The post যমুনাসুল: ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে শান্ত সমুদ্রতটে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা appeared first on Bhramon Online.
]]>পুজোর দিনগুলোতে কলকাতার কোলাহল সেরে যদি শান্ত সমুদ্রতটের খোঁজ করেন, তবে যমুনাসুল হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। দিঘা বা পুরীর মতো ভিড় নেই এখানে। ঢেউও তেমন জোরালো নয়। অথচ প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্যে ভরপুর এই জায়গা।
বালুতটে পা রাখলেই চোখে পড়বে ঝাউগাছের সারি, এখানে-সেখানে ছড়িয়ে থাকা শঙ্খ-ঝিনুক, আর সৈকতে অবাধে ছুটে বেড়ানো লাল কাঁকড়ার দল। সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের আলোয় এই সৈকতের রূপ মায়াবী হয়ে ওঠে। জোয়ার এলে সমুদ্রতটে ভেসে থাকা নৌকাগুলি দুলতে থাকে ঢেউয়ের স্রোতে।
যমুনাসুল থেকে সামান্য দূরেই চাউলটি— বিস্তীর্ণ সৈকত, ঝাউবন আর চাউলটি নদীর মিলন দৃশ্য যেন মোহনার মতো। কাছেই মাছের বাজার আর পাখিদের আনাগোনায় ভরে ওঠা প্রাকৃতিক পরিবেশ।
আরও খানিকটা এগোলেই কাসাফল। ঝাউবনের মধ্য দিয়ে হাঁটাপথ, শরতের সময়ে কাশফুলের সৌন্দর্য তার সঙ্গী। ঝাউবন পেরোতেই সামনে হঠাৎ উঁকি দেয় সমুদ্র।

কলকাতা থেকে যমুনাসুলের দূরত্ব প্রায় ২২৫ কিমি। গাড়িতে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় পৌঁছনো যায়।
রুট: কলকাতা → বাগনান → কোলাঘাট → বেলদা → দাঁতন → জলেশ্বর → বালিয়াপাল → যমুনাসুল।
দাঁতনের মনোহরপুরের রাজবাড়ি পথের মাঝে একবার ঘুরে দেখা যেতে পারে।
যমুনাসুলে এখনো পর্যটন খুব বেশি বিস্তার লাভ করেনি। হাতে গোনা কয়েকটি হোটেল রয়েছে। ঘরোয়া খাবারের পাশাপাশি টাটকা সামুদ্রিক মাছের স্বাদ নিতে পারবেন। তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থাও আছে, যা ভ্রমণকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলতে পারে।
The post যমুনাসুল: ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে শান্ত সমুদ্রতটে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা appeared first on Bhramon Online.
]]>The post নারী দিবস: একাকী ভ্রমণে নারীদের জন্যে পাঁচটি দর্শনীয় স্থান, পর্ব ২ appeared first on Bhramon Online.
]]>আজকের সময়ে নারীরা ঘড়ির কাঁটাকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে নিতে জানেন, তারা সোলো ট্রাভেলার। সমস্ত কাজে অনেক স্বাধীন। পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে তাদের বড় ভূমিকা। এখন নারীরা একাকী ঘুরতে পছন্দ করেন। আর সেটাই স্বাভাবিক। অনেক সময় দেখা যায় পুরুষদের চেয়েও তারা অ্যাডভেঞ্চার বিশেষ পছন্দ করেন। আন্তর্জাতিক নারীদিবসে ভ্রমণ প্রিয় নারীদের জন্য রইল বিশেষ দর্শনীয় স্থান।
মাজুলি দ্বীপ
দেশের আসামে অবস্থিত মাজুলি দ্বীপ। বিশ্বের বৃহত্তম এক নদী দ্বীপ। ইতিহাস থেকে জানা যায় আহোম রাজা জয়ধ্বজ সিংহের সময় এই দ্বীপের সৃষ্টি হয়। জায়গাটি ব্রহ্মপুত্র নদী ও শোবনশিরি নদীর মিলনে তৈরি হয়েছে। যার খ্যাতি বিশ্বজোড়া। এখানকার শান্ত নিরিবিলি রূপ আকর্ষণ করে। প্রকৃতির মাঝে একাকী কিছুদিন কাটাতে চাইলে মাজুলি উপযুক্ত স্থান। মাজুলির হোম স্টে ও কটেজ গুলো খুবই সুন্দর। আসামের জোরহাট শহর থেকে এই দ্বীপ যাওয়া যায়।
