The post দার্জিলিং ভ্রমণ: ৩ দিনের সম্পূর্ণ ট্যুর প্ল্যান appeared first on Bhramon Online.
]]>সরকারি ব্যবস্থাপনায় দার্জিলিং শহরের ভানু সরণিতে রয়েছে দার্জিলিং ট্যুরিজম প্রপার্টি। এখানে ঘর পাওয়া যাবে প্রতি রাত ২৩০০ টাকা থেকে ৩২০০ টাকার মধ্যে। অনলাইন বুকিং: darjeelingtouristlodge@gmail.com। এ ছাড়া রয়েছে লোইস জুবিলি কমপ্লেক্স (ফোন: ০৩৫৪২২৫৪৮৭৯), ম্যাপল ট্যুরিস্ট লজ (ফোন: ০৩৫৪২২৫২৮১৩)। রয়েছে অসংখ্য হোটেল, হোমস্টে। বিভিন্ন দামের মধ্যে। গুগল সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন। দামের রেঞ্জ:
৩ দিনে দার্জিলিং ভ্রমণ করলে আপনি পাহাড়ি শহরের রূপ, প্রকৃতি, ইতিহাস এবং সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন অনুভব করবেন। সময় স্বল্প হলেও এই পরিকল্পনা মেনে চললে দার্জিলিং ভ্রমণ হবে স্মরণীয়।
আরও পড়ুন: চলুন সড়কপথে: জয়পুর থেকে জৈসলমের
The post দার্জিলিং ভ্রমণ: ৩ দিনের সম্পূর্ণ ট্যুর প্ল্যান appeared first on Bhramon Online.
]]>The post চলুন সড়কপথে: জয়পুর থেকে জৈসলমের appeared first on Bhramon Online.
]]>উত্তর ভারতের রাজস্থান সড়কভ্রমণের আদর্শ রাজ্য। মসৃণ পথে গাড়ি করে যাওয়ার মজাই আলাদা। জয়পুর থেকে জৈসলমের যাওয়ার রাস্তা হল ১১ নম্বর জাতীয় সড়ক। তবে আমরা মাঝেমাঝেই প্রধান সড়ক থেকে বিচ্যুত হয়ে যাব, বিভিন্ন জায়গায় রাত কাটাব, জায়গাগুলো চিনব।
জয়পুর থেকে জৈসলমের নানা ভাবে যাওয়া যায়। নাগৌর হয়ে জাতীয় সড়ক ১১ ধরে সোজা চলে গেলে ৫৬০ কিমি দূরত্ব পড়ে। কিন্তু আমরা যাব একটু ঘুরে ঘুরে, দর্শনীয় স্থান দেখতে দেখতে। রাজস্থানের উল্লেখযোগ্য কিছু স্থানে রাত্রিবাস করে। তাই আমাদের পথ –

গুন্ডেলাও লেক, কিশনগঢ়।
জয়পুর-কিশনগঢ়-পুষ্কর-অজমের-জোধপুর-ওসিয়া-ফলোদী-রামদেওরা-জৈসলমের।
প্রথম দিন – আজ চলুন পুষ্কর পর্যন্ত। দূরত্ব ১৪২ কিমি। সকালেই বেরিয়ে পড়ুন।
পুষ্কর যাওয়ার পথে পড়বে কিশনগঢ়। জয়পুর থেকে ১০২ কিমি। ১৬০৩ সালে যারা কিষাণ সিংহের গড়া কিশনগঢ়। এখানে রয়েছে গুন্ডেলাও লেক, লেকের পাড়ে ফুলমহল প্রাসাদ তথা দুর্গ, কৃষ্ণমন্দির, মাঝেলা প্রাসাদ। আর রয়েছে কিশনগঢ় স্কুল অব আর্টস, বিশ্বজোড়া যার খ্যাতি। আর অবশ্যই দেখবেন কিশনগঢ়ের মর্মরের ভাস্কর্য।
কিশনগঢ় দেখে চলে আসুন পুষ্করে। কিশনগঢ়ের দ্রষ্টব্য দেখে পুষ্করে আসতে আসতে বিকেল হয়ে যাব। রাত্রিবাস পুষ্কর।

পুষ্কর সরোবর।
দ্বিতীয় দিন – আজ ঘুরে দেখুন পুষ্কর। মূল দ্রষ্টব্য পুষ্কর সরোবর। ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর অর্থাৎ ত্রিদেবের যজ্ঞস্থল এই সরোবর। ৫২টি ঘাট রয়েছে এই সরোবরে। সরোবরের পশ্চিম দিকে ব্রহ্মাঘাটে ভারতে অন্যতম প্রাচীন ব্রহ্মা মন্দির। সরোবরের অপর পাড়ে সাবিত্রী পাহাড়। পাহাড়চুড়োয় ১৬৮৭-র সাবিত্রী মন্দির। মন্দিরে রয়েছেন ব্রহ্মার প্রথম স্ত্রী দেবী সাবিত্রী এবং বীণাহীন সরস্বতী। শিবও রয়েছে লিঙ্গে। সাবিত্রী পাহাড় থেকে চার পাশের দৃশ্যও সুন্দর। সাবিত্রী পাহাড়ে হেঁটে উঠতে পারেন। ব্রহ্মা মন্দির থেকে প্রায় ২ কিমি। প্রথমে কিছুটা বালির রাস্তা, তার পর ৩৬০ ধাপ সিঁড়ি। তবে রোপওয়েও রয়েছে পাহাড়ে চড়ার জন্য। রাত্রিবাস পুষ্কর।
তৃতীয় দিন – সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ুন পুষ্কর থেকে। অজমের হয়ে চলুন জোধপুর। মোট দূরত্ব ২২১ কিমি।
পুষ্কর থেকে অজমের ১৫ কিমি। আন্নাসাগর লেকের পাড়ে পাহাড়ে ঘেরা অজমেরের মূল দ্রষ্টব্য দরগা শরিফ। হিন্দু, মুসলিম তথা সর্বধর্মীর কাছে শ্রদ্ধেয় ১২ শতকের সুফি ধর্মগুরু খাজা মইনুদ্দিন চিস্তির দরগা। দরগা থেকে ৫-৭ মিনিটের হাঁটাপথে ত্রিপোলিয়া গেট পেরিয়ে আড়াই-দিন-কা ঝোপড়া। কথিত আছে, দ্বাদশ শতকের এই ‘ঝোপড়া’ নাকি আড়াই দিনে তৈরি। সিলিং-এ সুন্দর কারুকাজ, ১২৪টি থামে ভর করে ১০টি গম্বুজ। এ ছাড়াও অজমেরে দেখার জন্য রয়েছে তারাগড় পাহাড়ের মাথায় মোগল স্থাপত্যের তারাগড় দুর্গ। ৩ কিমি খাড়া পথ বেয়ে ২০৫৫ ফুট উঠতে ঘণ্টাদেড়েক সময় লাগে। এ ছাড়াও দেখে নিতে পারেন ১৫৭০ সালে সম্রাট আকবরের গড়া প্রাসাদ, আজ যেটি মিউজিয়াম।
অজমের ঘুরে জোধপুরে পৌঁছোতে সন্ধে হয়ে যাবে। রাত্রিবাস জোধপুর।

(পিছনে) মেহরনগড় ফোর্ট, (সামনে) যশবন্ত থাডা।
চতুর্থ দিন – আজ সারাদিন ঘুরে নিন জোধপুর। নীল শহর জোধপুরের আকর্ষণ বহুবিধ। প্রধান আকর্ষণ মেহরনগড় ফোর্ট। মান্ডোর থেকে রাজ্যপাট তুলে এনে এই জোধপুরে এই দুর্গ গড়েন রাও জোধা ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দে। ৭টি পোল তথা গেট রয়েছে এই দুর্গে। দুর্গে বহু দ্রষ্টব্য। স্থাপত্য, ভাস্কর্য, বৈভব, জাফরির কাজ অনবদ্য করে তুলেছে এই দুর্গকে। র্যামপার্ট থেকে পুরনো শহরের প্যানোরামিক ভিউ সুন্দর দৃশ্যমান। দুর্গের পাদদেশে মহারাজা দ্বিতীয় যশবন্ত সিংহের যশবন্ত থাডা তথা ছত্তিশ। জোধপুরের আর-এক আকর্ষণ শহরের এক প্রান্তে ছাত্তার হিলে ইটালীয় শৈলীতে তৈরি গোলাপি পাথরের উমেদ ভবন প্যালেস। প্রাসাদের এক অংশ জুড়ে মিউজিয়াম। উমেদ ভবন প্যালেসের কাছে মহারাজার রেলওয়ে ক্যারেজ। ১৮৩৬-এ উটে টানা রেলওয়ে ক্যারেজ দিয়ে জোধপুরে ট্রেনযাত্রার শুরু। কালে কালে স্টিম ইঞ্জিন আসে ১৯২৪-এ।
জোধপুর থেকে ৮ কিমি দূরে বালসমন্দ লেক পেরিয়ে পরিহার রাজপুতদের ৬ থেকে ১৪ শতকের রাজধানী মান্ডোর। সুসজ্জিত উদ্যানে মন্দিরের ঢঙে দেবল তথা ছত্তিশ অন্যতম দ্রষ্টব্য। আরও দ্রষ্টব্য রয়েছে এই মান্ডোরে। জোধপুরের আর-এক আকর্ষণ ১০ কিমি পশ্চিমে পর্যটকপ্রিয় কৈলানা হ্রদ। মরুরাজ্য রাজস্থানে এ এক আকর্ষণীয় দ্রষ্টব্য। রাত্রিবাস জোধপুর।

ওসিয়াঁর মন্দির।
পঞ্চম দিন – জোধপুর থেকে সকাল-সকাল বেরিয়ে পড়ুন। চলুন ওসিয়াঁ হয়ে ফলোদী। জোধপুর থেকে ওসিয়া ৬৫ কিমি। সেখান থেকে ফলোদী ৭৫ কিমি। রাত্রিবাস ফলোদী।
হিন্দু ও জৈন ধর্মের ১৬টি মন্দিরের জন্য বিখ্যাত ওসিয়াঁঁ। আট থেকে এগারো শতকের মধ্যে প্রতিহরদের নির্মিত কারুকার্যমণ্ডিত এই মন্দিরগুলি মধ্যযুগীয় ভাস্কর্যের অপূর্ব নিদর্শন। তবে এই মন্দিরগুলির সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ হল ২৪তম তীর্থঙ্কর মহাবীরের মন্দির। আট শতকের এই মন্দির পরে সংস্কার করা হয়েছে। অদূরে সূর্য মন্দির, যেখানে সূর্য ছাড়াও রয়েছেন গণেশ ও দুর্গা।
ওসিয়ার মন্দির দর্শন করে ফলোদী পৌঁছে যান। এখানে করা যায় ক্যামেল সাফারি, ডেজার্ট সাফারি। রয়েছে জৈন মন্দির, দুর্গা মন্দির। দৃষ্টিনন্দন জাফরিমণ্ডিত নানা হাভেলিও দর্শনীয়। ৬ কিলোমিটার দূরে খিচেন। এখানকার বিশেষ আকর্ষণ সুদূর সাইবেরিয়া থেকে উড়ে আসা হাজার হাজার সারস। বালিয়াড়ির ঝোপেঝাড়ে বাসা তৈরি করে তারা ডিম পাড়ে। তাদের সমাগম হয় অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে।

সোনার কেল্লা।
ষষ্ঠ দিন – আজকের গন্তব্য জৈসলমের। সকাল-সকাল বেরিয়ে পড়ুন ফলোদী থেকে।
ফলোদী থেকে ৫৪ কিমি দূরে রামদেওরা। এখানে দেখে নিন চোদ্দো শতকের পির বাবা রামদেবের মন্দির এবং রাম সরোবর। রামদেওরা থেকে জৈসলমের ১২৮ কিমি। সোনার কেল্লার শহর জৈসলমের ও তার আশেপেশে দ্রষ্টব্য অনেক। তিনটে দিন দেখতে দেখতে কেটে যায় এই জৈসলমেরে।
(১) জয়পুর, পুষ্কর, জোধপুর ও জৈসলমেরে রয়েছে রাজস্থান পর্যটনের (আরটিডিসি) হোটেল। অনলাইন বুকিং: https://rtdc.tourism.rajasthan.gov.in/। এ ছাড়াও ফলোদী, পুষ্কর-সহ সব জায়গাতেই বেসরকারি হোটেল, রিসর্ট, হোমস্টে রয়েছে। নেট সার্চ করলে এর সন্ধান পেয়ে যাবেন।
(২) গাড়ি ভাড়া করতে হলে জয়পুর শহরে প্রচুর কার রেন্টাল সার্ভিস রয়েছে। নেট সার্চ করলে এর সন্ধান পেয়ে যাবেন।
(৩) রাজস্থানের গরমের কথা ভেবে এই সড়কযাত্রা শীতে করা উচিত, নভেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে।
আরও পড়ুন
চলুন সড়কপথে: মুম্বই থেকে গোয়া
The post চলুন সড়কপথে: জয়পুর থেকে জৈসলমের appeared first on Bhramon Online.
]]>The post কাশ্মীর বেড়াতে যাচ্ছেন? খুঁটিনাটি এই তথ্যগুলি জেনে নিন appeared first on Bhramon Online.
]]>কাশ্মীর সত্যিই ভূস্বর্গ। জীবনের বত্রিশতম বছরে পড়ে প্রথম বার কাশ্মীর বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ হল আমার। আমি ভেবে পাচ্ছি না যে কেন আগে এখানে আমি আসিনি। যাই হোক, সব কিছুরই তো একটা সময় থাকে। হয়তো সেই কারণেই এত দিন কাশ্মীর যাইনি আমি।
তবে এ বার গেলাম এবং অনেক কিছু তথ্যও সংগ্রহ করে এলাম। আপনারা ভবিষ্যতে যাঁরা কাশ্মীর যাবেন বলে ঠিক করে রেখেছেন, এই তথ্য তাঁদের কাজে লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস। একবার দেখে নিন সেই তথ্যগুলি।
১) কাশ্মীরি মানুষজনের কোনো তুলনা নেই। অত্যন্ত অতিথিবৎসল তাঁরা। কাশ্মীরিদের ‘মেহমান নাওয়াজি’ তথা আতিথেয়তা আমি দেখলাম। এক কথায় অসাধারণ। কাশ্মীর বেড়াতে গেলে আপনারা এটা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করবেন।
২) কাশ্মীরি মানুষজন যতটাই ভালো, শ্রীনগরের ট্র্যাফিক ততটাই খারাপ। আমি এত বড়ো বড়ো শহরে ঘুরেছি, শ্রীনগরের মতো ট্র্যাফিক জ্যাম কোত্থাও দেখিনি। ডাল লেকের ২৩ নম্বর ঘাট থেকে ৬ নম্বর ঘাটে পৌঁছোতে আমাদের পাক্কা দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছিল।
৩) শ্রীনগরের লোকাল সাইটসিয়িং করার জন্য অন্তত ৮ ঘণ্টা হাতে সময় রাখতেই হবে, সৌজন্যে ট্র্যাফিক।
৪) গুগল ম্যাপে যে সময় দেখায়, সেটা দেখে হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। জম্মু থেকে শ্রীনগর ম্যাপে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা দেখাবে। কিন্তু আদতে ১০ ঘণ্টা লেগে যাবে। বিশেষ কিছু জায়গায় প্রবল ট্র্যাফিক জ্যাম হয়। শুধুমাত্র রাম্বানেই ট্র্যাফিকে ঘণ্টাখানেক আটকে থাকতে হবে।
একই ভাবে শ্রীনগর থেকে সোনামার্গ ম্যাপে ৩ ঘণ্টা দেখালেও পিক সিজনে পাঁচ ঘণ্টা লেগে যেতে পারে।
৫) ফ্লাইটের সুবিধা রয়েছে। তবুও বলব অন্তত একবার জম্মু থেকে শ্রীনগর, অথবা শ্রীনগর থেকে জম্মু সড়কপথে যান। নইলে অসাধারণ কিছু দৃশ্যের থেকে বঞ্চিত থেকে যাবেন।
৬) গুলমার্গ, সোনামার্গ, দুধপথরি, আরু ভ্যালি, পাটনিটপ-সহ আরও অনেক জায়গাতেই ঘোড়াওয়ালা আপনাকে বিরক্ত করবেই। আপনি ঘোড়ায় চড়বেন কি চড়বেন না সেটা আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে দরাদরিটা ঠিক ভাবে করবেন।

