধিস্থলে এঁদের সমাধি রয়েছে।

    কোথায় এই গির্জা, কী ভাবে যাবেন  

    এটি কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের পূর্বে ময়দানের দক্ষিণ প্রান্তে ক্যাথিড্রাল রোডে অবস্থিত। ক্যাথিড্রালের এক পাশে রয়েছে বিড়লা প্ল্যানেটেরিয়াম ও অন্য পাশে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস।

    ময়দান মেট্রো স্টেশন থেকে হেঁটে চলুন। হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন-সহ কলকাতার প্রায় সব জায়গা থেকেই বাস আসে। বিড়লা প্ল্যানেটেরিয়াম স্টপে নেমে একটু হেঁটেই ক্যাথিড্রাল। হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা স্টেশন বা কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বাস, ট্যাক্সি বা গাড়ি ভাড়া করেও আসতে পারেন।  

    উপাসনাবেদী।

    দর্শনের সময়

    জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রবেশাধিকার রয়েছে এই সেন্ট পলস ক্যাথিড্রালে। সাধারণত সকাল ৯টা থেকে ১২টা এবং বিকেল ৩টে থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত খোলা এই গির্জা। রবিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত খোলা। তবে করোনা অতিমারি পরিস্থিতির জন্য এখন কিছু বিধি মেনে চলা হচ্ছে। ক্যাথিড্রালের সামনেই লেখা রয়েছে অতিমারি সংক্রান্ত বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ। উত্তরের স্যার উইলিয়াম প্রেন্টিস মেমোরিয়াল গেট দিয়ে ক্যাথিড্রালে প্রবেশ করতে হয়।

    আরও পড়ুন: কলকাতা দর্শন: দেখে আসুন ট্রাম মিউজিয়াম ‘স্মরণিকা’

    The post কলকাতা দর্শন: দেখে আসুন সেন্ট পল্‌স ক্যাথিড্রাল appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/heritage/kolkata-tour-pay-a-visit-to-st-pauls-cathedral/feed/ 0 113615
    কলকাতা দর্শন: দেখে আসুন ট্রাম মিউজিয়াম ‘স্মরণিকা’ https://www.bhramononline.com/heritage/kolkata-tour-pay-a-visit-to-smaranika-tram-museum/ https://www.bhramononline.com/heritage/kolkata-tour-pay-a-visit-to-smaranika-tram-museum/#respond Sat, 19 Dec 2020 09:12:14 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=113550 শুভদীপ রায় চৌধুরী তিলোত্তমা, আমার গর্বের কলকাতা। কলকাতার ঐতিহ্য আর ইতিহাস তিলোত্তমাকে আরও গরবিনী করে। বলা বাহুল্য এই শহরের প্রতিটি

    The post কলকাতা দর্শন: দেখে আসুন ট্রাম মিউজিয়াম ‘স্মরণিকা’ appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    শুভদীপ রায় চৌধুরী

    তিলোত্তমা, আমার গর্বের কলকাতা। কলকাতার ঐতিহ্য আর ইতিহাস তিলোত্তমাকে আরও গরবিনী করে। বলা বাহুল্য এই শহরের প্রতিটি প্রান্তে আজও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ঐতিহ্য। প্রতিটি কলকাতাপ্রেমীর উচিত নিজের প্রাণের শহরকে আরও ভালো ভাবে চেনা এবং সেই ঐতিহ্য-ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য চেষ্টা করা।

    এই বাঁচিয়ে রাখার কাজে এগিয়ে এসেছে কলকাতার ট্রাম সংগঠন। তারা তৈরি করেছে এক অসাধারণ সংগ্রহশালা, যেখানে গেলে আপনি পৌঁছে যাবেন পুরোনো দিনের কলকাতায়, আর ট্রামে বসে বসে চায়ে চুমুক দিতে দিতে উপভোগ করবেন পুরোনো কলকাতার গন্ধ।

    ঘোড়ায় টানা ট্রাম।

    কোথায় এই মিউজিয়াম, কী ভাবে যাবেন

    এই ট্রাম মিউজিয়াম রয়েছে ধর্মতলার ট্রাম ডিপোয়। বাসে কলকাতা শহরের ধর্মতলা মোড়ে নেমে হেঁটে চলে যান সেখানে। হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদা স্টেশন এবং কলকাতার প্রায় সব অঞ্চল থেকে বাস আসে ধর্মতলায়। এ ছাড়া মেট্রোয় ধর্মতলা আসতে চাইলে নামতে হবে এসপ্লানেড স্টেশনে। কলকাতায় নবাগত হলে বা শহরের পথঘাট খুব চেনা না হলে ধর্মতলায় বাস থেকে নেমে যে কাউকে বলুন, তিনি ধর্মতলার ট্রাম ডিপোর পথ বলে দেবেন।

    দর্শনের সময় ও দর্শনী

    ট্রাম মিউজিয়াম খোলা থাকে দুপুর ১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার বন্ধ। টিকিটের হার জনপ্রতি ২০ টাকা।

    কোভিড আবহে নিয়মকানুন

    করোনা-আবহে মিউজিয়াম দর্শনে কিছু নিয়ম পালন করতে হচ্ছে। মাস্ক পরে প্রবেশ বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া ১০ জনের বেশি এক সঙ্গে সংগ্রহশালায় প্রবেশ করা যাবে না।

    কী দেখবেন মিউজিয়ামে

    কলকাতায় ট্রামের বয়স হল প্রায় দেড়শো বছর। ট্রামের এই ইতিহাস সর্বজনের কাছে তুলে ধরার জন্য ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি এই অভিনব মিউজিয়াম তৈরি করে। ২০১৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর এর উদ্বোধন হয়। ট্রাম সংগঠন এই সংগ্রহশালার নাম দিয়েছে ‘স্মরণিকা’।

    এক কামরার এসি ট্রাম।

    সব থেকে অভিনব বিষয়টি হল এই সংগ্রহশালা একটি ট্রামের মধ্যেই অবস্থিত। দু’ কামরাবিশিষ্ট একটি ট্রামের প্রথম কামরাটি ক্যাফেটেরিয়া আর দ্বিতীয় কামরাটি সংগ্রহশালা। এটিই দেশের একমাত্র ট্রাম মিউজিয়াম।

