The post গঙ্গার তীরে নতুন বিলাসবহুল ঠিকানা, রায়চকে খুলল তাজ গঙ্গা কুটির রিসর্ট অ্যান্ড স্পা appeared first on Bhramon Online.
]]>আইএইচসিএল-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও পুণীত ছাটওয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, “গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলের কাছে রায়চকের অনন্য পরিবেশ বাংলার ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। তাজ গঙ্গা কুটির চালুর মাধ্যমে আমরা দেশের স্বতন্ত্র গন্তব্যগুলিতে প্রসারিত হওয়ার অঙ্গীকারকে আরও জোরদার করছি।”

১০০ একর বিস্তৃত এই সম্পত্তিতে রয়েছে ১৫৫টি কক্ষ ও স্যুইট, যেখানে গঙ্গার অপরূপ দৃশ্যের সঙ্গে মিলবে গ্রামীণ বাংলার অনুরণন। অতিথিদের জন্য রয়েছে ‘মাচান’ ও ‘হাউস অফ মিং’-এর মতো স্বাক্ষর রেস্টুরেন্ট, রিভার ভিউ লাউঞ্জ, ইনফিনিটি-এজ পুল, আধুনিক ফিটনেস সেন্টার, ইনডোর-আউটডোর খেলার ব্যবস্থা এবং তাজের স্বাক্ষর স্পা— জে ওয়েলনেস সার্কেল।
৭০,০০০ বর্গফুট জুড়ে থাকা ব্যাঙ্কোয়েট স্পেস রিসর্টটিকে উপযুক্ত করে তুলেছে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং, কর্পোরেট রিট্রিট এবং বৃহৎ অনুষ্ঠানের জন্য।
অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নেওটিয়া বলেন, “আইএইচসিএল-এর সঙ্গে আমাদের সফল অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিয়ে এই উৎসব মরসুমে তাজ গঙ্গা কুটির উন্মোচন করতে পেরে আমরা গর্বিত। এটি শুধু আতিথেয়তায় উৎকর্ষতার প্রতিফলন নয়, বরং স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে প্রসারিত করার দিকেও এক বড় পদক্ষেপ।”

কলকাতা থেকে মাত্র আড়াই ঘণ্টার ড্রাইভ দূরে অবস্থিত রায়চককে নতুন করে সাজিয়েছে গঙ্গার তীরের আবহ, দুর্গসদৃশ স্থাপত্য, গ্রামীণ পথে হাঁটা, লোকসংস্কৃতির আসর এবং বাংলার বিখ্যাত চায়ের আস্বাদন। উৎসবের মরসুমে পর্যটন শিল্পে রায়চক যে বিশেষ মাত্রা যোগ করবে, তা বলাই বাহুল্য।
আরও পড়ুন: যমুনাসুল: ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে শান্ত সমুদ্রতটে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা
The post গঙ্গার তীরে নতুন বিলাসবহুল ঠিকানা, রায়চকে খুলল তাজ গঙ্গা কুটির রিসর্ট অ্যান্ড স্পা appeared first on Bhramon Online.
]]>The post শারদীয় ঐতিহ্যে ৬০০ বছরের সাক্ষী, নদিয়ার শান্তিপুরের জজ পণ্ডিত বাড়ির একচালা দুর্গাপুজো appeared first on Bhramon Online.