হীরাঝিল
আপনি কি ইতিহাস প্রেমী? ইতিহাস ও অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসলে ঘুরে আসুন মুর্শিদাবাদের হীরাঝিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ভাগীরথীর পশ্চিম পাড়ে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন। যা বর্তমানে অধুনালপ্ত। পলাশীর যুদ্ধের পর ব্রিটিশরা এই প্রাসাদ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়ে যান। আজকে সেই প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ নীরবে কথা বলে। একসময় এই প্রাসাদের পাশে ছিল একটি ঝিল। সেই ঝিলে কাঁচের মতো স্বচ্ছ জলে প্রাসাদকে দেখে মনে হতো হীরের মতো উজ্জ্বল। ভাগীরথীর অপর পাড়ে হীরাঝিল বা মনসুরগঞ্জ প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করে নিতে পারেন। আর ভাগীরথীর সৌন্দর্য এককথায় অতুলনীয়।
(শেষ)
The post নারী দিবস: একাকী ভ্রমণে নারীদের জন্যে পাঁচটি দর্শনীয় স্থান, পর্ব ২ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post নারী দিবস: একাকী ভ্রমণে নারীদের জন্যে পাঁচটি দর্শনীয় স্থান, পর্ব ১ appeared first on Bhramon Online.
]]>আজকের দুনিয়ায় নারীরা সোলো ট্রাভেল ও অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসেন। কম খরচে সোলো ট্রাভেলে ঘুরে আসুন কয়েকটি দর্শনীয় স্থান। নারী দিবস উপলক্ষে আপনার বেড়ানোর পরিকল্পনায় ভ্রমণ অনলাইনে রইল পাঁচটি জায়গার হদিশ। দেখে নিন এক ঝলকে।
মাওলিনং
এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম মেঘালয়ের মাওলিনং। এখানকার অপূর্ব মুগ্ধকর প্রকৃতি যেকোনো পর্যটকের কাছে আদর্শ জায়গা। সোলো ট্রিপে কয়েক দিন নিরিবিলিতে কাটাতে চাইলে চলে আসুন। মহিলাদের একক ভ্রমণের জন্য খুবই সুন্দর জায়গা। এই গ্রাম নিয়ে প্রবাদ আছে। বলা হয় যে, মাওলিনং ঈশ্বরের নিজের বাগান। গ্রামবাসীরা খুবই আতিথেয়তা করেন। এখানে রাত্রিবাসের সুযোগ আছে। শিলং থেকে গাড়িতে এই গ্রামে সহজেই পৌঁছানো যায়।
মহীশূর
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে মহীশূর। হায়দার আলী ও টিপু সুলতানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই রাজ্যের নাম। মহীশূর প্যালেস, চিড়িয়াখানা, চামুন্ডি পাহাড় ও মন্দির এখানকার বিখ্যাত দর্শনীয় স্থান। ইউনেস্কোর সেরা তালিকায় মহীশূর প্যালেস স্থান পেয়েছে। মহীশূরের শাড়ি বিখ্যাত। ছুটিতে একক ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে সুন্দর জায়গা। হাওড়া-মহীশূর এক্সপ্রেসে পৌছে যান গন্তব্যে।

লেপচাজগত
পাইন বন, মেঘ আর পাহাড়ের ঢালে হারিয়ে যেতে চান? চলে আসুন লেপচাজগত। মাঝেমধ্যে মেঘেদের দল পাহাড়কে ঢেকে দিয়ে যায়। দার্জিলিং এর অফবিট প্লেস। উইকেন্ডে একক ভাবে বেড়িয়ে পড়তে পারেন। আর সঙ্গে যদি ক্যামেরা থাকে তাহলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, ফুল ও অর্কিডের ছবি তোলার দারুন অভিজ্ঞতা হবে। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে গাড়ি বুকিং করে চলে আসুন লেপচাজগত।
(চলবে)
The post নারী দিবস: একাকী ভ্রমণে নারীদের জন্যে পাঁচটি দর্শনীয় স্থান, পর্ব ১ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post উইকএন্ডে ঘুরে আসুন ঐতিহাসিক স্থান পলাশী appeared first on Bhramon Online.
