The post শহর ছেড়ে জঙ্গলের ডাক: রনথম্ভৌর বনাম জিম করবেট appeared first on Bhramon Online.
]]>রনথম্ভৌর জাতীয় উদ্যান বিখ্যাত তার তুলনামূলক সহজ টাইগার সাইটিং-এর জন্য। এখানে শুষ্ক পর্ণমোচী বন, পাথুরে পাহাড়, খোলা প্রান্তর এবং বড়ো বড়ো জলাশয় থাকায় প্রাণী দেখার সুযোগ অনেক বেশি। ঘন জঙ্গল না হওয়ায় প্রথমবার সাফারিতে আসা পর্যটকরাও ভালো দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন।
এর সঙ্গে রয়েছে ঐতিহাসিক রনথম্ভৌর দুর্গ, যা অরণ্যের ওপর দাঁড়িয়ে এক নাটকীয় পটভূমি তৈরি করে। ফোটোগ্রাফারদের কাছে এটি বিশেষ আকর্ষণ। এখানে আসা বেশির ভাগ পর্যটকই সাফারি-কেন্দ্রিক—ভোরে ওঠা, লং লেন্স হাতে জিপে চড়া এবং একটাই লক্ষ্য, বাঘ দেখা।

রনথম্ভৌর দুর্গ।
ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যান জিম করবেট প্রকৃত অর্থেই একটি জীবন্ত অরণ্য। ঘন শাল বন, নদীর চর, ঘাসের মাঠ এবং আঁকাবাঁকা জঙ্গলপথ এই পার্ককে আলাদা করে তোলে। যারা পাখি দেখা, শান্ত প্রকৃতি আর বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণী উপভোগ করতে চান, তাদের কাছে করবেট আদর্শ।
এখানে হাতি, ভোঁদড়, কুমির ছাড়াও রয়েছে ৬৫০টিরও বেশি পাখির প্রজাতি। ঘন জঙ্গলের কারণে বাঘ দেখা তুলনামূলক কঠিন হলেও পুরো অভিজ্ঞতাটি অনেক বেশি গভীর ও আবেশময়। ভোরের কুয়াশা, গাছের ফাঁকে আলো-ছায়ার খেলা—সব মিলিয়ে করবেট এক আলাদা মুড তৈরি করে।
রনথম্ভৌর
রনথম্ভৌর অবস্থিত রাজস্থানের সওয়াই মাধোপুরে।
ট্রেনে: সওয়াই মাধোপুর রেলস্টেশন দিল্লি ও জয়পুর-সহ বড়ো শহরের সঙ্গে যুক্ত।
সড়কপথে: জয়পুর থেকে রনথম্ভৌর জাতীয় উদ্যান ১৭৫ কিমি, প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার ড্রাইভ।
বিমানপথে: নিকটতম বিমানবন্দর জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
জিম করবেট
জিম করবেট জাতীয় উদ্যান উত্তরাখণ্ডের রামনগর শহরের কাছে অবস্থিত।
ট্রেনে: রামনগর স্টেশন দিল্লি থেকে সরাসরি ট্রেনে পৌঁছোনো যায়।
সড়কপথে: দিল্লি থেকে জিম করবেট জাতীয় উদ্যান ২৭৫ কিমি, প্রায় ৫–৬ ঘণ্টার ড্রাইভ।
বিমানপথে: নিকটতম বিমানবন্দর পন্থনগর না হলে দিল্লি (যদিও বেশির ভাগ পর্যটক ট্রেন বা গাড়ি পছন্দ করেন)।

জিম করবেট জাতীয় উদ্যান, আমডণ্ডা গেট।
রনথম্ভৌর
অক্টোবর থেকে জুন রনথম্ভৌর ভ্রমণের আদর্শ সময়। বিশেষ করে মার্চ থেকে মে পর্যন্ত জলাশয়ের আশেপাশে প্রাণীদের আনাগোনা বেশি থাকায় টাইগার দেখার সম্ভাবনাও সর্বাধিক।
জিম করবেট
করবেট সারা বছর খোলা থাকলেও মূল সাফারি জোনগুলি নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত চালু থাকে। শীতকালে পরিষ্কার আকাশ ও ভালো দৃশ্যমানতা পাওয়া যায়, আর গ্রীষ্মে টাইগার ট্র্যাকিংয়ের সুযোগ বেশি। ঝিরনা ও ঢেলা জোন সারা বছর খোলা থাকে, যা অফ-সিজন ভ্রমণকারীদের জন্য সুবিধাজনক।

ঝুমর বাওরি, রনথম্ভৌর।
আপনি যদি চান—
তা হলে রনথম্ভৌর দিয়ে শুরু করুন।
আর যদি আপনার পছন্দ হয়—
তা হলে জিম করবেট হবে আদর্শ প্রথম গন্তব্য।