]]>দেবীপুরাণ মতে একচালা ঠাকুরের মৃন্ময়ী রূপের পূজা হয় এখানে। একচালা প্রতিমায় লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশের অনুপস্থিতি এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
সাড়ে চারশো বছরের গণ্ডি পেরিয়েছে অনেক আগে। কারও মতে, ইতিহাস আরও পুরনো—৬০০ বছরেরও বেশি। সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছে জমিদারির ঐশ্বর্য, কিন্তু প্রথা ও নিষ্ঠা আজও টিকে আছে নদিয়ার শান্তিপুরের তর্কবাগীশ লেনের জজ পণ্ডিত বাড়ির দুর্গাপুজোয়।
আদতে চৈতল মাহেশের বংশধর চট্টোপাধ্যায় পরিবার বিহারের গয়ার যদুয়াতে জমিদার ছিলেন। এই পরিবারের পীতাম্বর চট্টোপাধ্যায় ব্রিটিশ আমলে পান ‘তর্কবাগীশ’ উপাধি। প্রজাদের সমস্যা মেটানোর জন্য তাঁকে ‘জজ পণ্ডিত’ নামেও ডাকা হত। পরে পরিবারটি শান্তিপুরে চলে আসে এবং এখানেই শুরু হয় দুর্গার আরাধনা।
এখানে দেবী মহিষাসুরমর্দিনী রূপে একাই বিরাজ করেন। পরিবারের সদস্যরাই দেবীর পূজার্চনা করেন। বোধন হয় ঠাকুরবাড়ির কাছে পঞ্চবটি আসনে। মায়ের পাদদেশে রয়েছে পঞ্চমুণ্ডির আসন, সম্পূর্ণ মাটির তৈরি। পঞ্চবটি ও পঞ্চমুণ্ডির একত্র উপস্থিতি বাংলার পুজোয় বিরল দৃশ্য।

একসময় নবমীর দিনে ১০৮ মোষ ও ২৮ পাঁঠা বলি হত। এখন প্রতীকী কুমড়ো বলি হয়। দশমীতে মায়ের ভোগে থাকে পান্তা ভাত।
আগে নবমীতে নাটমন্দিরের মাঠে কর্দমাক্ত উৎসব ও ফানুস উড়ানোর আয়োজন ছিল। এখন তা নেই, তবে ডগরের বাজনায় সেই ঐতিহ্যের ঝলক এখনও পাওয়া যায়।
এই পুজোয় একসময় এসেছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারের জামাতা ছিলেন কবি ভোলানাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (শোককাব্য ‘অশ্রু’ খ্যাত)। তাঁর প্রপৌত্র ড. শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভোলানাথের সঙ্গে বন্ধুত্বের সূত্রে বিভূতিভূষণ এসেছিলেন এই পুজোয়।
ড. সঞ্চারী চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই বাড়িতে দুর্গাপুজো আসলে এক মিলন উৎসব। পরিবারের সবাই একত্রিত হন, আর প্রথা-রীতির মধ্য দিয়েই আজও দেবীর পুজো হয়।”
কী ভাবে যাবেন
ট্রেন – শিয়ালদহ থেকে শান্তিপুর লোকাল → শান্তিপুর স্টেশন → টোটো/রিকশা → ডাকঘর মোড়।
বাস – কলকাতা থেকে শান্তিপুর বাস → ডাকঘর স্টপেজ/বাইপাস → টোটো/রিকশা।
গাড়ি – এনএইচ-১২ হয়ে রানাঘাট হয়ে শান্তিপুর → ডাকঘর মোড়।
The post শারদীয় ঐতিহ্যে ৬০০ বছরের সাক্ষী, নদিয়ার শান্তিপুরের জজ পণ্ডিত বাড়ির একচালা দুর্গাপুজো appeared first on Bhramon Online.
]]>The post মধু মাসে নন্দগাঁও ও বারসানার হোলি উৎসব appeared first on Bhramon Online.
]]>আজ রঙে রঙে সেজেছে ব্রজধাম। দিগন্ত জুড়ে শুধুই বসন্তের রঙ। মথুরা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে নন্দগাঁও। এক ঐতিহাসিক জায়গা। সেখানে হরেক রঙের আবিরে মেতেছে ব্রজবাসী। ধর্মীয় উৎসব, কিন্তু সে যেন সকল মানুষের একতার বন্ধন। এখানকার জলবায়ু অত্যন্ত মনোরম।
নন্দগাঁও গ্রামে নন্দভবন এক তীর্থ। ভগবান কৃষ্ণের বেড়ে ওঠা এই গ্রামে। পিতা নন্দ মহারাজ কৃষ্ণকে নিয়ে এই পাহাড়ের ওপরে গ্রামে থাকতেন। পাহাড়ের নাম নন্দীশ্বর পাহাড়। আরও দুটি পাহাড় আছে। এদের মধ্যে একটি গিরি গোবর্ধন। মা যশোদার সঙ্গে কৃষ্ণের সকল লীলা এই নন্দগাঁওতে। গিরি গোবর্ধন মন্দির, রাধা মদন মোহন মন্দির, মনসা মন্দির, নরসিংহ মন্দির, যশোদা মাতার মন্দির এখানকার আকর্ষণীয় সব জায়গা।

তিনটি পাহাড়ের মধ্যে একটি পাহাড়ের মাথায় বারসানা গ্রাম। রাধা কৃষ্ণের মিলনস্থল। কথিত আছে যে, শ্রীকৃষ্ণ এখানেই রাধাকে রং মাখিয়ে দেন। এযে এক মিলন ভূমি। মথুরা ও বৃন্দাবনের থেকে এখানকার রঙ খেলা একটু অন্যরকম। হোলির এক সপ্তাহ আগে থেকেই এখানে উৎসবের সূচনা। লাঠি দিয়ে রঙ খেলা হয়। যার নাম লাঠমার হোলি। সারা ভারতে আর কোথাও এমন দৃশ্য দেখা যায় না। নন্দগাঁও ও বারসানা গ্রামে এই বিশেষ হোলির আলাদাই এক আকর্ষন আছে।
The post মধু মাসে নন্দগাঁও ও বারসানার হোলি উৎসব appeared first on Bhramon Online.