    এখানে রয়েছে অসংখ্য ঐতিহাসিক উপাদান। পুরোনো কলকাতার ছবি থেকে শুরু করে ট্রামের বিবর্তনের ইতিহাস, সব কিছুই হাতের মুঠোয় পেয়ে যাবেন ‘স্মরণিকা’ ট্রাম মিউজিয়ামে গেলে।

    ১৮৭৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতায় ট্রাম চালু হয়। এই মিউজিয়ামে পৌঁছোলেই দেখতে পাবেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখের স্মৃতিচারণ। এ ছাড়া ‘স্মরণিকা’য় রয়েছে বিভিন্ন সময়ে ব্যবহৃত ট্রামের মডেল – ঘোড়ায় টানা ট্রাম থেকে শুরু করে ১৮৮২ সালের স্টিম ইঞ্জিন, তার পর ১৯০৩ সালে শুরু হওয়া বিদ্যুৎচালিত ট্রাম এবং শেষ কালে হাল আমলের এসি ট্রাম। কন্ট্রোলার টপ কভার, পয়েন্ট বার, কয়েন এক্সচেঞ্জার — নানা সময়ে ব্যবহৃত ট্রামের যন্ত্রাংশ ছাড়াও আগ্রহীরা ‘স্মরণিকা’য় দেখতে পাবেন ট্রামের পুরোনো মাসিক ও দৈনিক টিকিট, ট্রামকর্মীদের উর্দি-ট্রেনিং ব্যাজ-টুপি-বোতাম, ট্রেজারিতে রাখা প্রাচীন মুদ্রা প্রভৃতি।

    ক্যাফেটেরিয়া।

    কলকাতার শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে ট্রাম অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এই সংগ্রহশালায় রয়েছে বিভিন্ন সময়ে রুট বদলের টিকিট থেকে শুরু করে ১৯৩১ সালে নোনাপুকুর ট্রামডিপোয় রাখা #৫৬৭নং ট্রামের মডেল। এই ট্রামটি ২০১৩-য় ব্যবহৃত হয়েছিল ‘ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সি’ ফিল্মে। তাই ট্রাম মিউজিয়ামেও মডেলটি বর্ণনার শিরোনামে রয়েছে ‘ব্যোমকেশ বক্সি ট্রামকার’।

    আপনিও পৌঁছে যান ‘স্মরণিকা’য় আর শীতকালের আমেজ উপভোগ করতে করতে জেনে নিন কলকাতার ট্রামের ইতিহাসের কথা। আর ক্যাফেটেরিয়ায় গরম চা বা কফিতে চুমুক দিতে ভুলবেন না।

    আরও পড়ুন: সমস্ত গাড়িতে ‘ফাসট্যাগ’ বাধ্যতামূলক ১ জানুয়ারি থেকে, না থাকলে গুনতে হতে পারে দ্বিগুণ টোলট্যাক্স

    The post কলকাতা দর্শন: দেখে আসুন ট্রাম মিউজিয়াম ‘স্মরণিকা’ appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/heritage/kolkata-tour-pay-a-visit-to-smaranika-tram-museum/feed/ 0 113550
    কলকাতা থেকে সড়কপথে: কবিগুরুর শান্তিনিকেতন https://www.bhramononline.com/heritage/road-journey-from-kolkata-to-santiniketan/ https://www.bhramononline.com/heritage/road-journey-from-kolkata-to-santiniketan/#respond Mon, 27 Jul 2020 06:49:17 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=112790 রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন তো ঘুরে দেখবেনই। কিন্তু শান্তিনিকেতনে যাওয়ার আরও এক আনন্দ প্রকৃতিকে নিবিড় ভাবে কাছে পাওয়া।

    The post কলকাতা থেকে সড়কপথে: কবিগুরুর শান্তিনিকেতন appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    ভ্রমণঅনলাইন ডেস্ক: করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতির মোকাবিলায় আমরা শারীরিক আর মানসিক ভাবে  দীর্ঘ সময় ধরে ঘরবন্দি। কিন্তু শরীর ও মনের এই জড়তা কাটাতে আমরা ইচ্ছে করলেই বেরিয়ে পড়তে পারি। দেশের ভেঙে পড়া পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করতে অনেক জায়গাতেই হোটেল, ট্যুরিস্ট লজ খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ার শর্ত হল দু’টো – এক, যেতে হবে সড়কপথে, কারণ ট্রেন বা বিমান চলাচল এখনও স্বাভাবিক নয়; আর দুই, করোনা রুখতে মানতে হবে কিছু নিয়মবিধি। তা হলে নিজের বাহন বা বাহনের ব্যবস্থা করে বেরিয়ে পড়া যাক।   

    আরও পড়ুন: কলকাতা থেকে সড়কপথে: পুবের ব্রাইটন দিঘা

    আর শারীরিক ভাবে না বেরোতে পারলেও মানসিক ভাবে বেরিয়ে পড়তে দোষ কী? কিন্তু কোন পথ ধরবেন? আসুন তারই সন্ধান করা যাক।

    কলকাতা থেকে শান্তিনিকেতন

    সোজা রাস্তায় গেলে দূরত্ব ১৬৩ কিমি। পথ এশিয়ান হাইওয়ে ১ (দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে) বর্ধমান, তার পর গুসকরা হয়ে শান্তিনিকেতন। যদি দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বর্ধমান ছাড়িয়ে পানাগড় পৌঁছে সেখান থেকে মোরগ্রামগামী জাতীয় সড়ক ধরে ইলামবাজার, সেখান থেকে কাঁকসার জঙ্গলের মধ্য দিয়ে শান্তিনিকেতন। এ পথে দূরত্ব পড়ে ১৯৫ কিমি।

    আর এই দুই পথের পরিবর্তে আমরা যদি পুরোনো জিটি রোড ধরে যাই, তা হলে পথের অনেক দ্রষ্টব্য দেখে নেওয়া যায়। এতে দূরত্ব বেশি পড়ে না, কিন্তু সময় তো কিছু বেশি লাগে। না হয়, বেশ কিছুটা সময় লাগবে শান্তিনিকেতন পৌঁছোতে। দু’টো দিন তো সেখানে থাকবেন। অসুবিধা কী? জিটি রোড ধরে দ্রষ্টব্য দেখতে দেখতে চলুন। আর সব যে দেখতে হবে তার তো কোনো কথা নেই। গুড়াপের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরুন, তার পর বর্ধমান-গুসকরা বা পানাগড়-ইলামবাজার হয়ে চলুন শান্তিনিকেতন।           

    দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে শান্তিনিকেতনের পথে।

    তা হলে পথে দেখে নিতে পারেন (অবশ্যই এক যাত্রায় সব জায়গা দেখা সম্ভব নয়। বেছে নিন আপনার পচ্ছন্দ। কিংবা যে দ্রষ্টব্যগুলো মূল সড়কের একেবারে ধারে পড়বে, দেখে নিন শুধু সেগুলোই।) –

    (১) দক্ষিণেশ্বর মন্দির – কলকাতা থেকে বিটি রোড ধরে দক্ষিণেশ্বর। গঙ্গার তীরে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের স্মৃতিধন্য, ১৮৫৫-য় রানি রাসমণি প্রতিষ্ঠিত মা ভবতারিণীর নবরত্ন মন্দির। দেউড়ি দিয়ে ঢুকে সুবিশাল প্রাঙ্গণ, মাঝে নাটমন্দির-সহ ভবতারিনী মন্দির। প্রায় তার লাগোয়া রাধাকান্তের মন্দির। ডান দিকে ১২টি শিবমন্দির, মাঝে চাঁদনী। চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নানা ঘর। প্রাঙ্গণের উত্তর-পশ্চিম কোণে শ্রীরামকৃষ্ণের ঘর। মন্দিরপ্রাঙ্গণের বাইরে নহবত, যেখানে থাকতেন সারদা মা; কাছেই রানি রাসমণির আবাস। গঙ্গার দু’টি ঘাট। গঙ্গার ধার ধরে বাঁধানো পথ চলে গেছে শ্রীরামকৃষ্ণের সাধনস্থল ‘পঞ্চবটী’-তে – বট, অশ্বত্থ, নিম, বেল ও আমলকী গাছের সমাহার।

    দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের কাছেই আদ্যাপীঠ – শ্রীরামকৃষ্ণ-ভক্ত শ্রীঅন্নদা ঠাকুরের স্বপ্নে দেখা মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৩৪০ বঙ্গাব্দে, মন্দির খোলে ১৩৭৫-এ। তিন ধাপের মন্দিরে রয়েছে শ্রীরামকৃষ্ণ, আদ্যামা ও রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ।             

    বেলুড় মঠ।

    (২) বেলুড় মঠ – দক্ষিণেশ্বর দর্শন করে বিবেকানন্দ সেতুতে (বালি ব্রিজ) উঠুন। গঙ্গা পেরিয়ে চলুন দক্ষিণ মুখে। পৌঁছে যান বেলুড় মঠ। গঙ্গার পশ্চিম পারে স্বামী বিবেকানন্দ পরিকল্পিত এই মঠ বাস্তব রূপ পায় ১৯৩৮ সালের ১৪ জানুয়ারি। এটি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সদর দফতর। এখানে রয়েছে মন্দির-মসজিদ-গির্জার সমন্বয়ে তৈরি মূল শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দির (বেলুড় মঠ বলতে আমরা মূলত এই মন্দিরকেই বোঝাই), স্বামীজির মন্দির, মাতৃমন্দির (মা সারদার মন্দির), ব্রহ্মানন্দ মন্দির, রামকৃষ্ণ-শিষ্যদের সমাধি পীঠ এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল অব সায়েন্স মিউজিয়ামের সহায়তায় গড়ে ওঠা শ্রীরামকৃষ্ণ মিউজিয়াম। আর মূল প্রবেশপথে জি টি রোডে রয়েছে শ্রীরামকৃষ্ণ মিশন সারদা মন্দির। এখানের অন্যতম আকর্ষণ রামকৃষ্ণ দর্শন অর্থাৎ ঠাকুরের কথামৃতের ছবি ও পুতুলে রূপ।

    (৩) উত্তরপাড়া – বেলুড় মঠ দেখে উত্তরমুখো হোন, চলুন জিটি রোড ধরে। বালি পেরিয়ে উত্তরপাড়া। রাস্তার ডান দিকে পড়বে বাংলার প্রগতিশীল আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক উত্তরপাড়ার জমিদার জয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠিত লাইব্রেরি। ১৮৫৯-এ গড়া এই লাইব্রেরি অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। এরই দোতলায় কিছু দিন বাস করেছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ১৯০৯-এ জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এখানেই সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন শ্রীঅরবিন্দ। এই সুরম্য অট্টালিকাটি গঙ্গার একেবারে ধারে।

    (৪) কোন্নগর – উত্তরপাড়া থেকে কোন্নগর। ডান দিকে গঙ্গার ধারে ১৮২০ সালে হাটখোলার দত্তদের তৈরি বারো মন্দির ঘাট, দ্বাদশ শিবমন্দির। বাঁধানো ঘাটের দু’ দিকে ছ’টি করে আটচালা মন্দির। সামান্য এগিয়েই জিটি রোডের বাঁ দিকে শ্রী রাজরাজেশ্বরী মন্দির। শিবের নাভিপদ্মে অধিষ্ঠিত দেবী ত্রিপুরসুন্দরী। ৩১৯ বছরের প্রাচীন মন্দিরের অস্তিত্ব এখন আর নেই। তবে বর্তমান মন্দিরটিও যথেষ্ট পুরোনো।

    (৫) মাহেশ – রিষড়া পেরোলেই মাহেশ। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘রাধারাণী’ উপন্যাসের পটভূমি। পথের ধারেই সেই বিখ্যাত রথ, নবরত্ন মন্দিরের আদলে তৈরি। এখানকার রথযাত্রার বয়স ৬০০ বছরেরও বেশি হলেও, বর্তমান রথটির বয়স ১৩৫ বছর। লোহার ১২ চাকার রথ। বর্তমান জগন্নাথ মন্দিরের বয়স ২৬৫ বছর। কিলোমিটার খানেক দূরে জগন্নাথের মাসির বাড়ি গোপীনাথ মন্দির। দেখে নিতে পারেন কাছেই বল্লভপুরে রাধাবল্লভ জিউয়ের আটচালা মন্দির।      