৭) খরচা করতে অসুবিধা না হলে ডাল লেকের পাড়ে নয়, শ্রীনগরে থাকুন রাজবাগ অঞ্চলে। এখানে খুব ভালো ভালো হোটেল আছে। রাজবাগে ঝিলমের পাড় খুব সুন্দর। দারুণ লাগবে। ডাল লেকের পাড় অনেক বেশি ঘিঞ্জি।
৮) একটা দিন থাকুন হাউসবোটে। ডাল লেকে শিকারা ভ্রমণ অবশ্যই করবেন।
৯) শ্রীনগর শহর রাত সাড়ে ১০টাতেও সম্পূর্ণ নিরাপদ। নির্ঝঞ্ঝাটে শহরের রাস্তায় বেরোতে পারেন। কেউ আপনাকে বিরক্ত করবে না।
১০) নিরাপত্তারক্ষীতে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা উপত্যকা। ফলে আপনি নিজেকে অনেক বেশি নিরাপদ মনে করবেন। কিন্তু কোথাও কোনো কড়াকড়ি নেই। কিছু কিছু জায়গায় সাধারণ বডি সার্চ হবে, এর বাইরে কিছু নয়।
১১) অনন্তনাগের মার্তণ্ড সূর্য মন্দির, অবন্তিপোরায় অবন্তিস্বামী মন্দির, শ্রীনগরে পরী মহল—এই স্থানগুলি অনেকেই নিয়ে যায় না। একবার আপনার গাড়ি চালকের সঙ্গে এই ব্যাপারে কথা বলে নিন। এগুলি মিস করবেন না কিছুতেই।

১২) কাশ্মীরে আরও অনেক অফবিট যাওয়া রয়েছে। সেগুলির জন্য আরও একটা বড়ো ট্যুর করা যায়। তবে যে হেতু প্রথম বার আপনি কাশ্মীর যাবেন, তাই আগে চেনা পর্যটনকেন্দ্রগুলি ঘুরে নিন।
The post কাশ্মীর বেড়াতে যাচ্ছেন? খুঁটিনাটি এই তথ্যগুলি জেনে নিন appeared first on Bhramon Online.
]]>The post চলুন সড়কপথে: মুম্বই থেকে গোয়া appeared first on Bhramon Online.
]]>পশ্চিম ভারতের মুম্বই থেকে গোয়া সড়কভ্রমণের আদর্শ পথ। মুম্বই থেকে গোয়া যাওয়ার দুটি পরিচিত পথ রয়েছে –
(১) জাতীয় সড়ক ৬৬ ধরে। এই পথ গিয়েছে মাহাড়-খেড়-চিপলুন-সাওয়ন্তবাড়ি হয়ে। আপনি যদি পানাজিতে আপনার যাত্রা শেষ করেন তা হলে দূরত্ব পড়বে ৫৪২ কিমি।
(২) পুনে-সাতারা-কোলাপুর-আম্বোলি হয়ে। আপনি যদি পানাজিতে আপনার যাত্রা শেষ করেন তা হলে দূরত্ব পড়বে ৫৭০ কিমি।
আমরা এই দুটো পথের কোনোটাই ধরব না। আমরা যাব আরব সাগরের গা ঘেঁষে, একেবারে উপকূল এলাকা দিয়ে। অসংখ্য সৈকত দেখব, এদের মধ্যে কিছু বিখ্যাত, বেশির ভাগই নাম-না-জানা। পাহাড়ি পথ ধরে এগিয়ে যাব, বেশ কিছু নামী-অনামা মন্দির দর্শন হবে। সমুদ্রতীরবর্তী গ্রাম দেখব, আর মাঝেমাঝেই ফেরি পেরোব। এই সড়কভ্রমণে যে অভিজ্ঞতা লাভ করব, তা সারা জীবনের সঞ্চয় হয়ে থাকবে।

হরিহরেশ্বর মন্দির।
সুতরাং মুম্বই থেকে গোয়া যাওয়ার আমাদের সড়কপথ –
মুম্বই-আলিবাগ-রেবডান্ডা-কোরলাই-কাশিদ-মুরুদ-আগরদন্ডা-হরিহরেশ্বর-বাগমন্ডলা-হরনাই-দাভোল-গুহাগর-জয়গড়-গণপতিপুলে-রত্নগিরি-পাওয়াস-দেবগড়-কুঙ্কেশ্বর-মালভান-তারকারলি-বেনগুরলা-গোয়া।
প্রথম দিন – আজ চলুন মুরুদ পর্যন্ত। মুম্বই থেকে রওনা হয়ে যান সকাল সকাল। পথ কারনালা-বদখল-আলিবাগ-কাশিদ হয়ে। নবি মুম্বই ছাড়িয়ে কিছুটা আসার পর জাতীয় সড়ক ৬৬ ধরে এগোন। বদখল মোড়ে এসে জাতীয় সড়ক ছেড়ে উপকূলের পথ ধরুন। পৌঁছে যান আলিবাগ। এখানে প্রাতরাশ সারতে পারেন। অথবা আসার পথে সুবিধামতো জায়গায় প্রাতরাশ সেরে নিতে পারেন।
আলিবাগ সৈকতে কিছুক্ষণ বিচরণ করুন। যদি ভাটা থাকে তা হলে ঘোড়ার গাড়িতে চেপে সমুদ্রের উপর দিয়ে চলে যান কোলাবা ফোর্ট। যাতায়াতে ৩ কিমি মতো পথ। ঘুরে দেখে আসতে ঘণ্টাখানেক লাগবে। শিবাজির গড়া এই দুর্গের বয়স প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর।

কোরলাই ফোর্ট থেকে।
আলিবাগ থেকে যাত্রা শুরু করে চলুন মুরুদের পথে। রেবডান্ডা হয়ে কোরলাই আসুন। মূল সড়ক ছেড়ে ২ কিমি সমুদ্রের ধার বরাবর এগিয়ে গেলে পেয়ে যাবেন কোরলাই ফোর্ট।এই দুর্গের বয়স ৫০০ বছর। আহমদনগর সুলতানের অনুমতি নিয়ে পর্তুগিজরা এই দুর্গ বানিয়েছিল ১৫২১ সালে। পর্তুগিজ স্থাপত্যের নমুনা এই দুর্গ। রয়েছে লাইটহাউসও।
কোরলাই ফোর্ট ও লাইটহাউস দেখে কাশিদ সৈকত ও নন্দগাঁও সৈকতে খানিকক্ষণ কাটিয়ে পৌঁছে যান মুরুদ। মুম্বই থেকে দূরত্ব ১৪৭ কিমি। আজ মুরুদে রাত্রিবাস।
দুপুরের আহার সেরে চলুন জঞ্জিরা ফোর্ট। মুরুদের রাজাপুরী ফেরি পয়েন্ট থেকে নৌকায় যেতে হয় এই দুর্গে। ভারতের পশ্চিম উপকূলে যতগুলি দুর্গ আছে, তার মধ্যে সব চেয়ে আকর্ষণীয় এই দুর্গ। জঞ্জিরা দ্বীপের পাটিল এবং কোলিদের প্রধান রাজা রাম রাও পাটিল জলদস্যুদের হাত থেকে কোলিদের রক্ষা করার জন্য ১৫ শতকে এই দুর্গ নির্মাণ করেন। তার পর এই দুর্গ সিদ্দিদের হাতে যায়। মুঘলদের সঙ্গে জোট বেঁধে সিদ্দিরা এই দুর্গ দখল থেকে দূরে রাখতে পেরেছে পর্তুগিজদের, ব্রিটিশদের এবং মরাঠাদের। দেখার মতো এই দুর্গের স্থাপত্য। ৪০ ফুট উঁচু দেওয়ালে ঘেরা। দুর্গ থেকে যুদ্ধ চালানোর জন্য রয়েছে ২৬টি টাওয়ার। একটা সময়ে শ’ ছয়েক কামান ছিল এই দুর্গে। এখনও তার কিছু অবশিষ্ট আছে।

জঞ্জিরা ফোর্ট।
মুরুদে আরও দুটি দ্রষ্টব্য আছে – জঞ্জিরার সিদি নবাবদের আহমদগঞ্জ প্রাসাদ এবং রাজাপুরী ফেরি যাওয়ার পথে এএসআই-এর সংরক্ষিত সিদি নবাবদের সমাধিস্থল।
দ্বিতীয় দিন – আজ চলুন মুরুদ থেকে হরিহরেশ্বর। প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন। আজ এই পথে পেরোতে হবে ফেরি। ১০ কিমি দূরে আগরদন্ডা জেটি। এখানে ভেসেলে নদী পেরিয়ে পৌঁছে যান ও-পারে, দিঘিতে। এখান থেকে ১৫ কিমি দূরে চলে আসুন দিবেয়াগর সৈকতে। চার কিমি দীর্ঘ এই সৈকত জুড়ে ক্যাসুরিনা গাছ। পর্যটকদের পা খুব একটা পড়ে না। সৈকতে খানিকক্ষণ কাটিয়ে পৌঁছে যান ৩ কিমি দূরে সুবর্ণ গণেশ মন্দিরে। গণেশ দর্শন করে ভরদখোল, শ্রীবর্ধন হয়ে পৌঁছে যান হরিহরেশ্বর। এই পথে মুরুদ থেকে হরিহরেশ্বর ৬৩ কিমি। পথে শ্রীবর্ধনে দেখে নিতে পারেন দাক্ষিণাত্যের হোয়সলা স্থাপত্যকীর্তির শ্রীলক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, শ্রীবর্ধন সৈকত। রাত্রিবাস হরিহরেশ্বর।
আগরদন্ডায় ফেরি পারাপার যদি বন্ধ থাকে তা হলে মনদাদ-মহসলা হয়ে ঘুরে আসতে হবে। সে ক্ষেত্রে আরও ১৪-১৫ কিমি বেশি দূরত্ব পাড়ি দিতে হবে। আর দিবেয়াগর ঘুরে আসতে চাইলে মহসলা থেকে আরও ১৯ কিমি পথ পাড়ি দিতে হবে। দিবেয়াগর দেখে আগের পথে চলে আসুন হরিহরেশ্বর।

হরিহরেশ্বর সৈকত।
মধ্যাহ্নভোজ সেরে উপভোগ করুন আরব সাগরের তীরে হরিহরেশ্বর। হরিহরেশ্বর সৈকতটি অনন্য। তিন পাহাড়ে ঘেরা এই সৈকত – হরিহরেশ্বর, হরসিনহাচল ও পুষ্পদ্রি। এখানেই সাবিত্রী নদী আরব সাগরে পড়েছে। আর রয়েছে হরিহরেশ্বর মন্দির। মন্দিরচত্বরে দুটি মন্দির – প্রথমে কালভৈরব দর্শন করে হরিহরেশ্বর মন্দিরে প্রবেশ করুন। হরিহরেশ্বরকে বলা হয় দক্ষিণ কাশী। সূর্যাস্ত উপভোগ করুন।
তৃতীয় দিন – আজকের যাত্রা গণপতিপুলে পর্যন্ত। এই পথে তিন বার ফেরি পেরোতে হবে। সক্কাল সক্কাল হরিহরেশ্বর থেকে বেরিয়ে পড়ুন। সাড়ে তিন কিমি দূরে বাগমন্ডলা জেটি। এখানে ভেসেলে সাবিত্রী নদী পেরিয়ে পৌঁছে যান বেসবিতে। মিনিট দশেক লাগবে নদী পেরোতে। এখান থেকে চলুন কেলশি, মুরডি হয়ে হরনাই। মুরডি থেকে দু’ পথে হরনাই যাওয়া যায়। একটা পথ পাহাড়ের উপর দিয়ে, আর-একটা পথ সৈকত ধরে। দুটি পথের সৌন্দর্য দু’ রকম। পছন্দমতো পথ বেছে নিয়ে পৌঁছে যান হরনাই। হরিহরেশ্বর থেকে ৪৯ কিমি পথ আসা হল। এখানে প্রাতরাশ সেরে আবার পথে।

