The post শারদীয় ঐতিহ্যে ৬০০ বছরের সাক্ষী, নদিয়ার শান্তিপুরের জজ পণ্ডিত বাড়ির একচালা দুর্গাপুজো appeared first on Bhramon Online.
]]>দেবীপুরাণ মতে একচালা ঠাকুরের মৃন্ময়ী রূপের পূজা হয় এখানে। একচালা প্রতিমায় লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশের অনুপস্থিতি এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
সাড়ে চারশো বছরের গণ্ডি পেরিয়েছে অনেক আগে। কারও মতে, ইতিহাস আরও পুরনো—৬০০ বছরেরও বেশি। সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছে জমিদারির ঐশ্বর্য, কিন্তু প্রথা ও নিষ্ঠা আজও টিকে আছে নদিয়ার শান্তিপুরের তর্কবাগীশ লেনের জজ পণ্ডিত বাড়ির দুর্গাপুজোয়।
আদতে চৈতল মাহেশের বংশধর চট্টোপাধ্যায় পরিবার বিহারের গয়ার যদুয়াতে জমিদার ছিলেন। এই পরিবারের পীতাম্বর চট্টোপাধ্যায় ব্রিটিশ আমলে পান ‘তর্কবাগীশ’ উপাধি। প্রজাদের সমস্যা মেটানোর জন্য তাঁকে ‘জজ পণ্ডিত’ নামেও ডাকা হত। পরে পরিবারটি শান্তিপুরে চলে আসে এবং এখানেই শুরু হয় দুর্গার আরাধনা।
এখানে দেবী মহিষাসুরমর্দিনী রূপে একাই বিরাজ করেন। পরিবারের সদস্যরাই দেবীর পূজার্চনা করেন। বোধন হয় ঠাকুরবাড়ির কাছে পঞ্চবটি আসনে। মায়ের পাদদেশে রয়েছে পঞ্চমুণ্ডির আসন, সম্পূর্ণ মাটির তৈরি। পঞ্চবটি ও পঞ্চমুণ্ডির একত্র উপস্থিতি বাংলার পুজোয় বিরল দৃশ্য।

একসময় নবমীর দিনে ১০৮ মোষ ও ২৮ পাঁঠা বলি হত। এখন প্রতীকী কুমড়ো বলি হয়। দশমীতে মায়ের ভোগে থাকে পান্তা ভাত।
আগে নবমীতে নাটমন্দিরের মাঠে কর্দমাক্ত উৎসব ও ফানুস উড়ানোর আয়োজন ছিল। এখন তা নেই, তবে ডগরের বাজনায় সেই ঐতিহ্যের ঝলক এখনও পাওয়া যায়।
এই পুজোয় একসময় এসেছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারের জামাতা ছিলেন কবি ভোলানাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (শোককাব্য ‘অশ্রু’ খ্যাত)। তাঁর প্রপৌত্র ড. শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভোলানাথের সঙ্গে বন্ধুত্বের সূত্রে বিভূতিভূষণ এসেছিলেন এই পুজোয়।
ড. সঞ্চারী চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই বাড়িতে দুর্গাপুজো আসলে এক মিলন উৎসব। পরিবারের সবাই একত্রিত হন, আর প্রথা-রীতির মধ্য দিয়েই আজও দেবীর পুজো হয়।”
কী ভাবে যাবেন
ট্রেন – শিয়ালদহ থেকে শান্তিপুর লোকাল → শান্তিপুর স্টেশন → টোটো/রিকশা → ডাকঘর মোড়।
বাস – কলকাতা থেকে শান্তিপুর বাস → ডাকঘর স্টপেজ/বাইপাস → টোটো/রিকশা।
গাড়ি – এনএইচ-১২ হয়ে রানাঘাট হয়ে শান্তিপুর → ডাকঘর মোড়।
The post শারদীয় ঐতিহ্যে ৬০০ বছরের সাক্ষী, নদিয়ার শান্তিপুরের জজ পণ্ডিত বাড়ির একচালা দুর্গাপুজো appeared first on Bhramon Online.
]]>The post ঘুরে আসুন রাজ্যের বারোটি শৈব তীর্থ, পর্ব ৩ appeared first on Bhramon Online.
]]>শিবের জটায় থাকে গঙ্গা। আর এই পবিত্র নদী গঙ্গা পাড়ে একের পর এক শৈব তীর্থ। তাছাড়াও বিভিন্ন নদীর পাড়ে বাংলার একাধিক শৈব তীর্থ সুবিখ্যাত। শুধু ধর্মীয় দিক থেকে নয়, এই সকল অঞ্চলের ইতিহাস যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। লোকসংস্কৃতির নানা উপাদানে পরিপূর্ণ।

শিবনিবাস:
চলুন এবার যাওয়া যাক বাংলার কাশী। ঘুরে আসুন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শিবনিবাস গ্রাম থেকে। ১৭৪৫–১৭৪৯ এর মধ্যে বাংলায় বর্গি আক্রমণ হয়। একের পর এক গ্রাম মারাঠা বর্গী আক্রমণে শ্মশান হয়ে যায়। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র কৃষ্ণনগর থেকে রাজধানী সরিয়ে আনেন শিবনিবাস গ্রামে। তিনিই এই জায়গার নামকরণ করেন। শিবনিবাসে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র জাঁকজমক ভাবে বিপুল আয়োজন করে অগ্নিহোত্র বাজপেয় যজ্ঞ করেন। কাশী, কাঞ্চি থেকে পন্ডিত নিয়ে এসে বহু শাস্ত্র পাঠ ও যজ্ঞ করেন। ওই সময়ে শিবনিবাস কাশী হিসেব পরিচিত হয়। শিবনিবাসে রাজরাজেশ্বর মন্দির খুব উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য। স্থানীয়দের কাছে এটি বুড়ো শিবের মন্দির। পাশেই আছে রাজ্ঞীশ্বর শিব মন্দির ও ট্রাপিজিয়াম চতুর্ভুজের আকারে রামসীতা মন্দির। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে চুর্নি নদী।