    ডেনমার্ক ট্যাভার্ন।

    (৫) শ্রীরামপুর – আর একটু এগোলেই শ্রীরামপুর, অতীতের ফ্রেডরিকনগর। ১৭৫৫ থেকে ১৮৪৫ পর্যন্ত দিনেমারদের (ডেনমার্ক) কলোনি ছিল এই শ্রীরামপুর। তার স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে সেন্ট ওলাভ চার্চ আজ ডেনমার্ক সরকারের সহযোগিতায় সু-সংস্কৃত হয়ে শ্রীরামপুরের অন্যতম দ্রষ্টব্য হয়ে উঠেছে। সংস্কার করা হয়েছে ১৮৩০ সালে নির্মিত গভর্নমেন্ট হাউস। গঙ্গার পাড়ে যে ডেনমার্ক ট্যাভার্ন আছে, সেটিও আজ সংস্কারের পরে আকর্ষণীয় দ্রষ্টব্য হয়ে উঠেছে। এখানে একটি কাফে আছে এবং থাকার ব্যবস্থাও আছে।

    বাংলা সাময়িকপত্র ও সংবাদপত্র প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল উইলিয়াম কেরির শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে। ডোরিক থামওয়ালা শ্রীরামপুর কলেজটিও ১৮১৯ সালে কেরি সাহেবের সৃষ্টি। শ্রীরামপুরের কালীতলায় এক সমাধিক্ষেত্রে কেরি সাহেব শুয়ে আছেন তাঁর দুই সঙ্গী মার্শম্যান আর ওয়ার্ডকে নিয়ে।         

    (৫) চন্দননগর – শেওড়াফুলি আর বৈদ্যবাটী ছাড়িয়ে পৌঁছে যান চন্দননগরে – দিনেমারদের রাজত্ব থেকে ফরাসিদের আস্তানায়। এখানকার প্রধান দ্রষ্টব্য গঙ্গার ধারে ‘স্ট্র্যান্ড’ – শহরের প্রাণকেন্দ্র – দু’ দণ্ড বিশ্রাম করা বা হাঁটাহাঁটি করার জায়গা। এখানে রয়েছে ফরাসি শাসক দুপ্লের এক সময়ের আবাস ও দফতর ‘ইনস্তিতিউত দে চান্দেরনগর’। এখন এটি মিউজিয়াম। দেখে নিন ১৭২৬ সালে নির্মিত গির্জা। রয়েছে ১৮৮৪-তে গথিক শৈলীতে তৈরি স্যাক্রেড হার্ট চার্চ। দেখুন পাতালবাড়ি, যার সর্বনিম্ন তলাটি গঙ্গায় নিমজ্জিত। রবীন্দ্রনাথ এখানে বার বার এসেছেন, থেকেছেন।

    চন্দননগরে একটু যদি বেপথু হন, তা হলে দেখে নিতে পারেন ২৮৩ বছরের পুরোনো বাংলা দোচালা মন্দিররীতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন নন্দদুলাল মন্দির।  

    (৬) চুঁচুড়া – দিনেমার, ফরাসিদের রাজত্বের পরে এ বার ঢুকে পড়ুন ওলন্দাজদের (ডাচ) পূর্বতন কলোনিতে। জিটি রোডের ধারেই ওলন্দাজ স্থাপত্যশৈলীর সুন্দর নিদর্শন সুশানা আন্না মারিয়ার স্মৃতিসৌধ। খাদিনা মোড় থেকে ডান দিকে ঘুরে শহরের প্রাণকেন্দ্র ঘড়ি মোড়। বর্গাকার ক্লক টাওয়ার। এখানেই রয়েছে অষ্টকোণী ডাচ চার্চ, একটু পশ্চিমে ডাচ সিমেট্রি। জোড়াঘাটে ‘বন্দে মাতরম’ বাড়ি। হুগলির জেলাশাসক থাকার সময়ে এই বাড়িতেই বসে ‘বন্দে মাতরম’ রচনা করেন বঙ্কিমচন্দ্র।

    (৭) হুগলি – চুঁচুড়া যেখানে শেষ, হুগলি সেখানে শুরু। এই হুগলি ছিল পর্তুগিজদের কলোনি, যে ইউরোপীয় বাণিজ্য-শক্তির সর্বপ্রথম পা পড়েছিল এই বাংলায়, ১৫৩৫ সালে সপ্তগ্রাম বন্দরে। এখনকার হুগলির খ্যাতি অবশ্য ইমামবাড়ার জন্য। গঙ্গার পাড়ে ইমামবাড়া, দানবীর হাজি  মহম্মদ মহসিনের তৈরি। কাছেই মহসিনের সমাধি।             

    ব্যান্ডেল চার্চ।

    (৮) ব্যান্ডেল – ইমামবাড়া দেখে চলে আসুন, গঙ্গার পশ্চিমপার বরাবর এই ক্ষুদ্র ‘ইউরোপ’-এর অন্যতম প্রাচীন ও শ্রেষ্ঠ স্মৃতিচিহ্ন ব্যান্ডেল চার্চে। বাংলাদেশের প্রাচীনতম গির্জা। দক্ষিণমুখী এই গির্জায় গ্রিক স্থাপত্যরীতির ছোঁয়াচ। যিশু-জীবনের নানা ঘটনা সংবলিত অসংখ্য পেন্টিং রয়েছে এই গির্জায়। ‘আওয়ার লেডি অব ভয়েজ’ নামের এই গির্জায় মাতা মেরির মূর্তিটি অনবদ্য। গির্জার ডান দিকে বিভক্ত অবস্থায় একটি জাহাজের মাস্তুল রাখা আছে। ১৬৫৫ সালে বঙ্গোপসাগরে একটি পর্তুগিজ জাহাজ ঝড়ে পড়লে নাবিকেরা মা মেরির কৃপা প্রার্থনা করেন। জাহাজ রক্ষা পায় এবং জাহাজের ক্যাপ্টেন কৃতজ্ঞতাস্বরূপ জাহাজের মাস্তুলটি এই গির্জায় দান করেন। আজ প্রায় পৌনে চারশো বছর পরেও সেই মাস্তুল অটুট।    