]]>কলকাতা থেকে পলাশীর দূরত্ব ১৬০ কিমি। ঘুরে আসুন নদীয়ায় পলাশীর সেই প্রান্তর থেকে।
১৭৫৭ সালের ২৩ শে জুন, রবার্ট ক্লাইভের বাহিনীর সামনে নবাব সিরাজদ্দৌলার পঞ্চাশ হাজার সেনা। নবাবের নিশ্চিত জিত শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু কে ভরসা দেবে?
“বাংলার ভাগ্যাকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা। তার শ্যামল প্রান্তরে আজ রক্তের আলপনা, জাতির সূর্য্য আজ, অস্তাচলগামী..”
পলাশীর যুদ্ধে সিরাজের বিরুদ্ধে চক্রান্তে সেদিন নবাব হেরে গেলেন। কিন্তু তারসঙ্গে গোটা ভারতবর্ষের চিত্রটাই বদলে গিয়েছিল।
কি দেখবেন:
আছে সেদিনের সেই আম বাগান, যেখানে যুদ্ধটি সংঘটিত হয়। একটি ১৫ মিটার উঁচু স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। ব্রিটিশরা এই বিজয় স্তম্ভটি নির্মাণ করেছিলেন। নাম পলাশী ওয়ার মেমোরিয়াল। তবে বেশিরভাগ ঐতিহাসিক চিহ্ন আর কিছুই তেমন অবশিষ্ট নেই। স্তম্ভটির পাশে আরেকটি ছোট স্মৃতিস্তম্ভ চোখে পড়ে। পলাশীর যুদ্ধের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বসানো হয়। আর আছে বাংলার স্বাধীন নবাবের একটি আবক্ষ মূর্তি। নবী সিং হাজারী, বাহাদুর খান ও সেনানায়ক মীর মদনের স্মৃতিসৌধ পলাশীর প্রান্তরে আছে। এখানেই ইংরেজদের সঙ্গে মীর মদন বীরের মতো লড়াই চালিয়ে শহীদ হন। ঘুরে দেখুন ব্যাটল ফিল্ড অফ পলাশি। রোমাঞ্চিত হবেন।
কিভাবে যাবেন:
নদীয়ার শেষ স্টেশন পলাশী। শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে লালগোলা বা হাজারদুয়ারী এক্সপ্রেসে পলাশী স্টেশন নামুন। স্টেশন থেকে নেমে টোটো করে পলাশী তোরণ পেরিয়ে চলে আসুন গন্তব্যে।
The post উইকএন্ডে ঘুরে আসুন ঐতিহাসিক স্থান পলাশী appeared first on Bhramon Online.
]]>The post গঙ্গা-রূপনারায়ণ-দামোদরের সঙ্গম গাদিয়াড়া appeared first on Bhramon Online.
]]>শীতে বন্ধুদের সঙ্গে ছুটিতে কোথায় যাবেন ভাবছেন? কলকাতার আশেপাশেই বেড়ানোর জায়গা চাই, তাহলে চলে আসুন হাওড়ার পর্যটন কেন্দ্র গাদিয়াড়া। ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া…
স্বল্প খরচ। নদীর ধারে প্রাকৃতিক দৃশ্য আর হিমেল বাতাসে মন ব্যাকুল হতে পারে। নানা ধরনের পাখির কোলাহল। আশেপাশে শান্ত পরিবেশ।
কি দেখবেন :
তিনটি নদীর সঙ্গমস্থল। গঙ্গা, রূপনারায়ণ ও দামোদর এখানে এসে মিশেছে। এরপর সাগরের দিকে এগিয়েছে। এখানকার স্নিগ্ধ পরিবেশ সময় কাটানোর জন্য উপযুক্ত।
একদৃষ্টে তরণীর ভেসে যাওয়া ভালো লাগবে। ছোট বড় নৌকা ভেসে বেড়ায়। এদের মধ্যে বেশিরভাগ মাছ ধরার নৌকা। জীবিকার ছবিটা স্পষ্ট হয়ে যাবে চোখের সামনে। জল কেটে তারা এগিয়ে চলেছে। এখানকার সূর্যাস্ত অতুলনীয়।
কোথায় থাকবেন :
একদিন বা দুদিন কাটানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লজ আছে। এছাড়াও বেশ কিছু বেসরকারি হোটেল পেয়ে যাবেন।
কিভাবে যাবেন :
ধর্মতলা চত্বর থেকে সরাসরি বাস পাবেন। ট্রেনে আসলে হাওড়া থেকে বাগনান স্টেশন নামবেন। সেখান থেকে সড়কপথে গাদিয়াড়া আসুন।
The post গঙ্গা-রূপনারায়ণ-দামোদরের সঙ্গম গাদিয়াড়া appeared first on Bhramon Online.
