The post প্রকৃতির প্রতিশোধ! উন্নয়নের যজ্ঞেই কি ডুবে যাচ্ছে জোশীমঠ? appeared first on Bhramon Online.
]]>উত্তরাখণ্ডের জোশীমঠ ভ্রামণিক এবং তীর্থযাত্রীদের কাছে খুব পবিত্র এক শহর। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরেই উত্তরাখণ্ডের এই প্রাচীন শহরে আতংকের পরিবেশ। রাতবিরেতে মাটির তলা থেকে ভেসে আসে অদ্ভুতুড়ে সব আওয়াজ। বহু বাড়িতে ফাটল ধরছিল আগেই। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সেই তালিকাটা এখন হু হু করে বাড়ছে। প্রশাসনের হিসেবে অন্তত পাঁচশো! শহরের আনাচে-কানাচে এখন একটাই আলোচনা। তলিয়ে যাচ্ছে জোশীমঠ।
পাহাড়ি এই শহরের জেপি কলোনি হোক বা মাড়োয়ারি এলাকা — রোজ নতুন নতুন বাড়িতে ফাটলের আতংক দেখা দিচ্ছে। শুক্রবার সন্ধেতে একটি মন্দির ভেঙে পড়েছে। তবে সেটি পরিত্যক্ত হওয়ায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি, শহরের রাস্তা থেকে চাষের জমি — বহু জায়গায় বিপজ্জনক ফাটলের মুখে উন্মুক্ত হয়েছে পাতালের অন্ধকার।

কোথাও আবার ফাটল চুঁইয়ে বেরিয়ে আসছে ভূগর্ভস্থ জলের ধারা। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার থেকে বদরীনাথ জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তরাখণ্ড সরকারের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঘটনা শুরু গত সোমবার। ওই দিন মাঝরাতে মাটির নীচে আচমকা বিকট শব্দ শুনতে পান শহরের বাসিন্দারা। তার পর থেকেই একটার পর একটা বাড়ি থেকে ফাটলের খবর আসতে শুরু করে। কিছু বাড়িতে আবার ফাটল চুঁইয়ে জল বেরিয়ে আসতে শুরু করে।
সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, জোশীমঠে অন্তত ৫৬১টি বাড়িতে ফাটল দেখা গিয়েছে। কিছু জায়গায় মাটির ফাটল থেকে উঠে আসছে জল। ইতিমধ্যে পর্যটকদের জন্য বন্ধ করা হয়েছে এশিয়ার দীর্ঘতম রোপওয়ে। এই রোপওয়ে করেই জোশীমঠ থেকে আউলি পর্যন্ত যান পর্যটকরা। দু’টি হোটেল পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে।

কেন তলিয়ে যাচ্ছে জোশীমঠ? কারণ খুঁজতে গিয়ে উঠে আসছে প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো একটি রিপোর্টের কথা। ১৯৭৬ সালে মিশ্র কমিটি নামে একটি সমীক্ষক দলের রিপোর্টে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল, হিমালয়ের ধসপ্রবণ এলাকার উপরে গড়ে উঠেছে শহরটি। রিপোর্টে জানিয়েছিল, ‘‘সড়ক মেরামতি বা অন্য নির্মাণ কাজের জন্য বোল্ডার খনন করে সরানো উচিত নয়। পাহাড়ের ধারে বিস্ফোরণ ঘটানোও অনুচিত। আর গাছকে শিশুর মতো লালনপালন করা উচিত।”
তৎকালীন উত্তরপ্রদেশের গাড়োয়ালের কমিশনার এমসি মিশ্রের নির্দেশে সেই কমিটি তৈরি করা হয়েছিল। কমিটিতে ছিলেন ১৮ জন। সেনা, আইটিবিপি, শ্রীকেদারনাথ-বদরীনাথ মন্দির কমিটির সদস্যরাও ছিলেন কমিটিতে। ১৯৭৬ সালের ১০ থেকে ১৫ মে জোশীমঠ-সহ গাড়োয়ালে ভূমি পরিদর্শন করে সেই কমিটি। পরিদর্শনের পরেই রিপোর্ট দিয়ে মিশ্র কমিটি বলে, ‘‘অতীতের ভূমিধসের উপর তৈরি হয়েছে জোশীমঠ।’’
কমিটি সুপারিশ করে, প্রাচীন ওই শহরে বেশি নির্মাণকাজ চালানো ঠিক নয়। তাদের সাফ দাবি ছিল যে মানুষের কর্মকাণ্ডের জেরে জোশীমঠের স্থায়িত্ব বড়োজোর ১০০ বছর। এর মধ্যে শহরটি ধীরে ধীরে তলিয়ে যাবে।
কিন্তু কে শোনে কার কথা! সে সব সতর্কবার্তা উড়িয়ে দিয়ে দিনে দিনে আড়ে-বহরে শহর বেড়েছে। ধাপ কেটে, সুড়ঙ্গ খুঁড়ে তৈরি হয়েছে রাস্তাঘাট, নতুন জনবসতি। সঙ্গে একের পর এক জলাধার, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও।
উত্তরাখণ্ড কিন্তু অতীতেও ভয়াবহ দুর্যোগের কবলে পড়েছে। অতীতের সতর্কবাণী না মেনে উত্তরাখণ্ড ফল ভুগেছিল ২০১৩ সালে। মেঘভাঙা বৃষ্টিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৬ হাজার জনেরও বেশি মানুষ। সেই ফল ভুগেছিল জোশীমঠও। তার পরেও শিক্ষা নেওয়া হয়নি। গাড়োওয়াল অঞ্চল জুড়ে প্রকৃতিতে ধ্বংস করে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ ক্রমেই বেড়েছে।
কর্ণপ্রয়াগ পর্যন্ত রেল লাইন, চার ধাম সংযুক্ত করার জন্য চার লেনের সড়ক, ১১ হাজার ফুট উচ্চতার কেদারনাথের ভোল পালটে ফেলা, প্রকৃতির ওপরে যতটা অত্যাচার করা যায় সব করা হয়েছে উত্তরাখণ্ডের এই গাড়োয়াল অঞ্চলে। কিন্তু লাভটা কী হল? চার লেনের রাস্তা তো দূর, জোশীমঠ থেকে বদরীনাথগামী বর্তমান রাস্তায় এখন নানা জায়গায় ফাটল। রাস্তার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে বিপদ আসন্ন।

শুধু ২০১৩-এর বিপদ নয়, দুর্যোগ ২০২১ সালেও হানা দিয়েছিল জোশীমঠে। গ্লেসিয়ার ফেটে হড়পা বান দেখা দিয়েছিল বিষ্ণুগঙ্গা এবং অলকানন্দায়। কাদা-ধসের বন্যায় তলিয়ে গিয়ে প্রায় ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তখন থেকেই জোশীমঠের বাড়িগুলিতে বড়ো বড়ো ফাটল নজরে আসতে শুরু করে।
বিজ্ঞানীদের মতে, ভারী নির্মাণকাজের জেরে বিপদের মুখে আজ শহরটি। শুধু রেল লাইন বা সড়ক প্রকল্পই নয়, বিজ্ঞানীরা সরাসরি আঙুল তুলেছেন দু’টি নির্মাণকাজের দিকে। তপোবন-বিষ্ণুগড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও হেলাং পাসে নির্মাণকাজ। টনক নড়ার ফলে আপাতত সেই দু’টি ক্ষেত্রে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন চামোলির জেলাশাসক।
বার বার দুর্যোগের সঙ্গে যুঝে ওঠার পর মাথা তুলে দাঁড়ালেও ক্ষত আর সেরে ওঠেনি। বার বার জানান দিয়েছে সেই ক্ষত। তার থেকে রক্তপাত এখনও অব্যাহত।
জোশীমঠের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য উত্তরাখণ্ড সরকারের তরফ থেকে কিছু পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তাদের পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। আর্থিক সাহায্যও করা হচ্ছে। কিন্তু ভিটেমাটি হারিয়ে যে সহায়সম্বলহীন হয়ে পড়া মানুষগুলি আজ যে বড্ড অসহায়। মানুষের কর্মযজ্ঞের ফলই এখন ভুগতে হচ্ছে সবাইকে।

প্রকৃতির ওপরে অত্যাচার চালালে প্রকৃতি প্রতিশোধ নেবেই, এটা যে এখন শুধু কথার কথা নয়, বরং বাস্তবচিত্র, সেটা বুঝিয়ে দিচ্ছে জোশীমঠ।
The post প্রকৃতির প্রতিশোধ! উন্নয়নের যজ্ঞেই কি ডুবে যাচ্ছে জোশীমঠ? appeared first on Bhramon Online.