]]>The post শান্তিনিকেতনের বিখ্যাত মহামায়া পাইস হোটেল appeared first on Bhramon Online.
]]>
উইকেন্ডে কয়েক দিন হাতে ছুটি পেয়েছেন, ইচ্ছে আছে শান্তিনিকেতন যাবেন? নব ফাল্গুনের দিনে আপনার একমাত্র গন্তব্য হতেই পারে বোলপুর শান্তিনিকেতন। বসন্ত উৎসবে সকলের কাছে প্রিয় শান্তিনিকেতন। রবীন্দ্রনাথ এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের প্রচলন করেন। আর এইবার শান্তিনিকেতনে গেলে মহামায়া হোটেলে খেতে একদম ভুলবেন না। বাঙালিয়ানায় ভরপুর।
শান্তিনিকেতনের মহামায়া পাইস হোটেলটিতে কাঠ কয়লায় সব সময় রান্না করা হয়। ১৯৫০ সালে স্থাপিত হয়। পরিবেশন করা হয় শালপাতার থালায়। খোঁড়াতে করে জল। ভাত, ডাল, তরকারি, আলু পোস্ত, মাংস সহ আরো নানা রকমারি খাবার এখানকার বিশেষ আকর্ষণ।
গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য মহামায়া হোটেল প্রতিষ্ঠা করেন। আজও পরিবেশনের কায়দা একই রকম আছে। যা আপনার ভালো লাগবে। বসন্ত উৎসবের সময় বোলপুর গেলে একবার চেখে দেখবেন। উনুনে রান্নার স্বাদ আপনার স্বাদ বদল আনবে।
The post শান্তিনিকেতনের বিখ্যাত মহামায়া পাইস হোটেল appeared first on Bhramon Online.
]]>The post বেলুড় রাসবাড়ির পঞ্চদোল উৎসব appeared first on Bhramon Online.
]]>
১৮৯০ সালে শিবকৃষ্ণ দাঁ রাসবাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। রাসবাড়ি মূলত নবরত্ন মন্দির। ৪০ ফুট উঁচু। ভেতরে রাধারমণ জীউ বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত। নবরত্ন মন্দিরের দুপাশে রয়েছে দুটি নহবতখানা। এর সঙ্গেই আছে এক অপূর্ব রাসমঞ্চ। ছটি শিব মন্দির গঙ্গার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে। রাসবাড়ির পাশেই আছে এক চমৎকার ঘড়ি মিনার। ঘড়ির মধ্যে শ্রী শ্রী রাধারমণ জীউ এর নাম বসানো আছে। ঘড়ি মিনারটি ইউরোপীয় শৈলীতে নির্মিত।

এখানে সারা বছর রাস, দোল, জন্মাষ্টমী, ঝুলন উৎসব মহা ধুমধাম করে পালন করা হয়। তবে এর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণীয় হলো দোল উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে রাসবাড়ি চত্বর সেজে ওঠে।
বেলুড় রাসবাড়ির বিশেষ আকর্ষণ পঞ্চদোল। যা এখানকার এক অন্যতম বৈচিত্র্য। ফাল্গুনী পূর্ণিমায় দোল উৎসবের ঠিক পরেই পঞ্চদোলের শুভ সূচনা হয়। এই দিনের গুরুত্ব কি জানেন?