গুগুল সার্চ করলেই দু’জায়গাতেই বহু থাকার জায়গা পেয়ে যাবেন।
রনথম্ভৌর জাতীয় উদ্যানের খুব কাছেই সওয়াই মাধোপুরে রাজস্থান পর্যটনের (আরটিডিসি) দু’টি হোটেল আছে – বিনায়ক ও ঝুমর বাওরি।
বিনায়ক: যোগাযোগ – ০৭৪৬২-২২১৩৩৩, ০৭৪৬২-২২১৩২২, ৯৪১৪৩৪১৯৩৪; ইমেল – vinayak.rtdc@rajasthan.gov.in
ঝুমর বাওরি: যোগাযোগ – ০৭৪৬২-২২০৪৯৫, ৯৪১৪২৮৭৪৯১; ইমেল – cjb. rtdc@rajasthan.gov.in
জিম করবেট জাতীয় উদ্যানের খুব কাছেই কুমায়ুন মণ্ডল বিকাশ নিগমের (কেএমভিএন) দুটি হোটেল আছে – টিআরএইচ মোহন এবং টিআরএইচ রামনগর।
টিআরএইচ মোহন: যোগাযোগ – ৯৭৫৮৩৩০৮৬৭; ইমেল – crckmvn@gmail.com
টিআরএইচ রামনগর: যোগাযোগ – ৮৬৫০০০২৫২৭; ইমেল – crckmvn@gmail.com
The post শহর ছেড়ে জঙ্গলের ডাক: রনথম্ভৌর বনাম জিম করবেট appeared first on Bhramon Online.
]]>The post মুসৌরিতে ভিড় সামলাতে কড়া বিধি: পর্যটকদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রি-রেজিস্ট্রেশন, চালু হল অনলাইন পোর্টাল appeared first on Bhramon Online.
]]>তিনি জানান, এই নতুন ব্যবস্থার অধীনে হোটেল, গেস্ট হাউস, হোমস্টে-সহ সব রকম থাকার জায়গাকে প্রথমে রাজ্য পর্যটন দফতরের তৈরি একটি পোর্টালে রেজিস্টার করতে হবে। এরপর পর্যটকরা সেখানে চেক-ইন করার সময় তাঁদের সমস্ত তথ্য অনলাইনে আপলোড করতে হবে।
এর পাশাপাশি, মুসৌরিতে প্রবেশের আগে সব পর্যটকদের নিজস্ব তথ্য অনলাইনে জমা দিয়ে প্রি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। পোর্টালে নাম, যোগাযোগের নম্বর, গাড়ির নম্বর, কোথায় থাকছেন ও কতদিনের জন্য—এই সমস্ত তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করতে হবে। দেশীয় পর্যটকরা মোবাইলে ওটিপি পাবেন, আর বিদেশি পর্যটকদের কাছে ওটিপি যাবে ইমেলে। ভেরিফিকেশনের পরে একটি QR কোড পাওয়া যাবে, যা মুসৌরির প্রবেশপথগুলিতে দেখাতে হবে।
প্রধান চেকপয়েন্টগুলির মধ্যে রয়েছে কিমাড়ি, কেম্পটি ফলস এবং কুথাল গেট, যেখানে QR কোড স্ক্যান করা হবে। একইসঙ্গে, গাড়ির তথ্য যাচাই করতে ANPR (Automatic Number Plate Recognition) ক্যামেরাও বসানো হয়েছে।
২০২৪ সালে মুসৌরিতে পর্যটকের সংখ্যা ২১ লক্ষ ছাড়িয়েছে, যেখানে ২০২২ সালে তা ছিল ১১ লক্ষ। এত দ্রুত জনঘনত্ব বৃদ্ধির ফলে শহরের মূল অংশ—বিশেষ করে গান্ধী চক থেকে মল রোড পর্যন্ত—চরম যানজটে জর্জরিত হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি সামলাতেই এই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হোটেলমালিকদের পোর্টালে রেজিস্ট্রেশনের সময় নিচের তথ্য দিতে হবে:
এছাড়া, মে মাসে জাতীয় গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (NGT) উত্তরাখণ্ড সরকারকে নির্দেশ দেয় যে, মুসৌরিতে পর্যটকদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং নিয়মিত পর্যটন পরিসংখ্যান জমা দিতে হবে।
তবে এই কঠোর ব্যবস্থা শুধুমাত্র পর্যটন মরসুমে প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। বছরের বাকি সময় এই বাধ্যবাধকতা কার্যকর হবে না।\
The post মুসৌরিতে ভিড় সামলাতে কড়া বিধি: পর্যটকদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রি-রেজিস্ট্রেশন, চালু হল অনলাইন পোর্টাল appeared first on Bhramon Online.
]]>The post সপ্তগ্রামে রঘুনাথ দাসের জন্মভিটেতে ৫১৮ বছরের পুরনো মাছের মেলা appeared first on Bhramon Online.
]]>গ্রামীণ জনপদ ঘিরে আছে বহু লোককথা। কনৌজের রাজা প্রিয়বন্তের সাত সন্তান এখানে আসার পর সরস্বতী নদীর তীরে একটি করে গ্রামে তাঁরা বাস করতেন। তাই নাম সপ্তগ্রাম। বাংলার অন্যতম প্রাচীন বন্দর। দেশ-বিদেশ থেকে বণিকেরা বাণিজ্য তরী নিয়ে সাতগাঁও বন্দরে ভিড়তেন।
সপ্তগ্রামের কৃষ্ণপুর গ্রামে আছে শ্রী রঘুনাথ দাসের জন্মভিটে। তিনি ছিলেন চৈতন্য মহাপ্রভুর অন্যতম এক পার্ষদ। নিত্যানন্দ প্রভুর কাছে দীক্ষা নেন।
নিত্যানন্দ ও মহাপ্রভুর টানে রঘুনাথ দাস ঘর ছেড়েছিলেন। একদিন ফিরে এসে গ্রামের সকল মানুষকে পেট ভরে ইলিশ মাছ ও আমের চাটনি রেঁধে খাওয়ান। বসতভিটার সামনে সরস্বতী নদী থেকে জাল ফেলে ইলিশ মাছ ধরেছিলেন। সেই পুরনো রীতি থেকে মাছের মেলা শুরু। যা আজো চলে আসছে।

মাছের মেলাকে বলা হয় উত্তরায়ন মেলা। রঘুনাথ দাস গোস্বামীর স্মরণে মেলাটি হয়। দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ মাছের মেলায় আসেন। রুই, কাতলা, ইলিশ, ভেটকি, চিংড়ি, কাঁকড়া থেকে বিশাল সাইজের মাছ বিক্রি হয়।
রঘুনাথ দাসের শ্রীপাটের সামনে আছে এক বিশাল আম বাগান। সেই বাগানে বসে এই মেলা। সকাল থেকেই কেনা বেচা চলে। পয়লা মাঘ হয় মেলাটি। আজো একই রকম শ্রদ্ধার সঙ্গে এই মেলা আয়োজিত হয়ে চলেছে।
The post সপ্তগ্রামে রঘুনাথ দাসের জন্মভিটেতে ৫১৮ বছরের পুরনো মাছের মেলা appeared first on Bhramon Online.
]]>The post পুজোর দিনগুলোয় পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের হাত ধরে চলুন পুজো পরিক্রমায় appeared first on Bhramon Online.
]]>অন্য বছরের মতো এ বছরও পুজো পরিক্রমা করার জন্য একাধিক প্যাকেজ ট্যুরের আয়োজন করেছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগম। বুকিংয়ের জন্য ক্লিক করুন www.wbtdcl.com বা www.wbtourism.gov.in ওয়েবসাইটে। ১৮০০২১২১৬৫৫ টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করুন।
রাজ্যের পর্যটন উন্নয়ন নিগমের পুজো পরিক্রমা শুরু হয়ে যাবে চতুর্থীর দিনই। সারারাত ধরে চলবে কলকাতা শহরের নামকরা সর্বজনীন পুজো দেখা। এই প্যান্ডেল হপিং চলবে পঞ্চমীর দিনও। ৬ এবং ৭ অক্টোবর দুদিনই রাত ১০টা থেকে পরদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত রাতভর প্যান্ডেল হপিং যাবে। পুজোর এই প্যাকেজ ট্যুরের নাম ‘উদ্বোধনী’।
রাত ১০টায় রবীন্দ্র সদনের সামনে থেকে বাস ছাড়বে। যাওয়া হবে কলেজ স্কোয়্যার, মহম্মদ আলি পার্ক, কাশী বোস লেন, বাদামতলা আষাঢ় সংঘ, ৬৬ পল্লী, মুদিয়ালি ক্লাব, শিবমন্দির, একডালিয়া এভারগ্রিন, সিংহী পার্ক, হিন্দুস্তান রোড, রাজডাঙা নব উদয় সংঘের পুজোমণ্ডপে। মাথাপিছু খরচ পড়বে ২১৯৯ টাকা। এর মধ্যে প্যাক করা রাতের খাবার ধরা হয়েছে।