    (৯) বর্ধমান – ব্যান্ডেল চার্চ দেখে সুগন্ধা-দাদপুর হয়ে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে চলে আসুন, সোজা বর্ধমান। আলি শা মোড় দিয়ে বর্ধমান শহরে ঢুকুন। এখানে দেখে নিতে পারেন অতীতের কার্জন গেট তথা বর্তমানের বিজয় তোরণ (মূল সড়কের ধারে), গোলাপবাগে বর্ধমান রাজাদের হাওয়ামহল, মঞ্জিলবাহার, কৃষ্ণসায়র হ্রদ, পীর বাহারামে মোগলসম্রাজ্ঞী নুরজাহানের ভূতপূর্ব স্বামী শের আফগানের সমাধি, সদরঘাটের পথে পৌনে ৬ ফুট উঁচু বর্ধমানেশ্বর শিব, বোরহাটে সাধক কমলাকান্তের সাধনপীঠ। বর্ধমান থেকে শান্তিনিকেতন যাওয়ার জন্য গুসকরার পথ ধরলেই নবাবহাটায় পথের ধারেই ১০৮ শিবমন্দির।

    উপরের তালিকার সব জায়গা দেখা এই ভ্রমণে সম্ভব নয়। তবু আপনার পচ্ছন্দমতো জায়গা বেছে নিয়ে দেখুন। নিজেদের ক্লান্ত না করে যতটুকু সম্ভব ঘুরে পৌঁছে যান শান্তিনিকেতনে।

    উপভোগ করুন শান্তিনিকেতন

    আদিবাসী নৃত্যের আসর।

    রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন তো ঘুরে দেখবেনই। কিন্তু শান্তিনিকেতনে যাওয়ার আরও এক আনন্দ প্রকৃতিকে নিবিড় ভাবে কাছে পাওয়া। প্রকৃতি যেন নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে এই শান্তিনিকেতনে। উঁচু-নিচু ছোটো ছোটো টিলায় শাল-সোনাঝুরির জঙ্গলে বিচরণ করুন। সাঁঝবেলা নামার আগে লাল মাটির পথ ধরে পৌঁছে যান খোয়াইয়ে। উঁচু-নিচু খোয়াইয়ে সোনাঝুরির ফাঁক দিয়ে সূর্যটা হারিয়ে যাওয়ার আগে হাঁটতে হাঁটতে চলে যান ক্যানালপারে। চলে যান স্বল্প দূরে কোপাইয়ের ধারে। ঢুকে পড়ুন কোনো সাঁওতাল পল্লিতে, আলাপ করুন তাদের সঙ্গে, প্রত্যক্ষ করুন তাদের সরল জীবনযাত্রা। বাউলের সুরে আর আদিবাসী নৃত্যে নিজেকে মাতিয়ে দিন।   

    কী দেখবেন শান্তিনিকেতনে

    (১) উত্তরায়ণ – রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের আবাস, কয়েকটি ভবনের সমষ্টি। ‘বিচিত্রা’য় দেখুন রবীন্দ্র মিউজিয়াম। কবির ব্যবহৃত অস্টিন গাড়িটিও প্রদর্শিত হয়েছে। পাশেই রবীন্দ্র ভবন। আর রয়েছে রবীন্দ্র স্মৃতিধন্য ‘উদয়ন’, ‘কোনার্ক’, ‘শ্যামলী’, ‘পুনশ্চ’ ও ‘উদীচী’ গৃহ। কবির স্বহস্তে রোপিত মালতীলতা। ‘উদীচী’র ডাইনে গোলাপ বাগিচা।

    (২) ছাতিমতলা – উত্তরায়ণের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাধনবেদি ছাতিমতলা। শ্বেতপাথরের বেদিতে বসে এখানেই মহর্ষি লাভ করেছিলেন ‘প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ, আত্মার শান্তি’। ‘তিনি আমার প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ, আত্মার শান্তি’, এই কথাটি লেখা আছে দক্ষিণের গেটে।  

    উপাসনাগৃহ।

    (৩) উপাসনাগৃহ – ছাতিমতলার পেছনেই বর্ণময় কাচের তৈরি উপাসনাগৃহ। ১৮৯২ সালে এই উপাসনাগৃহের উদ্বোধন হয়। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠিত এই উপাসনাগৃহে আজও প্রতি বুধবার প্রত্যুষে উপাসনা হয়।

    (৪) শান্তিনিকেতন গৃহ – অদূরেই শান্তিনিকেতন ভবন। আশ্রমের সব চেয়ে পুরোনো বাড়ি, ১৮৬৩-৬৪ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের তৈরি। বালক রবীন্দ্রনাথের প্রথম শান্তিনিকেতন বাস এই গৃহেই। সুদীর্ঘকাল এই গৃহই ছিল শান্তিনিকেতনের অতিথিনিবাস। এই গৃহের অদূরে টিলার আকারে একটি মাটির ঢিবি আছে। মহর্ষি এখানে বসে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতেন।

    (৫) দেহলি – স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে এখানে বাস করতেন রবীন্দ্রনাথ। মৃণালিনী দেবীর স্মরণে এখানে শিশুদের বিদ্যালয় ‘মৃণালিনী আনন্দ পাঠশালা’র সূচনা হয়।

    দেহলি।

    (৬) তালধ্বজ – উত্তরায়ণ পেরোতেই ত্রিমুখী বাঁকের মুখে তালধ্বজ। একটি তালগাছকে কেন্দ্র করে তৈরি গোলাকৃতি এই মটির বাড়ি। তালগাছের পাতাগুলি ধ্বজার মতো বাড়িটির উপরে শোভা পায় বলে বাড়িটির নাম তালধ্বজ।

    (৭) আম্রকুঞ্জ – বর্ধমানের মহারাজ মহতাব চাঁদ তাঁর মালি রামদাসকে পাঠিয়ে এই বাগানের পত্তন ঘটান। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর রবীন্দ্রনাথকে এখানেই সংবর্ধিত করা হয়। পাঠভবনের নিয়মিত ক্লাস হয় এখানে।  

    এ ছাড়াও দেখে নিন –

    কলাভবন, সংগীতভবন, তিনপাহাড়, শালবীথি, সন্তোষালয়, ঘণ্টাতলা, শমীন্দ্র পাঠাগার, গৌরপ্রাঙ্গণ, সিংহসদন, পূর্ব ও পশ্চিম তোরণ, চৈত্য, দিনান্তিকা, দ্বিজবিরাম, কালোবাড়ি ইত্যাদি।