]]>The post খুলে গেল ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স, যেতে পারবেন বাইরের পর্যটকরাও appeared first on Bhramon Online.
]]>ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত বিশ্ব ঐতিহ্য ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স সাধারণত জুন মাসে খুলে যায়। অক্টোবর পর্যন্ত এখানে যাওয়া যায়। তবে এ বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণের জেরে নির্ধারিত সময়ে ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স খোলা যায়নি।

এ কথা জানিয়ে জোশীমঠের এসডিএম অনিল চনিয়াল বলেন, জনপ্রিয় এই পর্যটনস্থলে বাইরের রাজ্যের পর্যটকদের যেতে অনুমতি দেওয়া হবে একটি শর্তে। ভ্রমণের ৭২ ঘণ্টা আগে কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট আপলোড করতে হবে।
পর্যটনের ইতিহাসে এই প্রথম ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স নির্ধারিত সময়ে খোলেনি। সেই সময় বনমন্ত্রী হরক সিং রাওয়াত বলেছিলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, অভয়ারণ্য ইত্যাদি খুলে দেওয়ার আগে বিজ্ঞানী এবং বন্যজন্তু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: আর সমুদ্রযাত্রা কেন? এ বার রোপওয়েতে যাবেন এলিফ্যান্টা
হিমালয়ের কোলে সাড়ে ১১ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত অনিন্দ্যসুন্দর ভুইন্দর উপত্যকা তথা ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স ১ জুন থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত খোলা থাকে। ওই সময়ে ৩০০ রকমের ফুল ফোটে সেখানে। ইংরেজি ‘ইউ’ আকারের উপত্যকাটি বছরের বাকি সময় বরফে আচ্ছাদিত থাকে।
জোশীমঠ থেকে বদরীনাথের পথে ১৯ কিমি যেতে অলকানন্দা ও ভুইন্দর গঙ্গার সঙ্গমে ৬ হাজার ফুট উচ্চতায় গোবিন্দঘাট। এখান থেকেই শুরু হয় ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্সের উদ্দেশে হাঁটা। অলকানন্দা পেরিয়ে ভুইন্দর গঙ্গার পাড় ধরে হাঁটা। চড়াই ভেঙে পৌঁছোতে হয় সাড়ে ১২ কিমি দূরের ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় ঘাংঘারিয়ায়।
ঘাংঘারিয়া থেকে পথ দু’ ভাগ। একটি পথ গেছে সাড়ে ৫ কিমি দূরে ১৪২০০ ফুট উচ্চতায় হেমকুণ্ড সাহিবে। দুরূহ চড়াই সারা পথে। আর অন্য পথটি গেছে সাড়ে ৩ কিমি ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স-এ। মর্ত্যে যেন স্বর্গের পুষ্পোদ্যান।

গত বছর ১৫ হাজার পর্যটক ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স-এ গিয়েছিলেন। এ বছর ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স খুলে যাওয়ায় রাজ্যের পর্যটন শিল্প কিছুটা চাঙ্গা হবে বলে মনে করছেন এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।
ইতিমধ্যে বন দফতর ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স-এ যাওয়ার পথ নজরদারির জন্য খুলে দিয়েছে। চোরাশিকারিরা যাতে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে তার জন্যই চলছে নজরদারি। উপত্যকায় নজরদারি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এ বছরই ওই ক্যামেরায় মাস্ক ডিয়ারের ছবি ধরা পড়ে।
The post খুলে গেল ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স, যেতে পারবেন বাইরের পর্যটকরাও appeared first on Bhramon Online.
]]>The post গাড়োয়ালে ইতিউতি ১ / তুষারাবৃত বদরীনাথকে প্রণাম appeared first on Bhramon Online.