একডালিয়া এভারগ্রিনে গত বছরের পুজো।
পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগম কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজো দেখাতে নিয়ে যাচ্ছে সপ্তমী, মহাষ্টমী/মহানবমীর দিন। এটি অবশ্য রাতভর নয়, সকালের ট্যুর হবে। সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টার এই পুজো পরিক্রমার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সনাতনী’। ১০ ও ১১ অক্টোবর সকালে এই ট্যুর হবে। মাথাপিছু খরচ পড়বে ২০৯৯ টাকা। এর মধ্যে প্যাকেজ ব্রেকফাস্ট ও শোভাবাজার রাজবাড়িতে ভোগ খাওয়াও ধরা হয়েছে।
রবীন্দ্র সদনের সামনে থেকে এসি বাসে চেপে যাত্রা শুরু। এই ‘সনাতনী’ পুজো পরিক্রমায় রানি রাসমণির বাড়ি, চন্দ্রবাড়ি, ঠনঠনিয়া দত্তবাড়ি, ছাতুবাবু-লাটুবাবুর বাড়ি (সপ্তমীর সকালে), খেলাৎ ঘোষের বাড়ি, জোড়াসাঁকোর দাঁবাড়ি এবং শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজো দেখা যাবে।
কেউ ইচ্ছা করলে সপ্তমী, মহাষ্টমী/মহানবমীর দিন কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজো না দেখে গঙ্গাপাড়ের হুগলির বিভিন্ন বনেদি বাড়ির পুজো দেখতে যেতে পারেন পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের সঙ্গে। এই পুজো পরিক্রমার নাম ‘হুগলি সফর’। ১০ ও ১১ অক্টোবর ‘হুগলি সফর’ শুরু হবে সকাল ৭টায় রবীন্দ্র সদনের সামনে থেকে। শেষ হবে রাত সাড়ে ৮টায়। এসি বাসে চেপে যাত্রা। মাথাপিছু খরচ ৩৬৯৯ টাকা। এর মধ্যে প্যাকেট করা ব্রেকফাস্ট ও লাঞ্চ ধরা হয়েছে।
এই পুজো পরিক্রমায় শ্রীরামপুর গোস্বামীবাড়ির পুজো, বুড়িদুর্গা, শেওড়াফুলির সুরেন্দ্রনাথ ঘোষের বাড়ির পুজো, রাজবাড়ির পুজো, বাঁশবেড়িয়ার হংসেশ্বরী মন্দির ও অনন্ত বাসুদেব মন্দির, গুপ্তিপাড়া দুর্গাবাড়ির পুজো ও অন্যান্য মন্দির এবং গুপ্তিপাড়ার সেনবাড়ির পুজো দেখানো হবে।

বাঁশবেড়িয়ার হংসেশ্বরী মন্দির ও অনন্ত বাসুদেব মন্দির (বাঁদিকে)।
বুকিংয়ের জন্য ক্লিক করুন www.wbtdcl.com বা www.wbtourism.gov.in ওয়েবসাইটে।
www.wbtdcl.com-এ গিয়ে নীচে বাঁদিকে ‘Popular Packages’ – এ ক্লিক করুন। তারপর নতুন পাতা খুললে ‘Departure Date’-এ গিয়ে ‘tour schedule’ বেছে নিন। তারপর ‘PROCCED TO BOOK’-এ ক্লিক করুন। নতুন পাতা খুললে ‘Book Your Tour’–এ প্রয়োজনীয় তথ্য দিন এবং এভাবেই অনলাইনে বুক করুন। আর www.wbtourism.gov.in –এ গিয়ে Packages সিলেক্ট করুন। তারপর আগের মতো এগিয়ে যান।
১৮০০২১২১৬৫৫ টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করেও বুক করতে পারেন।
The post পুজোর দিনগুলোয় পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের হাত ধরে চলুন পুজো পরিক্রমায় appeared first on Bhramon Online.
]]>The post বদরীনাথের কাছে মানাগ্রামের পরিচিতি বদলে গেল appeared first on Bhramon Online.
]]>মানাগ্রামে ঢোকার মুখে নতুন একটি সাইনবোর্ড লাগিয়েছে বর্ডার রোড্স অর্গানাইজেশন। তাতেই মানা পরিচিত হচ্ছে ‘ভারতের প্রথম গ্রাম’ হিসেবে। ভারত-তিব্বত সীমান্তের নিকটবর্তী গ্রাম হওয়ার ফলে মানা এত দিন ‘ভারতের শেষ গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত ছিল।
এখানকার অধিবাসীরা সাধারণ যাযাবর শ্রেণির মানুষ। চিনের আগ্রাসনের সময় তিব্বত থেকে পালিয়ে আসেন। বাসিন্দাদের স্থানীয় নাম ‘মার্চা।’ চিন ও তিব্বতের সঙ্গে বাণিজ্য করতেন এঁরা। পুরোনো রীতি অনুযায়ী এখনও বদরীনাথ মন্দির বন্ধ হওয়ার সময়ে মানাগ্রামের মহিলাদের তৈরি একটি বিশেষ পশমের চাদর বিষ্ণুর মূর্তির জন্য দেওয়া হয়।

