Bekal Fort

পুজোয় চলুন/ কেরল ভ্রমণছক ২: ওয়েনাড়-কোঝিকোড়-কান্নুর-কাসারাগোড়   

জুন মাস পড়লেই শুরু হয়ে যাবে পুজোয় বেড়াতে যাওয়ার জন্য ট্রেনের আসনের আগাম সংরক্ষণ। সুতরাং আর দেরি নয়। এখনই করে ফেলুন পুজোর ভ্রমণ পরিকল্পনা। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য ভ্রমণ অনলাইন এ বারও সাজিয়ে দিচ্ছে এক গুচ্ছ ভ্রমণ পরিকল্পনা।

কেরল ভ্রমণের প্রথম ছকটা সাজানো হয়েছিল মূলত দক্ষিণ কেরলকে ঘিরে। এ বারের ভ্রমণছকটা সাজানো হল উত্তর কেরলকে ঘিরে।

যাত্রা শুরু করুন বেঙ্গালুরু থেকে। ভারতের সব প্রান্তের সঙ্গে বেঙ্গালুরুর যোগ রয়েছে ট্রেন ও বিমানপথে। রেলের বিস্তারিত সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in এবং বিমান উড়ানের সময় গুগুল সার্চ করে দেখে নিন। বেঙ্গালুরু থেকে চলে আসুন ওয়েনাড়, সেখান থেকে কোঝিকোড়, কান্নুর, বেকাল দেখে কাসারগোড়।

লক্কিড়ি ভিউ পয়েন্ট থেকে।

সফরসূচি

প্রথম দিন – সকালেই বেঙ্গালুরু থেকে রওনা হয়ে যান ওয়েনাড়ের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র  সুলতান বাথেরি, ২৫৫ কিমি। রাত্রিবাস সুলতান বাথেরি।

দ্বিতীয় দিন – এ দিনও থাকুন সুলতান বাথেরিতে। সকালে যান এড়াক্কাল গুহা। টিকিট কেটে পাহাড়ে ওঠা শুরু। প্রথম ৭০০ মিটার বাঁধানো রাস্তা, তার পর পাহাড়ের গা বেয়ে খাড়া ওঠা। কিছুটা অংশ পাথরের ওপর দিয়ে সন্তর্পণে উঠে শেষ চড়াইটা সিঁড়িতে। প্রাগৈতিহাসিক যুগের মানুষের আঁকা গুহাচিত্রের জন্যই বিখ্যাত এই এড়াক্কাল। এড়াক্কাল গুহা দেখে ফিরে মধ্যাহ্নভোজন সেরে চলুন হাতির জন্য বিখ্যাত মুথাঙ্গা অভয়ারণ্য।  মুথাঙ্গা থেকে ফেরার সময়ে দেখে নিন জৈন মন্দির। রাত্রিবাস সুলতান বাথেরি।

তৃতীয় দিন – সক্কালেই চলুন কোঝিকোড়, ৯৭ কিমি। পথে দেখুন পুকোট লেক (৩৭ কিমি) এবং লক্কিড়ি ভিউ পয়েন্ট (আরও ৪ কিমি)। লক্কিড়িতে পাহাড়ের ওপর থেকে দেখা যায় দূরের সমতলভূমি। জঙ্গলের মাঝেমাঝে উঁকি দেয় জাতীয় সড়ক। মধ্যাহ্নভোজন সেরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। দেখুন –

১) কেরল শৈলীর তিরুভাচিরা শ্রীকৃষ্ণ মন্দির – মুন্ডু পরতে হয় না, তবে জামা খুলতে হয়।

(২) বেপোর সৈকত – ১১ কিমি দূরে, সমুদ্রের মধ্যে দিয়েই এক কিমি দীর্ঘ বাঁধানো পথ। ডান দিকে আরব সাগরের ক্লান্তিহীন ঢেউ, বাঁ দিকে শান্ত ব্যাকওয়াটার তথা চেলিয়ার নদী। পথের শেষে পুরোটাই সমুদ্র। তবে উন্মাদনা উপভোগ করতে সমুদ্রের উপরে ফ্লোটিং ব্রিজ ধরে হাঁটুন। এখানে সূর্যাস্ত দেখার মতো।