]]>The post শীতের হাওয়ায় ঘুরে আসুন বাঁকিপুট সমুদ্র সৈকতে appeared first on Bhramon Online.
]]>উইকেন্ডে বঙ্গোপসাগরের তীরে বাঁকিপুট সমুদ্র সৈকত একদিনেই বেরিয়ে আসতে পারেন। চাইলে একটি বা দুটি দিন থাকতে পারেন। কাছেই কাঁথিতে পছন্দমত হোটেল পেয়ে যাবেন।
নির্জন সৈকত সুন্দরী কংক্রিটের জঙ্গল থেকে মুক্তি দেবে। বালুতটে লাল কাঁকড়া ও ঝিনুক দেখে সময় যেন কিভাবে কেটে যায়। নির্জন এই দ্বীপ মনকে প্রশান্তি দেয়।
সুবিশাল নিরিবিলি বালুতটে শীতের রোদ গায়ে মেখে অবসর যাপন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য উপযুক্ত। বাঁকিপুটে আছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থান। ব্রিটিশ আমলের লাইট হাউস। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতিধন্য কপালকুণ্ডলা মন্দির। এই মন্দিরে তিনি কাহিনীর পটভূমি ভেবেছিলেন। এককথায় বাঁকিপুট সর্বদা মনোরম।
কিভাবে যাবেন :
তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস বা অন্যান্য এক্সপ্রেস ট্রেনে চলে আসুন কাঁথি স্টেশন। সেখান থেকে টোটো নিয়ে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে বাঁকিপুট সৈকত। সড়কপথে এলে কোলাঘাট হয়ে কাঁথি মোড় ধরে বাঁকিপুট আসতে হবে।
The post শীতের হাওয়ায় ঘুরে আসুন বাঁকিপুট সমুদ্র সৈকতে appeared first on Bhramon Online.
]]>The post শীতের সময় খানিক অবসরে চলুন যাই বেনাপুর চর appeared first on Bhramon Online.
]]>বেনাপুর চরটি রূপনারায়ণ নদীর তীরে। শীতের মিঠে রোদ এখানে লুকোচুরি খেলে যায়। এই সময় অনেকেই জায়গাটিতে চড়ুইভাতি করেন।
এককালে রূপনারায়ণ নদীর পাশে একাধিক জনপদ সংস্কৃতির ইতিহাসে জড়িয়ে আছে। রূপনারায়ণ নদীর অপরূপ সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। এখানে সূর্যাস্তের অনুভূতি এক অন্যরকম।
রূপনারায়ণ নদী পথেই ইতিহাস সমৃদ্ধ তমালিকা বা তাম্রলিপ্ত বন্দর ছিল। তখন দেশে মগধ বংশ। এই নদী পথ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে।
বেনাপুর চর হাওড়ার বাগনানে। রূপনারায়ণ নদী পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। চারদিক সবুজে ভরা। ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে খুব আকর্ষণীয়।

নির্জন চরে সময় কোথা দিয়ে যেন কেটে যায়। একদিনের জন্য আপনার মনকে খোশমেজাজে ভরিয়ে দেবে। নদীর পাড়ে হঠাৎ দেখে মনে হবে কে যেন সবুজ কার্পেট বিছিয়ে দিয়ে গেছে। আর ছোট ছোট বাবলা গাছ গুলোর ফুরফুরে হাওয়া এক সুখের নিবাস।
চরে বসলে দেখা মিলবে ভালো সংখ্যক পরিযায়ী পাখির কলরব। দূরে নদীতে মাঝিদের বৈঠা চলেছে।
কিভাবে যাবেন: হাওড়া থেকে ট্রেনে প্রথমে নামতে হবে বাগনান স্টেশন। সেখান থেকে টোটো বুক করে বা ট্রেকারে চলে আসুন বেনাপুর চরে।
The post শীতের সময় খানিক অবসরে চলুন যাই বেনাপুর চর appeared first on Bhramon Online.