গোটা মানা গ্রামটির সঙ্গেই ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে মহাভারত। কথিত আছে, পাণ্ডবরা স্বর্গে যাওয়ার পথে এই মানা গ্রামে এসেছিলেন। এখান থেকেই যাত্রা শুরু হয়েছিল মহাপ্রস্থানের পথে। এই পথেই যেতে গিয়ে ক্লান্ত দ্রৌপদী চওড়া সরস্বতী নদীকে পেরোতে পারেননি। এই দেখে ভীম সরস্বতীকে সংকীর্ণ হওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সরস্বতী এই অনুরোধ প্রত্যাখান করেন।
রাগান্বিত ভীম লাথি মেরে একটি পাথর আড়াআড়ি ভাবে নদীতে ফেলে দিয়েছিলেন। সেই পাথরই পরিচিতি পায় ভীমপুল হিসেবে। এই ভীমপুল মানাগ্রামের এক দর্শনীয় স্থান। এ ছাড়াও এই গ্রামে রয়েছে ব্যাস গুহা এবং গনেশ গুহা।
The post বদরীনাথের কাছে মানাগ্রামের পরিচিতি বদলে গেল appeared first on Bhramon Online.
]]>The post হোটেল, হোমস্টে প্রায় সব ভর্তি, বাম্পার পুজো মরশুমের অপেক্ষায় উত্তরবঙ্গ appeared first on Bhramon Online.
]]>দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ের বিভিন্ন অঞ্চল, সেই সঙ্গে ডুয়ার্সের জঙ্গল পর্যটকদের কাছে মূল আকর্ষণের বস্তু। গত দু’ বছর করোনার ভয়ে মানুষজন খুব বেশি এই অঞ্চলে বেড়াতে আসেননি। কিন্তু এ বার করোনার দাপট তলিয়ে যেতেই হুহু করে সব বুকিং হয়ে যাচ্ছে। পুজোর কয়েকটা দিন, শিয়ালদহ-নিউ জলপাইগুড়ির সব ট্রেনের সিটই বুক হয়ে গিয়েছে।
ফেডারেশন অব বেঙ্গল হোটেল্সের সহ-সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ বলেন, এ বছর গরমের ছুটিতে প্রচুর পর্যটকের আগমন হয়েছিল উত্তরবঙ্গে। পুজোর ছুটিতে সেই রেকর্ডও ভেঙে যেতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। তাঁর কথায়, “উত্তরবঙ্গের হোটেল এবং হোমস্টের প্রায় ৭০ শতাংশ পুরোপুরি বুক হয়ে গিয়েছে। আশা করছি বাকিগুলোও খুব তাড়াতাড়িই পুরো বুক হয়ে যাবে।”
এ বার পুজোয় ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য পর্যটন দফতরের কথায় ১ থেকে ১০ অক্টোবর উত্তরবঙ্গে অবস্থিত রাজ্য পর্যটনের সব টুরিস্ট লজগুলি পুরোপুরি ভর্তি। জলদাপাড়া টুরিস্ট লজের ম্যানেজার নীলাঞ্জন সাহা বলেন, “অতিথিরা যাঁরা আসবেন তাঁদের জন্য বিশেষ কী মেনু তৈরি করা যায়, সেই চেষ্টা করছি।”
পর্যটকদের ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য শিয়ালদহ এবং নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে দু’টি বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। ৫ সেপ্টেম্বর এই ট্রেন দু’টির বুকিং শুরু হবে।
আরও পড়তে পারেন
চোখধাঁধানো স্থাপত্যের প্রাসাদ: উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ, আগরতলা
তৃতীয় দিনে ৬০ হাজার বিসর্জন হলেও, গণেশ উৎসবে এখনও মাতোয়ারা মুম্বই-সহ মহারাষ্ট্র
উঠে গেল অভ্যন্তরীণ বিমানভাড়ায় নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীরা কি লাভবান হলেন
সুন্দরবনকে নিয়ে দশ দিনের দুর্গাপুজো প্যাকেজ, পর্যটনের প্রসারে একাধিক উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গের
The post হোটেল, হোমস্টে প্রায় সব ভর্তি, বাম্পার পুজো মরশুমের অপেক্ষায় উত্তরবঙ্গ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post আনলকে চলুন: ডুয়ার্সের টিলাবাড়ি appeared first on Bhramon Online.
]]>আনলক পর্বের সুযোগে পর্যটন শিল্পকে কিছুটা স্বমহিমায় ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে পশ্চিমবঙ্গও। তারই অঙ্গ হিসাবে গত ৮ জুন থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে রাজ্য পর্যটনের পাঁচটি ট্যুরিস্ট লজ। রাজ্য পর্যটনের যে পাঁচটি ট্যুরিস্ট লজ খুলেছে তার মধ্যে অন্যতম ডুয়ার্সের টিলাবাড়ি। ট্যুরিস্ট লজ যখন খুলে গেছে, তখন এই আনলক পর্বেই চলুন না, ক’টা দিন কাটিয়ে আসা যাক টিলাবাড়ি থেকে।

উপভোগ করুন
এমনিতে ডুয়ার্সে বর্ষা অফ-সিজন। ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জঙ্গল বন্ধ থাকে। কিন্তু ডুয়ার্সকে যদি সত্যিই তার আসল রূপে দেখতে হয়, তা হলে বর্ষার তুলনা নেই। সবুজ প্রকৃতি এই সময়ে যে অপরূপ সাজে সেজে ওঠে, তা দেশের খুব কম জায়গায় গেলে দেখা যাবে। যদি খুব বেশি ঘোরাঘুরি করতে না চান, যদি রিসর্টের বারান্দায় আয়েশ করে বসে বৃষ্টি পড়া উপভোগ করতে চান, প্রকৃতি-মাকে দু’ চোখ ভরে দেখতে চান, তা হলে বর্ষায় আপনার গন্তব্য হোক ডুয়ার্স।
ঘোরাঘুরি
রিসর্টেই বসে থাকতেই হবে, এমন মাথার দিব্যি কেউ দেয়নি। ঘোরাঘুরি করুন।
(১) মাত্র ৭ কিমি দূরে মূর্তি। মূর্তি নদীর পাড়ে বসে প্রকৃতি দেখুন বা জলে দাপাদাপি করে আনন্দ ভাগ করে নিন।
(২) লাটাগুড়ি পেরিয়ে ময়নাগুড়ি হয়ে চলে যান জল্পেশ মন্দিরে, ৩৮ কিমি। দেখুন অদ্ভুত স্থাপত্যের প্রাচীন মন্দির। দর্শন করে আসুন জল্পেশ লিঙ্গ। আবহাওয়া ভালো থাকলে জল্পেশ মন্দিরের চত্বর থেকে পেয়ে যাবেন কাঞ্চনজঙ্ঘাকে।