পঞ্চদোল গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের অন্যতম প্রধান এক উৎসব। বলা হয়, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই দোলের সূচনা করেন। তাঁর পার্ষদ রামানন্দের সঙ্গে আলোচনা করে মনে করেছিলেন বিশেষ এই উৎসবটির প্রয়োজন আছে। বৃন্দাবনে রাধা কৃষ্ণ সখিদের নিয়ে এই দিনে লীলা করতেন।
বেলুড় রাসবাড়িতে পঞ্চদোল মহোৎসব পালিত হয়। রাধারমণ জীউ এর বিশেষ পুজো হয়। আরতি ও ভোগ নিবেদন করা হয়। রাসবাড়ি ঘিরে সকলে আনন্দে মেতে ওঠেন।
কিভাবে যাবেন:
হাওড়া থেকে ট্রেনে বেলুড় স্টেশন। সেখান থেকে টোটো নিয়ে চলে আসুন রাসবাড়ি। গঙ্গাবক্ষেও আসতে পারেন। লঞ্চে বেলুড় এসে, সেখান থেকে টোটোয় রাসবাড়ি আসতে পারেন।
The post বেলুড় রাসবাড়ির পঞ্চদোল উৎসব appeared first on Bhramon Online.
]]>The post হুগলির ত্রিবেণীতে ৭০২ বছর পর কুম্ভমেলা appeared first on Bhramon Online.
]]>ভাগবত পুরাণে বলা হয়েছে পুলস্ত্য মুনি হলেন একজন ঋষি। তিনি ব্রহ্মার দশ মানসপুত্রদের একজন। মহাভারতের বনপর্বে পুলস্ত্য মুনি ত্রিবেণীর পূণ্যতীর্থে কুম্ভমেলার কথা উল্লেখ করেছেন।
বাঁশবেড়িয়ায় অবস্থিত ত্রিবেণী মুক্তবেণী নামেও পরিচিত। ষোড়শ শতাব্দীর বৈষ্ণব সন্ন্যাসী শ্রীচৈতন্যদেব এসেছিলেন ত্রিবেণীতে। কুন্তী নদী, গঙ্গা ও সরস্বতী এই তিন নদীর সঙ্গম ত্রিবেণী।
৭০২ বছর পর হুগলির ত্রিবেণীতে শুরু হলো কুম্ভমেলা। ১৩ তারিখ ছিল শাহী স্নান। মনসামঙ্গল ও চণ্ডীমঙ্গল থেকে জানা যায় অতীতে ত্রিবেণী ছিল এক তীর্থস্থান। বহু মন্দির এখানে গড়ে ওঠে। ত্রিবেণী ঘাটের কিনারে আজ কিছু মন্দির টিকে আছে। এখানে এক সময় বহু টোল ছিল। জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন, রঘুদেব বাচস্পতি, রুদ্রদেব ছিলেন বিখ্যাত সব পণ্ডিত। উড়িষ্যার রাজা মুকুন্দদেব এখানে বহু মন্দির ও ঘাট নির্মাণ করে দেন। চতুর্দশ শতাব্দীর গোড়াতে এই ধর্মতীর্থে মুসলমান অভিযান হয়েছিল।
ত্রিবেণী সপ্তর্ষি ঘাটে বহু সাধু ও পুণ্যার্থীদের ভিড় হয় ক্ষুদ্র কুম্ভে। নির্ঘণ্ট মেনে দুপুরে শাহি স্নান শুরু হয়। দুপুর থেকে শুরু হয়েছিল প্রচুর লোকের সমাগম। হাজার হাজার মানুষের ভিড় চোখে পড়েছিল। তবে নির্বিঘ্নে স্নান হয়। স্নানের পর ঘাটে পুজো ও যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল। সাধুদের আশীর্বাদ ভক্তরা নেন। বিভিন্ন নাগা সাধুদের আগমন কুম্ভমেলায় ঘটেছিল। পুণ্যার্থীরা খুবই খুশি ছিলেন সকল রকম পরিষেবা পেয়ে। মেলা চত্বর কার্যত কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে ফেলা হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাধু ও ভক্তরা আসেন।
The post হুগলির ত্রিবেণীতে ৭০২ বছর পর কুম্ভমেলা appeared first on Bhramon Online.
]]>The post ঘুরে আসুন রাজ্যের বারোটি শৈব তীর্থ, পর্ব ৩ appeared first on Bhramon Online.