শিবের মুখোশ
নবদ্বীপের বাবা বুড়োশিব:
শিবরাত্রির দিন মনে করা হয়, ভগবান শিব পার্বতীকে বিয়ে করেন। নবদ্বীপে শিবের এক অদ্ভুত মুখোশ পাওয়া যায়। যেটি পড়ে শিব পার্বতীকে বিয়ে করতে যায়। মাথায় টোপর। তারওপর বাসানো থাকে সাপ। আসলে নবদ্বীপে বুড়োশিব এই বেশে বিয়ে করেন। কথিত যে, তাহলে যতটা বুড়ো মনে হয় ততটা মনে হবে না। নবদ্বীপের বুড়োশিবতলার বুড়োশিব খুব জাগ্রত। বহু প্রাচীন। শিবরাত্রিতে বহু দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন মানত করতে। তীর্থমঙ্গলে এই শিবের উল্লেখ আছে।

বড়নগরের মন্দির
বড়নগর:
মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে বড়নগর। দেশের ‘সেরা পর্যটন গ্রাম’। এখানে আছে নাটোরের রানি ভবানীর চারবাংলা মন্দির। টেরাকোটা শিল্পের অনন্য এক ভান্ডার। গঙ্গা নদীর পাড়ে অন্যতম এক পর্যটন ক্ষেত্র। বড়নগরকে একসময় বাংলার বারানসী বলা হত। মহাশিবরাত্রি ও শিবের অন্যান্য উৎসবে প্রতিবছর পর্যটক ভিড় করেন।
(চলবে)
The post ঘুরে আসুন রাজ্যের বারোটি শৈব তীর্থ, পর্ব ৩ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post ঘুরে আসুন রাজ্যের বারোটি শৈব তীর্থ, পর্ব ২ appeared first on Bhramon Online.
]]>শিব আদি দেব ও মহাজ্ঞানী। সকল দেবের দেবতা। তিনি অল্পতেই তুষ্ট। আবার অল্পতেই রুষ্ট। তাঁর শ্মশানে বাস। বাহন নন্দী ভূত-প্রেত চরদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বহুকাল ধরেই অনার্যদের দেবতা ছিলেন।

কুষাণ যুগে আমরা শিব উপাসনার কথা জানতে পারি। বহু গবেষক মনে করেন কনিষ্ক নিজে শিবের উপাসনা করতেন। কুষাণ যুগে শিবের মূর্তি ও শিব লিঙ্গ পাওয়া গিয়েছিল। গান্ধার শিল্পেও শিব মূর্তি পাওয়া যায়। কনিষ্ক এর সময়কাল ভারতের এক গৌরবময় অধ্যায়। কণিষ্কের আমলে বৌদ্ধধর্মের প্রসার ও একাধিক বৌদ্ধ স্তুপ নির্মাণ হয়। তেমনভাবেই হিন্দু ধর্মের প্রভাব শিল্পে ফুটে ওঠে। দিল্লির জাতীয় জাদুঘর, মথুরা জাদুঘর, পেশোয়ার জাদুঘরে কণিষ্কের সময়কার শিবের মূর্তি সংরক্ষিত আছে।
বর্ধমানেশ্বর শিব:
বর্ধমানে বর্ধমানেশ্বর শিবকে অনেকেই বুড়ো শিব বা মোটাবাবা নামেও ডাকেন। তবে বেশি খ্যাতি মোটাবাবা নামটির। পশ্চিমবঙ্গের গবেষক বিনয় ঘোষের মতে শিব হলেন বর্ধমানের লোকদেবতা। বর্ধমানের আলমগঞ্জ এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে এই বিশাল শিবলিঙ্গটি উদ্ধার করা হয়েছিল। ইনিই বর্ধমানেশ্বর শিব। গবেষকরা মনে করেন কুষাণ সাম্রাজ্যের সময়কার এই শিবলিঙ্গ। তখন অঞ্চলটি ছিল পুরুষপুরের অধীনে। মনে করা হয় এখানে এক বৌদ্ধ কেন্দ্র গড়ে ওঠে। গবেষণায় উঠে এসেছে কণিষ্ক নিজে বর্ধমানেশ্বর শিবের উপাসক ছিলেন। মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে এখানে ব্যাপক ভক্তসমাগম হয়। মানুষের বিশ্বাস, তাঁর আশীর্বাদে সব সংকট দূর হয়। বর্ধমান স্টেশন থেকে খানিক দূরত্বে বর্ধমানেশ্বর বা মোটাবাবাকে দর্শন করে আসুন।