    শান্তিনিকেতনের গোটা এলাকা জুড়ে রবীন্দ্রনাথ, নন্দলাল বসু, রামকিঙ্কর বেইজ, বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়ের নানা শিল্পকর্ম ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সে সবও দেখার এবং বোঝার।

    আরও দ্রষ্টব্য

    (১) সৃজনী শিল্পগ্রাম – উত্তরায়ণ ক্যাম্পাসের অদূরে শ্রীনিকেতন যাওয়ার পথে সৃজনী শিল্পগ্রাম। ২০০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তৈরি শিল্পগ্রাম। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও এখানে দেখা যাবে পূর্ব ও উত্তরপূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের শিল্প নিদর্শন। এক একটি কুটির এক এক রাজ্যের প্রতীক। সারা চত্বরে ছড়ানো ছেটানো নানা মূর্তি-ভাস্কর্য। দেখতে দেখতে একেবারে শেষে পৌঁছে যাবেন বাঁশের তৈরি লাইটহাউসে।

    আদিবাসী বাদ্যযন্ত্র। সৃজনী শিল্পগ্রামে প্রদর্শিত।

    (২) শ্রীনিকেতন – ৩ কিমি দূরে, বিশ্বভারতীর পল্লি শিল্পকেন্দ্র বিভাগ। হস্তশিল্পের বিপুল সম্ভার, দেখা ও কেনার জন্য।

    (৩) গীতাঞ্জলি রেল মিউজিয়াম – কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভারতীয় রেল বোলপুর স্টেশনের পাশে এই মিউজিয়ামটি চালু করে ২০১২ সালে। এর অন্যতম আকর্ষণ হল ‘সেলুন কার’ – যে ‘সেলুন কার’-এ চড়ে কবিগুরু শেষ বারের মতো শান্তিনিকেতন ছেড়ে কলকাতা পাড়ি দিয়েছিলেন। এখানে আরও অনেক কিছুর মধ্যে প্রদর্শিত হয়েছে কবিগুরুর ৩৫টি দুষ্প্রাপ্য ছবিও।

    (৪) বল্লভপুর ডিয়ার পার্ক – শাল, পিয়াল, শিশু, জাম, মহুয়া, কাজু, হরীতকী, আমলকী, বহেরা, শিরীষ, সোনাঝুরি আর আকাশমণিতে ছাওয়া ৭০০ একর এলাকা জুড়ে চিতল হরিণ, বার্কিং ডিয়ার, কৃষ্ণসার, ময়ূর, খরগোশ, শিয়াল আর সাপের বাস।

    শান্তিনিকেতনকে কেন্দ্র করে ঘোরাঘুরি

    (১) সুপুর-কাঁকুটিয়া-দেউলি – ইলামবাজারের পথে ৮ কিমি দূরে সুপুরে রাজা সুরথের তৈরি সুরথেশ্বর শিবমন্দির। আরও ৬ কিমি গিয়ে বৈষ্ণবতীর্থ কাঁকুটিয়া। দেখে নিন লোচনদাস প্রতিষ্ঠিত মহাপ্রভু মন্দির ও বামাখ্যাপার স্মৃতিবিজড়িত হাটপুকুর কালীবাড়ি। কাঁকুটিয়া গ্রাম পেরিয়ে অজয় নদের তীরে শৈবতীর্থ দেউলির খ্যাতি সুপ্রাচীন দেউলীশ্বর শিবমন্দিরের জন্য।

    কেঁদুলিতে রাধাবিনোদের মন্দির।

    (২) জয়দেব কেঁদুলি – ইলামবাজার পেরিয়ে, শান্তিনিকেতন থেকে ৩০ কিমি। অজয় নদের পাড়ে গীতগোবিন্দের কবি জয়দেবের জন্মস্থান। জয়দেবের ভিটের উপরে বর্ধমানরাজের অর্থানুকূল্যে ১৬৯২-তে তৈরি রাধাবিনোদের টেরাকোটা নবরত্ন মন্দির। সেই বিখ্যাত কদম্বখণ্ডি ঘাটের কাছে সমাধি মন্দির, ফুলেশ্বর ঘাটের কাছে জয়দেবের ‘সিদ্ধাসন’ পাথরখণ্ড। জম্পেশ শীতে মকর সংক্রান্তিতে বসে মেলা, যোগ দেয় নানা প্রান্ত থেকে আসা আউল-বাউলদের দল।

    (৩) হেতমপুর – জয়দেব কেঁদুলি থেকে সাড়ে ১৭ কিমি। দেখুন মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারির আদলে ১৭৮০ সালে তৈরি প্রাসাদবাড়ি রঞ্জন প্যালেস। রাজবাড়ির অঙ্গনে রাজপরিবারের গৃহদেবতা রাধাবল্লভ জিউয়ের মন্দির। কাছেই বিশালাকার লালদিঘি বা সায়র। দিঘির ডাইনে কদমতলায় ৫টি শিবমন্দির, অদূরে আরও ৩টি শিবমন্দির। হেতমপুরের দক্ষিণ প্রান্তে রয়েছে গড়ের মাঠ, শেরিনা-হাফেজের প্রেম আখ্যানের জন্য বিখ্যাত। হেতমপুরের আরও এক দিঘি গোবিন্দসায়রের পাড়ে ১৮৪৭-এ তৈরি অষ্টকোনাকৃতি চন্দ্রনাথ শিবমন্দির। অদূরে টেরাকোটা কাজে সমৃদ্ধ দেওয়ানজি শিবমন্দির।

    (৪) দুবরাজপুর – হেতমপুর থেকে সাড়ে ৩ কিমি দূরে দুবরাজপুর। দেখে নিন নানা কিংবদন্তিতে ভরা মামা-ভাগ্নে পাহাড়। একটার পর একটা পাথর পেরিয়ে চলে যান শীর্ষে। আর পাহাড়-শিরে মামা-ভাগ্নে দুই তালগাছ। আর এই পাহাড়ে যাওয়ার পথে দর্শন করে নিন পাহাড়েশ্বর শিবকে।