]]>শিবের জটায় থাকে গঙ্গা। আর এই পবিত্র নদী গঙ্গা পাড়ে একের পর এক শৈব তীর্থ। তাছাড়াও বিভিন্ন নদীর পাড়ে বাংলার একাধিক শৈব তীর্থ সুবিখ্যাত। শুধু ধর্মীয় দিক থেকে নয়, এই সকল অঞ্চলের ইতিহাস যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। লোকসংস্কৃতির নানা উপাদানে পরিপূর্ণ।

শিবনিবাস:
চলুন এবার যাওয়া যাক বাংলার কাশী। ঘুরে আসুন পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শিবনিবাস গ্রাম থেকে। ১৭৪৫–১৭৪৯ এর মধ্যে বাংলায় বর্গি আক্রমণ হয়। একের পর এক গ্রাম মারাঠা বর্গী আক্রমণে শ্মশান হয়ে যায়। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র কৃষ্ণনগর থেকে রাজধানী সরিয়ে আনেন শিবনিবাস গ্রামে। তিনিই এই জায়গার নামকরণ করেন। শিবনিবাসে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র জাঁকজমক ভাবে বিপুল আয়োজন করে অগ্নিহোত্র বাজপেয় যজ্ঞ করেন। কাশী, কাঞ্চি থেকে পন্ডিত নিয়ে এসে বহু শাস্ত্র পাঠ ও যজ্ঞ করেন। ওই সময়ে শিবনিবাস কাশী হিসেব পরিচিত হয়। শিবনিবাসে রাজরাজেশ্বর মন্দির খুব উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য। স্থানীয়দের কাছে এটি বুড়ো শিবের মন্দির। পাশেই আছে রাজ্ঞীশ্বর শিব মন্দির ও ট্রাপিজিয়াম চতুর্ভুজের আকারে রামসীতা মন্দির। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে চুর্নি নদী।

শিবের মুখোশ
নবদ্বীপের বাবা বুড়োশিব:
শিবরাত্রির দিন মনে করা হয়, ভগবান শিব পার্বতীকে বিয়ে করেন। নবদ্বীপে শিবের এক অদ্ভুত মুখোশ পাওয়া যায়। যেটি পড়ে শিব পার্বতীকে বিয়ে করতে যায়। মাথায় টোপর। তারওপর বাসানো থাকে সাপ। আসলে নবদ্বীপে বুড়োশিব এই বেশে বিয়ে করেন। কথিত যে, তাহলে যতটা বুড়ো মনে হয় ততটা মনে হবে না। নবদ্বীপের বুড়োশিবতলার বুড়োশিব খুব জাগ্রত। বহু প্রাচীন। শিবরাত্রিতে বহু দূর দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন মানত করতে। তীর্থমঙ্গলে এই শিবের উল্লেখ আছে।

বড়নগরের মন্দির
বড়নগর:
মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে বড়নগর। দেশের ‘সেরা পর্যটন গ্রাম’। এখানে আছে নাটোরের রানি ভবানীর চারবাংলা মন্দির। টেরাকোটা শিল্পের অনন্য এক ভান্ডার। গঙ্গা নদীর পাড়ে অন্যতম এক পর্যটন ক্ষেত্র। বড়নগরকে একসময় বাংলার বারানসী বলা হত। মহাশিবরাত্রি ও শিবের অন্যান্য উৎসবে প্রতিবছর পর্যটক ভিড় করেন।
(চলবে)
The post ঘুরে আসুন রাজ্যের বারোটি শৈব তীর্থ, পর্ব ৩ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post ঘুরে আসুন রাজ্যের বারোটি শৈব তীর্থ, পর্ব ২ appeared first on Bhramon Online.
]]>শিব আদি দেব ও মহাজ্ঞানী। সকল দেবের দেবতা। তিনি অল্পতেই তুষ্ট। আবার অল্পতেই রুষ্ট। তাঁর শ্মশানে বাস। বাহন নন্দী ভূত-প্রেত চরদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বহুকাল ধরেই অনার্যদের দেবতা ছিলেন।

কুষাণ যুগে আমরা শিব উপাসনার কথা জানতে পারি। বহু গবেষক মনে করেন কনিষ্ক নিজে শিবের উপাসনা করতেন। কুষাণ যুগে শিবের মূর্তি ও শিব লিঙ্গ পাওয়া গিয়েছিল। গান্ধার শিল্পেও শিব মূর্তি পাওয়া যায়। কনিষ্ক এর সময়কাল ভারতের এক গৌরবময় অধ্যায়। কণিষ্কের আমলে বৌদ্ধধর্মের প্রসার ও একাধিক বৌদ্ধ স্তুপ নির্মাণ হয়। তেমনভাবেই হিন্দু ধর্মের প্রভাব শিল্পে ফুটে ওঠে। দিল্লির জাতীয় জাদুঘর, মথুরা জাদুঘর, পেশোয়ার জাদুঘরে কণিষ্কের সময়কার শিবের মূর্তি সংরক্ষিত আছে।