বর্ধমানের ১০৮ শিব মন্দির:
বর্ধমানের এক অপূর্ব শিল্পকীর্তি। বর্ধমানের রাজা তিলোকচাঁদের রানী বিষ্ণুমতি নবাবহাটে ১০৮ শিব মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তবে ১০৮ মন্দির বলা হলেও আরো একটি মন্দির এখানে বেশি আছে। যার কারণ জানা যায় না। মন্দির গুলোর স্থাপত্যশৈলী চার চালা। সারা বছর এখানে লোকসমাগম ঘটে। লোকমুখে বিশ্বাস, ভয়ংকর দুর্ভিক্ষের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য রানী এই মন্দির নির্মাণ করেন। বর্ধমান স্টেশন থেকে টোটো নিয়ে মন্দির দর্শন করে নেওয়া যায়।
চুঁচুড়ার ষন্ডেশ্বরতলা:
হুগলিতে চুঁচুড়ার মানুষের জাগ্রত দেবতা বাবা ষন্ডেশ্বর। ষন্ডেশ্বরতলার গাজন খুব বিখ্যাত। চুঁচুড়া স্টেশন থেকে টোটো নিয়ে চলে আসুন ষন্ডেশ্বরতলায়। দিগম্বর হালদার স্বপ্নাদেশ পেয়ে গঙ্গা থেকে বাবা ষন্ডেশ্বরের মুর্তি উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠা করেন। মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে এখানে অসংখ্য ভক্তের সমাগম ঘটে।
(চলবে)
The post ঘুরে আসুন রাজ্যের বারোটি শৈব তীর্থ, পর্ব ২ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post মাটির কুমির জীবন্ত হয়ে যায় প্রতীকী হত্যা না করলে appeared first on Bhramon Online.
]]>অনেকে এই পুজোকে বাস্তু পুজো বলেন। বিশ্বাস যে পুজো দিলে বাস্তু দোষ কাটবে। আজকাল এই পুজো একরকম প্রায় বিলুপ্তির পথে।
দুই তিন দিন আগে থেকে মাটি দিয়ে একটি কুমির বানানো হয়। এরপর কুমিরটিকে সাজানো হয়। শেষে তাকে পুজো দিয়ে গলা কাটতে হয়। নাহলে লোকায়ত বিশ্বাস কুমিরটি জীবন্ত হয়ে গ্রামবাসীকে আক্রমণ করবে।
পুজো উপলক্ষে গ্রামের সকল মানুষকে খাওয়ানো হয়। গ্রামের মানুষ নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো পালন করেন। গ্রামবাসী একসঙ্গে মিলিত হয়ে নানারকম অনুষ্ঠানে মেতে ওঠেন।
সুন্দরবন ও নদীয়া জেলার বেশ কিছু অঞ্চলে কুমির পুজোর প্রচলন আছে। কুমিরের হাত থেকে রক্ষার জন্য সুন্দরবনে কালুরায়ের পুজো হয়। গ্রাম বাংলায় কুমির পুজোর রীতি এক আলাদাই অভিনবত্ব স্থাপন করে।
The post মাটির কুমির জীবন্ত হয়ে যায় প্রতীকী হত্যা না করলে appeared first on Bhramon Online.
]]>The post বোলপুরের কাছেই গুপ্ত, পাল, সেন প্রভৃতি আমলের নিদর্শন! যেন এক সংগ্রহশালা, পর্ব ৫ appeared first on Bhramon Online.
]]>পর্ব ৫
মুকুট তপাদার
সমগ্র এশিয়ার প্রাচীনতম দুর্গামূর্তি দেউলী গ্রামে। অজয় নদীর পাড়ে পার্বতী মন্দির। যার লোকমুখে প্রচলিত নাম খ্যাঁদা পার্বতী। গবেষকরা মনে করেন মূর্তিটি পাল যুগের সময়কার। প্রস্তরমূর্তিটি গ্রামবাসীদের কাছে জাগ্রত দেবী। জনপ্রিয় ধারণা অনুযায়ী আছে বহু রহস্য। গোটা গ্রামে কোথাও দুর্গোৎসব হয় না। শরৎকালে এই প্রস্তরমূর্তিকে শাস্ত্র মতে পুজো করা হয়। নবমীর দিন হয় বিশেষ পুজোপাঠ।

বৃহৎ বঙ্গে পাল যুগের সময়কার ভাস্কর্য শিল্প চরম শিখরে পৌঁছায়। শিল্পকর্মে ধর্মীয় চিন্তাভাবনার পাশাপাশি সেকালের শিল্পীদের অবিশ্বাস্য কাজ আশ্চর্য করে। নিজস্ব উৎকীর্ণ সৃষ্টির মধ্যে থাকে যেন শিল্পের জাল বোনা। যদি শিল্পানুরাগী হন, তবে আপনাকে মুগ্ধ করে তুলবে!
দেউলীর মূর্তি পাল রাজা নয় পালের আমলে নির্মিত মনে করা হয়। ঐতিহাসিকরা জায়গাটি পরিদর্শন করে এমনই তথ্য দেন। তার রাজত্বকাল ছিল ১০৩৮ থেকে ১০৫৫ খ্রিস্টাব্দ। তিনি প্রথম মহিপালের পুত্র। এমন প্রস্তরমূর্তি আরো আটটি ছিল জানা যায়। বর্তমানে সেই সময়ের মূর্তি এই একটি আছে।
পাদপীঠের ওপর মূর্তিটি। নিচে মহিষের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসেছে মহিষাসুর। বামদিকে শার্দুল। মূর্তির পিছনের অংশে দুইদিকে আছেন অপ্সরা। মাথায় কীর্তিমুখ, শক্তির প্রতীক।

কালাপাহাড়ের হাত থেকেও রেহাই পায়নি পাল যুগের এই ভাস্কর্য। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে একাধিক মন্দিরে আক্রমণ চালিয়ে উন্মত্ত অবস্থায় এলেন এখানে। মূর্তিটির ক্ষতিসাধন করলেন। নাকের সামনের অংশটি তরবারির কোপে দিলেন ভেঙে। করলেন লুটপাট। সেই কালাপাহাড়ের আক্রমণের পর থেকে দেউলী গ্রামে দেবীর নাম হয় খ্যাঁদা পার্বতী।
কিভাবে যাবেন :
শিয়ালদহ বা হাওড়া থেকে ট্রেনে বোলপুর। সেখান থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্বে দেউলী গ্রাম। বোলপুর থেকে টোটো বা গাড়ি বুক করে ঘুরে নিন।
(সমাপ্তি)
The post বোলপুরের কাছেই গুপ্ত, পাল, সেন প্রভৃতি আমলের নিদর্শন! যেন এক সংগ্রহশালা, পর্ব ৫ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post বনবিবি…বনদেবী…এক অজানা সুন্দরবনের কাহিনি appeared first on Bhramon Online.
]]>দুই বাংলার দক্ষিণে ছড়িয়ে থাকা বিস্তীর্ণ বাদাবন বা জঙ্গল অর্থাৎ সুন্দরবনের একমাত্র ভরসার ও আরাধ্য দেবী হলেন বনবিবি বা বনদেবী। জঙ্গলে প্রবেশ করার আগে মাঝি-জেলেরা এই দেবীর পুজো দিয়ে থাকে।
বনবিবি ও তার পরিবারকে নিয়ে অনেক রকম গল্পকথা আছে। সেগুলোকে পালাগানও বলা হয়। আজ অর্থাৎ পয়লা মাঘ বনবিবির পুজো। এই পুজোটা বেশ অন্য রকমের হয়।
এই পুজোয় তথাকথিত কোনো মন্ত্রোচ্চারণ থাকে না। তার বদলে থাকে পাঁচালিপাঠ। ঠিক যেমন বাড়িতে লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়া হয়, সে রকমই বনবিবির পাঁচালি।