(৩) প্রথমে চলুন সামসিং হয়ে সুনতালেখোলা (২৯ কিমি), সেখান থেকে রকি আইল্যান্ড (৫ কিমি)। এর পর চলুন গৈরিবাস হয়ে ঝালং (১৮ কিমি), সেখান থেকে চলুন তোদে তাংতা (১৮ কিমি)। এর পর বিন্দু (২২ কিমি)। বিন্দু থেকে ফিরে আসুন টিলাবাড়িতে, দূরত্ব ৪৯ কিমি।
(৪) আর এক দিন যেতে পারেন সুখারেতি নদী পেরিয়ে ভুটান সীমান্তে ডায়ানা নদীর ধারে চামুর্চি ইকো পার্কে, দূরত্ব ৩৯ কিমি। তবে বর্ষায় সুখারেতি প্লাবিত হয়ে যেতে পারে। খোঁজখবর নিয়ে নেবেন।
কী ভাবে যাবেন
আনলক পর্বে আপাতত একটি ট্রেন চলছে কলকাতা থেকে। পদাতিক এক্সপ্রেস ট্রেনটি এখন রোজ চলছে শিয়ালদহ-নিউ কোচবিহার স্পেশ্যাল হিসাবে। শিয়ালদহ থেকে ছাড়ে রাত্রি ১১টায়, জলপাইগুড়ি রোড পৌঁছোয় সকাল ১০.১৮ মিনিটে। সেখান থেকে টিলাবাড়ি ৩৬ কিমি। ভাড়া গাড়ি পেয়ে যাবেন।
এ ছাড়াও কলকাতার এসপ্ল্যানেড থেকে বাস পেয়ে যাবেন শিলিগুড়ি তেনজিং নোরগে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত। বাসের জন্য অনলাইন বুকিং redbus.in। শিলিগুড়ি থেকে টিলাবাড়ি ৭১ কিমি। বাসস্ট্যান্ডের বাইরে থেকে ভাড়া গাড়ি পেয়ে যাবেন।

কোথায় থাকবে
আপনাকে স্বাগত জানানোর জন্য তৈরি টিলাবাড়িতে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন নিগমের তিলোত্তমা ট্যুরিজম প্রপার্টি প্রস্তুত হয়ে আছে। অনলাইন বুকিং: https://wbtdcl.com/।
মনে রাখুন
মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব রাখা ইত্যাদি সমস্ত রকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
আরও পড়ুন: আনলকে চলুন: ঝাড়খণ্ড সীমানায় মাইথন
The post আনলকে চলুন: ডুয়ার্সের টিলাবাড়ি appeared first on Bhramon Online.
]]>The post দলে দলে অলিভ রিডলে আসছে ওড়িশার উপকূলে appeared first on Bhramon Online.
]]>এ রকমই এক স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা ঘটছে ওড়িশার উপকূলে, আপাতদৃষ্টিতে যে ঘটনা অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। ওড়িশার উপকূলে দলে দলে আসছে বিরল প্রজাতির কচ্ছপ অলিভ রিডলে। তারা ভিড় করছে ওড়িশার গহিরমাথা আর রুষিকুল্যা সৈকতে। অলিভ রিডলের সংখ্যাটা ৮ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
Thousands of olive ridley turtles nesting on the beaches of Odisha.
Their normal predators (humans) are in quarantine.
This season, their numbers will explode in the oceans.
There is a silver lining in this dark cloud after all. pic.twitter.com/l0DMLbGp4l— Dr. Ashley Jacob (@DrAshJac) March 26, 2020
অলিভ রিডলে হল বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ। এই সময়টা হল এদের ‘নেস্টিং সিজন’। এই সময়ে এরা দলে দলে আসে ওড়িশার উপকূলে, বাসা বাঁধে, ডিম পাড়ে, তার পর শাবক সাবালক হলে ভেসে পড়ে গভীর সমুদ্রে। ওড়িশার উপকূল হল অলিভ রিডলের সব চেয়ে বড়ো ‘নেস্টিং সাইট’। আবার বছর ঘোরে। মেয়ে অলিভ রিডলেরা তাদের পুরোনো বাসায় আবার ফিরে আসে নতুন করে ডিম পাড়ার জন্য।
কিন্তু অলিভ রিডলেদের ওড়িশার উপকূলে আসা বছর বছর কমছিল। গত বছর অর্থাৎ ২০১৯-এ একটাও ওলিভ রিডলে দেখা যায়নি। এর মূল কারণ, অসংখ্য মানুষের উপস্থিতি এবং উপকূলের বর্জ্য। এ বছর ২১ দিন লকডাউনে ওড়িশার উপকূলে মানুষের উপস্থিতি নেই। যার ফলে অলিভ রিডলেরা নিশ্চিন্ত, নিরুদ্বিগ্ন।
ওড়িশা বন দফতরের হিসাব অনুযায়ী, ২৫ মার্চ বুধবার সকাল পর্যন্ত ২,৭৮,৫০২টি মেয়ে অলিভ রিডলে উপকূলে বাসা বেঁধেছে। আর এই সংখ্যাটা শুধুমাত্র রুষিকুল্যাতেই দাঁড়াবে অন্তত পৌনে ৫ লক্ষ। এ বছর অন্তত ছ’ কোটিরও বেশি ডিম পাড়বে অলিভ রিডলে।
Thousands of olive ridley turtles nesting on the beaches of Odisha.
Their normal predators (humans) are in quarantine.
This season, their numbers will explode in the oceans.
There is a silver lining in this dark cloud after all. pic.twitter.com/l0DMLbGp4l— Dr. Ashley Jacob (@DrAshJac) March 26, 2020
ওড়িশা বন্যপ্রাণী সংগঠনের (ওডব্লিউও) তথ্য থেকে জানা যায়, এই বিরল প্রজাতির কচ্ছপের অন্তত ৫০ শতাংশ ডিম পাড়ার জন্য ওড়িশার উপকূলে আসে। তবে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বেরোতে ৪৫ দিন সময় লাগে। এই বাচ্চা বেরনোটাই একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ। অনেক সময়েই এই ডিম কুকুর খেয়ে ফেলে অথবা মাছ ধরার নৌকার ধাক্কায় নষ্ট হয়ে যায়।
কুকুর এবং নৌকা থেকে ডিমের ক্ষতি রোখার জন্য বন দফতর স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে। তত দিনে কচ্ছপ-শাবকরা দু’ ফুট লম্বা হয় আর ওজন হয় অন্তত ৫০ কেজি।
The post দলে দলে অলিভ রিডলে আসছে ওড়িশার উপকূলে appeared first on Bhramon Online.
]]>The post বুকে করে রাখুন বিষ্ণুপুরের স্মৃতি, উদ্যোগ মহকুমা প্রশাসনের appeared first on Bhramon Online.
]]>
বাঁকুড়া: সাধ্যের মধ্যে সাধ পূরণ করতে এগিয়ে এল বিষ্ণুপুর মহকুমা প্রশাসন। স্মৃতিচিহ্নস্বরূপ বিষ্ণুপুরকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বুধবার বিষ্ণুপুর রাসমঞ্চ প্রাঙ্গণে বিষ্ণুপুর ট্যুরিজম ডট কম ব্র্যান্ডের পোশাকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল। সরকারস্বীকৃত দশ জন ট্যুরিস্টগাইড টি-শার্ট (গেঞ্জি) পরে রীতিমতো র্যাম্প ওয়াক করে রাসমঞ্চ মাতালেন।পরে মহকুমাকরণে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুরের এসডিপিও সুকোমলকান্তি দাস। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত প্রত্যেক সাংবাদিকের হাতে বিষ্ণুপুর ট্যুরিজম ডট কম ব্র্যান্ডের পোশাক উপহার তুলে দেন মহকুমাশাসক।
বিষ্ণুপুর মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল বলেন, বুধবার সরকারি ভাবে চোদ্দোটি ডিজাইনের গেঞ্জি লঞ্চ করা হয়েছে। বিষ্ণুপুর লোগো প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিল্পীদের ডিজাইন ও মহকুমা প্রশাসনের নিজস্ব ভাবনায় টি শার্টে ( গেঞ্জি) ডিজাইন বানানো হয়েছে। হঠাৎই এই ধরনের উদ্যোগ প্রসঙ্গে মহকুমাশাসক জানান, মূলত বিষ্ণুপুরের পর্যটন নিয়ে প্রচারের জন্যই এই উদ্যোগ। বিষ্ণুপুর মানেই বালুচরী। আর বিষ্ণুপুর বেড়াতে এসে যে সকলেই বালুচরী কিনবেন বা কিনতে পারবেন তা নয়। তাই ন্যায্য মূল্যের এই পোশাকের ভাবনা। বেড়ানোর স্মৃতিচিহ্নস্বরূপ সাধারণ মানুষও এই পোশাক সংগ্রহে রাখতে পারবেন। এই বিষয়ে তিনি আরও জানান, বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গিয়ে আমরা অনেক কিছুই কিনে থাকি। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের ছবি-সহ ন্যায্য মূল্যের গেঞ্জি এখন বেশ জনপ্রিয়। তাই এই বিষয়ে বিষ্ণুপুরই বা কেন পিছিয়ে থাকবে? তাই এ বার বিষ্ণুপুরের যদুভট্ট থেকে লন্ঠন আবার জোড়বাংলো মন্দির থেকে রাসমঞ্চ, পর্যটকরা এক টুকরো বিষ্ণুপুরকে বুকে নিয়ে পোড়ামাটির এই শহরকে স্মৃতিতে চিরন্তন করে রাখবেন।