    মামা-ভাগ্নে পাহাড়।

    (৫) বক্রেশ্বর – দুবরাজপুরে মামা-ভাগ্নে দেখে চলুন বক্রেশ্বর, ১৪ কিমি। শান্তিনিকেতন থেকে ৫৬ কিমি। ৫১ পীঠের অন্যতম বক্রেশ্বর, সতীর ভ্রূ-মধ্য পড়ে এখানে। দ্বিমতে, সতীর দক্ষিণ বাহু পড়েছিল। মূল মন্দির বক্রনাথ শিবের, লাগোয়া মহিষমর্দিনী মন্দির। আর আছে অক্ষয়বটের নীচে কালাপাহাড়ের বিনষ্ট করা হরগৌরীর ভাঙা শিলামূর্তি। বিপরীতের ছোটো মন্দিরে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর পদচিহ্ন রক্ষিত। আরও মন্দির আছে বক্রেশ্বরে। তবে বক্রেশ্বরের খ্যাতি তার উষ্ণ প্রস্রবণের জন্য। সাতটি কুণ্ডের সহাবস্থান – ব্রহ্মকুণ্ড, অগ্নিকুণ্ড, জীবিতকুণ্ড, চন্দ্রকুণ্ড বা সৌভাগ্যকুণ্ড, সূর্যকুণ্ড, খরকুণ্ড এবং ভৈরবকুণ্ড।

    (৬) কঙ্কালীতলা – প্রান্তিক পেরিয়ে কঙ্কালীতলা, সাড়ে ৮ কিমি। ৫১ পীঠের শেষ পীঠ এই। সতীর কাঁকাল তথা কোমর পড়েছিল। তবে এই নিয়ে বিতর্ক আছে। জনশ্রুতি, দেবীর কাঁকালরূপী শিলাখণ্ড রয়েছে মন্দির লাগোয়া কুণ্ডে। পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে কোপাই। অদূরে কাঞ্চীশ্বর শিব ও দেবীর রুরু ভৈরবথান।

    কঙ্কালীতলা।

    (৭) নানুর – দ্বিজ চণ্ডীদাসের জন্মস্থান নিয়ে গবেষকরা আজ দ্বিধান্বিত হলেও নানুরের বাতাসে আজও সজীব চণ্ডীদাস-রজকিনী প্রেমকাহিনি। জনশ্রুতি, ১৪ শতকের কবি চণ্ডীদাসের জন্ম এই নানুরে, কঙ্কালীতলা থেকে ২০ কিমি, শান্তিনিকেতন থেকে ২১ কিমি। এখানে রয়েছে কবির আরাধ্যা দেবী বিশালাক্ষীর মন্দির। লাগোয়া ঢিবিটি আজও কবির বসতবাড়ির সাক্ষ্য বহন করছে। বিশালাক্ষীর মন্দির চত্বরে রয়েছে ডজন খানেক শিবমন্দির। দু’টি মন্দিরের গায়ে টেরাকোটার কাজে মূর্ত হয়েছে রাধাকৃষ্ণলীলা। শিল্পাচার্য নন্দলাল বসুর নকশায় তৈরি হয়েছে তোরণ। থানার ডাইনে রামী ধোপানির পাট ও রক্ষা কালীমন্দির।

    (৮) লাভপুর-ফুল্লরা – নানুর থেকে ২১ কিমি। ৫১ পীঠের এক পীঠ ফুল্লরা। দেবীর ওষ্ঠ পড়েছিল। তবে এই নিয়ে বিতর্ক আছে। বর্তমান মন্দিরটি ১৩০২ বঙ্গাব্দে তৈরি। মন্দিরে দেবীর কোনো বিগ্রহ নেই। সিঁদুরে চর্চিত কচ্ছপাকৃতির শিলাখণ্ড দেবীর প্রতিভূ। মন্দির লাগোয়া দেবীদহ। দহের ঘাটে দু’টি শিবমন্দির। মন্দিরের অদূরে কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মভিটে ‘ধাত্রীদেবতা’য় আজ হয়েছে সংগ্রহশালা। লাভপুর ছেড়ে কিছুটা যেতে বক্রেশ্বর ও শাল নদীর মিলিত জলে তৈরি কুলা নদীর বাঁক – তারাশঙ্করের বিখ্যাত উপন্যাসের ‘হাঁসুলীবাঁক’।

    (৯) সাঁইথিয়া নন্দীকেশ্বরী মন্দির – আরও এক সতীপীঠ বলে দাবি করা হয়। বলা হয়, দেবীর কণ্ঠহার পড়েছিল এখানে। সাঁইথিয়া রেলস্টেশনের ঠিক বাইরে নন্দীকেশ্বরী মন্দির। অশ্বত্থ ও বটবৃক্ষের বাঁধানো বেদির প্রকোষ্ঠে তেলসিঁদুরে চর্চিত ত্রিকোনা এক শিলাখণ্ডই দেবীর প্রতিভূ। আরও নানা মন্দির ওই চত্বরে। শান্তিনিকেতন থেকে তারাপীঠ যাওয়ার পথে ৩৪ কিমি।

    নিত্যানন্দ মহাপ্রভু মন্দির।

    (১০) বীরচন্দ্রপুর – সাঁইথিয়া থেকে ২৬ কিমি। নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর জন্মস্থান। মূল সড়কের ডাইনে নিত্যানন্দের আরাধ্য দেবতা বাঁকারায়ের আটচালা মন্দির। আর রয়েছে নিত্যানন্দ মহাপ্রভু মন্দির, ষষ্ঠীতলা, বিশ্বরূপতলা, জগন্নাথদেবের মন্দির। ইসকনও মন্দির গড়েছে এখানে।

    (১১) তারাপীঠ – বীরচন্দ্রপুর থেকে ৯ কিমি, শান্তিনিকেতন থেকে ৬২ কিমি দূরে শক্তিপীঠ তারাপীঠ। বণিক জয় দত্তের নির্মিত তারামায়ের প্রাচীন মন্দির আজ বিধ্বস্ত। বর্তমান মন্দির ১২২৫ বঙ্গাব্দে মল্লারপুরের জগন্নাথ রায় তৈরি করান। উত্তরমুখী আটচালা মন্দির। দেবীর ভৈরব চন্দ্রচূড় শিব রয়েছেন ছোটো মন্দিরে। মন্দির লাগোয়া জীয়ৎকুণ্ড আর বিরাম মন্দিরটিও দর্শনীয়। উত্তরবাহিনী দ্বারকার পাড়ে তারাপীঠ মহাশ্মশান। পঞ্চমুণ্ডির আসনপাতা মহাশ্মশানে। বামাখ্যাপার সমাধিমন্দিরে মূর্তি রয়েছে সাধকের। অদূরেই আটলা গ্রাম, বামাখ্যাপার জন্মস্থান। জন্মভিটেতে তৈরি হয়েছে স্মারকমন্দির।