]]>
গিন্নির বড়ো দুঃখ, কেদার-বদরী দর্শন হল না। অতীতে তিনি অমরনাথ এবং হর-কি-দুন গিয়েছেন ট্রেকিং করেই, কিন্তু এখন হাঁটু সহযোগিতা করবে না কেদারনাথের চড়াইয়ের সঙ্গে। সহধর্মিনীর দুঃখ লাঘবের জন্য ঘোলের প্রস্তাব দেওয়া হল দুধের বদলে। সিদ্ধান্ত গৃহীত হল বদরীনাথের পাশাপাশি পঞ্চম কেদার কল্পেশ্বর, তৎসহ কার্তিকস্বামী ইত্যাদি দর্শনের। আমরা দু’ জন এবং অনুজ বন্ধু অনুপমদের তিন জন, এই পঞ্চপাণ্ডবের দল রওনা হলাম। হরিদ্বার থেকে গাড়িতে জোশীমঠ, বদরীনাথদেবের শীতকালীন আবাস।
৩ নভেম্বর। চলছে টিপটিপ বৃষ্টি। তারই মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ রওনা জোশীমঠ থেকে। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টির মুষলধার রূপ। অলকানন্দা পার হয়ে কিছুটা যাওয়ার পর চোখে পড়ল বদরীনাথ থেকে নামা গাড়ির ছাদে এবং উইন্ডশিল্ডে বরফ, অতএব প্রমাণিত বদরীনাথে বরফ। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের যাত্রাপথে তুষারপাত শুরু। আমাদের আনন্দ দেখে কে! জানলার কাচ নামিয়ে ছবি তোলার হুড়োহুড়ি।
আরও পড়ুন কুমারী সৈকত চাঁদপুরে একটা দিন
তুষারপাতের মধ্য দিয়ে চলেছি আমরা, পথের পাশে গাছে গাছে বরফের আস্তরণ। রাস্তার ওপরের বরফ শক্ত হতে শুরু করায় গাড়ির চাকা স্কিড করতে লাগল। গাড়ি দাঁড়িয়ে গেল। ওপর থেকে একটা বড়ো ট্রাক নীচে নামার ফলে যে চওড়া চাকার দাগ তৈরি হল, সেই দাগে চাকা ফেলে আমাদের গাড়ি চলল এগিয়ে।
অবশেষে বদরীনাথ। বরফ ঠেলে ভারত সেবাশ্রম সংঘ বিনোদ ভিউ। সেখানকার বারান্দাও তুষারাবৃত। কিছুক্ষণ পরে তুষারপাতের মধ্যেই ছাতা আর পঞ্চু চাপিয়ে প্রায় এক ফুট নরম বরফ ঠেলে মধ্যাহ্নভোজ সেরে আসা হল। তুষারপাতের বিরাম নেই। চারপাশ ঘোলাটে। বরফের ভারে গাছের ডালপালা নুয়ে পড়েছে। আমরা বাধ্য হয়ে ঘরবন্দি। বিকেলে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন। অন্ধকারের মধ্যেই ভক্তি মহারাজের বৈরাগ্যআলেখ্য শোনা হল। রসিক ব্যক্তি, নিজেকে নিয়ে মজা করতে পারেন।
তুষারপাত বেড়েছে, তারই সঙ্গে বেড়েছে হাওয়ার দাপটও। চার পাশের অন্ধকার, তাই তুষারের ধারাপাত স্পষ্ট। জেনারেটারের কারণে শুধুমাত্র বদরীনাথ মন্দির আলোকসজ্জায় সুসজ্জিত। সকালের আনন্দভাবের ওপর ধীরে ধীরে চিন্তার প্রলেপ পড়তে শুরু করেছে। একে অন্ধকার, তায় অবিরাম বরফবৃষ্টি। তাই বাইরে খেতে যাওয়া নাকচ হল। নৈশভোজ সারা হল সঙ্গের চিঁড়ে ভাজা আর খেজুর দিয়ে। আমাদের থার্মোমিটারে -৬ সেলসিয়াস। গরম জামাকাপড় গায়ে চাপিয়ে লেপ কম্বলের নীচে। কানে আসছে একটা ঝরনার আওয়াজ, সঙ্গে অলকানন্দার প্রবাহের শব্দ।
ভোররাত্রে ধুপধাপ আওয়াজ। হয়তো বরফের চাঙড় খসে পড়ছে। তাড়াতাড়ি উঠেই বা কী হবে? থাকতে তো হবে ঘরবন্দি। দরজার নীচে দিয়ে ঢোকা আলো দেখে বাইরে এসে তাজ্জব। হাই ফোকস্! ইট্স আ ব্রাইট ডে। সবাই বাইরে। ছবি তোলার ধুম। ঝকঝক করছে চার পাশ। রোদ এসে পড়েছে পাহাড়ের এক দিকে। বদরীনাথ মন্দির পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। এক জন বাড়ির ছাদে উঠে থালায় করে বরফ পরিষ্কার করছেন। মন্দিরচত্বরে লোকজনের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে এখানকার বারান্দা থেকেই। আমরাও রওনা দিলাম।
কিছু কিছু বরফ গলে পথ পিচ্ছিল। অতি সাবধানে পদচারণা করতে হচ্ছে। বেলচা দিয়ে বরফ সরানো হচ্ছে। অলকানন্দার ওপর যে ব্রিজ, তাতেও বরফ। অবশেষে বদরীনাথ দর্শন। মন্দির প্রায় খালি। বদরীনাথজি ভালো দর্শন দিলেন। মাথায় রত্নখচিত মুকুট অথচ দেখতে কী মায়াময়। মায়াবী, সংবেদনশীল দৃষ্টিতে দেখছেন। মনের থলি ভরে নিয়ে মন্দির প্রদক্ষিণ করে বাইরে আসতেই দেখি, দর্শনার্থী সমাগম বেশ হয়েছে, তার সঙ্গে হাজির পেশাদার আলোকচিত্রীর দল। ঝকঝকে রোদে চার পাশ ঝলমল করছে। হলুদ ঠোঁট চাও ওড়াউড়ি করছে। আমরাও মন্দির থেকে ফেরার পথ ধরলাম।
আরও পড়ুন বিশ্বনাথের বারাণসী, বারাণসীর বিসমিল্লাহ
একটি গাড়িও রওনা দিল, কিন্তু যেতে পারল না বিশেষ। বদরীনাথ ঢোকা-বেরোনোর চৌকিতে আটকে দেওয়া হল, রাস্তা চলাচলের উপযুক্ত না হওয়ায়। ষোলো ঘণ্টার অবিরাম তুষারপাতের ফলে জায়গায় জায়গায় দু’ ফুট তুষারের আস্তরণ।