খুব পরতে ইচ্ছা করছে এখনই? না, একটু অপেক্ষা করতে হবে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও এখনও পর্যন্ত বাজারে আসেনি এই বিশেষ গেঞ্জি। দাম নির্ধারণও বাকি। তবে একান্তই যদি খুব ইচ্ছা করে তবে সপ্তাহান্তে আপনাকে আসতেই হবে বিষ্ণুপুর জোড়বাংলো প্রাঙ্গণে পোড়ামাটির হাটে। স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা এই পোশাক বিক্রি করবেন। তবে মহকুমা প্রশাসন সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই এই পোশাক বাজারজাত করা হবে অবশ্যই বিষ্ণুপুর ট্যুরিজম ডট কম-এর ব্যানারে। পরবর্তী কালে সিল্ক বা অন্য ধরনের কাপড়েও এই ধরনের পোশাক মিলবে।
The post বুকে করে রাখুন বিষ্ণুপুরের স্মৃতি, উদ্যোগ মহকুমা প্রশাসনের appeared first on Bhramon Online.
]]>The post শীতে চলুন/১: গড়-জঙ্গল-হাভেলির রাজস্থান appeared first on Bhramon Online.
]]>সত্যি কথা বলতে কি, শীতে বেড়ানোর আদর্শ জায়গা রাজস্থান। নভেম্বর থেকে মার্চ, এই ক’ মাস রাজস্থান বেড়ানোর উৎকৃষ্ট সময়। তাই শীতের ভ্রমণের প্রথম কিস্তিতে রাজস্থানের দু’টি ভ্রমণছক সাজিয়ে দিচ্ছে।
প্রথম ও দ্বিতীয় দিন – যেখান থেকেই যান আগরায় দু’টো দিন পুরো থাকুন।
প্রথম দিন দেখুন তাজমহল, আগরা ফোর্ট, ইতমাদ-উদ-দৌল্লা, সিকান্দ্রা, রাম বাগ, চিনি কা রৌজা, দয়ালবাগ।দ্বিতীয় দিন সকালেই চলুন ফতেপুর সিকরি (৩৫ কিমি), সেখান থেকে ফিরে দেখে নিন সিকান্দ্রা।
কলকাতা থেকে আগরা যাওয়ার ভালো ট্রেন দু’টো — হাওড়া থেকে জোধপুর এক্সপ্রেস ও শিয়ালদহ থেকে অজমের এক্সপ্রেস। জোধপুর এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে রাত ১১.৩৫-এ ছেড়ে আগরা ফোর্ট পৌঁছোয় পরের দিন রাত পৌনে ৮টায়। অজমের এক্সপ্রেস শিয়ালদহ থেকে রাত ১০.৫৫-য় ছেড়ে আগরা ফোর্ট পৌঁছোয় পরের দিন সন্ধে ৬.৩৫ মিনিটে। এ ছাড়া বেশ কিছু সাপ্তাহিক ট্রেন আছে। এগুলির বেশির ভাগই সন্ধে থেকে রাতের দিকে পৌঁছোয়। ট্রেনে বা বিমানে দিল্লি হয়েও আসতে পারেন। দিল্লি থেকে ট্রেন বিশেষে ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টার জার্নি আগরা। সক্কালেই দিল্লি থেকে আগরা পৌঁছোনোর বেশ কিছু ট্রেন আছে। দেশের সব বড়ো শহরের সঙ্গেই আগরা ট্রেনপথে যুক্ত।
তৃতীয় দিন ও চতুর্থ দিন – রাত্রিবাস ভরতপুর। প্রথম দিন দেখে নিন লোহাগড় দুর্গ ও কেওলাদেও ঘানা জাতীয় উদ্যান। দ্বিতীয় দিন চলুন ৩৪ কিমি দূরের দীগ। দেখে নিন দীগ দুর্গ, সুরজমল প্রাসাদ বা গোপাল ভবন, সূর্য ভবন, গার্ডেন প্যাভিলিয়ন কেশব ভবন, রূপসাগরের শিশ মহল, পুরানা মহল, শ্বেতপাথরের হিন্দোলা প্রাসাদ ইত্যাদি। নিয়মিত বাস চলে, গাড়িও পাবেন।
আগরা থেকে ভরতপুর ট্রেনে যাওয়াই সুবিধাজনক। ভোর থেকে ট্রেন। বেশির ভাগ ট্রেন মেলে আগরা ফোর্ট থেকে। ঈদগা আর ক্যান্টনমেন্ট থেকেও ট্রেন পাওয়া যায়। ঘণ্টা খানেক সময় লাগে। সড়কপথে আগরা থেকে ভরতপুর ৫৫ কিমি, বাস চলে নিয়মিত। গাড়ি ভাড়া করেও আসতে পারেন।