    কোথায় থাকবেন

    শান্তিনিকেতনে থাকার জন্য রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্ন্য়ন নিগমের দু’টি জায়গা – শান্তবিতান ট্যুরিজম প্রপার্টি (অতীতের শান্তিনিকেতন ট্যুরিস্ট লজ) এবং রাঙাবিতান ট্যুরিজম প্রপার্টি। এখন করোনাভাইরাসজনিত লকডাউনের আনলক পর্বে বুকিং দেওয়া হচ্ছে শুধুমাত্র রাঙাবিতান ট্যুরিজম প্রপার্টিতে। অনলাইন বুকিং: https://www.wbtdcl.com/

    এ ছাড়া বোলপুর, শান্তিনিকেতন আর সোনাঝুরিতে প্রচুর বেসরকারি হোটেল আছে। নেটে সন্ধান করলে পাওয়া যাবে। তবে সব হোটেল খোলেনি।       

    কেনাকাটা

    শান্তিনিকেতনে যাবেন, আর কিছু কেনাকাটা করবেন না, তা হতেই পারে না। নানা ধরনের হস্তশিল্পের প্রসবঘর এই শান্তিনিকেতন। এমনকি দৈনন্দিন জীবনে লাগে, এমন সব রকম জিনিস মেলে এখানে। এ অঞ্চলের ঘরে ঘরে তৈরি হয় এ সব সম্ভার। কেনার মূলত তিনটি জায়গা –

    (১) শ্রীনিকেতন – বিশ্বভারতীর পল্লি শিল্পকেন্দ্র বিভাগ।

    (২) আমার কুটির – শাল-সোনাঝুরির জঙ্গলে কোপাইয়ের পাড়ে ‘আমার কুটির’। গান্ধীজির অনুপ্রেরণায় বিপ্লবী সুষেণ মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল এই ‘আমার কুটির’। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরে আর এক স্বাধীনতা সংগ্রামী পান্নালাল দাশগুপ্তও এখানে থেকেই সমাজসেবার নানা কাজকর্ম চালিয়ে গিয়েছেন। প্রাথমিক ভাবে এর উদ্দেশ্য ছিল সদ্য মুক্তি পাওয়া বিপ্লবীদের একটি আশ্রয়স্থল গড়ে তোলা। তাঁদের তৈরি জিনিস এখান থেকে বিপনন করে খরচ তোলা হত। পরবর্তীকালে সমবায় গড়ে স্থানীয় তাঁত, চামড়া, ডোকরা ও বিভিন্ন হস্তশিল্পীর শিল্পসামগ্রী এখান থেকে বিক্রি করা শুরু।

    সোনাঝুরির হাট।

    (৩) সোনাঝুরির হাট – প্রতি শনিবার হাট বসার কথা, তবে এখন রোজ বসে। তবে শনিবার দিনটা জমে বেশি। সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত হাট চলে। স্থানীয় হস্তশিল্পীরা তাঁদের হাতে তৈরি করা শিল্পসম্ভার নিয়ে গুছিয়ে বসেন। এই হাটে হেন জিনিস নেই যা পাওয়া যায় না। এন্তার নেড়েচেড়ে দেখা যায়, দরদাম করা যায়।

    পথে বিশেষ কিছু খাওয়া

    পথে বিশেষ কিছু খাওয়ার জায়গা আছে। যাওয়ার সময় খেতে পারেন বা ফেরার সময় বাড়ি বা আত্মীয়স্বজন-বন্ধুদের জন্য কিনে আনতে পারেন। রিষড়ায় ফেলু মোদকের ভাজা মিষ্টি, চন্দননগরে সূর্য মোদকের জলভরা সন্দেশ, শক্তিগড়ের ল্যাংচা, বর্ধমানের সীতাভোগ এবং গুসকরার কাছে বড়ার চৌমাথায় মন্ডা। আর যাই হোক, বড়ার চৌমাথায় দিলীপ ঘোষের অন্নপূর্ণা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মন্ডা খেতে বা নিতে ভুলবেন না।    

    শক্তিগড়ে ল্যাংচা কিনতে ভুলবেন না।

    মনে রাখুন

     (১)  শান্তিনিকেতন আসার পথে যতগুলো দ্রষ্টব্যের কথা লেখা হয়েছে, তার সবই যে দেখতে হবে, তার কোনো অর্থ নেই। কোনটা দেখবেন, কোনটা দেখবেন না, সেটা আপনার ব্যাপার। তবে জিটি রোড ধরে এলে একেবারে যেগুলো পথের ধারে পড়বে সেগুলো দেখে নিতেই পারেন। যেমন, উত্তরপাড়ায় জয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠিত লাইব্রেরি, কোন্নগরের দ্রষ্টব্যগুলি, মাহেশের রথ ও জগন্নাথ মন্দির, চুঁচুড়ায় সুশানা আন্না মারিয়ার স্মৃতিসৌধ, বর্ধমানের নবাবহাটায় ১০৮ শিবমন্দির ইত্যাদি।

    (২) এই সময়ে কী ভাবে হোটেল তার অতিথিদের দেখভাল করবে তার এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) জারি করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, থার্মাল গান দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা মাপানো ইত্যাদি সাধারণ নিয়মগুলি ছাড়া আর কী কী নিয়ম মানতে হবে তা যাত্রার আগে হোটেলের সঙ্গে ভালো করে কথা বলে জেনে নেবেন।

    (৩) গাড়িকে যথাসম্ভব শীতাতপনিয়ন্ত্রিত না করে জানলা খুলে চলুন। হাওয়া যতটা চলাচল করানো যায়। তাতে যাত্রাপথে মাস্ক পরে থাকলে সুবিধা হবে। আর পুরো যাত্রাপথে মাস্ক পরে থাকা বাঞ্ছনীয়। আর হাত মাঝেমাঝেই স্যানিটাইজ করবেন।

    The post কলকাতা থেকে সড়কপথে: কবিগুরুর শান্তিনিকেতন appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/heritage/road-journey-from-kolkata-to-santiniketan/feed/ 0 112790