ঘরবন্দি হয়ে থাকতে আর ভালো লাগছে না, বিকেলে পায়চারি করতে বেরোলাম। মাথার ওপর হেলিকপ্টারের চক্কর। অনুপম বলল, “রিপোর্টার”। সেটা যে ভুল তা বুঝেছিলাম পরের দিন। যা-ই হোক বিকেলে হাঁটতে হাঁটতে একেবারে মন্দিরচত্বরে, দর্শনার্থীদের লম্বা লাইন। সকালের মতো আর ফাঁকা নেই। মন্দিরের বাঁহাতি রাস্তা ধরে চলতে লাগলাম চরণপাদুকার দিকে। দু’ পাশের দোকানগুলোর ছাদ থেকে বরফগলা জল টপ টপ করে পড়ছে। রাস্তায় বরফকুচি আর জলের কাদা। সাবধানে চলতে হচ্ছে। চরণপাদুকার দিকে ওঠার সিঁড়ি বরফে ভর্তি। স্থানীয় একজন উঠতে বারণ করলেন। উঠতে পারলেও নামা কঠিন হবে। অগত্যা ফিরতি-পথ। অলকানন্দার ওপর সাঁকো পার হতেই চোখে পড়ল এক সাধু তাঁর ক্রাচ দিয়ে বসার বেঞ্চ থেকে বরফ সরাচ্ছেন। একটা জলুস আসছে বাজনা বাজিয়ে। এক আঞ্চলিক গ্রাম্য দেবতাকে আনা হচ্ছে বদরীনাথ দর্শনের জন্য। ছবি তুলতে গিয়ে দেখি চার্জ শেষ। গতকাল থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই পাওয়ার ফল্টের কারণে।

পরের দিন সকালে ঠিক হল ফিরতি পথে রওনা হওয়ার আগে চেষ্টা হবে মানা গ্রামে যাওয়ার। জানা গেল রাস্তা খোলা। গাড়ির সামনের বরফ পরিষ্কার করতে হাত লাগাল অনুপম। বরফ পরিষ্কার করে মানা যাওয়ার রাস্তা গাড়ি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। ফৌজি চৌকি থাকায় এই রাস্তার গুরুত্ব অপরিসীম। এই অঞ্চলে ভালো আলুচাষ হয়। এখন জমি ফাঁকা। জানা গেল, ইন্টারনেটের দৌলতে আগাম আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে চাষিরা আলু তুলে বিক্রি করে দিয়েছেন। সামরিক বাহিনীর ক্যাম্প পর্যন্তই রাস্তা পরিষ্কার। এর পর গাড়ি আর বেশি দূর এগোতে পারল না।
ফিরে আসার জন্য গাড়ি ব্যাক করতে লাগল। কিন্তু জমাট বরফে চাকা স্কিড করে একেবারে খাদের ধারে। সারথি বাপি চরম দক্ষতায় ব্রেক কষল। এর পর? গাড়ি চালু করলে চাকা বরফের উপর ঘুরে ঘুরে আরও হড়কে যাবে। সারথি জানালেন, অন্তত পাঁচ জন যদি গাড়ি ঠেলতে পারে তবেই গাড়ি সোজা করা যাবে। আমরা চললাম সামরিক ক্যাম্পের উদ্দেশে, ওঁদের সাহায্য যদি পাওয়া যায়, সেই আশায়। দেখা হয়ে গেল যমুনোত্রী থেকে আসা কয়েক জনের সঙ্গে। ওঁরাও চলেছেন মানাগ্রাম। ওঁরা রাজি হলেন। দলে আমরা সাত জন। প্রথমে গাড়ির সামনে থেকে ঠেলা, পরে পিছন থেকে ঠেলা। পা হড়কে যাচ্ছে, তবুও পরিশ্রম কাজে এল।
আরও পড়ুন ওখরে-হিলে-ভার্সে, যেন মেঘ-বালিকার গল্প
বদরীনাথ ঢোকার চৌকিতে আটকে দেওয়া হল। নীচের রাস্তায় গলা জল রাত্রে জমে গিয়ে বিপজ্জনক অবস্থা। অ্যাক্সিডেন্টের আশঙ্কা প্রবল। রোদে বরফ গলে গেলে গাড়ি ছাড়া হবে। অগত্যা অপেক্ষা। নেমে পায়চারি করা ছাড়া উপায় নেই। হঠাৎ কিছু ব্যস্ততা চোখে পড়ল। একটা গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হল। যাত্রী মুকেশ আম্বানি। কিছুক্ষণ পর ওঁকে নিয়ে হেলিকপ্টার উড়ে গেল। গতকালের হেলিকপ্টার-রহস্যের সমাধান।
আবার অপেক্ষা। সকাল দশটা নাগাদ নীচে থেকে গাড়ি আসতে শুরু করল। স্থানীয় প্রশাসনের গাড়ি এসে সবুজ সংকেত দেওয়ার পর আমাদের যাত্রা শুরু হল। তুষারাবৃত বদরীনাথকে প্রণাম জানিয়ে এগিয়ে চললাম পরবর্তী গন্তব্যের দিকে। (চলবে)
ছবি: লেখক
The post গাড়োয়ালে ইতিউতি ১ / তুষারাবৃত বদরীনাথকে প্রণাম appeared first on Bhramon Online.
]]>The post পুজোয় চলুন / ভ্রমণ অনলাইনের বাছাই : গাড়োয়াল appeared first on Bhramon Online.
]]>প্রথম দিন – দেহরাদুন থেকে চলুন ডাকপাথার, দূরত্ব ৪০ কিমি। তার আগে দেহরাদুন দেখে নিন টনস্ নদীর তীরে তপকেশ্বর মহাদেব (স্টেশন থেকে সাড়ে ৫ কিমি), সহস্রধারা (১৩ কিমি) ও টনস্ নদীর কাছে রবার্স কেভ (৮ কিমি)। রাত্রিবাস যমুনার ধারে ডাকপাথারে।
দ্বিতীয় দিন – ডাকপাথার থেকে প্রথমে চলুন হিমাচলের পাওনটা সাহেব — গুরু গোবিন্দ সিং-এর স্মৃতিবিজড়িত, ২৫ কিমি। এর পর আরও ৬ কিমি গিয়ে নাহান – শিবালিকের কোলে সুন্দর পাহাড়ি শহর। সব শেষে আরও ৪৫ কিমি গিয়ে রেণুকাজি, হিমাচলের বৃহত্তম লেক, পাহাড়ে ঘেরা। পরশুরামের মায়ের নামে লেক, রয়েছে পরশুরাম লেকও। তার পাড়ে পরশুরাম মন্দির। আরও নানা মন্দির। ফিরুন গিরি নদীর পাড় ধরে পাওনটা হয়ে ডাকপাথারে, ৭২ কিমি। পথে পড়বে যমুনার ওপর আসান ব্যারেজ, ডাকপাথারের ১১ কিমি আগে। রাত্রিবাস ডাকপাথার।
তৃতীয় দিন – ভোরেই চলুন শৈলশহর চক্রাতা (২১৫৩ মিটার), দূরত্ব ৫১ কিমি। ডাকপাথার থেকে ৭ কিমি গেলেই পড়বে কালসি। এখানে দেখে নিন ১৮৬০ সালে আবিষ্কৃত সম্রাট অশোকের শিলালিপি। এখান থেকেই গাড়ি উঠতে শুরু করে পাহাড়ে, পৌঁছে যায় সেনাশহর চক্রাতায়। তুষারাবৃত বন্দরপুঞ্ছ শৃঙ্গ দৃশ্যমান। রাত্রিবাস চক্রাতা।
চতুর্থ দিন – আজও থাকুন চক্রাতায়।