]]>The post শীতে স্বল্প দিনের ভ্রমণ: রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ঐতিহাসিক গঙ্গাবাস appeared first on Bhramon Online.
]]>কৃষ্ণনগরে আমঘাটার গঙ্গাবাসে মন্দিরটির চারপাশের সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করতে আসেন পর্যটকরা। গঙ্গাবাস নামকরণ করেছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র স্বয়ং।
জায়গাটি নবদ্বীপের নয়টি দ্বীপের মধ্যে একটি। দ্বীপের নাম গোদ্রুম দ্বীপ। এর অন্তর্গত সুবর্ণবিহার। একটি প্রত্নক্ষেত্র।
একটা সময় শান্তিপুর হয়ে এই আমঘাটার উপর দিয়ে মার্টিন কোম্পানির ন্যারোগেজ রেল নবদ্বীপ ঘাট অবদি যেত। এই আমঘাটাতেই গঙ্গাবাস।

অলকানন্দা নদীর তীরে গঙ্গাবাসে কৃষ্ণচন্দ্র শেষ জীবন কাটান। গঙ্গাবাস সবুজে ঘেরা মনোরম। আশেপাশে বিশাল কান্ড নিয়ে কটি বহু বছরের পুরনো তেঁতুল গাছ রয়েছে। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে অলকানন্দা নদী। বর্তমানে অলকানন্দা ক্ষীণতোয়া। হরিহর মন্দিরে হরিহরের বিগ্রহটি কৃষ্ণচন্দ্র প্রতিষ্ঠিত করেন। বিগ্রহ চতুর্ভুজ। সঙ্গে আছে মাটির পার্বতী ও লক্ষী। মন্দিরে অন্যান্য মূর্তিও আছে।
অতীতকালে শোনা যায়, যে বৌদ্ধধর্ম বনাম হিন্দু ধর্মে হরিহর দেবতা নির্মান হয়। বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব বৃদ্ধি পেলে শৈব ও বৈষ্ণবরা একত্রিত হয়ে হরিহর মূর্তি স্থাপন করেছিলেন। ১৭৭৬ সালে মন্দিরটি তৈরি হয়। শিখরদেশটি ত্রিকোণ চারচালা।

মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র নিভৃতে তার শেষ জীবন এখানেই কাটিয়েছিলেন। সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র মন্দির যেখানে শ্রীরামচন্দ্রের প্রস্তর পদচিহ্ন আছে। বিপুল অর্থ খরচ করে কৃষ্ণচন্দ্র এই পদচিহ্ন ত্রিকুট পাহাড় থেকে নিয়ে আসেন।
কিভাবে যাবেন
ট্রেন পথে কৃষ্ণনগর স্টেশন থেকে টোটো বা বাসে আমঘাটা স্টপেজে নামুন। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে বা টোটো করে চলে আসুন মন্দির প্রাঙ্গণ। শান্ত, নিরিবিলি জায়গাটি আপনার মন ভরিয়ে তুলবে।
The post শীতে স্বল্প দিনের ভ্রমণ: রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ঐতিহাসিক গঙ্গাবাস appeared first on Bhramon Online.
]]>The post শীতে ছুটি কাটানোর পর্যটকদের আকর্ষণ টাকিতে মিনি সুন্দরবন appeared first on Bhramon Online.