পঞ্চম দিন – রাত্রিবাস দৌসা। দৌসা থেকে সকালে চলে যান ১৩ কিমি দূরের ভান্ডারেজ। দেখে নিন প্রাসাদ আর রাজস্থানের সব চেয়ে আকর্ষণীয় স্টেপ-ওয়েল ভান্ডারেজ বাউড়ি। দৌসা ফিরে দুপুরের আহার সেরে চলুন ৩০ কিমি দূরে ভানগড় দুর্গ। ‘হানাবাড়ি’ বলে খ্যাত ভানগড় দুর্গে সন্ধে নামলে থাকা যায় না।
ভরতপুর থেকে সকাল ৬.০৮-এ আগরা ফোর্ট-অজমের ইন্টারসিটি ধরে দু’ ঘন্টায় চলে আসুন দৌসা।
ষষ্ঠ ও সপ্তম দিন – রাত্রিবাস জয়পুর। জয়পুরে দেখে নিন হাওয়া মহল, বিড়লা মন্দির, মোতি ডুংরি, অ্যালবার্ট হল মিউজিয়াম, নাহাড়গড় দুর্গ, জল মহল, জয়গড় দুর্গ, সিসোদিয়া রানি কি বাগ, বিদ্যাধরজি কি বাগ, যন্তর মন্তর, সিটি প্যালেস, অম্বর দুর্গ ও প্রাসাদ (১১ কিমি), গলতা ও সূর্য মন্দির (১০ কিমি পুবে, হেঁটে পাহাড়ে চড়া) ও সঙ্গানের (১৬ কিমি দক্ষিণ পশ্চিমে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দের জৈন মন্দির ও প্রাসাদ)।
দৌসা থেকে জয়পুর ট্রেনে আসাই সুবিধাজনক। সক্কাল থেকে ট্রেন আছে, ঘণ্টা দেড়েক সময় লাগে। বাসে বা গাড়িতেও আসা যায়। আগরা-জয়পুর জাতীয় সড়কের ওপর অবস্থিত দৌসা। দৌসা থেকে জয়পুর সড়কপথে ৫৮ কিমি।

অষ্টম দিন – রাত্রিবাস সরিস্কা।
সক্কাল সক্কাল জয়পুর থেকে বেরিয়ে বাসে বা গাড়িতে চলুন সরিস্কা, দূরত্ব ১১৩ কিমি। বিকেলে ও পরের দিন সকালে দু’টো সাফারি করার চেষ্টা করুন।
নবম দিন ও দশম দিন – রাত্রিবাস অলওয়র।
নবম দিন সকালে সরিস্কায় একটা সাফারি করে রওনা হয়ে যান অলওয়র। বাসে বা গাড়িতে চলে আসুন ৩৭ কিমি পথ। গাড়িতে এলে পথে দেখে নিন শিলিশেড় লেক ও প্রাসাদ।
অলওয়রে দেখে নিন সিটি প্যালেস তথা মিউজিয়াম, বালা কিলা বা অলওয়র দুর্গ, মুসি মহারানি কি ছত্রি, করণীমাতা মন্দির, পুরজন বিহার, বিনয় বিলাস প্রাসাদ (১০ কিমি, বিজয়সাগরের পাড়ে), জয়সমন্দ লেক (৬ কিমি) এবং শিলিশেড় লেক ও প্রাসাদ (যদি সরিস্কা থেকে আসার পথে দেখা না হয়ে থাকে)।
একাদশ দিন – দিল্লি হয়ে ফিরুন ঘরপানে। অলওয়র থেকে দিল্লি ১৬০ কিমি, মুহুর্মুহু বাস আছে। সকাল থেকে পরপর ট্রেন রয়েছে আলোয়ার-দিল্লি, সাড়ে তিন ঘণ্টা মতো সময় লাগে।

প্রথম ও দ্বিতীয় দিন – যেখান থেকেই যান জয়পুরে অন্তত পুরো দু’টো দিন থাকুন। জয়পুরে কী দেখবেন তা জানতে আগের ভ্রমণসূচির ষষ্ঠ ও সপ্তম দিন দেখে দিন।
ভারতের সব বড়ো শহরের সঙ্গে জয়পুর ট্রেন ও বিমানপথে সংযুক্ত। কলকাতা থেকে জয়পুর যাওয়ার ভালো ট্রেন দু’টো — হাওড়া থেকে জোধপুর এক্সপ্রেস ও শিয়ালদহ থেকে অজমের এক্সপ্রেস। জোধপুর এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে রাত ১১.৩৫-এ ছেড়ে জয়পুর পৌঁছোয় পরের দিন রাত ১২.৩৫-এ। অজমের এক্সপ্রেস শিয়ালদহ থেকে রাত ১০.৫৫-য় ছেড়ে জয়পুর পৌঁছোয় পরের দিন রাত ১১.৫৫-য়। এ ছাড়া দু’টি সাপ্তাহিক ট্রেন আছে। দিল্লি থেকে জয়পুর সাড়ে ৪ ঘণ্টা থেকে ৬ ঘণ্টার জার্নি, অসংখ্য ট্রেন।
তৃতীয়, চতুর্থ দিন ও পঞ্চম দিন – রাত্রিবাস ফতেপুর। জয়পুর থেকে ফতেপুর আসুন বাসে, ১৬৬ কিমি, ঘনঘন বাস আছে। গাড়িতেও আসতে পারেন।
শেখাবতী অঞ্চলের মধ্যমণি ফতেপুর। রাও শেখা থেকে নাম শেখাবতী। শেখা তথা মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের বাস এই অঞ্চলে। তাদেরই অর্থে এখানকার ৩৬০টি গ্রাম জুড়ে গড়ে উঠেছে ফ্রেস্কো চিত্রে নানা আখ্যানে সুশোভিত নানা বাড়ি বা হাভেলি।
যে দিন জয়পুর থেকে পৌঁছোবেন সে দিন ফতেপুরে দেখে নিন গোয়েঙ্কা, ডেবরা, সিংহানিয়া, সারাওগি, পোদ্দার, জালান ইত্যাদিদের হাভেলি।