বনবিবি, তাঁর ভাই শাহ জঙ্গলি, গাজিবাবা এবং দুঃখে। এঁরা প্রত্যেকই মুসলিম ধর্মাবলম্বী, আর দক্ষিণ রায় হিন্দুধর্মাবলম্বী। তা হলে এ বার প্রশ্নটা হচ্ছে পাঠ কে করে, মৌলবী নাকি পুরোহিত? মজার বিষয় হল এঁরা কেউ পাঠ করেন না। গ্রামের কোনো সৎ বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ এই পাঁচালিপাঠের দায়িত্বে থাকেন।
সব থেকে অবাক হওয়ার পালা আসে পুজোর শেষ অংশে। যখন পূজারি বলেন, “বলো বনবিবির নামে আল্লাহ আল্লাহ”…দিগ্বিদিক থেকে এক সঙ্গে সমস্বরে উচ্চারিত হয়, “আল্লাহ আল্লাহ”।
ঠিক তেমনি পূজারি আবার বলেন, “বলো, দক্ষিণ রায়ের এর নামে হরিবোল”… আগের মতোই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সমস্বরে উচ্চারিত হয়, “হরিবোল, হরিবোল”।

বিভিন্ন দ্বীপের বিভিন্ন ক্লাব বনবিবির পুজো করেন ঠিক যেমন কলকাতায় বারোয়ারি দুর্গাপুজো হয়। তবে একটা তফাত আছে। কলকাতায় প্রত্যেকটা ক্লাব নিজের আলাদা আলাদা প্যান্ডেল করে পুজো করে, সুন্দরবনের চার-পাঁচটা ক্লাব মিলে তাদের ক্লাবের বনবিবি, দক্ষিণ রায়ের মূর্তিগুলো এক জায়গায় রেখে পুজো করে। প্রসাদ হিসেবে একটি পাতার ওপর দু’টো করে বাতাসা দেওয়া হয়।
জঙ্গল ঘোরা বাদ দিলে শুধু বনবিবির পুজো নিয়েই একদিন হই হই করে কাটিয়ে দেওয়া যায় সুন্দরবনে। এ বছর যাওয়া হল না পুজোয়। তাই বাড়িতে বসেই বলতে ইচ্ছে করছিল…
“বলো, বনবিবির নামে আল্লাহ আল্লাহ”,
“বলো, দক্ষিণ রায়ের নামে হরিবোল, হরিবোল”।
ছবি: লেখক
The post বনবিবি…বনদেবী…এক অজানা সুন্দরবনের কাহিনি appeared first on Bhramon Online.
]]>The post হৈমন্তীপাবর্ণ: শান্তিপুরের ব্রহ্মচারী পরিবারের সোয়া শ’ বছরের জগদ্ধাত্রীপুজো appeared first on Bhramon Online.
]]>দেখতে দেখতে জগদ্ধাত্রীপুজোও এসে গেল। চলুন যাওয়া যাক নদিয়ার শান্তিপুরে। দেখে আসা যাক সেখানকার ব্রহ্মচারী পরিবারের জগদ্ধাত্রীপুজো।
শান্তিপুরে ব্রহ্মচারী পরিবারের জগদ্ধাত্রীপুজো অতি প্রাচীন নয়। এর বয়স সোয়া শ’ বছরের কিছু বেশি। কিন্তু আদতে এই পুজোর সূত্রপাত শান্তিপুরে নয়, অন্যত্র। এর গোড়াপত্তনের ইতিহাস জানতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে প্রায় সাড়ে ৫০০ বছর।
ব্রহ্মচারী বংশের আদিপুরুষ চামু ব্রহ্মচারী বাস করতেন অধুনা বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের নাটোরে। সময়টা ছিল ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দ। ব্রহ্মচারীদের আদি পদবি বাগচী। সৎ-মা এবং নিজের মায়ের দ্বন্দ্বের কারণে পৈতের সময় তিন দিনের রাত্রিবাস শেষ করার আগেই চামু দণ্ডীঘর থেকে আগেই বেরিয়ে আসেন সন্ন্যাস গ্রহণের জন্য। তাই এর পর থেকে পরিবারের সদস্যরা বাগচীর পরিবর্তে ব্রহ্মচারী পদবি লিখতে শুরু করেন। চামু ব্রহ্মচারী অবশ্য আবার পরিবারে ফিরে এসেছিলেন, তবে তাঁদের পদবি বাগচীতে ফিরে যায়নি।
সেই সময় বাংলায় চলছিল হুসেন শাহের আমল। তাঁর আমলে ১৪৮৮ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ব্রহ্মচারী পরিবার অধুনা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার অন্তর্গত সুভাষগ্রাম ও মল্লিকপুরের মাঝে মালঞ্চ গ্রামের জমিদারি পান। তার বছর তিনেক পর মালঞ্চ গ্রামে ব্রহ্মচারী বংশে দুর্গাপুজো শুরু হয়। সেই বছরই শুরু হয় জগদ্ধাত্রীপুজো।
এই ঘটনার শ’ চারেক বছর পরে ১৮৮০-৮৫ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ চামু ব্রহ্মচারীর উত্তরপুরুষ রামগোপাল ব্রহ্মচারী মালঞ্চ থেকে বেরিয়ে আসেন ও শান্তিপুরে চলে যান। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ব্রহ্মচারী পরিবারের পাটের ব্যাবসা ছিল। পরিবারে ব্যক্তিগত সংঘাতের কারণে রামগোপালের পাটের গুদামে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রামগোপাল ব্রহ্মচারী নিঃসম্বল হন।
রামগোপালের মাতুলালয় ছিল শান্তিপুরের মৈত্র পরিবার। মৈত্র পরিবারের রজনীকান্ত মৈত্রের সঙ্গে রামগোপাল ব্রহ্মচারী ব্যাবসার কারণে সংযোগ স্থাপন করেন এবং শান্তিপুরে চলে আসেন। তিনি শান্তিপুরে নিজের বাড়ি ও আটচালা নির্মাণ করেন। নির্মাণের পর তিনি দেবীর স্বপ্নাদেশ পান – কালীপুজোর পরেই আয়োজন করতে হবে জগদ্ধাত্রীপুজোর। হাতে সময় খুব কম, কিন্তু দেবীই সব ব্যবস্থা করে দেন।
স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরদিন রামগোপাল গঙ্গাস্নানে গিয়ে ৭ বছরের এক বালিকাকে দেখেন ও তাঁকেই অনুসরণ করে গিয়ে এক কুম্ভকারের বাড়িতে পৌঁছে যান। সেই কুম্ভকারের কাছেই জগদ্ধাত্রী মূর্তি নির্মাণের ব্যবস্থা হয়। এ ভাবেই মালঞ্চ থেকে সরে এসে শান্তিপুরে জগদ্ধাত্রীপুজো শুরু হয় ১৮৯৪-৯৫ সাল নাগাদ।