]]>ইছামতীর জলে নৌকা ভেসে চলেছে। কারও মাথায় ভারতের পতাকা আবার কয়েকটি বাংলাদেশের। ইছামতীর অপর দিকটা বাংলাদেশের সাতক্ষীরা। আর এ পারে টাকি।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ইছামতী নিয়ে লিখেছিলেন, বর্ষার দিনে এই ইছামতীর কূলে কূলে ভরা ঢল ঢল রূপে সেই অজানা মহাসমুদ্রের তীরহীন অসীমতার স্বপ্ন দেখতে পায় কেউ কেউ.. কত যাওয়া আসার অতীত-ইতিহাস মাখানো ওই সব মাঠ ওই সব নির্জন ভিটের ঢিপি কত লুপ্ত হয়ে যাওয়া মায়ের হাসি ওতে অদৃশ্য রেখায় আঁকা।
মনোরম এই পর্যটনকেন্দ্রের এক আকর্ষণ মিনি সুন্দরবন। ইউনেস্কো টাকিকে হেরিটেজ ঘোষণা করেছে। গোলপাতার জঙ্গল বা মিনি সুন্দরবন ঘুরে দেখেন পর্যটকরা। বাবলা, শিরীষ, সুন্দরী, কেওড়া সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এই জঙ্গলে আছে। শীতের নরম রোদ গায়ে মেখে ইছামতী সংলগ্ন মিনি জঙ্গলটিতে পাখির ডাক এখানকার বড় আকর্ষণ।

টাকির আরেকটি ঐতিহ্য হল পুবের বাড়ি। ৩০০ বছরের শোভামণ্ডিত পুরনো দালান আজও এই বাড়িতে আছে। স্থানীয় জমিদার রায়চৌধুরীদের দুর্গাপুজো টাকির অন্যতম আকর্ষণ। টাকি রাজবাড়ি ঘাটে প্রথম রায়চৌধুরীদের পুজোর বিসর্জন হয়। আগে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে জমিদারবাড়িটি দেখা যেত। বর্তমানে সারা বছরের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
শিয়ালদা থেকে ট্রেনে টাকি রোড স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে টোটো বা অটোতে টাকি যাওয়া যায়। কলকাতা থেকে টাকির দূরত্ব ৭৫ কিলোমিটার। সংরক্ষিত গাড়িতে গেলে তিন ঘন্টা মতো সময় লাগে।
টাকিতে বেশ কিছু হোমস্টে আছে। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন-এর ওয়েবসাইট www.wbtourism.gov.in/home-stay সার্চ করলে এদের সন্ধান পেয়ে যাবেন।
এ ছাড়াও টাকিতে বেশ কিছু বেসরকারি হোটেল আছে। গুগুল সার্চ করলে পেয়ে যাবেন।
টাকি পুরসভার গেস্ট হাউস আছে। যোগাযোগ: ০৩২১৭ ২৩৩৩২৮।
The post শীতে ছুটি কাটানোর পর্যটকদের আকর্ষণ টাকিতে মিনি সুন্দরবন appeared first on Bhramon Online.
]]>The post পাল আমলের স্মৃতি বহন করছে তাম্রলিপ্ত appeared first on Bhramon Online.
]]>শীত তো শেষ। প্রকৃতির হাওয়ায় লেগেছে বসন্ত। গরমের সংকেত ফুটে উঠেছে। এই সময় সব ছাড়িয়ে দূরে চলে যেতে ইচ্ছে করে।
শহরের ইট-কাঠের আধুনিক কর্কশ শব্দের মধ্যে মন অবরুদ্ধ। সপ্তাহশেষে ঘুরতে চলে আসুন, রূপনারায়ণ-তীরের এক ঐতিহাসিক ক্ষেত্রে। পুরাকালের বন্দরনগর তাম্রলিপ্ত তথা তমলুকে।
যদি মনে করেন এই বন্দরনগরের উদ্ভব হল কী ভাবে তা হলে ফিরে যেতে হবে মহাভারতের কালে। যদিও এই নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে নানা মতবিরোধ আছে। দ্রৌপদীর স্বয়ংবরসভায় তাম্রলিপ্তের রাজা উপস্থিত ছিলেন। তাম্রলিপ্তের ময়ূর বংশীয় রাজা ছিলেন ময়ূরধ্বজ। তাঁর পুত্র ছিলেন তাম্রধ্বজ। এর পর বলতেই হয় যে ভারতবর্ষে বৌদ্ধপ্রধান জায়গাগুলোর মধ্যে তাম্রলিপ্তের গুরুত্ব কিছু কম নয়।