বাগমন্ডলায় সাবিত্রী নদীতে ফেরি পারাপার।
হরনাই থেকে দাপোলি হয়ে পৌঁছে যান দাভোল জেটিতে। আসা হল ৯০ কিমি পথ। পথের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই। মাঝেমাঝেই দাঁড়িয়ে পড়ে ক্যামেরাবন্দি করবেন সেই সৌন্দর্য। দাভোলে ফেরিতে বশিষ্ঠি নদী পেরিয়ে পৌঁছে যান ধোপাবেতে। ধোপাবে থেকে গুহাগর হয়ে তওসল জেটি যাওয়ার পথে একটু বেপথু হোন। চলুন অঞ্জানবেল লাইটহাউস। টিলার মাথায় এই লাইটহাউস। লাইটহাউসের শীর্ষ থেকে চার দিক দেখুন, মন ভরে যাবে।
অঞ্জানবেল থেকে এগিয়ে চলুন। পথে পড়বে গুহাগর। নারকেল গাছ, আম গাছ আর সুপুরি গাছে ছাওয়া সুদীর্ঘ নিরিবিলি গুহাগর সৈকত। মন ভরে এই সৈকত উপভোগ করে পৌঁছে যান তওসল জেটিতে। ধোপাবে থেকে ৬০ কিমি পথ আসা হল। পথেই সেরে নিন দুপুরের আহার। কিংবা তওসলেও এই কাজ সারতে পারেন। এখান থেকে জয়গড়ের ফেরি ধরুন। ২০ মিনিটের জলযাত্রা আপনাকে পৌঁছে দেবে জয়গড় জেটিতে। কাছেই ১৭ শতকের জয়গড় দুর্গের ভগ্নাবশেষ। দুর্গের র্যামপার্ট থেকে চার দিকটা দেখে নিন।
জয়গড় দেখে চলুন গণপতিপুলে। দূরত্ব ২৪ কিমি। বিকেল বিকেল পৌঁছে যান। রাত্রিবাস গণপতিপুলে।

জয়গড় ফোর্টের ধ্বংসাবশেষ।
নীল সমুদ্রের হাতছানি। সৈকত বরাবর টিলা। পরিচ্ছন্ন সৈকত। বিকেলটা কাটান সৈকতে ঘোরাঘুরি করে। সময় থাকলে দেখে নিন ৪০০ বছরের পুরোনো কোঙ্কনি স্থাপত্যের বিখ্যাত গণপতিপুলে মন্দির। পারলে পাহাড়ি পথে মন্দির পরিক্রমা করুন। মন্দির থেকে ১ কিমি দূরে প্রাচীন কোঙ্কন মিউজিয়াম। সময় না থাকলে পরদিন সকালে গণেশ মন্দির দেখে নিতে পারেন।
চতুর্থ দিন – আগের দিন মন্দির দর্শন না হলে সকালে দর্শন করে নিন। প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন তারকারলির পথে ৪ নম্বর রাজ্য সড়ক ধরে। এ পথের সৌন্দর্য ভোলার নয়। এই উপকূল-পথ এখনও কার্যত কুমারী। অতি উৎসাহী পর্যটক ছাড়া এ পথ কেউ মাড়ায় না।
গণপতিপুলে থেকে রত্নগিরি হয়ে তারকারলি সৈকত, পুরো পথটাই সমুদ্রের ধার বরাবর। ১১ কিমি পথ পাড়ি দিলেই পৌঁছে যাবেন যমজ সৈকত ‘আরে ওয়ারে বিচ’-এ। অপূর্ব সুন্দর এই সৈকত। এখানে আপনাকে কিছুক্ষণ সময় দিতেই হবে।

গণপতিপুলে থেকে রত্নগিরির পথে।
এগিয়ে চলুন। ডান দিকে সমুদ্রের নানা ছবি, নানা দৃশ্য, বেলাভূমিকে বেষ্টন করে সমুদ্রের নানা খেলা। আর বাঁ দিকে কখনও পাহাড়ের দেওয়াল, কখনও পাহাড়ের মাথা দিয়েই পথ – তখন ডান দিকে সমুদ্র অনেক নীচে। রাস্তা একবার উঠেছে, একবার নেমেছে। ডাইনে বাঁয়ে বাঁক নিয়ে নিয়ে এগিয়ে গেছে পথ।
পৌঁছে যান রত্নগিরি। গণপতিপুলে থেকে দূরত্ব ২৫ কিমি। রত্নগিরিতে দেখে নিন রত্নগিরি দুর্গ, ভগবতী মন্দির, বালগঙ্গাধর তিলকের জন্মস্থান, থিবো প্রাসাদ। বর্মার অধুনা মায়ানমারের শেষ সম্রাট থিবোকে এই প্রাসাদেই অন্তরিন করে রেখেছিল ব্রিটিশ। রত্নগিরি দেখে আবার রওনা।
কখনও কোঙ্কনি গ্রামের ছায়া সুনিবিড় সবুজ উপস্থিতি, কখনও কাজুর বাগান, কখনও নারকেল বল, কখনও বা হাপুসের (অ্যালফানসো আম) হাতছানি আবার কখনও বা ক্যাজুরিনার ঘন জঙ্গল।

বালগঙ্গাধর তিলকের জন্মস্থান। রত্নগিরি।
পাওয়াস-পূর্ণগড় হয়ে এগিয়ে চলুন। চলে আসুন আদিবারে। দূরত্ব ৪৯ কিমি। এখান থেকে রাজ্য সড়ক ছেড়ে একটু বেপথু হোন। চলুন বেটিয়ে সৈকত, ৫ কিমি। পশ্চিম উপকূলের আর-একটি কুমারী সৈকতকে চিনুন।
বেটিয়ে সৈকত থেকে আরও ৬২ কিমি পথ এগিয়ে গেলে পৌঁছে যাবেন অ্যালফানসো আমের জন্য বিখ্যাত দেবগড়ে। ৬ কিমি দূরেই কুঙ্কেশ্বর। সৈকতে কিছুক্ষণ বিচরণ করে অবশ্যই দেখে নিন কোঙ্কনি স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন শিবমন্দিরটি।
আরও ৫০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছে যান তারকারলি। পৌঁছোতে পৌঁছোতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। রাত্রিবাস তারকারলি।
পঞ্চম দিন – আজকের দিনটাও তারকারলিতে কাটান। আবিষ্কার করুন কোঙ্কন উপকূলের মালবন অঞ্চল। সুরু গাছে ছাওয়া তারকারলি সৈকত বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৈকত। নীল সমুদ্র আর সোনালি বেলাভূমির নয়নমনোহর মিতালি ঘটেছে এই তারকারলিতে। তারকারলি সৈকতের ১৯ কিমি উত্তরে চিওলা সৈকত এবং ৬ কিমি দক্ষিণে দেওবাগ সৈকত। আর অবশ্যই দেখে আসুন সিন্ধুদুর্গ ফোর্ট।

সিন্ধুদুর্গ ফোর্ট।
মালবন সৈকত থেকে কিছু দূরে আরব সাগরের মাঝে এক দ্বীপে শিবাজির গড়া ১৭ শতকের দুর্গ সিন্ধুদুর্গ। ৪৮ একর জায়গা জুড়ে তৈরি এই দুর্গের র্যামপার্টটি ৩ কিমি দীর্ঘ। দেওয়ালের উচ্চতা ৩০ ফুট। মালবন থেকে ফেরিতে এই দুর্গে যেতে সময় লাগে মিনিট পনেরো। তবে বর্ষাকালে অনেক সময় এই ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। বেশ কয়েক ঘণ্টা কাটানো যায় এই সিন্ধুদুর্গে।
ষষ্ঠ দিন – সকালে প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়ুন গোয়ার পথে। ৫৪ কিমি দূরে বেনগুরলা সৈকত। পাশেই ক্যাসুরিনা গাছে ঢাকা সাগরেশ্বর সৈকত। এখানে রয়েছে সাগরেশ্বরের ছোটো মন্দির। এখানে কিছুক্ষণ কাটিয়ে এগিয়ে চলুন। আরও ১৭-১৮ কিমি গেলে শিরোদা সৈকত। কাছেই রেদি সৈকত। এখানে রয়েছে গণপতি মন্দির। এর পর তিরাকোল ব্রিজ পেরিয়ে ঢুকে পড়ুন গোয়ায়। পৌঁছে যান আপনার গন্তব্যে। আপনার গন্তব্য যদি হয় পানাজি তা হলে রেদি সৈকত থেকে আরামবোল-মাপুসা হয়ে পৌঁছে যান সেখানে। দূরত্ব ৪০ কিমি।

এমটিডিসি রিসর্ট, গণপতিপুলে।
(১) হরিহরেশ্বর, গণপতিপুলে ও তারকারলিতে রয়েছে মহারাষ্ট্র পর্যটনের (এমটিডিসি) রিসর্ট। অনলাইন বুকিং: https://www.mtdc.co/en/। এ ছাড়াও সব জায়গাতেই বেসরকারি হোটেল, রিসর্ট, হোমস্টে রয়েছে। নেট সার্চ করলে এর সন্ধান পেয়ে যাবেন।
(২) গাড়ি ভাড়া করতে হলে মুম্বই শহরে প্রচুর কার রেন্টাল সার্ভিস রয়েছে। নেট সার্চ করলে এর সন্ধান পেয়ে যাবেন।
(৩) ফেরির সময় জেনে রাখা ভালো – (ক) আগরদন্ডায় সকাল ৮টা থেকে রাত্রি সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর ফেরি পারাপার করে। (খ) বাগমন্ডলা থেকে বেসবি ফেরি চলে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এক ঘণ্টা অন্তর। (গ) দাভোল-ধোপাবে ফেরি চলাচল শুরু হয় সকাল পৌনে ৭টায়। চলে ৪৫ মিনিট অন্তর। (ঘ) তওসল-জয়গড় ফেরি চলাচল শুরু হয় সকাল ৬.৪০ মিনিটে। চলে এক ঘণ্টা অন্তর।
তবে ফেরির সময় পালটাতে পারে। কোনো কারণে ফেরি বন্ধ থাকলে ফেরি এড়িয়ে বিকল্প পথে যেতে হতে পারে। তাতে সময় একটু বেশি লাগবে।
(৪) প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ওষুধপত্র সঙ্গে রেখে দেবেন। পথেই পানীয় জল, খাবারদাবার মিলবে। জলে ভিজলে অসুবিধা হবে না এমন চটি-জুতো সঙ্গে রাখুন।
(৫) বর্ষায় এই সড়কযাত্রা করলে সঙ্গে অবশ্যই রেনকোট রাখবেন। রাস্তার অবস্থা আগাম জেনে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। কোঙ্কন উপকূলে বর্ষাকালে বেশ ভালো বৃষ্টি হয়।
The post চলুন সড়কপথে: মুম্বই থেকে গোয়া appeared first on Bhramon Online.
]]>The post <strong>চলুন ঘুরে আসি গুজরাত ৩: উপকূল গুজরাত</strong> appeared first on Bhramon Online.
]]>এই ভ্রমণটি রাজকোট থেকে শুরু করুন। কলকাতা থেকে রাজকোটের জন্য রয়েছে সাঁতরাগাছি-পোরবন্দর সাপ্তাহিক কবিগুরু এক্সপ্রেস, প্রতি রবিবার রাত ৮:১০-এ ছেড়ে রাজকোট পৌঁছোয় মঙ্গলবার দুপুর ১টায়। রয়েছে শালিমার-পোরবন্দর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। প্রতি শুক্র ও শনিবার শালিমার থেকে রাত ৯টায় ছেড়ে রাজকোট পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ১০.৩১ মিনিটে। শালিমার-ওখা সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস প্রতি মঙ্গলবার রাত রাত ৯টায় ছেড়ে রাজকোট পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ১০.৩১ মিনিটে।
দিল্লি থেকেও দৈনিক ট্রেন নেই। সাপ্তাহিক, দ্বি-সাপ্তাহিক ট্রেন, ২৪ ঘণ্টা মতো সময় লাগে। দুপুরের মধ্যে রাজকোটে পৌঁছোনো যায়, এমন ট্রেন বেছে নিন।
মুম্বই থেকে আসার দু’টি ভালো ট্রেন। হাপা দুরন্ত এক্সপ্রেস মুম্বই সেন্ট্রাল থেকে রোজ রাত্রি ১১.১০-এ ছেড়ে পরের দিন সকাল ১০.০৬-এ রাজকোটে পৌঁছোয়। সৌরাষ্ট্র মেল ছাড়ে মুম্বই সেন্ট্রাল থেকে রোজ রাত ৯.০৫-এ, রাজকোটে পৌঁছোয় সকাল ০৯.৩৫-এ।

প্রথম দিন – রাত্রিবাস রাজকোট।
জাদেজা রাজপুতদের গড়া রাজকোটে দেখে নিন জুবিলি গার্ডেন, ওয়াটসন মিউজিয়াম, কাবা গান্ধী নো দেলো (গান্ধীজির বাবার বাড়ি যেখানে গান্ধীজির ছেলেবেলা কেটেছিল), রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম (বেলুড় মঠের রেপ্লিকা), স্বামীনারায়ণ মন্দির, লালপরী লেক, আজি বাঁধ (ভাবনগরের পথে ৮ কিমি) ইত্যাদি।
দ্বিতীয় দিন – সকালের দিকটা রাজকোটে কাটিয়ে দুপুর ২.৪৮-এর অমদাবাদ-সোমনাথ ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস ধরে ৫.০৮ মিনিটে পৌঁছে যান জুনাগড়। রাজকোট থেকে বাস আধ ঘণ্টা অন্তর, ১০২ কিমি রাস্তা, ঘণ্টা তিনেক লাগে। গাড়ি ভাড়া করেও আসতে পারেন। রাত্রিবাস জুনাগড়।
তৃতীয় দিন – পুরোটা দিন জুনাগড়ে, রাত্রিবাস।

রোপওয়েতে চড়ে পৌঁছে যান ৩৩৬৭ ফুট উঁচু গিরনার পাহাড়ে। পাহাড়ের মাথায় রয়েছে ১২ শতকে তৈরি ৫টি জৈন মন্দির। এর মধ্যে সব চেয়ে পুরোনো হল নেমিনাথের মন্দির। ১১২৮ খ্রিস্টাব্দে তৈরি। জৈন মন্দির ছাড়াও রয়েছে অম্বাজি মন্দির, গুরু দত্তাত্রেয় পাদুকা মন্দির ইত্যাদি। গিরনার পাহাড়ের পথে দেখুন অশোকের শিলালিপি।
উপারকোট পাহাড়ে জুনাগড় ফোর্ট। দুর্গে দেখুন বেশ কিছু বৌদ্ধ গুম্ফা, নওগড় ভাভ ও আধি চাধি ভাভ (স্টেপ ওয়েল), বিশাল কামান নিলাম তোপ, জামি মসজিদ, অশোকের সময়ের গুহা।
তা ছাড়া দেখে নিন বাজেশ্বরী মন্দির, দামোদর কুণ্ড, উনিশ শতকের নবাবি প্রাসাদ রংমহল, জুনাগড় নবাবদের রাজপ্রাসাদ মহাবত মকবরা, নবাবদের গড়া মনোরম উদ্যান শখের বাগ ও চিড়িয়াখানা (রাজকোট রোডে সাড়ে তিন কিমি দূরে) ইত্যাদি।