(৩) মানানচিরা স্কোয়ার – দিঘি ও পার্ক। সান্ধ্যভ্রমণের আদর্শ জায়গা, বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে রাত ৮টা।

বেকাল ফোর্ট।

চতুর্থ দিন – ভোরবেলায় ঘুরে আসুন কোঝিকোড়ের সৈকতে। প্রাতরাশ সেরে চলুন কান্নুর, ৯১ কিমি। পথে দেখুন কাপ্পাড় সৈকত, ১৯ কিমি। ১৪৯৮ সালে এখানেই নেমেছিলেন ভাস্কো। স্মারক আছে। এখান থেকে চলুন মুঝাপ্পিলানগাড় সৈকত, ৬০ কিমি। গাড়ি চলাচলে উপযুক্ত ভারতের দীর্ঘতম সৈকত। গাড়ি চলাচলের জন্য বিবিসি নির্বাচিত বিশ্বের ষষ্ঠ সৈকত। মুঝাপ্পিলানগাড় থেকে চলুন থোটাড্ডা সৈকত, ১১ কিমি। সেখান থেকে কান্নুর ৮ কিমি। কান্নুরের হোটেলে চেক ইন করে বিকেলে চলুন সেন্ট অ্যাঞ্জেলো ফোর্ট। সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত খোলা। রাত্রিবাস কান্নুর।

পঞ্চম দিন – সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, গন্তব্য কাসারাগোড়, ৯৮ কিমি। পথে দেখুন –

(১) কান্নুর থেকে ১৬ কিমি দূরে চেরুকুন্নুর অন্নপূর্ণেশ্বরী মন্দির

(২) আরও ১১ কিমি গিয়ে এড়িমালা ভিউ পয়েন্ট – আছে সৈকত, ন্যাভাল অ্যাকাডেমি, ৪১ ফুটের হনুমান মূর্তি, ২৮৬ মিটার উঁচু পাহাড়।

(৩) বেকাল ফোর্ট – আরও ৫৯ কিমি, ভারতের এক অনন্য রত্ন এই দুর্গ এবং লাগোয়া সৈকত।

বেকাল দেখে চলুন কাসারাগোড়, ১২ কিমি। রাত্রিবাস কাসারাগোড়।

মাধুর মন্দির।

ষষ্ঠ দিন– আজই ঘরে ফেরা। তবে তার আগে সকালে চলুন ৭ কিমি দুরের মাধুর মন্দিরে, মধুবাহিনী নদীর ধারে। কেরলের স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন।

কাসারগোড়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ট্রেন যোগাযোগ রয়েছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ট্রেন বদল করে আসতে হবে। কাসারগোড় থেকে ট্রেনে চলে আসুন চেন্নাই বা বেঙ্গালুরু। বিমানে আসতে হলে ম্যাঙ্গালুরু (৫৩ কিমি) আসতে হবে। সেখান থেকে বিমান ধরুন।     

তবে হাতে আরও সময় আছে। সুতরাং ফেরার পথে চেন্নাই বা বেঙ্গালুরুতে দু’-একটা দিন কাটিয়ে ঘরে ফিরতে পারেন। সে ক্ষেত্রে —

(১) চেন্নাইয়ের ট্রেন — চেন্নাই মেল রোজ দুপুর ২.১৫-তে ছেড়ে পৌঁছোয় ভোর ৫.৩৫-এ, চেন্নাই এক্সপ্রেস রোজ বিকেল ৫.৩৫-এ ছেড়ে পৌঁছোয় সকাল ৮.০৫-এ এবং ওয়েস্ট কোস্ট এক্সপ্রেস রোজ রাত ১২.২৫-এ ছেড়ে পৌঁছোয় বিকেল ৩.৫০-এ।

(২) বেঙ্গালুরুর ট্রেন – বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস সন্ধে ৬.১৫-য় ছেড়ে যশবন্তপুর পৌঁছোয় সকাল ৬.১৮-য়।