পরবর্তী কালে রামগোপাল ব্রহ্মচারীর প্রথম ও দ্বিতীয় পুত্র এই পুজোর হাল ধরেন। রামগোপালের দ্বিতীয় পুত্র ভুতনাথ ব্রহ্মচারীর সময় জগদ্ধাত্রীপুজোর জাঁকজমক বাড়ে এবং সেই সময় অর্থাৎ ১৯০৫-০৭ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ ভুতনাথ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে মায়ের গহনা তৈরি করেন এবং পাশাপাশি পারিবারিক সম্পত্তির পরিমাণও বাড়ান। রামগোপাল ব্রহ্মচারীর নির্মিত আটচালার সংস্কার করে ভুতনাথ ব্রহ্মচারী দেবীদালান নির্মাণ করেন, তার সামনে নাটমন্দির।
ব্রহ্মচারী বংশে জগদ্ধাত্রীর রঙ উদিত সূর্যের মতো লাল। এই পরিবারে একদিনেই পুজো হয় অর্থাৎ নবমী তিথিতে ত্রিকালীন পূজা। দেবীর চালচিত্রে রয়েছে হস্তশিল্পের ছোঁয়া। দেবী সিংহবাহিনী এবং রাজসিংহরূপ লক্ষ করা যায়। জগদ্ধাত্রীকে স্বর্ণালংকারে সাজানো হয়। এই পরিবারে দেবী স্বয়ং বৈষ্ণবী হলেও তাঁর পুজো হয় তন্ত্রমতে। দেবীকে সম্পূর্ণ নিরামিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। একমাত্র শক্তিমন্ত্রে দীক্ষিত বাড়ির মহিলারাই ভোগ রান্না করতে পারেন।
এই পরিবারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল সম্পূর্ণ গঙ্গাজলে ভোগ রান্না হয় এবং সৈন্ধবনুন ব্যবহৃত হয়। ভোগে থাকে ঘিভাত, খিচুড়ি, ভাজা, তরকারি, পায়েস, চাটনি ইত্যাদি। ভোগঘর থেকে দেবীর কাছে ভোগ নিয়ে যাওয়ার সময় অন্দরমহলের সমস্ত দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই পরিবারে এখনও নরনারায়ণ সেবার ব্যবস্থা করা হয়। পুজোয় আখ, চালকুমড়ো এবং কলা বলি হয়। পূজার সময় ১০৮ দীপ প্রজ্জ্বলিত হয়।
পূজার আগের দিন চণ্ডীপাঠ হয় এবং সন্ধ্যায় দেবীর অধিবাস হয় এবং অধিবাস শেষে বাড়ির মহিলারা ঢাকিদেরও বরণ করেন যাকে ‘তালঠান্ডা’ বলা হয়। এই রীতি কেবলমাত্র নদিয়া জেলাতেই লক্ষ করা যায়।
দশমীর দিন সকাল থেকেই বাড়ির ছেলেরা রীতি অনুযায়ী আতশবাজি তৈরি করেন নিজের হাতে। দশমীর দিন পরিবারে ইলিশ মাছ খাওয়া হয়। ওই দিন কনকাঞ্জলি প্রথার মাধ্যমে দেবীকে বিদায় জানানো হয়। এখনও কাঁধে করে দেবীকে নিরঞ্জনের পথে নিয়ে যাওয়া হয়। দেবীকে বিসর্জনের সময় বাড়ির ছেলেদের তৈরি আতশবাজি পোড়ানো হয়। বিসর্জন শেষে বাড়ির দালানে জোড়া সত্যনারায়ণ পূজা হয় এবং পূজা শেষে শান্তিজল প্রদানের মাধ্যমে পূজার পরিসমাপ্তি ঘটে ব্রহ্মচারী বংশের।
এই ব্রহ্মচারী বংশের গৃহদেবী মা শীতলারও পূজা হয় দশমীর দিনে এবং নগরের দেবী মা সিদ্ধেশ্বরীরও পূজা হয় নৈবেদ্য সহযোগে।
শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে চলুন শান্তিপুর। স্টেশন থেকে ব্রহ্মচারীবাড়ি চলুন টোটোয় বা রিকশায়। কলকাতা থেকে শান্তিপুর বাসে বা গাড়িতেও যেতে পারেন। দূরত্ব ৯৪ কিমি।
আরও পড়তে পারেন
চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ২: জয়পুর-ফতেপুর-বিকানের-অজমের
চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ১: আগ্রা-ভরতপুর-দৌসা-জয়পুর-সরিস্কা-অলওয়র
হৈমন্তীপার্বণ: শঙ্খ নয়, হাওড়ার ভট্টাচার্যবাড়ির জগদ্ধাত্রীর বাঁ হাতে থাকে খড়্গ
হৈমন্তীপাবর্ণ: শিবপুরে যে বারোয়ারি জগদ্ধাত্রীপুজোর সূচনা হয়েছিল রায় চৌধুরীদের উঠোনে
The post হৈমন্তীপাবর্ণ: শান্তিপুরের ব্রহ্মচারী পরিবারের সোয়া শ’ বছরের জগদ্ধাত্রীপুজো appeared first on Bhramon Online.
]]>The post হৈমন্তীপার্বণ: শঙ্খ নয়, হাওড়ার ভট্টাচার্যবাড়ির জগদ্ধাত্রীর বাঁ হাতে থাকে খড়্গ appeared first on Bhramon Online.
]]>দেখতে দেখতে জগদ্ধাত্রীপুজোও এসে গেল। সারা বছরের ক্লান্তি ভুলে উৎসবের দিনগুলিতে মানুষ সংসারের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসে একটু আনন্দ উপভোগ করার জন্য। প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখার ভিড় উপচে পড়ে। একটি বার সবাই চায় মায়ের সেই জ্যোতির্ময়ী বিগ্রহকে সামনে থেকে দেখতে। হাওড়া শহরেও বেশ কিছু বনেদিবাড়ি রয়েছে যেখানে বহু কাল ধরে জগদ্ধাত্রীপুজো হয়ে আসছে।
হাওড়ার ভট্টাচার্যবাড়ির জগদ্ধাত্রীপুজো এ বার ২৫৮ বছরে পদার্পণ করল। এই পরিবারের ঐতিহ্য এবং বনেদিয়ানা যেন পলকে পলকে অনুভব করা যায় ঠাকুরদালানে দাঁড়ালেই।
কথিত আছে জগদ্ধাত্রী হলেন উমা হৈমবতী দুর্গা। তিনি আদি, তিনি অনন্ত, আর তিনি মহামায়ার সাত্ত্বিক রূপ। মহামায়ার রাজসিক গুণের প্রকাশ যদি হন দুর্গা, তা হলে সাত্ত্বিক রূপ এই জগদ্ধাত্রী। সাধকের মন যখন স্থির হয়, চঞ্চলতা কেটে গিয়ে মন আত্মভিমূখে গিয়ে দেবীর চরণে নিমগ্ন হয়, তখনই শ্রীশ্রীজগদ্ধাত্রী কৃপা করেন। তিনি ধারণী শক্তি। তিনি এ জগত ধরে আছেন, না ধরলে এ জগত পড়ে যাবে কালের অনন্ত কালে।
১৭৬৫ সালের কার্তিক মাসের শুক্লানবমীতে ত্রিপুরাসুন্দরী জগদ্ধাত্রী দেবীর আরাধনা শুরু হয় আন্দুলের বিখ্যাত ভট্টাচার্য বংশীয় গোপীমোহন ভট্টাচার্যের হাত ধরে বর্তমান হাওড়া শহরের মল্লিকফটকের বাড়িতে। গোপীমোহন সেই বছরেই তাঁর বংশের প্রাচীন কূলদেবী শ্রীশ্রীশঙ্করীদুর্গা (কালীযন্ত্রের আধারে) এবং পারিবারিক দুর্গাপূজা নিয়ে আসেন তাঁদের আন্দুলের বসতবাটী থেকে।
গোপীমোহনের পিতা আন্দুলের বিখ্যাত তন্ত্রসাধক ভৈরবীচরণ বিদ্যাসাগর তাঁর বসতগৃহে দুর্গাপূজা করতেন এবং তাঁর ইষ্টদেবী শঙ্করীকালীর সেবার্চনা করতেন। তাঁর শেষ বয়সে তিনি তাঁর সম্পত্তি দুই পুত্রের মধ্যে ভাগ করে দেন। বড়ো পুত্র জগমোহন বাচস্পতিকে শঙ্করীকালীর সেবা আর ছোটো পুত্র গোপীমোহনকে শঙ্করীদুর্গার সেবার দায়িত্ব দেন।