চতুর্থ দিন – সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন সাসন গির, রাত্রিবাস।
জুনাগড় থেকে প্রায় ৬০ কিমি দূরের গির আসার জন্য বাস রয়েছে। গাড়ি ভাড়া করে আসতে পারেন। শেয়ার ট্যাক্সিও মেলে।
গিরে বন দফতরের ব্যবস্থাপনায় সাফারি করুন। ঘুরে আসুন ১৩ কিমি দূরের দেবালিয়া সাফারি পার্কও।
পঞ্চম দিন – সকালে আর একটা সাফারি করে চলুন দিউ, রাত্রিবাস।
বাস বা গাড়ি ভাড়া করে দিউ চলে আসুন, দূরত্ব ৯০ কিমির মতো।

ষষ্ঠ দিন – পুরোটা দিন দিউয়ে, রাত্রিবাস।
তিন দিকে আরব সাগর আর উত্তর দিকে ব্যাকওয়াটারে ঘেরা দ্বীপভূমি দিউ। দিউয়ের মূল আকর্ষণ এর প্রকৃতি। দেখে নিন পরিখা ঘেরা দুর্গ ও তার ভিতরের কারাগার ও মিউজিয়াম। দুর্গের উপর থেকে সাগর ও দিউ শহরকে দেখুন। মোটরবোটে চলুন পানিকোটা সমুদ্রদুর্গ। ঘুরে আসুন নাগোয়া বিচ, জলন্ধর বিচ (লাগোয়া পাহাড় চুড়োয় মন্দির), চক্রতীর্থ বিচ, আমেদপুর মান্ডভি বিচ। দেখে নিন শহিদস্মারক মারওয়ার, সেন্ট টমাস, সেন্ট পলস এবং সেন্ট ফ্রান্সিস চার্চ। শহর থেকে ৪ কিমি দূরে গঙ্গেশ্বর শিব। জোয়ারের জল পা ধুয়ে দিয়ে যায় শিবের।
সপ্তম দিন – সক্কালেই বেরিয়ে পড়ুন, চলুন সোমনাথ, রাত্রিবাস।
দিউ থেকে সোমনাথ বাস চলে, তবে বেশ ভিড় হয়। গাড়ি ভাড়া করে সোমনাথ পৌঁছে যান প্রাতরাশের আগে। দূরত্ব ৮৫ কিমি।

সোমেশ্বর মহাদেব মন্দির, জ্যোতির্লিঙ্গ। রাত ৮টায় মন্দিরপ্রাঙ্গণে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো। বল্লভঘাট থেকে সূর্যাস্ত। অহল্যাবাঈয়ের গড়া পুরোনো সোমনাথ মন্দির। প্রভাস পাটন মিউজিয়াম (বুধ ও ছুটির দিন বন্ধ)। পরশুরামের তপোভূমি। সরস্বতী, কপিলা ও হিরণ্য নদীর ত্রিবেণী সঙ্গম বা প্রভাস তীর্থ। ভালুকা তীর্থ, কথিত যেখানে ব্যাধের তীরে বিদ্ধ হয়েছিলেন কৃষ্ণ।
অষ্টম দিন – গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে সোমনাথ থেকে পোরবন্দর হয়ে চলুন দ্বারকা। দূরত্ব ২৩০ কিমি। রাত্রিবাস দ্বারকা।
পথে দেখে নিন পোরবন্দরে গান্ধীজির জন্মভিটে ‘কীর্তি মন্দির’, সুদামা প্রাসাদ, চোরবাদ সাগরবেলা।
নবম দিন – পুরোটা দিন দ্বারকায়, রাত্রিবাস।

দ্বারকার মূল আকর্ষণ গোমতী তটে দ্বারকাধীশ রণছোড়জির মন্দির, গোমতী নদীতে ঘেরা দ্বীপে কৃষ্ণমন্দির, রণছোড়জির মন্দিরের দক্ষিণ দ্বার দিয়ে বেরিয়ে ৫৬ ধাপ নেমে গোমতী দেবীর মন্দির, গোমতী-নারায়ণ সঙ্গমে সঙ্গমনারায়ণ মন্দির, লাইট হাউস, পঞ্চপাণ্ডবের নামে মিষ্টি জলের পাঁচটি কুয়া তথা পঞ্চনদ তীর্থ, সামান্য দক্ষিণে লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, ভদ্রকালী মন্দির, মীরাবাঈ মন্দির, তারকেশ্বর সাগরবেলা ও শংকরাচার্যের সারদা মঠ।
দশম দিন – সক্কালেই চলুন বেট দ্বারকা। গাড়ি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়ুন। পথে দেখে নিন দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম নাগেশ্বর, গোপী তালাও, রুক্মিণীদেবীর মন্দির। দেখে পৌঁছে যান ৩২ কিমি দূরে ওখা, সেখান থেকে নৌযাত্রায় বেট দ্বারকা। ওখা শহরে ঢোকার মুখে বেট দ্বারকার ফেরিঘাট।
বেট দ্বারকা ঘুরে এসে ওখা থেকে চলুন জামনগর। সড়কপথে দূরত্ব ১৫০ কিমি। বাস বা গাড়ি ভাড়া করে চলে আসতে পারেন। অথবা রাত্রি ৮.২৫-এর ওখা-সোমনাথ এক্সপ্রেস ধরে রাত্রি ১০.৪৮-এ পৌঁছে যান জামনগর। রাত্রিবাস জামনগর।

একাদশ দিন ও দ্বাদশ দিন – রাত্রিবাস জামনগর।
শীতকালে জামনগরের প্রশস্তি তার পরিযায়ী পাখির জন্য। তাই দু’টো পুরো দিন রাখা হয়েছে জামনগরের জন্য।
প্রথম দিন
লাখোটা লেকের মাঝে লাখোটা প্রাসাদ ও মিউজিয়াম। পাথরের সেতুতে পারাপার। লেকের এক পাশে মাছভবন প্রাসাদ, লেক লাগোয়া ড. অম্বেডকর উদ্যান। চণ্ডীবাজারে আদিনাথ ও শান্তিনাথের মন্দির। স্বামীনারায়ণ মন্দির।
১৫ কিমি দূরে খিজারিয়া বার্ড স্যাংচুয়ারি ও ২৮ কিমি দূরের বালাছড়ি সমুদ্র সৈকত।
দ্বিতীয় দিন
এ দিন চলুন ৫৫ কিমি দূরে দ্বারকার পথে নারারা মেরিন ন্যাশনাল পার্ক।

ত্রয়োদশ দিন – ঘরে ফেরা।
জামনগর থেকে সরাসরি কলকাতা ফেরার ট্রেন ওখা-শালিমার সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। প্রতি রবিবার সকাল ১১.২৩ মিনিটে। জামনগর থেকে ফেরার একটিমাত্র সাপ্তাহিক ট্রেন থাকায় গাড়ি ভাড়া করে চলে আসতে পারেন রাজকোটে। দূরত্ব ৯১ কিমি। এখান থেকে প্রতি বুধ, বৃহস্পতিবার পাবেন পোরবন্দর-শালিমার সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস আর প্রতি শুক্রবার পোরবন্দর-সাঁতরাগাছি কবিগুরু এক্সপ্রেস। তিন দিনই রাজকোট থেকে ট্রেন ছাড়ে দুপুর ১.০৫ মিনিটে। রবিবার ও সোমবার ছাড়া জামনগর থেকে দিল্লি আসার ট্রেন রোজ আছে। মুম্বই আসার গোটা তিনেক দৈনিক ট্রেন আছে জামনগর থেকে।
(১) হাওড়া বা দিল্লি থেকে রাজকোট বা রাজকোট থেকে হাওড়া/দিল্লি রোজ ট্রেন নেই। সুতরাং ট্রেনের দিন অনুযায়ী যাওয়া-আসার দিন ঠিক করে নিলে ভ্রমণের মেয়াদ কমতে-বাড়তে পারে। সেই ভাবে বিভিন্ন জায়গায় থাকার মেয়াদ একটু এ-দিক ও-দিক করে নিতে হতে পারে। ট্রেনের সময় জানার জন্য দেখে নিন erail.in।
(২) গিরে পৌঁছে যদি সে দিন বিকেলেই সাফারি করেন, তা হলে পরের দিন সকালে চলুন দেবালিয়া সাফারি পার্ক। সুনিশ্চিত ভাবে সিংহ দেখানোর ব্যবস্থা। গির অরণ্যে সাফারির সময় সকাল পৌনে ৭টা থেকে পৌনে ১০টা, সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা এবং বিকেল ৩টে থেকে সন্ধে ৬টা। দেবালিয়ায় সাফারি হয় সকাল ৭টা থেকে ৭.৫৫, ৮টা থেকে ৮.৫৫, ৯টা থেকে ৯.৫৫, ১০টা থেকে ১০.৫৫, বিকেল ৩টে থেকে ৩.৫৫, ৪টে থেকে ৪.৫৫ এবং ৫টা থেকে ৫.৫৫ পর্যন্ত। অনলাইনে সাফারি বুক করুন www,girlion.in। সাফারি শুরু হওয়ার আধ ঘণ্টা আগে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে যেতে হয়। জুনের মাঝামাঝি থেকে ১৫ অক্টোবর গির ন্যাশনাল পার্ক বন্ধ থাকে।
(৩) গিরনার পাহাড়ে চড়ার জন্য অতি সম্প্রতি রোপওয়ে তৈরি হয়েছে। রোপওয়ে চলে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভাড়া এক পিঠে ৪০০ টাকা, আসাযাওয়া ৭০০ টাকা। ৫ থেকে ১০ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য ৩৫০টাকা। টিকিট অনলাইনে কাটা যায় — www.Udankhatola.com।

(৪) বিভিন্ন জায়গায় মন্দির, মিউজিয়াম, প্রাসাদ ইত্যাদি খোলার সময় আগাম জেনে নিন। তবে সোমনাথে মন্দির সকাল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত খোলা।
(৫) সোমনাথে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো অবশ্যই দেখবেন।
(৬) দ্বারকায় রণছোড়জির মন্দির খোলা সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা। মাঝে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বন্ধ।
(৭) নারারা মেরিন ন্যাশনাল পার্ক দেখার জন্য অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে Conservator of Forest, Marine National Park, Ganjiwada Nagar, Nagnath Gate, Van Shankul, Jamnagar থেকে। যোগাযোগ ০২৮৮-২৬৭৯৩৫৫/২৬৭৯৩৫৭। পার্কের গেটেই পার্ক অনুমোদিত গাইড পাওয়া যায়। অবশ্যই সঙ্গে নেবেন। যে হোটেলে থাকবেন সেখানে জেনে নেবেন ভাটা কখন শুরু হবে। ভাটা শুরু হওয়ার দু’ থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই পার্কে পৌঁছোনো চাই।

(১) এই সূচি যে হেতু রাজকোটে শুরু হয়ে জামনগর বা রাজকোটে শেষ, তাই রাজকোট থেকে একটা গাড়ি ভাড়া করে পুরো ট্যুরটা করে দিতে পারেন। তবে পয়েন্ট টু পয়েন্ট গাড়িও করতে পারেন। গুজরাতে বাস পরিষেবা ভালো। বাসে বা পয়েন্ট টু পয়েন্ট গাড়িতে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গেলে স্থানীয় দ্রষ্টব্য স্থানীয় যান ভাড়া করে দেখে নিন।
(২) গিরে সকালে সাফারি করলে সাসন গির স্টেশন থেকে সকালের ট্রেন ধরা মুশকিল। সে ক্ষেত্রে বাস বা গাড়ি ভাড়া করে আসুন দিউ।

(১) গুজরাতের অধিকাংশ জায়গাতেই রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগমের হোটেল নেই। এই ভ্রমণসূচিতে শুধুমাত্র দ্বারকাতেই রয়েছে গুজরাত পর্যটন উন্নয়ন নিগমের তোরান হোটেল। অনলাইনে বুক করার জন্য লগইন করুন www.gujarattourism.com। তবে বাকি সব শহরেই বেসরকারি হোটেল এবং বিচ রিসর্ট আছে। হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে এই সব হোটেলের সন্ধান পেয়ে যাবেন।
(২) গিরে যদি সরকারি ব্যবস্থাপনায় সিংহসদন ফরেস্ট লজে থাকতে চান তা হলে যোগাযোগ — Deputy Conservator of Forest, Wild Life Section, Sasangir, Dist – Junagadh 362135. ph 02877-285541/285540 । গিরে অনেক বেসরকারি হোটেলও আছে।
(৩) দিউয়ের হোটেল ও তার বুকিং সম্পর্কে বিশদে জানার জন্য দেখুন www.diutourism.com ।
(৪) সোমনাথে শ্রী সোমনাথ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় লীলাবতী অতিথি ভবন, মাহেশ্বরী অতিথি ভবন, সাগর দর্শন গেস্ট হাউস এবং তন্না অতিথিগ্রুহতে থাকার সুবন্দোবস্ত আছে। অনলাইন বুকিং www.somnath.org ।
আরও পড়ুন
চলুন ঘুরে আসি গুজরাত ১: বডোদরা-মধেরা-পাটন-অমদাবাদ
চলুন ঘুরে আসি গুজরাত ২: অমদাবাদ হয়ে কচ্ছভূমি
The post <strong>চলুন ঘুরে আসি গুজরাত ৩: উপকূল গুজরাত</strong> appeared first on Bhramon Online.
]]>The post চলুন ঘুরে আসি গুজরাত ২: অমদাবাদ হয়ে কচ্ছভূমি appeared first on Bhramon Online.
]]>প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন – রাত্রিবাস অমদাবাদ।
ভ্রমণ শুরু করুন অমদাবাদ থেকে। হাওড়া-অমদাবাদ সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস প্রতি দিন রাত ১১.৪০-এ হাওড়া ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় তৃতীয় দিন দুপুর ১২.০৫-এ। শালিমার-ওখা সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস প্রতি মঙ্গলবার শালিমার থেকে রাত ৯টায় ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় বৃহস্পতিবার সকাল ৬-১০-এ। শালিমার-ভুজ সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস প্রতি শনিবার রাত ৮.২০-তে ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় সোমবার সকাল ৭.৫৫ মিনিটে। কলকাতা-অমদাবাদ এক্সপ্রেস প্রতি শনিবার দুপুর ১.১০-এ কলকাতা স্টেশন ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় সোমবার সকাল ৭.১৫ মিনিটে। শালিমার-পোরবন্দর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস প্রতি শুক্র ও শনিবার রাত রাত ৯টায় ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় রবিবার ও সোমবার সকাল ৬-১৫-য়। কবিগুরু এক্সপ্রেস প্রতি রবিবার রাত ৮.১০-এ সাঁতরাগাছি ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় মঙ্গলবার সকাল ৮.৪৫-এ। হাওড়া-গান্ধীধাম গর্ভ এক্সপ্রেস প্রতি সোমবার রাত ১১টায় ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় বুধবার সকাল ৯.১৫-য়।