সুলতান বাথেরিতে কেরল পর্যটনের হোটেল।

কী ভাবে ঘুরবেন

(১) বেঙ্গালুরু থেকে গাড়ি ভাড়া করে চলে আসুন সুলতান বাথেরি। সুলতান বাথেরি ঘুরুন স্থানীয় গাড়ি ভাড়া করে।

(২) সুলতান বাথেরি থেকে গাড়ি ভাড়া করে চলে আসুন কোঝিকোড়।

(৩) এখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে গাড়ি ছেড়ে দিন কাসারাগোড়ে।

(৪) কিংবা কাসারাগোড় থেকে যদি বেঙ্গালুরু ফেরেন তা হলে পুরো ট্যুরটার জন্য বেঙ্গালুরু থেকেই গাড়ি ভাড়া করে নিতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

কাসারাগোড় ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে কেরল পর্যটন উন্নয়ন নিগমের হোটেল। সুলতান বাথেরিতে আছে পেপ্পার গ্রোভ, কোঝিকোড় বিমানবন্দরের কাছে আছে ট্যামারিন্ড কোন্ডুত্তি, কান্নুরে আছে ট্যামারিন্ড কান্নুর। অনলাইনে বুক করার জন্য লগইন করুন www.ktdc.com। এ ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি অনেক হোটেল, রিসোর্ট। হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তাদের সন্ধান পেয়ে যাবেন।

লালবাগ গার্ডেনের একাংশ, বেঙ্গালুরু।

মনে রাখবেন

(১) যে দিন বেঙ্গালুরু পৌঁছোবেন সে দিনটা থাকতে হতে পারে সেখানে। সে দিন বেঙ্গালুরুর কিছু দ্রষ্টব্য দেখে নিতে পারেন। এখানে রয়েছে লালবাগ গার্ডেন, টিপুর সামার প্যালেস, বুল টেম্পল, শ্রীগাভী গঙ্গাধারেশ্বর মন্দির, কুব্বন পার্ক ইত্যাদি। তবে সবটাই নির্ভর করছে কখন বেঙ্গালুরু পৌঁছোবেন তার উপর।

(২) তবে হাওড়া–যশবন্তপুর এক্সপ্রেস যশবন্তপুর পৌঁছোয় সকাল ৭.১৫ মিনিটে। এই ট্রেনে বেঙ্গালুরু গেলে সে দিনই রওনা হয়ে যাওয়া যায় সুলতান বাথেরি।       

(৩) মাথা ঘোরার সমস্যা থাকলে এড়াক্কাল গুহায় না ওঠাই ভালো।

(৪) সুলতান বাথেরি থেকে ১০ কিমি দূরে মুথাঙ্গার প্রবেশফটক থেকে শুরু হয় দেড় ঘণ্টার জিপ সাফারি।

(৫) কোঝিকোড়ে কেরল পর্যটনের হোটেল যে হেতু শহর থেকে কিছু দূরে তাই এখানে শহরের মাঝে বেসরকারি হোটেলেই থাকা ভালো। এখানে প্যারাগন রেস্তোরাঁয় ব্রেকফাস্ট করতে ভুলবেন না।

(৬) যাওয়ার সময়ে যে হেতু বেঙ্গালুরু হয়ে গিয়েছেন, সে হেতু ফেরার সময় চেন্নাই হয়ে ফিরতে পারেন। সে ক্ষেত্রে একটা দিন চেন্নাইয়ে কাটিয়ে স্থানীয় দ্রষ্টব্য দেখে নিন। অবশ্যই যাবেন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সৈকত মেরিনা। দেখে নিন ফোর্ট সেন্ট জর্জ, কপালেশ্বর মন্দির, এমজিআর মেমোরিয়াল, রামকৃষ্ণ মিশন ইত্যাদি।

আরও পড়তে পারেন

পুজোয় চলুন/ কেরল ভ্রমণছক ১: এর্নাকুলাম-মুন্নার-পেরিয়ার-আলাপ্পুঝা-কোল্লম-তিরুঅনন্তপুরম

১ জুন থেকে চালু হচ্ছে এনজেপি-ঢাকা মিতালি এক্সপ্রেস, ডলারের হিসেবে গুনতে হবে ভাড়া

আরও পড়তে পারেন

Leave a Reply

Your email address will not be published.