চক্রাতায় দ্রষ্টব্য – চিন্তাহরণ মহাদেব (চক্রাতা বাজার থেকে কিছুটা নেমে), খারাম্বা চুড়ো (৩০৮৪ মি, ৩ কিমি), চিলমিরি সানসেট পয়েন্ট (৫ কিমি), থানাডাণ্ডা (চিরিমিরি থেকে ১ কিমি চড়াই উঠে), রামতাল গার্ডেন (৮ কিমি), চানি চুরানি (১৮ কিমি, সুন্দর নৈসর্গিক দৃশ্য), কানাসার (বিশাল বিশাল কাণ্ডওয়ালা বহু প্রাচীন দেবদারুর জঙ্গল ও কানাসার দেবতার মন্দির, ২৬ কিমি), দেওবন (তুষারমৌলী হিমালয়ের দৃশ্য, ১০ কিমি, শেষ ২ কিমি হাঁটা)।
(চক্রাতায় পৌঁছে প্রথম দিন স্থানীয় দ্রষ্টব্য দেখে নিন। পরের দিন সকালে ঘুরে আসুন কানাসার ও দেওবন। চক্রাতা ফিরে দুপুরে খেয়ে চলুন রামতাল গার্ডেন ও চানি চুরানি।)
পঞ্চম দিন – সকালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন বারকোট, ৮৫ কিলোমিটার। পথে দেখে নিন টাইগার ফলস্ (চক্রাতা থেকে ১৯ কিমি), লাখামণ্ডল (চক্রাতা থেকে ৬৬ কিমি, নানা দেবতার মন্দিররাজি। পাহাড়ের গায়ে বিশাল কিছু গহ্বর। জনশ্রুতি, পঞ্চপাণ্ডবদের পুড়িয়ে মারার জন্য এখানেই তৈরি হয়েছিল লাক্ষার জতুগৃহ। নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে বার্নি নদী)। যমুনার ধারে বারকোটে এ দিনটা বিশ্রাম করুন। দেখুন তুষারাবৃত বন্দরপুঞ্ছ শৃঙ্গ।
ষষ্ঠ দিন – সকালেই চলুন উত্তরকাশী ১১৮০ মিটার, ৮০ কিমি। এখানে দেখে নিন বিশ্বনাথ ও অন্যান্য মন্দির এবং ভাগীরথীর ধারে কেদারঘাট। রাত্রিবাস উত্তরকাশী।
সপ্তম দিন – আজ চলুন নচিকেতা তাল (২৪৫৩ মিটার, ৩২ কিমি)। চৌরঙ্গি খাল পর্যন্ত গাড়িতে গিয়ে ৩ কিমি ট্রেক জঙ্গলের মধ্য দিয়ে। উদ্দালক মুনির ছেলে নচিকেতার নামে এই লেক। কাছেই নাগ দেবতা মন্দির। রাত্রিবাস উত্তরকাশী।
অষ্টম দিন – ভোরেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন হরসিল (২৬২০ মিটার, ৭৫ কিমি)। পথে দেখে নিন গাংনানির উষ্ণ প্রস্রবণ। রাত্রিবাস হরসিল।
নবম দিন – ভাগীরথী উপত্যকায় পাইন ও দেওদারে ছাওয়া অনুপম সৌন্দর্যের পাহাড়ি জনপদ হরসিল। চলুন ৩ কিমি দূরে ধারালি। ভাগীরথী পেরিয়ে ১ কিমি চড়াই ভেঙে মুখবা গ্রাম, গঙ্গোত্রী মন্দিরের বিগ্রহ মা গঙ্গার শীতকালীন আবাস। মুখবা গ্রাম থেকে দেখুন সুদর্শন, শিবলিঙ্গ, ভাগীরথী-সহ হিমালয়ের বিভিন্ন তুষারশৃঙ্গ। ধারালি থেকে ৩ কিমি চড়াই ভেঙে উঠতে পারেন সাততাল (কুমায়ুনের সাততালের সঙ্গে গোলাবেন না), বিভিন্ন উচ্চতায় সাতটি লেক, যার অনেকগুলিই আজ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবে যা আছে, সেটাই উপভোগ করার মতো।
দশম দিন – আজও থাকুন হরসিলে। সকালেই চলুন গঙ্গোত্রী (৩০৪২ মি), ২৫ কিমি। উপভোগ করুন গঙ্গোত্রীর নিসর্গ। মন্দির বন্ধ হলে ফিরে আসুন হরসিলে।
একাদশ দিন – হরসিল থেকে ভোর বেলায় রওনা হয়ে ফিরে আসুন হরিদ্বার। রাত্রিবাস হরিদ্বার।
দ্বাদশ দিন – বাড়ির পথে।
প্রথম দিন থেকে চতুর্থ দিন – ভ্রমণ-ছক ১-এর মতো।
পঞ্চম দিন – আজও থাকুন চক্রাতায়। ঘুরে আসুন টাইগার ফলস্ (চক্রাতা থেকে ১৯ কিমি), লাখামণ্ডল (চক্রাতা থেকে ৬৬ কিমি, নানা দেবতার মন্দিররাজি। পাহাড়ের গায়ে বিশাল কিছু গহ্বর। জনশ্রুতি, পঞ্চপাণ্ডবদের পুড়িয়ে মারার জন্য এখানেই তৈরি হয়েছিল লাক্ষার জতুগৃহ। নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে বার্নি নদী)।
ষষ্ঠ দিন – চলুন মুসোরি, ৮০ কিমি। পথে দেখে নিন কেম্পটি ফলস। রাত্রিবাস মুসোরি।
সপ্তম দিন – আজও থাকুন মুসোরিতে। হাঁটাহাঁটি করুন ম্যালে। দেখে নিন ক্যামেলস ব্যাক রোডে দুর্গা মন্দির, ভাট্টা ফলস, নাগ দেবতা মন্দির, গান হিল পয়েন্ট, মোসি ফলস, ফ্লাগ হিল, লাল টিব্বা (২৬১০ মি), মালসি ডিয়ার পার্ক। গান হিল বেড়িয়ে নিন রোপওয়ে চেপে। রাত্রিবাস মুসৌরি।
অষ্টম দিন – মুসোরি থেকে ধনোলটি (২২৮৬ মি)। দূরত্ব ৩২ কিমি। মুসোরি থেকে এলে ধনোলটিতে রাস্তার বাঁ দিক বরাবর গাড়োয়াল হিমালয়ের বিশাল রেঞ্জ চোখে পড়ে। সকাল সকাল চলে আসুন, যাতে সারা দিন ধরে ধনোলটির সৌন্দর্য উপভোগ করুন। বিকেল হওয়ার আগে চলুন ধনোলটি ভিউ পয়েন্ট। দেড় কিমি ট্রেক। উপরে উঠে বিস্তীর্ণ বুগিয়াল। নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত। রাত্রিবাস ধনোলটি।
নবম দিন – ভোরেই চলুন ৩০৪৯ মিটার উচ্চতায় সুরখণ্ডাদেবীর (দুর্গা) মন্দির। চাম্বার পথে ৫ কিমি গিয়ে ২ কিমি চড়াই ভাঙা। হিমালয়ের দৃশ্য ভোলার নয়। দুপুরের আগে ধনোলটি ফিরে চলুন হরিদ্বার, ১১২ কিমি। রাত্রিবাস ধনোলটি।
দশম দিন – বাড়ির পথে।