দিল্লি থেকে সব চেয়ে ভালো ট্রেন অমদাবাদ রাজধানী। প্রতি দিন নিউদিল্লি স্টেশন থেকে রাত ৭.৫৫-য় ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৮.৪৫-এ। আশ্রম এক্সপ্রেস প্রতি দিন দিল্লি থেকে বিকেল ৩.২০-তে ছেড়ে অমদাবাদ পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৬.২০-তে। এ ছাড়াও আরও দৈনিক, ত্রিসাপ্তাহিক, সাপ্তাহিক ট্রেন আছে দিল্লি থেকে অমদাবাদ যাওয়ার জন্য।
মুম্বই থেকে ছ’ থেকে ন’ ঘণ্টার মধ্যে অমদাবাদ পৌঁছোনোর জন্য দিনেরাতে অনেক ট্রেন আছে। এমন ট্রেন বাছুন যাতে সকালে অমদাবাদ পৌঁছে যেতে পারেন। তা হলে সেই দিনটা অমদাবাদ ঘোরাঘুরির জন্য রাখতে পারেন। ট্রেনের বিস্তারিত সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in।
ভারতের যে কোনো জায়গা থেকে বিমানে পৌঁছোতে পারেন অমদাবাদ। উড়ানের সময় গুগুল সার্চ করে পেয়ে যাবেন।

সবরমতীর ধারে অমদাবাদ। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তকমা রয়েছে এই শহরের। এখানে দ্রষ্টব্য অনেক। প্রায় তিনটে দিন লেগে যায় অমদাবাদ দেখতে। শুরু করুন রিভার ফ্রন্ট দিয়ে। চলুন লাল দরোজার কাছে সিদি সৈয়দ জালি মসজিদ। এর পর ভদ্রা ফোর্ট ও ভদ্রকালী মন্দির দেখুন। তার পর চলুন সরখেজ রোজায় সুলতান মামুদ বেগারার সমাধি দেখতে। দেখুন রানি সিপ্রির মসজিদ, স্বামীনারায়ণ মন্দির, জামা মসজিদ, তিন দরওয়াজা। দেখুন এক গুচ্ছ মিউজিয়াম — ক্যালিকো মিউজিয়াম অব টেক্সটাইলস, বেচার ইউটেনসিল মিউজিয়াম, কাইট মিউজিয়াম। দেখে নিন সর্দার পটেল মিউজিয়াম। বিনোদনের হরেক ব্যবস্থা সহ কাঁকারিয়া হ্রদ। হ্রদের পাড়ে বাল বাটিকা। দেখে নিন রেলস্টেশনের দক্ষিণে সারঙ্গপুর রোডে শেকিং মিনারেট তথা ঝুলতা মিনার।
দেখুন গান্ধীজির গড়া সবরমতী আশ্রম। এলিস ব্রিজে সবরমতী পেরিয়ে শহর থেকে ৭ কিমি উত্তরে সবরমতীর ধারে আশ্রম। এলিস ব্রিজে সবরমতী পেরোনোর আগে দেখুন ভিক্টোরিয়া গার্ডেন।
রয়েছে আরও দ্রষ্টব্য — শাহ আলমের রৌজা (শহর থেকে ৩ কিমি দক্ষিণ পুবে), রানি রূপমতী মসজিদ (মির্জাপুরে), মসজিদ-ই-নাগিরা (মানেকচকে), দরিয়া খাঁয়ের সমাধি (গুজরাতের সর্বোচ্চ গম্বুজ), আদালজ ভাভ তথা স্টেপওয়েল (১৯ কিমি), অক্ষরধাম মন্দির (২৩ কিমি দূরে গান্ধীনগরে) ইত্যাদি।

অমদাবাদ অবস্থানকালে এক দিন ঘুরে আসুন লোথাল ও নল সরোবর – অমদাবাদ থেকে ৭৫ কিমি, ট্রেনে তিন ঘণ্টার পথ লোথাল। বাসও চলে। তবে সময় বাঁচাতে গাড়ি ভাড়া করে নেওয়াই ভালো। সিন্ধু সভ্যতার সমসাময়িক সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে লোথালে। বলা হয়, হরপ্পা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ৫০০ বছরে পরেও লোথাল সভ্যতা টিকে ছিল। পরবর্তী কালে বন্যায় ধ্বংস হয় এই সভ্যতা। লোথাল দেখে চলুন ৪০ কিমি দূরের নল সরোবর পাখিরালয়। দেশ-বিদেশ থেকে আসা পাখিরা শীতে আস্তানা গাড়ে নল সরোবরের বেট থেকে বেটে। বেট অর্থে দ্বীপ। নল সরোবর দেখে ফিরে আসুন ৬৬ কিমি দূরের অমদাবাদে।
চতুর্থ দিন – রাত্রিবাস ধ্রানগাধরা।
ক্ষুদ্র রনের জন্য বিখ্যাত ধ্রানগাধরা। রাত্রিবাস করুন দেবজিভাই ধামেচার ইকো ক্যাম্পে। দেবজিভাইয়ের উদ্যোগে বিকেলে একটা সাফারি করুন বন্য গাধার অরণ্যে।

অমদাবাদ থেকে ধ্রানগাধরা ১২৪ কিমি, যেতে পারেন ট্রেনে, বাসে বা গাড়িতে। তবে ট্রেনের সময়ের সঙ্গে আপনার সময় মিলতে নাও পারে।
পঞ্চম দিন – সকালেও একটা সাফারি করুন দেবজিভাইয়ের উদ্যোগে। দুপুরে রওনা হন ভাচাউয়ের উদ্দেশে। দূরত্ব ১৩৫ কিমি। রাত্রিবাস ভাচাউ।
ধ্রানগাধরা থেকে ভাচাউ ট্রেনে, বাসে বা গাড়িতে আসতে পারেন। তবে ট্রেনের সময় দেখে নেবেন আপনার ভ্রমণসূচির সঙ্গে খাপ খায় কিনা।
ষষ্ঠ দিন –ঘুরে আসুন হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন ধোলাভিরা। যাতায়াত ৩০০ কিমি। রাত্রিবাস ভাচাউ।

সপ্তম দিন – আজ চলুন মান্ডবী। ভাচাউ থেকে মান্ডবীর দূরত্ব ১৩০ কিমি। কচ্ছ উপসাগরের তটে মাণ্ডবী। সৈকতশহর মান্ডবীতে দেখুন বিজয়বিলাস প্যালেস, নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত। রাত্রিবাস মান্ডবী।
অষ্টম, নবম ও দশম দিন – রাত্রিবাস ভুজ।
অষ্টম দিনে মাণ্ডবী থেকে আসুন ভুজ। সোজা পথে দূরত্ব ৫৮ কিমি। কিন্তু আপনি আসুন ঘুরপথে। প্রথমে যান ভারতের শেষ প্রান্ত কোটেশ্বর, (কোটিলিঙ্গেশ্বরের মন্দির) নারায়ণ সরোবর। দূরত্ব ১৪৬ কিমি। নারায়ণ সরোবরে কিছুক্ষণ কাটিয়ে চলুন লাখপত (দুর্গনগরী, গুরু নানকের স্মৃতিধন্য)। দুরত্ব ৩৫ কিমি। লাখপাত থেকে আসুন মাতা নো মাঢ়। দূরত্ব ৪১ কিমি। দর্শন করুন মা আশাপুরাকে। এখান থেকে চলে আসুন ভুজ। মাণ্ডবী থেকে মোট দূরত্ব ৩১৭ কিমি।
নবম দিনে ভুজ দর্শন। দেখে নিন আলামপন্না দুর্গে রাও লাক্ষা প্রাসাদ, মহারাও প্রাসাদ ও আয়না মহল, হামিরসর লেকের পুবে শারদ বাগ প্যালেস, প্রাগ মহল প্রাসাদ, লেকের দক্ষিণ পুবে কচ্ছ মিউজিয়াম ইত্যাদি।
দশম দিনে ভুজ থেকে চলুন সাদা রন দেখতে। জায়গার নাম ধোরদো। দূরত্ব ৮০ কিমি। ধোরধো থেকে যেতে পারেন কচ্ছের সর্বোচ্চ পর্বত কালো দুঙ্গার দেখতে। দূরত্ব ৪৮ কিমি। উচ্চতা ৪৫৮ মিটার। এখান থেকে সূর্যাস্ত দেখে ফিরে আসুন ভুজ, দূরত্ব ৯০ কিমি।

একাদশ দিন – ঘরে ফেরা।
ভুজ থেকে সরাসরি কলকাতা ফিরতে পারেন। ভুজ-শালিমার এক্সপ্রেস প্রতি মঙ্গলবার দুপুর ৩.০৫ মিনিটে ভুজ থেকে ছেড়ে শালিমার পৌঁছোয় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায়। গান্ধীধাম থেকেও ফেরার ট্রেন ধরতে পারেন। গর্ভ এক্সপ্রেস প্রতি শনিবার বিকেল ৬.১০-এ ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় সোমবার দুপুর ১২.৫৫-য়। ভুজ থেকে গান্ধীধাম ৫৮ কিমি।
ভুজ থেকে আমদাবাদ ফিরে সেখান থেকেও হাওড়ার ট্রেন ধরতে পারেন। দূরত্ব ৩৩১ কিমি। সে ক্ষেত্রে এক রাত আমদাবাদে থেকে পরের দিন ট্রেন ধরুন।
ভুজ থেকে সরাসরি মুম্বই ফেরার দৈনিক ট্রেন আছে। ভুজ থেকে দিল্লি ফেরার ট্রেন বরেলি এক্সপ্রেস, সপ্তাহে চার দিন। না হলে অমদাবাদ হয়ে দিল্লি ফিরুন।
বিমানেও অমদাবাদ থেকে দেশের যে কোনো জায়গায় ফিরতে পারেন।

(১) অমদাবাদের স্থানীয় দ্রষ্টব্য এবং লোথাল ও নল সরোবর (যদি সময় করে উঠতে পারেন) গাড়ি ভাড়া করে নিন। রাজ্য পর্যটনের সারা দিনের ট্যুরে অমদাবাদ ঘোরায় কিনা খোঁজ করে নিন – ০৭৯-২৬৫৭৮০৪৪/২৬৫৭৮৯৪৬/২৬৫৮৯১৭২।
(২) ভাচাউ থেকে ধোলাভিরা চলুন গাড়ি ভাড়া করে।
৩) ভাচাউ থেকে দু’ দিনের জন্য গাড়ি নিয়ে মাণ্ডবীতে রাত কাটিয়ে পরের দিন কোটেশ্বর-লাখপত-মাতা নো মাঢ় ঘুরে ভুজে এসে গাড়ি ছেড়ে দিন।
(৪) ভুজে ঘুরুন স্থানীয় যানবাহনে। ধোরদো, কালো দুঙ্গার যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করে নিন।

একমাত্র অমদাবাদ ছাড়া কোথাওই গুজরাত পর্যটনের কোনো হোটেল নেই। অমদাবাদে গান্ধী আশ্রমের উলটো দিকে রয়েছে গুজরাত পর্যটনের হোটেল তোরণ গান্ধী আশ্রম। অনলাইনে বুক করার জন্য লগইন করুন www.gujarattourism.com । এ ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি হোটেল এবং রিসোর্ট। হোটেল বুকিং-এর একাধিক ওয়েবসাইট থেকে তা বুক করতে পারেন। শুধু ধ্রানগাধরায় থাকার চেষ্টা করবেন দেবজিভাই ধামেচার ইকো ক্যাম্পে। বিভিন্ন রকম কটেজ আছে এখানে। ধ্রানগাধরায় সাফারির ব্যবস্থা করে দেবেন দেবজিভাই নিজে। যোগাযোগ ৯৮২৫৫৪৮০৯০। ওয়েবসাইট www.littlerann.com।
(প্রথম ছবিটি কালা দুঙ্গারে সানসেট পয়েন্ট)
আরও পড়ুন: চলুন ঘুরে আসি গুজরাত ১: বডোদরা-মধেরা-পাটন-অমদাবাদ
The post চলুন ঘুরে আসি গুজরাত ২: অমদাবাদ হয়ে কচ্ছভূমি appeared first on Bhramon Online.
]]>The post চলুন ঘুরে আসি গুজরাত ১: বডোদরা-মধেরা-পাটন-অমদাবাদ appeared first on Bhramon Online.
]]>ভ্রমণ শুরু করুন বডোদরা তথা বরোদা থেকে। হাওড়া-অমদাবাদ এক্সপ্রেস রাত ১১.৪০-এ হাওড়া ছেড়ে বডোদরা পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৯.৪৮ মিনিটে। এ ছাড়া হাওড়া, শালিমার ও কলকাতা স্টেশন থেকে আরও কিছু সাপ্তাহিক, দ্বিসাপ্তাহিক ট্রেন রয়েছে বডোদরা যায়। তবে সব ট্রেনই ভোর ভোর বা সকালে বডোদরা পৌঁছে যায়।
দিল্লি থেকে বডোদরা আসার অনেক ট্রেন আছে, যা বডোদরা পৌঁছে দেয় সকালের মধ্যে। মুম্বই থেকে বডোদরা পাঁচ-ছ’ ঘণ্টার ট্রেন জার্নি। সকালে বডোদরা পৌঁছে দেওয়ার বেশ কিছু ট্রেন আছে। ট্রেনের বিস্তারিত সময় পাবেন erail.in-এ।
ভারতের প্রায় সব বড়ো শহরের সঙ্গে বডোদরা বিমানপথে যুক্ত।

প্রথম ও দ্বিতীয় দিন – রাত্রিবাস বডোদরা।
শ্রীঅরবিন্দের স্মৃতি বিজড়িত বডোদরা পৌঁছে প্রথম দিন দেখে নিন শ্রীঅরবিন্দ নিবাস, লক্ষ্মীবিলাস প্যালেস, সুরসাগর লেক, লেকের পাড়ে ন্যায়মন্দির, তিলক রোডে সওয়াজি বাগ, স্টেশন থেকে তিন কিমি দূরে ইএমই স্টিল টেম্পল, নন্দলাল বসুর দেওয়াল-অঙ্কন সমৃদ্ধ কীর্তিমন্দির, বরোদা মিউজিয়াম অ্যান্ড আর্ট গ্যালারি, শ্রীসওয়াজি সরোবর ইত্যাদি।
দ্বিতীয় দিন চলুন চম্পানের-পাওয়াগড়-জম্বুঘোড়া।
বডোদরা থেকে চম্পানের- পাওয়াগড় ৪৯ কিমি, আরও ২৮ কিমি দূরে জম্বুঘোড়া, সেখান থেকে বডোদরা ৬১ কিমি।