গোপীমোহন দুর্গাসেবার দায়িত্ব নিয়ে হাওড়ার মল্লিকফটকে তাঁদের দ্বিতীয় গৃহে আসেন এবং ঠাকুরদালান নির্মাণ করে পারিবারিক প্রাচীন দুর্গাপূজা চালিয়ে যান। কিন্তু শাস্ত্রমতে দুর্গাপূজার শেষে আরেক শক্তিপূজা করা আবশ্যক। কিন্তু কালীসাধক বংশীয় হয়েও গোপীমোহন কালীপূজা করলেন না কারণ তাঁদের বংশীয় প্রতিষ্ঠিত শঙ্করীকালী অবস্থান করছেন আন্দুলে তাঁর পিতার প্রতিষ্ঠিত কালীমন্দিরে, যা আজকের আন্দুলে দেবী সিদ্ধেশ্বরী শঙ্করীকালী মন্দির হিসাবে বিখ্যাত। কালীপূজার পরিবর্তে গোপীমোহন পিতৃ-আদেশ মেনে শ্রীশ্রীজগত্তারিণী জগদ্ধাত্রী দুর্গাপূজা শুরু করেন। সেই পূজাই তাঁর পুত্র রামনারায়ণ হতে সাত পুরুষ ধরে মল্লিকফটকের বাড়িতে হয়ে আসছে।
রামনারায়ণের পুত্র উমাচরণ তৎপুত্র বরদাচরণের এক মেয়ে অভয়াবালা দেবী। অভয়াবালা দেবী বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হন রমেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। পিতার অকাল প্রয়াণের পর দুর্গা এবং জগদ্ধাত্রীপূজার গুরু দায়িত্ব পড়ে অভয়াবালার উপরে। ওঁর চার পুত্র এবং তাঁদের পরিবার সেই দায়িত্ব পালন করে আসছে। অভয়াবালা দেবীর সেজো পুত্র ভুপেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের পরিবার ১৯৮৪ সাল থেকে জগদ্ধাত্রীপূজার মূল দায়িত্ব পালন করছেন।
জগদ্ধাত্রীপূজার আচার শুদ্ধ তান্ত্রিক আচার। এই বাড়িতে শুক্লানবমীতেই সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমীর পূজা হয়। মহাস্নানে ডাবের জল আবশ্যিক কারণ সেটি দক্ষিণাচারী তান্ত্রিক আচার। দেবীর বাঁ হাতে শঙ্খের জায়গায় থাকে খড়্গ। আগে পাঁঠাবলি হলেও ১৯৮৪ থেকে প্রাচীন হাঁড়িকাঠে চালকুমড়ো, বাতাবিলেবু এবং আখবলি হয়। নবমীপূজায় বলিদান এবং অষ্টমীতে ২৮টি দীপ দান হয়। মাকে মাছভোগ দেওয়া হয়ে থাকে এবং ‘নবান্ন’ নৈবেদ্য নিবেদিত হয়। ‘নবান্ন’য় জোড়া কড়াইশুঁটি, চাল আর নতুন নলেনগুড় হল আবশ্যিক।
সময় বদলেছে তার সঙ্গে বদলেছে আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি। খালি বদলায়নি মাতৃআবেগে ভরপুর হাওড়া তথা বাংলার এই প্রাচীন জগদ্ধাত্রীপুজো।
আরও পড়তে পারেন
রাজস্থানে উন্মোচিত হল বিশ্বের উচ্চতম শিবমূর্তি
হৈমন্তীপাবর্ণ: শিবপুরে যে বারোয়ারি জগদ্ধাত্রীপুজোর সূচনা হয়েছিল রায় চৌধুরীদের উঠোনে
চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ১: আগ্রা-ভরতপুর-দৌসা-জয়পুর-সরিস্কা-অলওয়র
The post হৈমন্তীপার্বণ: শঙ্খ নয়, হাওড়ার ভট্টাচার্যবাড়ির জগদ্ধাত্রীর বাঁ হাতে থাকে খড়্গ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post হৈমন্তীপাবর্ণ: শিবপুরে যে বারোয়ারি জগদ্ধাত্রীপুজোর সূচনা হয়েছিল রায় চৌধুরীদের উঠোনে appeared first on Bhramon Online.
]]>হাওড়ার শিবপুরে এমন এক বারোয়ারিপুজোয় জগদ্ধাত্রীর আরাধনা হয়, যার সূচনা হয়েছিল শিবপুরের রায় চৌধুরীদের উঠোনে। বছর তিনেক আগে সেই পুজোর সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ পূর্ণ হয়েছে।
১৯৭০ সালে এই পুজো শুরু হয়। সেই সময়ে রায় চৌধুরী পরিবারের ঠাকুরদালানে দুর্গাপুজো ও কালীপুজো ছাড়া সে অঞ্চলে আর কোনো পুজো হত না। সে কারণেই অঞ্চলের কিছু বাসিন্দা এবং রায় চৌধুরী পরিবারের সদস্যরা মিলে শুরু করলেন মা জগদ্ধাত্রীর আরাধনা।
শারদীয়া মহাপূজা যেমন চার দিনের হয়, সন্ধিপূজা, কুমারীপুজো যেমন মহাপূজার অঙ্গ হিসাবেই পরিচিত, তেমনই শিবপুরের বাসিন্দারাও ঠিক করলেন যে ঠিক দুর্গাপুজোর মতোই জগদ্ধাত্রীপুজোও করবেন চার দিন ধরে এবং সেখানে সন্ধিপূজা, কুমারীপুজো সমস্তই অনুষ্ঠিত হবে। এ ভাবেই প্রথম দু’ বছর রায় চৌধুরীদের উঠোনেই সম্পন্ন হয় দেবীপূজা।
পুজো যখন তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করে তখন সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন যে তাঁরা এই পুজোটি আর রায় চৌধুরীদের উঠোনে করবেন না, পুজোটি বাড়ির চার দেওয়ালের বাইরে নিয়ে আসবেন। সেইমতো ব্যবস্থা হয়। তবে সে বছর একটা বিপত্তি ঘটে। জগদ্ধাত্রীপুজোর নবমীর দিন রাত্রিবেলা কোনো এক অজ্ঞাত কারণে দেবীপ্রতিমাটি আগুনে পুড়ে যায়, তবে প্যান্ডেল অক্ষত অবস্থাতেই থাকে। পরের দিন পুজো কমিটির সদস্যরা আবার নতুন প্রতিমা এনে চার প্রহরে পুজো করে তার পর নিরঞ্জনের পথে রওনা হন। এই ঘটনার পরেও অবশ্য রায় চৌধুরী বাড়ির বাইরেই পুজো হতে থাকে।