পরের দিন একটা গাড়ি ভাড়া করে চলুন লছমনগড় (২২ কিমি), সেখান থেকে শিকার (৩৩ কিমি), সেখান থেকে নওয়লগড় (৩৪ কিমি), নওয়লগড় থেকে ঝুনঝুনু (৪০ কিমি), ঝুনঝুনু থেকে মান্ডোয়া (৩২ কিমি) ও মান্ডোয়া থেকে ফিরুন ফতেপুর (২১ কিমি)। দেখে নিন নানা হাভেলি, মন্দির ও গড়।
পঞ্চম দিন গাড়ি ভাড়া করে চলুন স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিধন্য খেতড়ি (১০৪ কিমি)। সক্কাল সক্কাল বেরিয়ে পড়ুন। সারা দিন ঘুরে দেখে নিন আরাবল্লি পাহাড়ের কোলে খেতড়ির রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম, রঘুনাথ মন্দির, ভোপালগড় দুর্গ, অজিত সাগর, বাগোর দুর্গ, সুখ মহল। রাতে ফিরে আসুন ফতেপুর।

ষষ্ঠ ও সপ্তম দিন – রাত্রিবাস বিকানের। ফতেপুর থেকে বাসে বা গাড়িতে চলুন, ১৭২ কিমি রাস্তা।
বিকানেরে দেখে নিন জুনাগড় দুর্গ, গঙ্গা গোল্ডেন জুবিলি মিউজিয়াম, লালগড় প্রাসাদ, ভাণ্ডেশ্বর ও ষণ্ডেশ্বর জৈন মন্দির কমপ্লেক্স (৫ কিমি), দেবী কুণ্ড সাগর (৮ কিমি), ক্যামেল ব্রিডিং ফার্ম (৮ কিমি), গজনের স্যাংচুয়ারি ও প্রাসাদ (বিকানের-জৈসলমের পথে ৩১ কিমি) এবং দেশনোকে করণীমাতা মন্দির (বিকানের-অজমের পথে ৩২ কিমি)
অষ্টম ও নবম ও দশম দিন – রাত্রিবাস অজমের।
বিকানের থেকে ২৫০ কিমি অজমের। বাসেই আসা প্রশস্ত। গাড়িতেও আসা যায়। গাড়িতে এলে পথে দেশনোকে করণীমাতা মন্দির দেখে নিতে পারেন। অজমের পৌঁছে প্রথম দিন দরগা শরিফ দেখে নিন।
পরের দিন দেখে নিন আড়াই-দিন-কা-ঝোপড়া, তারাগড় পাহাড়ে আকবর কা দৌলতখানা, দিগম্বর জৈন মন্দির সোনিজি কা নাসিয়া, আকবরের প্রাসাদে সরকারি মিউজিয়াম, দু’টি কৃত্রিম হ্রদ আনা সাগর ও ফয় সাগর এবং আনা সাগরের পাড়ে জাহাঙ্গিরের গড়া দৌলত বাগ বাগিচা।
তৃতীয় দিন চলে যান ১৫ কিমি দূরে পুষ্করতীর্থে। হ্রদ ও অসংখ্য মন্দির নিয়ে মরুভূমির বুকে এক টুকরো পুষ্কর।
একাদশ দিন – ঘরপানে ফেরা। কলকাতায় ফিরলে দুপুর ১২.৫০-এ শিয়ালদহ এক্সপ্রেস ধরুন। দিল্লি হয়েও ফিরতে পারেন। বহু ট্রেন আছে। সময় লাগে ট্রেন বিশেষে সাড়ে ৬ ঘণ্টা থেকে ৯ ঘণ্টা।
সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি হোটেল। হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তাদের সন্ধান পেয়ে যাবেন। ভরতপুর, জয়পুর, সরিস্কা, আলোয়ার, ফতেপুর, বিকানের এবং অজমেরে পাবেন রাজস্থান পর্যটনের হোটেল। শিলিশেড়েও রাজস্থান পর্যটনের হোটেল আছে। আলোয়ারে না থেকে, এখানেও থাকতে পারেন। আগরায় বেসরকারি হোটেল ছাড়াও পাবেন উত্তরপ্রদেশ পর্যটনের হোটেল।
রাজস্থানের শহরগুলিতে স্থানীয় গাড়ি বুক করে দ্রষ্টব্য দেখে নেবেন। তবে জয়পুর শহরের দ্রষ্টব্যস্থানগুলি রাজস্থান পর্যটনের বাসে দেখতে পারেন। আগাম সিট পর্যটনের ওয়েবসাইট থেকে বুক করে নিতে পারেন।
(১) ট্রেনের সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in
(২) অনলাইন হোটেল বুকিং করার জন্য রাজস্থান পর্যটনের ওয়েবসাইট https://rtdc.tourism.rajasthan.gov.in/
(৩) অনলাইনে বাস বুকিং করার জন্য রাজস্থান পরিবহণ নিগমের ওয়েবসাইট https://rsrtconline.rajasthan.gov.in
(৪) রাজস্থান পর্যটনের কলকাতা অফিস – কমার্স হাউস, ২ গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ, কলকাতা ৭০০০১৩, যোগাযোগ – ০৩৩ ২২১৩ ২৭৪০
(৫) অনলাইনে বুকিং-এর জন্য উত্তরপ্রদেশ পর্যটনের ওয়েবসাইট https://uptourism.gov.in/
The post শীতে চলুন/১: গড়-জঙ্গল-হাভেলির রাজস্থান appeared first on Bhramon Online.
]]>