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত চম্পানের-পাওয়াগড় প্রত্নতাত্ত্বিক পার্ক। ১৫২৩-এ সুলতান বাগেড়ার তৈরি জামা মসজিদ শৈল্পিক উৎকর্ষে অনবদ্য। দেখে নিন কেভাদা মসজিদ, লীলা গুম্বজ কি মসজিদ, নাগিনা মসজিদ ও সেনোট্যাফ। পাহাড়ের নীচে রাজপুত-কীর্তি সাত মাইল প্রাসাদ। ৪ কিমি দূরের মাচি থেকে দেড় কিমি হেঁটে বা ৭০০ মিটার দীর্ঘ রোপওয়ে চড়ে পৌঁছে যান ৮২০ মিটার উঁচু পাওয়াগড়ের পাহাড়চুড়োয়। সোলাঙ্কিদের দুর্গ ও প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ দেখুন। ২২৫ সিঁড়ি উঠে পাওয়াগড় শিখরে দেখুন মহাকালিকা মন্দির। আছে লাকুলিসা মন্দির, এক গুচ্ছ জৈন মন্দির, দুধিয়া তালাও, ছাঁছিয়া তালাও, ত্রিতলিকা চম্পাবতী মহল।
চম্পানের-পাওয়াগড় দেখে চলুন ২৮ কিমি দূরের জম্বুঘোড়া অভয়ারণ্য। সবুজ জঙ্গল-পাহাড়-জলাশয়ে মোড়া প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র।
তৃতীয় দিন – বডোদরা থেকে ডাকোর হয়ে মহেসানা আসুন। রাত্রিবাস মহেসানা।

বডোদরা থেকে মহেসানা আসার ট্রেন থাকলেও গাড়ি ভাড়া করে আসুন এবং পথে দেখে নিন ডাকোরে রণছোড়জি তথা শ্রীকৃষ্ণের মন্দির। কথিত আছে, দ্বারকার রণছোড়জি ডাকোরে আসেন ভক্ত বোদানোর সঙ্গে। দ্বিমতে, ১২৬৯-এ ডাকোরবাসীরা দ্বারকা থেকে রণছোড়জিকে চুরি করে নিয়ে আসেন ডাকোরে। ডাকোরের বর্তমান মন্দিরটি আড়াইশো বছরের পুরোনো। প্রশস্ত অঙ্গনের মাঝে কারুকার্যমণ্ডিত এই মন্দির দেখার মতো। বডোদরা থেকে ডাকোর ৬২ কিমি। সেখান থেকে মহেসানা ১৬০ কিমি।
চতুর্থ দিন – আজও থাকুন মহেসানায়।
এ দিন সকালেই গাড়ি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়ুন। প্রথমে চলুন মহেসানা থেকে ২৫ কিমি দূরের মধেরা। এখানে দেখে নিন আট শতকের সূর্যমন্দির, ভাস্কর্যে অনবদ্য। ভারতের চার সূর্যমন্দিরের একটি মধেরায়, বাকি ৩টি ওড়িশার কোনারক, জম্মু-কাশ্মীরের মার্তণ্ড এবং মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহো। মধেরার মন্দিরের সামনে সূর্যকুণ্ড এবং তাকে ঘিরে ১০৮টি খুদে মন্দির। উৎসাহীরা পাহাড় চড়ে প্রাচীন দুর্গটিও দেখে নিতে পারেন।
মধেরা থেকে চলুন ১৪ কিমি দূরের বেচারাজি। এখানে দেখে নিন দেবী বেচারাজি তথা সাত দিনের প্রতীক সাত বাহনে মা দুর্গাকে।

এখান থেকে চলুন পাটন। পথ মধেরা হয়েই গিয়েছে, দূরত্ব ৪৮ কিমি। সোলাঙ্কি রাজাদের রাজধানী পাটন। ১০৮ জৈন মন্দির রয়েছে। তবে আরও বেশি দ্রষ্টব্য হল শিল্পসুষমায় মণ্ডিত ১০৫০ সালে তৈরি গুজরাতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্টেপওয়েল রানি কি ভাভ। পাটন থেকে ফিরে আসুন মহেসানায়। দূরত্ব ৫৬ কিমি।
পঞ্চম দিন – চলুন অমদাবাদ। সারা দিনই মহেসানা থেকে অমদাবাদ আসার অনেক ট্রেন আছে। মোটামুটি সময় লাগে ঘণ্টা দুয়েক। গাড়ি বা বাসেও আসতে পারেন, দূরত্ব ৭৫ কিমি। রাত্রিবাস অমদাবাদ।
ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম দিন – রাত্রিবাস অমদাবাদ।
সবরমতীর ধারে অমদাবাদ। সম্প্রতি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তকমা পেয়েছে। এখানে দ্রষ্টব্য অনেক। প্রায় তিনটে দিন লেগে যায় অমদাবাদ দেখতে। শুরু করুন রিভার ফ্রন্ট দিয়ে। চলুন লাল দরোজার কাছে সিদি সৈয়দ জালি মসজিদ। এর পর ভদ্রা ফোর্ট ও ভদ্রকালী মন্দির দেখুন। তার পর চলুন সরখেজ রোজায় সুলতান মামুদ বেগারার সমাধি দেখতে। দেখুন রানি সিপ্রির মসজিদ, স্বামীনারায়ণ মন্দির, জামা মসজিদ, তিন দরওয়াজা। দেখুন এক গুচ্ছ মিউজিয়াম — ক্যালিকো মিউজিয়াম অব টেক্সটাইলস, বেচার ইউটেনসিল মিউজিয়াম, কাইট মিউজিয়াম। দেখে নিন সর্দার পটেল মিউজিয়াম। বিনোদনের হরেক ব্যবস্থা সহ কাঁকারিয়া হ্রদ। হ্রদের পাড়ে বাল বাটিকা। দেখে নিন রেলস্টেশনের দক্ষিণে সারঙ্গপুর রোডে শেকিং মিনারেট তথা ঝুলতা মিনার।

দেখুন গান্ধীজির গড়া সবরমতী আশ্রম। এলিস ব্রিজে সবরমতী নদী পেরিয়ে শহর থেকে ৭ কিমি উত্তরে সবরমতীর ধারে আশ্রম। এলিস ব্রিজে সবরমতী পেরোনোর আগে দেখুন ভিক্টোরিয়া গার্ডেন।
রয়েছে আরও দ্রষ্টব্য — শাহ আলমের রৌজা (শহর থেকে ৩ কিমি দক্ষিণ পুবে), রানি রূপমতী মসজিদ (মির্জাপুরে), মসজিদ-ই-নাগিরা (মানেকচকে), দরিয়া খাঁয়ের সমাধি (গুজরাতের সর্বোচ্চ গম্বুজ), আদালজ ভাভ তথা স্টেপওয়েল (১৯ কিমি), অক্ষরধাম মন্দির (২৩ কিমি দূরে গান্ধীনগরে) ইত্যাদি।
অমদাবাদ অবস্থানকালে এক দিন ঘুরে আসুন লোথাল ও নল সরোবর – অমদাবাদ থেকে ৭৫ কিমি, ট্রেনে তিন ঘণ্টার পথ লোথাল। বাসও চলে। তবে সময় বাঁচাতে গাড়ি ভাড়া করে নেওয়াই ভালো। সিন্ধু সভ্যতার সমসাময়িক সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে লোথালে। বলা হয়, হরপ্পা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ৫০০ বছরে পরেও লোথাল সভ্যতা টিকে ছিল। পরবর্তী কালে বন্যায় ধ্বংস হয় এই সভ্যতা। লোথাল দেখে চলুন ৪০ কিমি দূরের নল সরোবর পাখিরালয়। দেশ-বিদেশ থেকে আসা পাখিরা শীতে আস্তানা গাড়ে নল সরোবরের বেট থেকে বেটে। বেট অর্থে দ্বীপ। নল সরোবর দেখে ফিরে আসুন ৬৬ কিমি দূরের অমদাবাদে।
নবম দিন – ঘরে ফেরা। অমদাবাদ থেকে কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ফেরার ট্রেন আছে। বিমানেও ফিরতে পারেন।

একমাত্র অমদাবাদে রয়েছে গুজরাত পর্যটনের হোটেল। অমদাবাদ রেলস্টেশন থেকে ৮ কিমি এবং বিমাববন্দর থেকে ৬ কিমি দূরে সবরমতী গান্ধী আশ্রমের উলটো দিকে রয়েছে গুজরাত পর্যটনের হোটেল তোরণ গান্ধী আশ্রম। অনলাইনে বুক করার জন্য লগইন করুন booking.gujarattourism.com। এ ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি হোটেল এবং রিসোর্ট। হোটেল বুকিং-এর একাধিক ওয়েবসাইট থেকে তা বুক করতে পারেন।
(১) বডোদরা থেকে ৪৫ কিমি দূরে চম্পানের, আরও ৪ কিমি দূরে পাওয়াগড়। বডোদরা থেকে নিয়মিত বাস পাওয়া যায় চম্পানের-পাওয়াগড় পথে হিল স্টেশন মাচি পর্যন্ত। গাড়ি ভাড়া করেও আসতে পারেন। গাড়ি ভাড়া করে এলে জম্বুঘোড়া অভয়ারণ্য ঘুরে নেওয়া সুবিধার।
(২) অমদাবাদে স্থানীয় গাড়ি ভাড়া করে ঘুরুন।

(১) বডোদরায় লক্ষ্মীবিলাস প্যালেসের কিছু কিছু অংশ দেখা যায়। তার জন্য দর্শনী লাগে।
(২) নল সরোবরে অবশ্যই বোটিং করবেন। সেটাই মজার। বন দফতরেকে দর্শনী দিতে হয়। বোটিং চার্জ আলাদা। দরাদরি করতে হয়। সঙ্গে গাইড নিতে পারলে ভালো।
(৩) লোথালে প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের সংগ্রহশালা ছুটির দিন ও শুক্রবার ছাড়া সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা।
(৪) ট্রেনের বিস্তারিত সময়ের জন্য দেখে নিন erail.in
(৫) উড়ানের সময় গুগুল সার্চ করে পেয়ে যাবেন।
(প্রথম ছবিটি মধেরা সূর্য মন্দিরের)
আরও পড়তে পারেন
চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ৪: মাউন্ট আবু-উদয়পুর-চিতোরগড়-বুন্দি-রনথম্ভোর
চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ৩: বিকানের-জৈসলমের-বাড়মের-জোধপুর
চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ২: জয়পুর-ফতেপুর-বিকানের-অজমের
চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ১: আগ্রা-ভরতপুর-দৌসা-জয়পুর-সরিস্কা-অলওয়র
The post চলুন ঘুরে আসি গুজরাত ১: বডোদরা-মধেরা-পাটন-অমদাবাদ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ৪: মাউন্ট আবু-উদয়পুর-চিতোরগড়-বুন্দি-রনথম্ভোর appeared first on Bhramon Online.
]]>ভ্রমণ শুরু করুন মাউন্ট আবু থেকে।
প্রথম ও দ্বিতীয় দিন – মাউন্ট আবু।
১২১৯ মিটার উঁচু মাউন্ট আবুর কাছের রেলস্টেশন আবু রোড, দূরত্ব ২৯ কিমি। হাওড়া থেকে সরাসরি ট্রেনের অভাবে দিল্লি বা জয়পুর হয়ে আসুন। মুম্বই বা অমদাবাদ থেকেও সরাসরি আবু রোড পৌঁছোনো যায়। যেখান থেকেই আসুন আবু রোড স্টেশন থেকে বাস বা গাড়ি ভাড়া করে মাউন্ট আবু পৌঁছে প্রথম দিন দেখে নিন সানসেট পয়েন্ট থেকে আরাবল্লির কোলে মনোরম সূর্যাস্ত। হনিমুন পয়েন্ট থেকেও সূর্যাস্ত দেখতে পারেন। কাছেই নক্কি লেক।

দ্বিতীয় দিন প্রথমে চলুন শহর থেকে ১৫ কিমি উত্তর-পূর্বে আরাবল্লির সর্বোচ্চ শিখর গুরুশিখর (১৭৭২ মিটার), রয়েছে ব্রহ্মা-বিষ্ণু–মহেশ্বরের মন্দির, পাহাড়ের মাথায় দত্তাত্রেয় মুনির পায়ের ছাপ। এর পর দেখে নিন চৌহান রাজাদের তৈরি অচলগড়, গড় থেকে নীচে অচলেশ্বর শিবের মন্দির। এর পর চলে আসুন শ্বেতপাথরের জৈন মন্দিররাজি দিলওয়ারা, কারুকার্য, অলংকরণ ও ভাস্কর্যে অনন্য। শহরের কাছাকাছি এসে দেখে নিন অর্বুদাদেবী তথা অধরাদেবী তথা দুর্গার মন্দির। দেখে নিন নক্কি লেকের কাছে টোড রক। আগের দিন হনিমুন পয়েন্ট না যাওয়া হয়ে থাকলে চলুন সেখানে।
তৃতীয় দিন – রাত্রিবাস উদয়পুর। আবু রোড থেকে উদয়পুর ১৬৩ কিমি, বাস বা গাড়িতে চলে আসতে পারেন। সকালে বেরোলে ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাবেন উদয়পুর। এ দেখে নিন সিটি প্যালেস, প্যালেসের উত্তরে জগদীশ মন্দির।

চতুর্থ দিন – রাত্রিবাস উদয়পুর। এ দিন দেখে নিন ক্রিস্টাল গ্যালারি, মহারানাদের ভিন্টেজ গাড়ির প্রদর্শনী, লেক পিছোলা ও লেকের মাঝে জগনিবাস প্রাসাদ, লেকের দক্ষিণ পাহাড়ে জগমন্দির, লেকের পিছনে সজ্জননিবাস বাগ, লেকের উত্তরে ফতেহ সাগর, ফতেহ সাগরের পূবে বাঁধের নীচে সহেলিয়োঁ–কি-বাড়ি, ফতেহ সাগরে রমণীয় দ্বীপ-উদ্যান নেহরু পার্ক, বিপরীতে মোতি মাগরি পাহাড়ে প্রতাপ স্মারক, শহর থেকে ৫ কিমি পশ্চিমে সজ্জনগড় তথা মনসুন প্যালেস, ৬ কিমি উত্তর-পশ্চিমে উদয়পুরের নবতম আকর্ষণ শিল্পীগ্রাম এবং শহর থেকে ৩ কিমি পুবে শিশোদিয়া রাজাদের অতীতের রাজধানী পাহাড়ে ঘেরা অহর।
পঞ্চম দিন – এ দিনও থাকুন উদয়পুরে।
একটা গাড়ি ভাড়া করে সারা দিনের জন্য বেরিয়ে পড়ুন শহর থেকে উত্তরে। চলুন রাজসমন্দ-কাঁকরোলি-নাথদ্বার-দেবীগড়-একলিঙ্গজি-নাগদা। প্রথমে চলুন ৬৬ কিমি দূরে রাজসমন্দ লেক এবং কাঁকরোলি। দেখুন মহারানা রাজ সিংহের তৈরি ৭.৭ বর্গ কিমি আয়তন বিশিষ্ট লেক, লেকের পাড়ে শিলালিপি, শ্বেতপাথরের ন’টি মণ্ডপ তথা নওচৌকি, বাগিচা, শ্রীকৃষ্ণ দ্বারকাধীশ মন্দির ইত্যাদি।