চার দিনের পুজোয় ষষ্ঠীর দিন দেবীর অধিবাস হয়। দুর্গাপুজোয় সন্ধিপূজা থাকলেও জগদ্ধাত্রীপুজোয় এর কোনো বিধান নেই, তবুও শিবপুরের এই পুজোয় অষ্টমী এবং নবমীর সন্ধিক্ষণে একটি বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। এই সময়ে দেবীকে চামুণ্ডা রূপেই পুজো করা হয়। সেই সময় দেবীকে ১০৮টি পদ্ম, ১০৮টি প্রজ্জ্বলিত দীপশিখা নিবেদন করা হয়।
পুজোর তিন দিনই দেবীকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয়। পুজোর সকালে চালের নৈবেদ্যভোগ, নানা রকমের ফল দেবীকে নিবেদন করা হয় এবং দুপুরে খিচুড়িভোগ দেওয়া হয়। সঙ্গে থাকে নানা রকমের ভাজা, তরকারি, চাটনি, পায়েস ইত্যাদি। সন্ধ্যায় দেবীকে লুচিভোগ দেওয়া হয়। তবে সন্ধিক্ষণের পুজোয় কোনো রকম অন্নভোগ হয় না। সেই সময় ঘি-মধু দিয়ে শুকনো চাল মেখে নিবেদন করা হয় দেবীকে, সেই সঙ্গে নানা ফল, মিষ্টিও। দশমীর দিন কনকাঞ্জলিপ্রথাও রয়েছে এখানে।
আরও পড়তে পারেন
সোনায় মুড়ল কেদারনাথ মন্দিরের গর্ভগৃহ, সাজানো হল সাড়ে পাঁচশো পাতে
নভেম্বরে কাশ্মীরে জাফরান উৎসব, শিকারা উৎসব, প্রস্তুতি তুঙ্গে
৭৫ বছরে সর্বোচ্চ পর্যটক আগমন রেকর্ড করল জম্মু-কাশ্মীর
চলুন ঘুরে আসি রাজস্থান ১: আগ্রা-ভরতপুর-দৌসা-জয়পুর-সরিস্কা-অলওয়র
The post হৈমন্তীপাবর্ণ: শিবপুরে যে বারোয়ারি জগদ্ধাত্রীপুজোর সূচনা হয়েছিল রায় চৌধুরীদের উঠোনে appeared first on Bhramon Online.
]]>The post হৈমন্তীপার্বণ: বটকৃষ্ণ পাল পরিবারের জগদ্ধাত্রীপুজোর ১২৩ বছর appeared first on Bhramon Online.
]]>কলকাতার বেনিয়াটোলা স্ট্রিটে পাল পরিবারের জগদ্ধাত্রীপুজো ১২৩ বছরে পড়ল। ১৩০৭ বঙ্গাব্দে তথা ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে এই পুজো শুরু করেছিলেন এই পরিবারের বিখ্যাত মানুষ বটকৃষ্ণ পাল।
পাল পরিবারের আদি নিবাস হাওড়ার শিবপুরে। ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে বটকৃষ্ণ পাল সেখানে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তী কালের প্রথিতযশা এই পুরুষটি ১২ বছর বয়সে কলকাতায় মামার বাড়িতে চলে আসেন। একটু বড়ো হয়ে শুরু করেন ব্যবসা। কালক্রমে সেই ব্যবসা বৃহৎ মহীরুহের আকার ধারণ করে। প্রখ্যাত ওষুধ ব্যবসায়ী ও প্রস্তুতকারক হিসাবে তাঁর নাম ও যশ দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘বটকৃষ্ণ পাল অ্যান্ড কোং’।
বটকৃষ্ণ পাল মহাশয় ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে ৭৭ বেনিয়াটোলা স্ট্রিটে জমি কিনে তাঁর সুবৃহৎ বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। ওই বাড়িতে এক সুরম্য সুন্দর কারুকার্যখচিত ঠাকুরদালান তৈরি করেন। এই ঠাকুরদালানেই ১৩০৭ বঙ্গাব্দে মহাসমারোহে জগদ্ধাত্রীমাতার পুজো শুরু হয়।