রাম তিনটি তীর নিক্ষেপ করছে। টেরাকোটা অলংকরণের চিত্র।
অতীতে এই জায়গাটি ছিল পূর্ব ভারতের একমাত্র বন্দর। কলিঙ্গরাজ অশোক তাম্রলিপ্ত বন্দরে এসেছিলেন। বৌদ্ধধর্ম প্রচারের জন্য অশোকের প্রেরিত দূতেরা এই বন্দর দিয়ে সিংহল যাতায়াত করেছেন। ফা হিয়েন এই বন্দরে একাধিক বৌদ্ধমঠ দেখেন। দেশ-বিদেশ থেকে বহু পরিব্রাজক এখানে এসেছেন বৌদ্ধশাস্ত্রে শিক্ষিত হতে।
রূপনারায়ণ নদীর পাড়ে আজকের তমলুক ছিল সে কালের তাম্রলিপ্ত নগর। এই জায়গায় মাটির নীচ থেকে বহু প্রত্নসামগ্রী খুঁজে পাওয়া যায়। বিভিন্ন মৃৎপাত্র, দেবদেবীর মূর্তি, পোড়ামাটির মূর্তি ইত্যাদি মাটি খুঁড়ে পাওয়া গিয়েছে।

তাম্রলিপ্তে পাল যুগের সময়কার একটি মন্দিরের গায়ে রাম সীতা।
পাল যুগে ভারতীয় শিল্পরীতি এক আলাদা উচ্চতায় পৌঁছোয়। তাম্রলিপ্তে একাধিক বৌদ্ধ মঠ ছিল। অনুমান করা হয় যে প্রাচীন মঠগুলি বহু সময় বিভিন্ন আক্রমণের ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। সেই জায়গায় বিভিন্ন মন্দির নির্মাণ করা হয়। তার ছায়াও লক্ষ করা গেছে। বৌদ্ধ মঠগুলির আশেপাশে মন্দির নির্মিত হয়েছে। এর পরবর্তীতে পাল যুগে সেই সব মন্দিরের দেওয়ালে কারুকার্যে বিভিন্ন মূর্তি নির্মিত হয়। আজও তাম্রলিপ্তের বহু মন্দিরের গায়ে কারুকার্যে সেই সময়কার দেবমূর্তি দেখা যায়। এমনকি তমলুক ও তার আশপাশের গ্রাম থেকে বেশ কয়েকটি পাথরের মূর্তি পাওয়া যায়। সেগুলি পাল যুগের বিষ্ণুর মূর্তি বলে অনুমান করা হয়।
নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শতকের মূর্তি তমলুকের কিছু মন্দিরে আজও পুজো করা হয়। ঐতিহাসিকরা দাবি করেন যে হরির বাজারে কৃষ্ণ ও বলরামের মন্দিরে বহু প্রাচীন দুটি মূর্তি পাল যুগের সময়কার।

তাম্রলিপ্তের প্রাচীন একটি মন্দিরের দেয়ালে অলংকরণ।
‘সেই সত্য যা রচিবে তুমি, ঘটে যা তা সব সত্য নয়’।
বহু কাহিনি দীর্ঘকাল ধরে সত্য হয়ে আছে সাধারণ লোকসমাজে। যার ঐতিহাসিক তথ্য সব সময় পাওয়া যায় না।
সন্ধ্যাকর নন্দী পাল যুগের একজন বিখ্যাত কবি। তিনি মদন পালের সভাকবি ছিলেন। দ্বিতীয় মহীপালের ঘটনা লিপিবদ্ধ করে যান তাঁর রামচরিত সাহিত্যকর্মে। তা ছাড়া শ্রীরামচন্দ্রের পৌরাণিক ঘটনাও লিখেছিলেন। ধরে নেওয়া যায় ওই সময় বাংলার কারিগররা মন্দিরনির্মাণে রামায়ণ ও কৃষ্ণের পৌরাণিক কাহিনি শিল্পকর্মে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, যা পরবর্তীতে টেরাকোটা শিল্পে ব্যাপক ভাবে প্রচলিত হয়েছিল। এই সময় রামের বিগ্রহ লোকসমাজে পূজিত হতে থাকে।
রূপনারায়ণের তীরে শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশে তাম্রলিপ্তর ইতিহাস অন্তরকে অতি গভীর ভাবে স্পর্শ করে। সে যেন অতীতের একটি জ্যান্ত ছবি!
তথ্যসূত্র: ত্রৈলোক্যনাথ রক্ষিত, বিনয় ঘোষ
The post পাল আমলের স্মৃতি বহন করছে তাম্রলিপ্ত appeared first on Bhramon Online.
]]>