প্রথম দিন– দেহরাদুন থেকে চলুন মুসোরি (২০০৬ মিটার), দূরত্ব ৪০ কিমি। তার আগে দেহরাদুন দেখে নিন টনস্ নদীর তীরে তপকেশ্বর মহাদেব (স্টেশন থেকে সাড়ে ৫ কিমি), সহস্রধারা (১৩ কিমি) ও টনস্ নদীর কাছে রবার্স কেভ (৮ কিমি)। পথে দেখে নিন মালসি ডিয়ার পার্ক। রাত্রিবাস মুসোরি।
দ্বিতীয় দিন – আজও থাকুন মুসোরিতে। হাঁটাহাঁটি করুন ম্যালে। দেখে নিন ক্যামেলস ব্যাক রোডে দুর্গা মন্দির, ভাট্টা ফলস, নাগ দেবতা মন্দির, গান হিল পয়েন্ট, মোসি ফলস, ফ্লাগ হিল, লাল টিব্বা (২৬১০ মি)। গান হিল বেড়িয়ে নিন রোপওয়ে চেপে। ঘুরে আসুন কেম্পটি ফলস্ (১৫ কিমি)।
তৃতীয় ও চতুর্থ দিন – এই দু’ দিন থাকুন ধনোলটিতে। দেখুন ভ্রমণ ছক ২-এর অষ্টম ও নবম দিন।
পঞ্চম দিন – চলুন অলকানন্দা তীরে শ্রীনগর (৫৬০ মি, কাশ্মীরের নয়), ১২৪ কিমি। এখানে দেখে নিন কমলেশ্বর মহাদেব মন্দির (জনশ্রুতি, এই মন্দিরেই রাম হাজার পদ্মের অর্ঘ্য দেন দেবতা শিবকে। এখানেই নাকি একটা চোখ কম পড়াতে রাম নিজের চোখ উৎসর্গ করতে চান। সেই থেকে রামকে বলা হয় কমল নয়ন)), আদি শংকরাচার্য প্রতিষ্ঠিত কিকিলেশ্বর মহাদেব মন্দির, কেশোরাই মঠ, ৩ কিমি দূরে বাবা গোরখনাথ গুহার উলটো দিকে শংকর মঠ, ১৭ কিমি দূরে পৌড়ী-গাড়োয়াল রাজ্যের রাজধানী দেবলগড় (এখানে গাড়োয়ালি স্থাপত্যের নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে গৌরী দেবী মন্দির, মা রাজেশ্বরী মন্দির ইত্যাদি।
ষষ্ঠ দিন – শ্রীনগর থেকে চলুন খিরসু, ৩৫ কিমি। হিমালয়ের দিগন্তবিস্তৃত শিখররাজির (তিনশোরও বেশি) জন্য খ্যাতি খিরসুর (১৭০০ মি)। রাত্রিবাস খিরসু।
সপ্তম দিন – খিরসু থেকে চলুন পৌড়ী (১৯ কিমি, ১৮১৪ মি)। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তে ত্রিশূল, হাতি পর্বত, নীলকণ্ঠ, কেদারনাথ, চৌখাম্বা, ভৃগুপন্থ, গঙ্গোত্রী গ্রুপ, বন্দরপুঞ্ছ ছাড়াও তুষারে মোড়া হিমালয়ের শিখররাজির শোভা দেখুন। দেখুন বাসস্ট্যান্ডে লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, ২ কিমি দূরে ঘন জঙ্গলে কান্ডোলিয়া শিবমন্দির, ৩ কিমি পাহাড় চড়ে ৮ শতকের কঙ্কালেশ্বর শিব মন্দির। রাত্রিবাস পৌড়ী।
অষ্টম দিন – চলুন ল্যান্সডাউন (১৭১৬ মি), ৮৬ কিমি। রাত্রিবাস ল্যান্সডাউন।
নবম দিন – আজও থাকুন ল্যান্সডাউনে। টিপ-এন-টপ পয়েন্ট থেকে দেখুন অসংখ্য গিরিশিরা। রমণীয় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। আরও দেখুন দরওয়ান সিং মিউজিয়াম, ভুল্লা তাল, সেন্ট মেরি চার্চ, সেন্ট জন চার্চ, কালেশ্বর শিব মন্দির, শাকম্ভরী মন্দির, সেনাবাহিনীর দুর্গা মন্দির, ভীম পকোড়া, হাওয়া ঘর ইত্যাদি।
দশম দিন – ল্যান্সডাউন থেকে নাজিবাবাদ (৬৩ কিমি) বা হরিদ্বার (১০৬ কিমি) এসে সেখান থেকে ফেরার ট্রেন ধরতে পারেন। পথে সম্ভব হলে দেখে নিন কোটদ্বার থেকে ১৪ কিমি দূরে কণ্বাশ্রম, শকুন্তলার বড়ো হওয়ার জায়গা কণ্ব মুনির আশ্রম।
প্রথম দিন – হরিদ্বার থেকে চলুন উত্তরকাশী। দূরত্ব ১৮৫ কিমি। রাত্রিবাস উত্তরকাশী (১১৫৮ মি)।
দ্বিতীয় দিন – সকালে উত্তরকাশীর বিশ্বনাথ ও অন্যান্য মন্দির দেখে এবং ভাগীরথীর ধারে কেদারঘাট ঘুরে চলুন ভাগীরথী উপত্যকায় পাইন ও দেওদারে ছাওয়া অনুপম সৌন্দর্যের পাহাড়ি জনপদ হরসিল (২৬২০ মি), দূরত্ব ৭৫ কিমি। পথে দেখে নিন গাংনানির উষ্ণপ্রস্রবণ। রাত্রিবাস হরসিল।
তৃতীয় দিন – ঘুরে আসুন গঙ্গোত্রী (৩০৪২ মি), ২৫ কিমি। উপভোগ করুন গঙ্গোত্রীর নিসর্গ। মন্দির বন্ধ হলে ফিরে আসুন হরসিলে। রাত্রিবাস হরসিল।
চতুর্থ দিন – হরসিল থেকে চলুন অলকানন্দা তীরে শ্রীনগর (৫৭৯ মি), ২২১ কিমি। রাত্রিবাস শ্রীনগর।
পঞ্চম দিন – শ্রীনগর থেকে চলুন জোশীমঠ (১৮৭৫ মি), ১২৩ কিমি। দেখে নিন বাসস্ট্যান্ডের ১ কিমি নীচে নৃসিংহ মন্দির, বাসস্ট্যান্ডের উপরে শংকরাচার্য প্রতিষ্ঠিত জ্যোতির্মঠ। রাত্রিবাস জোশীমঠ।
ষষ্ঠ দিন – ভোরেই চলুন বদরীনাথ (৩১৫৫ মি), দূরত্ব ৪৬ কিমি। পথে পড়বে বিষ্ণুপ্রয়াগ, অলকানন্দা ও ধৌলিগঙ্গার সঙ্গম। শ্বেতশুভ্র নীলকণ্ঠ (৬৫৯৬ মি) মুকুট হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বদরীনাথের শিরে। রাত্রিবাস বদরীনাথ।
বদরীনাথে দেখে নিন-
নীলকণ্ঠে সূর্যোদয়, দোকানপাটের মধ্যে দিয়ে নেমে ঝোলাপুলে অলকানন্দা পেরিয়ে বদরীনাথের মন্দির, সন্ধ্যায় দেখুন আরতি, চলুন মানা গ্রাম (তিব্বতের পথে শেষ বসতি, ৩ কিমি)। দেখে নিন ব্যাস গুহা, অলকানন্দা ও সরস্বতীর সঙ্গম কেশবপ্রয়াগ, সরস্বতীর ওপরে পাথরের ভীম পুল (এখান থেকে ৫ কিমি হেঁটে বসুধারা ফলস্, ১২২ মিটার উঁচু), চরণপাদুকা (জিএমভিএন ট্যুরিস্ট লজ থেকে ৩ কিমি হাঁটা, খুব চড়াই নয়। জনশ্রুতি, পাথরে বিষ্ণুর পায়ের চিহ্ন)।