এ বার উদয়পুরের দিকে ১৬ কিমি এসে বৈষ্ণবতীর্থ নাথদ্বার, দেখুন শ্রীকৃষ্ণের মন্দির।
নাথদ্বার থেকে উদয়পুরের দিকে প্রায় ১৬-১৭ কিমি এগিয়ে এলে দেবীগড়, ১৮ শতকের ফোর্ট প্যালেস।
আরও ৭-৮ কিমি এসে একলিঙ্গজি, ৭৩৪ খ্রিস্টাব্দে তৈরি পিরামিড ধাঁচের মন্দির কমপ্লেক্স।
উদয়পুরের দিকে একলিঙ্গজির একেবারে গায়েই নাগদা, রাওয়াল নাগাদিত্যের ১১ শতকের রাজধানী, প্রাচীন নগরী।

ষষ্ঠ দিন – আজও থাকুন উদয়পুরে। চলুন রনকপুর-কুম্ভলগড়-হলদিঘাটি।
সক্কালেই গাড়ি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়ুন। প্রথম গন্তব্য ৯০ কিমি দূরের রনকপুর। ২৯টি জৈন মন্দিরের কমপ্লেক্স, দিলওয়ারাতুল্য।
এখান থেকে চলুন ৫০ কিমি দূরে আরাবল্লি পাহাড়ের ঢালে ১০৮৭ মিটার উঁচুতে কুম্ভলগড় দুর্গ। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাচীরে ঘেরা দুর্গ, রানা কুম্ভের তৈরি। দুর্গের নানা মহলে ফ্রেস্কো চিত্র। বহু মন্দির। র্যামপার্ট থেকে মাড়োয়ারের সমতল ও আরাবল্লির জঙ্গল-পাহাড় সুন্দর দৃশ্যমান। চার কিমি দূরে কুম্ভলগড় স্যাংচুয়ারি।

এ বার উদয়পুর ফেরার পথে চলুন হলদিঘাটি, আকবরের বাহিনীর সঙ্গে রানা প্রতাপের সেই যুদ্ধস্থল, যেখানে প্রাণ দিয়েছিল প্রতাপের প্রিয় ঘোড়া চেতক, কুম্ভলগড় থেকে ৫০ কিমি।
হলদিঘাটি দর্শন শেষে ফিরে আসুন ৪০ কিমি দূরের উদয়পুর।
সপ্তম দিন – রাত্রিবাস চিতোরগড়। উদয়পুর থেকে ট্রেনে, বাস বা গাড়িতে আসতে পারেন চিতোরগড়। সকাল ৬টার উদয়পুর-জয়পুর এক্সপ্রেস সকাল ৭.৫৫-য় পৌঁছে দেয় চিতোরগড়। উদয়পুর- চিতোরগড় বাস চলে মুহুর্মুহু। দূরত্ব ১১১ কিমি।
এখানে এক দিন থেকে ধীরেসুস্থে দেখে নিন রানি পদ্মিনী, মীরাবাঈ, রানা কুম্ভ ও জহরব্রতের স্মৃতিবিজড়িত চিতোরগড়।

অষ্টম দিন – রাত্রিবাস কোটা। ট্রেন আছে বটে, তবে চিতোরগড় থেকে কোটা বাসে আসাই ভালো। ভোর থেকেই বাস রয়েছে। দূরত্ব ১৭৩ কিমি। বাসের সময় লাগে সাড়ে চার ঘণ্টা থেকে ছ’ ঘণ্টা। গাড়িতেও আসতে পারেন।
কোটায় দেখে নিন চম্বল নদীর পাড়ে রাও মাধো সিংজির গড়া দুর্গ। দেখে নিন বিভিন্ন মহল। দুর্গের ডাইনে রাও মাধো সিং মিউজিয়াম। দেখুন ১৮ শতকের ভীম মহল, শহরের উত্তরে উমেদ ভবন প্রাসাদ, দুর্গের পিছনে চম্বলের ওপর কোটা ব্যারেজ, কিশোর সাগর, দ্বীপ মহল, ব্রিজরাজ ভবন প্রাসাদ ও জওহর বিলাস গার্ডেন। সন্ধ্যায় চম্বল উদ্যান অবশ্য দ্রষ্টব্য।

নবম দিন – এ দিনও রাত্রিবাস কোটায়।
বুঁদির কেল্লার কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। চিতোরের রানা সেই যে পণ করেছিলেন। সেই বুঁদির কেল্লা কোটা থেকে সাড়ে ৩৮ কিমি। আধ ঘণ্টা অন্তর বাস আছে। গাড়ি ভাড়া করেও যেতে পারেন বুঁদি। বাসে করে এলে অটো বা টাঙা ভাড়া করে দেখে নিন ১৩৫৪-য় রাজস্থান শৈলীতে তৈরি বুঁদির কেল্লা তথা তারাগড় ফোর্ট, শহরের প্রান্তে রানিজি কি বাউড়ি, কেল্লা থেকে ৫ কিমি উত্তর-পশ্চিমে ফুলসাগর প্রাসাদ, চোগান গেটে নগরসাগর কুণ্ড, ক্ষার বাগে রাজপরিবারের ছত্তিশ, জৈৎসাগর লেক, লেকের উত্তর পাড়ে সুখনিবাস।
দশম দিন – রাত্রিবাস রনথম্ভোর। কোটা থেকে রনথম্ভোর ১৪৪ কিমি, বাসে তিন থেকে চার ঘণ্টার পথ। গাড়িতেও আসতে পারেন। বাসে বা ট্রেনে সোয়াই মাধোপুর এসে মিনিবাস বা গাড়িতে ১৪ কিমি দূরের রনথম্ভোরে আসা যায়। প্রচুর ট্রেন আছে। তবে সব চেয়ে সুবিধাজনক সকাল ৬.১৫-এর নিজামুদ্দিন জনশতাব্দী, ৭.১০-এর দাওদাই এক্সপ্রেস, ৭.২০-এর গোল্ডেন টেম্পল এক্সপ্রেস, ৭.৫৫-এর মুম্বই সেন্ট্রাল-জয়পুর সুপারফাস্ট কিংবা ৮.১৫-এর কোটা-যমুনা ব্রিজ প্যাসেঞ্জার। খুব বেশি হলে ঘণ্টা দুয়েক লাগে ট্রেনে। তবে সোয়া ৮টার প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি একেবারে রনথম্ভোর পৌঁছে দেয় দু’ ঘণ্টা ২০ মিনিটে।
রনথম্ভোরে দু’টো সাফারি করার চেষ্টা করুন। প্রথমটা যে দিন পৌঁছোবেন সে দিন বিকেলে, দ্বিতীয়টি পরের দিন সকালে। সাফারি করা ছাড়া আরও দেখুন পাহাড়ের ওপর কেল্লা। সকালে সাফারি করে এসে কেল্লা দেখুন। বিকেলের দিকে রওনা হয়ে যান আগ্রা।
একাদশ দিন – ঘরের পথে রওনা। সকালে রনথম্ভোর ঘুরে বিকেলের দিকে আগ্রা রওনা হয়ে যান। সেখান থেকে ঘরে ফেরার ট্রেন ধরুন।

সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি হোটেল। হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তাদের সন্ধান পেয়ে যাবেন। সব জায়গায় পাবেন রাজস্থান পর্যটনের হোটেল। আগরায় বেসরকারি হোটেল ছাড়াও পাবেন উত্তরপ্রদেশ পর্যটনের হোটেল।
অনলাইন হোটেল বুকিং করার জন্য রাজস্থান পর্যটনের ওয়েবসাইট https://rtdc.tourism.rajasthan.gov.in/
রাজস্থান পর্যটনের কলকাতা অফিস – কমার্স হাউস, ২ গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ, কলকাতা ৭০০০১৩, যোগাযোগ – ০৯৪১৪২ ৫৩২৯৯
আগ্রায় বেসরকারি হোটেল প্রচুর আছে। আর উত্তরপ্রদেশ পর্যটনের হোটেলে থাকতে চাইলে অনলাইনে বুকিং করতে পারেন: https://uptourism.gov.in/

(১) পুরো ট্যুরটার জন্য মাউন্ট আবু থেকে গাড়ি ভাড়া করে নিতে পারেন। গাড়ি রনথম্ভৌরে এসে ছেড়ে দিন।
(২) পুরো ট্যুরের জন্য গাড়ি না থাকলে বিভিন্ন শহরে স্থানীয় যানে সাইটসিয়িং করুন।
(৩) উদয়পুরের সিটি প্যালেস দেখার জন্য গাইডের সাহায্য নেওয়া ভালো। ঘণ্টা তিনেক সময় লাগে।
(৪) উদয়পুরে থাকার দ্বিতীয় দিন সকালে ঘুরে আসতে পারেন ৩৩ কিমি দূরের জগত থেকে। জগতকে রাজস্থানের খাজুরাহো বলা হয়। এখানকার অম্বিকা মাতা মন্দিরের গায়ের কারুকাজ আপনাকে বিস্মিত করবে। উদয়পুরে এসে সে দিন সিটি প্যালেস ও জগদীশ মন্দির ছাড়া আরও যদি লোকাল সাইটসিয়িং করে নিতে পারেন, তা হলে পরের দিন সকালে জগত ঘুরে এসে উদয়পুরের বাকি সাইটসিয়িং করে নিতে পারেন।
(৫) রনথম্ভোরে সাফারি করার জন্য অনলাইন বুকিং করতে পারেন – https://www.ranthambhorenationalpark.in/jungle-safari
(৬) ইচ্ছে হলে বা সময় থাকলে রনথম্ভোর থেকে ফেরার পথে আগরায় দু’টো দিন থেকে যেতে পারেন।
আরও পড়তে পারেন
চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ৩: বিকানের-জৈসলমের-বাড়মের-জোধপুর
চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ২: জয়পুর-ফতেপুর-বিকানের-অজমের
চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ১: আগ্রা-ভরতপুর-দৌসা-জয়পুর-সরিস্কা-অলওয়র
The post চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ৪: মাউন্ট আবু-উদয়পুর-চিতোরগড়-বুন্দি-রনথম্ভোর appeared first on Bhramon Online.
]]>The post চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ৩: বিকানের-জৈসলমের-বাড়মের-জোধপুর appeared first on Bhramon Online.
]]>ভ্রমণ শুরু করুন বিকানের থেকে। হাওড়া থেকে বিকানের এক্সপ্রেস সোম, বৃহস্পতি ও শুক্র রাত ১১.২৫ মিনিটে ছেড়ে বিকানের পৌঁছোয় তৃতীয় দিন সকাল ৬.১৫ মিনিটে। সাপ্তাহিক প্রতাপ এক্সপ্রেস কলকাতা স্টেশন থেকে শুক্রবার রাত ১০.৪৫ মিনিটে ছেড়ে বিকানের পৌঁছোয় রবিবার ভোর সাড়ে ৫টায়। আরও ট্রেন আছে।
দিল্লি থেকে ইন্টারসিটি ধরে এলে বিকেলে বিকানের। মুম্বই থেকে বিকানের এলে, সেটিও বিকেলে বিকানের পৌঁছোয়। বিমানে জয়পুর এসে সেখান থেকে গাড়িতে বিকানের আসা যায়, দূরত্ব ৩৩৪ কিমি। সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টা।

প্রথম দিন – বিকানের পৌঁছোন। রাত্রিবাস বিকানের।
দ্বিতীয় দিন – আজও থাকুন বিকানেরে।
বিকানেরে ঘোরাঘুরি
দেখে নিন জুনাগড় দুর্গ, গঙ্গা গোল্ডেন জুবিলি মিউজিয়াম, লালগড় প্রাসাদ, ভাণ্ডেশ্বর ও ষণ্ডেশ্বর জৈন মন্দির কমপ্লেক্স (৫ কিমি), দেবী কুণ্ড সাগর (৮ কিমি), ক্যামেল ব্রিডিং ফার্ম (৮ কিমি) এবং দেশনোকে করণীমাতা মন্দির (বিকানের-অজমের পথে ৩২ কিমি)
তৃতীয় দিন – চলুন জৈসলমের, সক্কাল সক্কাল বেরিয়ে পড়ুন বিকানের থেকে। দূরত্ব ৩৫১ কিমি। গাড়িতে চলুন।
পথে দেখে নিন গজনের স্যাংচুয়ারি ও প্রাসাদ (বিকানের থেকে ৩৪ কিমি), কোলায়াতে (আরও ১৮ কিমি) কপিল মুনির মন্দির, ফালোদিতে (আরও ১১৬ কিমি) দুর্গ, দুর্গামন্দির, জৈন মন্দির, জাফরিমণ্ডিত হাভেলি, খিচানে (ফালোদি থেকে ৭ কিমি) সাইবেরিয়া থেকে উড়ে আসা হাজার হাজার সারস, রামদেওরায় (আরও ৫৮ কিমি) রামদেওজির মন্দির।
রাজস্থানের রাস্তা খুব ভালো। সব কিছু দেখে বিকেল নাগাদ পৌঁছে যাবেন জৈসলমের। এ দিন বিকেলে দেখে নিন গদিসর লেক।

চতুর্থ ও পঞ্চম দিন – রাত্রিবাস জৈসলমের।
চতুর্থ দিন সকালে দেখে নিন সোনার কেল্লা, নাথমলজি কি হাভেলি, পাটোয়া কি হাভেলি ইত্যাদি হাভেলি। দুপুরের খাওয়া সেরে চলুন রাজকীয় বাগিচা মূলসাগর, মিউজিয়াম নগরী কুলধ্রা হয়ে স্যাম স্যান্ড ডিউনস (জৈসলমের থেকে ৪২ কিমি পশ্চিমে)। মরুভূমির বুকে রমণীয় সূর্যাস্ত দেখুন।
পঞ্চম দিন সকালে দেখে নিন ভাটি রাজাদের ছত্তীশ বড়াবাগ, ভাটি রাজাদের পূর্বতন রাজধানী লোধুর্বা ও মরুভূমির বুকে মরুদ্যান অমরসাগর। জৈসলমেরে ফিরে দুপুরের খাওয়া সেরে চলুন ডেজার্ট ন্যাশনাল পার্কে (জৈসলমের থেকে ৪৬ কিমি), উটের গাড়িতে সাফারি করুন। এখান থেকে চলুন খুরিতে (আরও ৮ কিমি)। মরুভূমির বুকে সূর্যাস্ত দেখে রাজস্থানের সংগীত-নৃত্য উপভোগ করে জৈসলমের ফিরুন।
ষষ্ঠ দিন – রাত্রিবাস বাড়মের। জৈসলমের থেকে সক্কাল সক্কাল বেরিয়ে ১৫৭ কিমি দূরের বাড়মের আসতে ঘণ্টা তিনেক লাগবে। পথে উড ফসিল পার্কে ১৮ কোটি বছরের ১৮টি জুরাসিক বৃক্ষের ফসিল দেখে নিন।