এই পুজো করার আগে শিবপুরে বটকৃষ্ণ পালের পরিবারে অভয়া দুর্গামাতার পুজো হত। বটকৃষ্ণবাবুর ইচ্ছা ছিল বেনিয়াটোলার বসতবাড়িতে শিবপুরের অভয়ামায়েরই পুজো করার। কিন্তু তাঁর উত্তরপুরুষদের মুখে জানা যায়, বটকৃষ্ণ পালের স্ত্রীকে মা স্বপ্নাদেশে জানান, তিনি শিবপুরের আদি বাড়িতেই পুজো পেতে চান এবং আদেশ করেন বেনিয়াটোলার বাড়িতে মা দুর্গার আরও এক রূপ পদ্মাসীনা জগদ্ধাত্রীর পুজো করতে।
মায়ের আদেশে বটকৃষ্ণ পাল মহাশয় আজীবন ৭৭ বেনিয়াটোলা স্ট্রিটের বসতবাড়িতে জগদ্ধাত্রীপুজো করে গেছেন। পরবর্তী প্রজন্মও নিষ্ঠাভরে সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে পুজো করে আসছে। এ বছর এই পুজো ১২৩ বছরে পদার্পণ করল।

পাল পরিবারের জগদ্ধাত্রী প্রতিমার বিশেষত্ব হল, বাহন সিংহের পিঠে মা দু’ পা মুড়ে বাবু হয়ে বসে আছেন। মায়ের সঙ্গে রয়েছেন তাঁর চার সখী। মাকে স্বর্ণালংকারে ভূষিত করা হয়। মায়ের সাজসজ্জা আগে ঢাকা থেকে শিল্পী এনে তৈরি করানো হত। এখন কলকাতার শিল্পীরাই তৈরি করেন। আকন্দ তুলোর ছোটো ছোটো আঁশ বের করে মায়ের বাহন সিংহের সর্বাঙ্গে আঠা দিয়ে গায়ের লোম হিসাবে লাগানো হয়, যা শৈল্পিক সুষমামণ্ডিত। ঠাকুরের পিছনে থাকে ধাতুনির্মিত বাহারি পাতা ও দৃষ্টিনন্দন ফল-শোভিত এক অনন্য চালচিত্র।
দিনে তিন বার পুজো ছাড়াও হয় সন্ধিপুজো। তাতে আধ মণ চালের নৈবেদ্য, গোটা ফল, ১০৮ পদ্ম ও প্রদীপ নিবেদন করা হয়। দেবীর নিরঞ্জনের সময় লরিতে চৌকির ওপর চালচিত্র সমেত সখী-সহ মাকে অধিষ্ঠিত করা হয়। বিসর্জনের সময় শোভাযাত্রা আরও এক ঐতিহ্য। এই ভাবে পালবাড়িতে প্রাচীন ধারামতেই আজও পুজো পেয়ে আসছেন মা জগদ্ধাত্রী ।
আরও পড়তে পারেন
হৈমন্তীপার্বণ: পরিবেশ আর স্থান মাহাত্ম্যেই অনন্য ব্রহ্মশাসনের জগদ্ধাত্রীপুজো
দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ‘ডিজনিল্যান্ড’? অর্থনীতি চাঙ্গা করার পরিকল্পনা শ্রীলঙ্কার
The post হৈমন্তীপার্বণ: বটকৃষ্ণ পাল পরিবারের জগদ্ধাত্রীপুজোর ১২৩ বছর appeared first on Bhramon Online.
]]>