সপ্তম দিন – বদরীনাথ থেকে আউলি (২৫১৯ মি), দূরত্ব ৫৬ কিমি। পুরোটা গাড়িতে যেতে পারেন, আবার জোশীমঠ থেকে কেবল কারেও ঘুরে আসতে পারেন। আউলিতে দেখুন দিগন্তবিস্তৃত হিমালয়ের শৃঙ্গরাজি। শৃঙ্গরাজির মাথায় সূর্যাস্ত অতুলনীয়।
(কেবল কারেই চলুন। প্রথমে চলুন ১০ নম্বর টাওয়ার স্টেশনে, কেবল কার এতটাই আসে। এখানে নেমে গড়সন বুগিয়াল দেখে ফেরার পথে ৮ নম্বর টাওয়ার স্টেশনে নেমে সেখান থেকে চেয়ার কারে আউলি চলে আসুন। জোশীমঠে কেবল কার স্টেশনে টিকিট কাটার সময় আপনার প্ল্যান জানিয়ে দিলে সেইমতো ব্যবস্থা হয়ে যাবে। টিকিটে যাতায়াতের ভাড়া ধরা। ফেরার দিন জানিয়ে দেবেন। সঙ্গে গাড়ি থাকলে জোশীমঠে এক দিন রেখে দেবেন।)
অষ্টম দিন – আজও থাকুন আউলিতে, উপভোগ করুন এর সৌন্দর্য, বিশ্রাম নিন।
নবম দিন – আউলি থেকে চলুন রুদ্রপ্রয়াগ (৬১০মি), অলকানন্দা-মন্দাকিনী সঙ্গম, ১২৪ কিমি। পথে দেখুন নন্দপ্রয়াগ (অলকানন্দা ও নন্দাকিনীর সঙ্গম) এবং কর্ণপ্রয়াগ (অলকানন্দা ও পিন্ডারগঙ্গার সঙ্গম)। বিকেলে ঘুরে নিন সঙ্গমের কাছে রুদ্রনাথ শিবমন্দির, জগদম্বা মন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির। রাত্রিবাস রুদ্রপ্রয়াগ।
দশম দিন– রুদ্রপ্রয়াগ থেকে হরিদ্বার, ১৬৪ কিমি। পথে দেখে নিন দেবপ্রয়াগ, অলকানন্দা ও ভাগীরথীর সঙ্গম। এখানেই অলকানন্দার যাত্রা শেষ। গঙ্গার পথ চলা শুরু। রাত্রিবাস হরিদ্বার।
একাদশ দিন – আজও থাকুন হরিদ্বারে। হরিদ্বারে দেখে নিন গঙ্গারতি, মনসা পাহাড়, চণ্ডী পাহাড়, কনখল ইত্যাদি। মনসা পাহাড়, চণ্ডী পাহাড় যাওয়ার জন্য রোপওয়ে-ও আছে।
দ্বাদশ দিন – বাড়ির পথে।
প্রথম দিন – হরিদ্বার থেকে জানকীচটি, ২২১ কিমি। রাত্রিবাস জানকীচটি।
দ্বিতীয় দিন – যমুনোত্রী (৩২৯১ মি) ঘুরে আসা। যাতায়াতে ১০ কিমি মতো হাঁটা। রাত্রিবাস জানকীচটি।
তৃতীয় দিন – সক্কালে যাত্রা করুন গঙ্গোত্রীর উদ্দেশে, ২২০ কিমি। রাত্রিবাস গঙ্গোত্রী।
চতুর্থ দিন – আজও থাকুন গঙ্গোত্রীতে (৩০৪২ মি)। উপভোগ করুন ভাগীরথী ও কেদারগঙ্গার সঙ্গমে গঙ্গোত্রীর সৌন্দর্য।
পঞ্চম দিন – গঙ্গোত্রী থেকে উত্তরকাশী, ৯৫ কিমি। ঘোরাঘুরি। রাত্রিবাস উত্তরকাশী। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ১, ষষ্ঠ দিন)
ষষ্ঠ দিন – চলুন গুপ্তকাশী, ১৯৪ কিমি। দেখে নিন বাসপথের কিছুটা উপরে কেদারের মন্দিরের আদলে তৈরি শিবমন্দির। রাত্রিবাস গুপ্তকাশী।
সপ্তম দিন – ভোরে বেরিয়ে গুপ্তকাশী থেকে শোনপ্রয়াগ (৩০ কিমি) পৌঁছে হাঁটা শুরু। ১০ কিমি হেঁটে রাত্রিবাস ভীমবলী (৮৭৩০ ফুট)। অথবা আরও ৬ কিমি এগিয়ে লিনচোলিতেও (১০৩৩০ ফুট) থাকতে পারেন।
অষ্টম দিন – ভীমবলী হলে ১০ কিমি হেঁটে অথবা লিনচোলি হলে ৪ কিমি হেঁটে কেদারনাথ (১১৭৫৫ ফুট)। রাত্রিবাস কেদারনাথ।
নবম দিন – কেদার থেকে হেঁটে শোনপ্রয়াগ আসুন (২০ কিমি), চলুন উখিমঠ (১৩১১ মি), ৪৪ কিমি। মন্দির দর্শন। রাত্রিবাস উখিমঠ।
দশম দিন – উখিমঠ থেকে চলুন জোশীমঠ, ১২৯ কিমি। রাত্রিবাস জোশীমঠ। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ৪, পঞ্চম দিন)।
একাদশ দিন – চলুন বদরীনাথ। (দেখুন ভ্রমণ-ছক ৪, ষষ্ঠ দিন)।
দ্বাদশ দিন – বদরীনাথ থেকে পৌঁছে যান হরিদ্বার, ৩১৬ কিমি। রাত্রিবাস হরিদ্বার।
ত্রয়োদশ দিন – ঘরের পানে।
হাওড়া থেকে দেহরাদুন যাওয়ার জন্য সব থেকে ভালো ট্রেন উপাসনা এক্সপ্রেস। প্রতি মঙ্গল এবং শুক্রবার দুপুর ১টায় হাওড়া ছেড়ে দেহরাদুন পৌঁছোয় পরের দিন সন্ধ্যা ৬.১০-এ। রয়েছে দুন এক্সপ্রেস, প্রতিদিন রাত ৮.২৫ মিনিটে হাওড়া থেকে ছেড়ে দেহরাদুন পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৭.৩৫-এ।
দিল্লি থেকে দেহরাদুন আসার ট্রেন আছে পাঁচটা। এ ছাড়াও দেশের সব বড়ো শহরের সঙ্গেই ট্রেন যোগাযোগ আছে দেহরাদুনের। ট্রেনের অভাবে দিল্লি হয়ে দেহরাদুন আসাই ভালো।
বিমানেও দিল্লি এসে দেহরাদুন আসতে পারেন বিমানে। ট্রেনে, বাসে বা গাড়িতে। সড়ক পথে দিল্লি থেকে দেহরাদুন ২৫১ কিমি।