বাড়মেরে দেখুন
(১) পাহাড়ের শিরে শ্বেতপাথরের অষ্টভুজা দুর্গা।
(২) বাড়মের থেকে ৩৮ কিমি দূরে পাকিস্তান সীমান্তের পথে হাজার বছরের মন্দির-স্থাপত্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কিরাডু।
(৩) বাড়মের থেকে ৭ কিমি দূরে মহাবাড় বালিয়াড়ি থেকে অপরূপ সূর্যাস্ত।
সপ্তম, অষ্টম ও নবম দিন – রাত্রিবাস জোধপুর।
সপ্তম দিন সকালেই রওনা হন জোধপুর, দূরত্ব ১৯৯ কিমি। বাসে, গাড়িতে বা ট্রেনে চলে আসুন। বাড়মের থেকে সকাল ৮টার হৃষীকেশ এক্সপ্রেস জোধপুর পৌঁছোয় সকাল সোয়া ১১টায়।

জোধপুরে ঘোরাঘুরি
(১) প্রথম দিন দেখে নিন মেহরনগড় ফোর্ট ও দুর্গের পাদদেশে জশবন্ত সিংহের স্মারকসৌধ তথা ছত্তিশ জশবন্ত থাডা।
(২) দ্বিতীয় দিন সকালে দেখুন উমেদ ভবন প্যালেস, কাছেই মহারাজার রেলওয়ে ক্যারেজ, সদর গভর্নমেন্ট মিউজিয়াম। দুপুরে চলুন শহর থেকে ৮ কিমি উত্তরে ৬-১৪ শতকের পরিহারদের রাজধানী মান্ডোর। দেখে নিন মান্ডোরের এক কিমি আগে বালসমন্দ হ্রদ।
(৩) তৃতীয় দিন চলুন সকালে চলুন ৬৬ কিমি উত্তরে থর মরুভূমির বুকে ওশিয়া। ৮-১১ শতকে পরিহারদের তৈরি হিন্দু ও জৈন মন্দিরগুলির ভাস্কর্য দেখার মতো। জোধপুর থেকে সকাল ৬.৫০ মিনিটের জৈসলমের এক্সপ্রেস ওশিয়া পৌঁছে দেবে সকাল ৮.০৮ মিনিটে। বাসে বা গাড়ি ভাড়া করেও আসা যায়। ওশিয়া থেকে ফিরে বিকেলে চলুন ১০ কিমি পশ্চিমে কৈলানা হ্রদ। দেখুন সূর্যাস্ত। মন ভরে যাবে।

দশম দিন – ঘরের পথে রওনা। জোধপুর থেকে সরাসরি ট্রেন আছে হাওড়া, দিল্লি ও মুম্বইয়ের। কলকাতার যাত্রীরা দিল্লি হয়েও ফিরতে পাত্রেন।
সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি হোটেল। হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তাদের সন্ধান পেয়ে যাবেন। বিকানের, জৈসলমের ও জোধপুরে পাবেন রাজস্থান পর্যটনের হোটেল।
বিকানেরে পৌঁছে পুরো ট্যুরটার জন্য গাড়ি বুক করে নিতে পারেন। সেই গাড়িতেই সব দ্রষ্টব্য দেখা হয়ে যাবে। না হলে বিকানের, জৈসলমের, বাড়মের আর জোধপুরে স্থানীয় গাড়ি বুক করে দ্রষ্টব্য দেখে নেবেন।

(১) জৈসলমেরে সোনার কেল্লা দেখার জন্য গাইডের সাহায্য নিন।
(২) ডের্জার্ট ন্যাশনাল পার্কে সাফারি করার জন্য প্রয়োজনীয় ফি দিয়ে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে। জৈসলমেরে যে হোটেলে উঠবেন তারা বলে দেবে কোথায় এই অনুমতিপত্র মেলে।
(৩) অনলাইন হোটেল বুকিং করার জন্য রাজস্থান পর্যটনের হোটেল অনলাইনে বুক করতে পারেন ওয়েবসাইট https://rtdc.tourism.rajasthan.gov.in/
(৪) রাজস্থান পর্যটনের কলকাতা অফিস – কমার্স হাউস, ২ গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ, কলকাতা ৭০০০১৩, যোগাযোগ – ০৯৪১৪২ ৫৩২৯৯
(৫) ট্রেন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিন erail.in–এ।
(৬) গুগুল সার্চ করে উড়ানের সময় পেয়ে যাবেন।
(প্রথম ছবিটি জৈসলমেরের সোনার কেল্লার)
আরও পড়তে পারেন
চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ২: জয়পুর-ফতেপুর-বিকানের-অজমের
চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ১: আগ্রা-ভরতপুর-দৌসা-জয়পুর-সরিস্কা-অলওয়র
The post চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ৩: বিকানের-জৈসলমের-বাড়মের-জোধপুর appeared first on Bhramon Online.
]]>The post চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ২: জয়পুর-ফতেপুর-বিকানের-অজমের appeared first on Bhramon Online.
]]>ভ্রমণ শুরু করুন জয়পুর থেকে। জয়পুর দেশের প্রায় সব শহরের সঙ্গে ট্রেন ও বিমানপথে যুক্ত। হাওড়া থেকে বিকানের এক্সপ্রেস সোম, বৃহস্পতি ও শুক্র এবং জোধপুর এক্সপ্রেস মঙ্গল, বুধ, শনি ও রবিবার রাত ১১.২৫ মিনিটে ছেড়ে জয়পুর পৌঁছোয় দ্বিতীয় দিন রাত ১২.০৫ মিনিটে। শিয়ালদহ অজমের এক্সপ্রেস রোজ রাত ১০.৫৫ মিনিটে ছেড়ে জয়পুর পৌঁছোয় দ্বিতীয় দিন রাত ১১.১৫ মিনিটে। আরও ট্রেন আছে।
প্রথম ও দ্বিতীয় দিন – রাত্রিবাস জয়পুর। জয়পুরে কী দেখবেন তা জানতে আগের ভ্রমণসূচির অষ্টম ও নবম দিন দেখে দিন। (চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ১: আগ্রা-ভরতপুর-দৌসা-জয়পুর-সরিস্কা-অলওয়র)
তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম দিন – রাত্রিবাস ফতেপুর। জয়পুর থেকে ফতেপুর আসুন বাসে, ১৭৩ কিমি, ঘনঘন বাস আছে। গাড়িতেও আসতে পারেন।

শেখাবতী অঞ্চলের মধ্যমণি ফতেপুর। রাও শেখা থেকে নাম শেখাবতী। শেখা তথা মাড়োয়ারি সম্প্রদায়ের বাস এই অঞ্চলে। তাদেরই অর্থে এখানকার ৩৬০টি গ্রাম জুড়ে গড়ে উঠেছে ফ্রেস্কো চিত্রে নানা আখ্যানে সুশোভিত নানা বাড়ি বা হাভেলি। যে দিন জয়পুর থেকে পৌঁছোবেন সে দিন ফতেপুরে দেখে নিন গোয়েঙ্কা, ডেবরা, সিংহানিয়া, সারাওগি, পোদ্দার, জালান ইত্যাদিদের হাভেলি।
পরের দিন একটা গাড়ি ভাড়া করে চলুন লছমনগড় (২২ কিমি), সেখান থেকে শিকার (২৮ কিমি), সেখান থেকে নওয়লগড় (৩২ কিমি), নওয়লগড় থেকে ঝুনঝুনু (৩৯ কিমি), ঝুনঝুনু থেকে মান্ডোয়া (৩০ কিমি) ও মান্ডোয়া থেকে ফিরুন ফতেপুর (২১ কিমি)। দেখে নিন নানা হাভেলি, মন্দির ও গড়।
ফতেপুরে থাকার তৃতীয় দিনে গাড়ি ভাড়া করে চলুন স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিধন্য খেতড়ি (১০৪ কিমি)। সক্কাল সক্কাল বেরিয়ে পড়ুন। সারা দিন ঘুরে দেখে নিন আরাবল্লি পাহাড়ের কোলে খেতড়ির রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম, রঘুনাথ মন্দির, পান্নালাল শাহ কা তলাও (সরোবর), ভোপালগড় দুর্গ, অজিত সাগর, বাগোর দুর্গ, সুখ মহল। রাতে ফিরে আসুন ফতেপুরে।

ষষ্ঠ ও সপ্তম দিন – রাত্রিবাস বিকানের। ফতেপুর থেকে বাসে বা গাড়িতে চলুন, ১৭২ কিমি রাস্তা। বিকানেরে দেখে নিন জুনাগড় দুর্গ, গঙ্গা গোল্ডেন জুবিলি মিউজিয়াম, লালগড় প্রাসাদ, ভাণ্ডেশ্বর ও ষণ্ডেশ্বর জৈন মন্দির কমপ্লেক্স (৫ কিমি), দেবী কুণ্ড সাগর (৮ কিমি), ক্যামেল ব্রিডিং ফার্ম (৮ কিমি), গজনের স্যাংচুয়ারি ও প্রাসাদ (বিকানের-জৈসলমের পথে ৩১ কিমি) এবং দেশনোকে করণীমাতা মন্দির (বিকানের-অজমের পথে ৩২ কিমি)।
অষ্টম, নবম ও দশম দিন – রাত্রিবাস অজমের। বিকানের থেকে ২৫০ কিমি অজমের। বাসেই আসা প্রশস্ত। গাড়িতেও আসা যায়। গাড়িতে এলে পথে দেশনোকে করণীমাতা মন্দির দেখে নিতে পারেন। অজমের পৌঁছে প্রথম দিন দরগা শরিফ দেখে নিন।
পরের দিন দেখে নিন আড়াই-দিন-কা-ঝোপড়া, তারাগড় পাহাড়ে আকবর কা দৌলতখানা, দিগম্বর জৈন মন্দির, সোনিজি কা নাসিয়া, আকবরের প্রাসাদে সরকারি মিউজিয়াম এবং দু’টি কৃত্রিম হ্রদ আনা সাগর ও ফয় সাগর।
তৃতীয় দিন চলে যান ১৫ কিমি দূরে পুষ্করতীর্থে। হ্রদ ও অসংখ্য মন্দির নিয়ে মরুভূমির বুকে এক টুকরো পুষ্কর।

একাদশ দিন – ঘরপানে ফেরা। কলকাতায় ফিরলে দুপুর ১২.৪৫-এ শিয়ালদহ এক্সপ্রেস ধরুন। শিয়ালদহ পৌঁছোবে পরের দিন বিকেল ৩.৫০ মিনিটে।
বিমানে ফিরতে চাইলে অজমের থেকে জয়পুর আসুন, দূরত্ব ১৩১ কিমি। জয়পুর থেকে বিমান ধরুন।
সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি হোটেল। হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তাদের সন্ধান পেয়ে যাবেন। জয়পুর, ফতেপুর, বিকানের এবং অজমেরে পাবেন রাজস্থান পর্যটনের হোটেলও।
রাজস্থানের শহরগুলিতে স্থানীয় গাড়ি বুক করে দ্রষ্টব্য দেখে নেবেন। তবে জয়পুর শহরের দ্রষ্টব্যস্থানগুলি রাজস্থান পর্যটনের বাসে দেখতে পারেন। আগাম সিট পর্যটনের ওয়েবসাইট থেকে বুক করে নিতে পারেন।

(১) অনলাইন হোটেল বুকিং করার জন্য রাজস্থান পর্যটনের ওয়েবসাইট https://rtdc.tourism.rajasthan.gov.in/
(২) অনলাইনে বাস বুকিং করার জন্য রাজস্থান পরিবহণ নিগমের ওয়েবসাইট https://rsrtconline.rajasthan.gov.in
(৩) রাজস্থান পর্যটনের কলকাতা অফিস – কমার্স হাউস, ২ গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ, কলকাতা ৭০০০১৩, যোগাযোগ – ০৯৪১৪২ ৫৩২৯৯
(৪) ট্রেন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেখে নিন erail.in–এ।
(৫) গুগুল সার্চ করে উড়ানের সময় পেয়ে যাবেন।

(১) যদি বিমানে জয়পুর আসেন, তা হলে এমন সময়ের উড়ানে আসুন যাতে জয়পুরে ঘোরার জন্য পুরো দু’টো দিন হাতে পান।
(২) জয়পুর থেকে যদি সকাল সকাল গাড়িতে বেরিয়ে পড়েন ফতেপুর আসার জন্য তা হলে সে দিনই পথে দেখে নিতে পারেন শিকার ও লছমনগড়। সে ক্ষেত্রে পরের দিন ফতেপুর থেকে সোজা আসুন নওয়লগড় (৪৮ কিমি)। তার পর নওয়লগড় থেকে ঝুনঝুনু (৩৯ কিমি), ঝুনঝুনু থেকে মান্ডোয়া (৩০ কিমি) ও মান্ডোয়া থেকে ফিরুন ফতেপুর (২১ কিমি)।
(৩) ‘পয়েন্ট টু পয়েন্ট’ গাড়ি বুক না করে পুরো ট্যুরের জন্য গাড়ি বুক করে নিতে পারেন। গুগল সার্চ করে গাড়ির এজেন্টের খোঁজ পেয়ে যাবেন।
প্রথম ছবি: আনাসাগর লেক।
আরও পড়তে পারেন
হৈমন্তীপার্বণ: শঙ্খ নয়, হাওড়ার ভট্টাচার্যবাড়ির জগদ্ধাত্রীর বাঁ হাতে থাকে খড়্গ
রাজস্থানে উন্মোচিত হল বিশ্বের উচ্চতম শিবমূর্তি
‘মহিলা-বান্ধব পর্যটন’ প্রকল্পের সূচনা করল কেরলের পর্যটন দফতর
তামিলনাড়ুর স্বল্পচেনা গন্তব্য, সৈকত-মন্দিরের শহর তিরুচেন্দুর
The post চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ২: জয়পুর-ফতেপুর-বিকানের-অজমের appeared first on Bhramon Online.
]]>