হাওড়া থেকে হরিদ্বার যাওয়ার জন্য রয়েছে উপাসনা এক্সপ্রেস। প্রতি মঙ্গল এবং শুক্রবার দুপুর একটায় ছেড়ে হরিদ্বার পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩:৫০-এ। রয়েছে কুম্ভ এক্সপ্রেস, মঙ্গল এবং শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহে পাঁচ দিন দুপুর একটায় হাওড়া থেকে ছেড়ে হরিদ্বার পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৪:৪০। রয়েছে দুন এক্সপ্রেসও। হাওড়া থেকে রাত ৮.২৫-এ ছেড়ে হরিদ্বার তৃতীয় দিন ভোর পৌনে ৫টায়।
দিল্লি হয়েও আসতে পারেন। হাওড়া থেকে রাজধানী বা দুরন্ত ধরে বা শিয়ালদহ থেকে রাজধানী বা দুরন্ত ধরে দ্বিতীয় দিন দিল্লি আসুন। দিল্লি থেকে হরিদ্বার ১৮০ কিমি। গাড়িতে আসতে পারেন, মুহুর্মুহু বাসও পাবেন।)
নাজিবাবাদ থেকে হাওড়া ফেরার জন্য রয়েছে দুন এক্সপ্রেস। রাত ১১:৪৫-এ ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৬:৫৫-এ। রয়েছে অমৃতসর-হাওড়া মেল, রোজ রাত ২.৪৯-এ, হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৭.২০-তে। রয়েছে অকাল তখৎ এক্সপ্রেস। প্রতি মঙ্গল এবং শুক্রবার দুপুর ১:০৭-এ ছেড়ে কলকাতা স্টেশন পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩:১৫-এ। এ ছাড়া আছে ডাউন জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেস। প্রতিদিন সকাল ৮.০৩-এ ছেড়ে কলকাতা স্টেশন পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩:৫৫-এ। অমৃতসর-হাওড়া এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত ২.৩৩-এ ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন বিকেল পৌনে ৪টেয়।
হরিদ্বার থেকে ফেরার ট্রেন। উপাসনা এক্সপ্রেস প্রতি বুধ এবং শনিবার রাত ১১:৫০-এ ছেড়ে, হাওড়া পৌঁছোয় তৃতীয় দিন ভোর ৩:১৫-এ। বাকি পাঁচদিন একই সময় রয়েছে কুম্ভ এক্সপ্রেস। দুন এক্সপ্রেস রোজ রাত্রি ১০.১০-এ ছেড়ে তৃতীয় দিন সকাল ৬.৫৫-য় হাওড়া। এ ছাড়াও দিল্লি হয়ে ফিরতে পারেন।
সারা দিনে হরিদ্বার থেকে দিল্লি আসার অনেক ট্রেন আছে। ট্রেনের মান অনুযায়ী সময় লাগে সাড়ে চার ঘণ্টা থেকে বারো ঘণ্টা। দেশের অন্য শহরের সঙ্গে হরিদ্বারের ট্রেন যোগাযোগ থাকলেও তা খুব সীমিত। তাই সে ক্ষেত্রে দিল্লি হয়ে যাতায়াত করাই ভালো।
ট্রেনের বিস্তারিত সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in ।
সব জায়গায় বাস পরিষেবা পাবেন। কিন্তু পাহাড়ি জায়গা, বাসের সংখ্যা কম। তার ওপর স্থানীয় মানুষের ভরসা বাসই। তাই মালপত্র নিয়ে বাসে যাওয়া কষ্টকর। শেয়ার গাড়িও মেলে কোনো কোনো জায়গায়, তবে সব জায়গায় নয়। তবে ভ্রমণের সময়সূচি অক্ষুণ্ণ রাখতে, একটু আরামে ঘুরতে গাড়ি ভাড়া করে নেওয়াই ভালো। সে ক্ষেত্রে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করে সেখানে পৌঁছে স্থানীয় যান বা হেঁটে ঘোরা যেতে পারে। ভ্রমণ-ছক ২ ও ৩-এর ক্ষেত্রে এটা করা যেতেই পারে। আর বাকি তিনটি ছকের ক্ষেত্রে দেহরাদুন বা হরিদ্বার থেকে গাড়ি ভাড়া করে নেওয়া ভালো। হরিদ্বারে স্টেশনের কাছেই ট্যাক্সি ইউনিয়নের স্ট্যান্ড।
চক্রাতা ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে গাড়োয়াল মণ্ডল বিকাশ নিগমের (জিএমভিএন) বিশ্রামাবাস। অনলাইন বুকিং gmvnl.in । তবে অনলাইনে বুক করার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন পর্যটকরা। সে ক্ষেত্রে জিএমভিএনের বিভিন্ন অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। জিএমভিএনের কলকাতা অফিসের ঠিকানা- রুম নং- ২২৪, মার্শাল হাউস, ৩৩/১ এসএফ, নেতাজি সুভাষ রোড। ফোন- ২২৬১০৫৫৪।
চক্রাতায় থাকার জন্য অনেক বেসরকারি হোটেল রয়েছে, কিন্তু সব থেকে ভালো জায়গা হোটেল স্নো-ভিউ। যোগাযোগ- ৯৪১১৩৬৩২৩১, ৯৪১০৮২৩২০৭ । ওয়েবসাইট www.chakratasnowview.co ইমেল- chakratasnowview@gmail.com

এ ছাড়া প্রায় সব জায়গাতেই বেসরকারি হোটেল রয়েছে। এদের সন্ধান পাবেন makemytrip, goibibo, trivago, cleartrip, holidayiq ইত্যাদি ওয়েবসাইট থেকে।
(১) চক্রাতায় অনেক জায়গা আছে, যেখানে জিপই ভরসা।
(২) কেদারযাত্রীদের শোনপ্রয়াগ থেকে কেদার যাত্রার ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।
(৩) ভীম পুল থেকে যদি বসুধারা ফলস্ যেতে চান, তা হলে একটা দিন বেশি থাকতে হবে বদরীনাথে। এমনিতেই হাতে সময় থাকলে বদরীনাথে থাকাটা দু’ দিন করলে ভালো।
(৪) ইচ্ছা করলে হরিদ্বারে একাধিক দিন থাকতে পারেন। গঙ্গার ধারে যদি থাকার জায়গা পান, তা হলে তার চেয়ে মনোরম আর কিছু হয় না।
The post পুজোয় চলুন / ভ্রমণ অনলাইনের বাছাই : গাড়োয়াল appeared first on Bhramon Online.
]]>