বর্ধমানেশ্বর শিব:
বর্ধমানে বর্ধমানেশ্বর শিবকে অনেকেই বুড়ো শিব বা মোটাবাবা নামেও ডাকেন। তবে বেশি খ্যাতি মোটাবাবা নামটির। পশ্চিমবঙ্গের গবেষক বিনয় ঘোষের মতে শিব হলেন বর্ধমানের লোকদেবতা। বর্ধমানের আলমগঞ্জ এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে এই বিশাল শিবলিঙ্গটি উদ্ধার করা হয়েছিল। ইনিই বর্ধমানেশ্বর শিব। গবেষকরা মনে করেন কুষাণ সাম্রাজ্যের সময়কার এই শিবলিঙ্গ। তখন অঞ্চলটি ছিল পুরুষপুরের অধীনে। মনে করা হয় এখানে এক বৌদ্ধ কেন্দ্র গড়ে ওঠে। গবেষণায় উঠে এসেছে কণিষ্ক নিজে বর্ধমানেশ্বর শিবের উপাসক ছিলেন। মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে এখানে ব্যাপক ভক্তসমাগম হয়। মানুষের বিশ্বাস, তাঁর আশীর্বাদে সব সংকট দূর হয়। বর্ধমান স্টেশন থেকে খানিক দূরত্বে বর্ধমানেশ্বর বা মোটাবাবাকে দর্শন করে আসুন।

বর্ধমানের ১০৮ শিব মন্দির:
বর্ধমানের এক অপূর্ব শিল্পকীর্তি। বর্ধমানের রাজা তিলোকচাঁদের রানী বিষ্ণুমতি নবাবহাটে ১০৮ শিব মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তবে ১০৮ মন্দির বলা হলেও আরো একটি মন্দির এখানে বেশি আছে। যার কারণ জানা যায় না। মন্দির গুলোর স্থাপত্যশৈলী চার চালা। সারা বছর এখানে লোকসমাগম ঘটে। লোকমুখে বিশ্বাস, ভয়ংকর দুর্ভিক্ষের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য রানী এই মন্দির নির্মাণ করেন। বর্ধমান স্টেশন থেকে টোটো নিয়ে মন্দির দর্শন করে নেওয়া যায়।
চুঁচুড়ার ষন্ডেশ্বরতলা:
হুগলিতে চুঁচুড়ার মানুষের জাগ্রত দেবতা বাবা ষন্ডেশ্বর। ষন্ডেশ্বরতলার গাজন খুব বিখ্যাত। চুঁচুড়া স্টেশন থেকে টোটো নিয়ে চলে আসুন ষন্ডেশ্বরতলায়। দিগম্বর হালদার স্বপ্নাদেশ পেয়ে গঙ্গা থেকে বাবা ষন্ডেশ্বরের মুর্তি উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠা করেন। মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে এখানে অসংখ্য ভক্তের সমাগম ঘটে।
(চলবে)
The post ঘুরে আসুন রাজ্যের বারোটি শৈব তীর্থ, পর্ব ২ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post অচেনা কলকাতা, পর্ব ২ appeared first on Bhramon Online.
]]>চিৎপুরের যাত্রাপাড়া:
কলকাতা জন্মের আগে চিৎপুর রোড। সাহেবরা জানতেন এই রাস্তা ছিল তীর্থ ভ্রমণের পথ। সেকালের মানুষ এই পথ ধরে চিত্তেশ্বরী মন্দির হয়ে কালীঘাট দর্শনে যেতেন। শোনা যায় শোভাবাজার রাজবাড়ির হাত ধরে কলকাতায় যাত্রাপালার সূচনা। এরপর শহরে যাত্রার ইতিহাস প্রায় তিনশো বছরের।
চিৎপুর রোডের দুপাশে আজও অপেক্ষায় থাকে অপেরা হাউজের মালিকেরা। কখন আসবে বায়না নিতে। অফিসের মাথায় বাঁধানো বোর্ড। যেখানে জ্বল জ্বল করছে নাম। চারপাশে একাধিক পালার ছবি। একটার পর একটা এগোলে ম্যাজিক। দেওয়ালে পরপর সাজানো পুরনো বোর্ড। তাতে কত রকম নতুন পুরনো পালার ছবি। যাত্রাপাড়ার অমূল্য রতন!
রথের দিন বিভিন্ন অপেরা হাউজ নতুন পালার নাম আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষনা করেন। ওইদিন যাত্রার বায়না হয়। শোনা যায়, গৌড়বঙ্গের চৈতন্য মহাপ্রভু ষোড়শ শতাব্দীতে রুক্মিণী চরিত্রে পালায় অভিনয় করেছিলেন। নাট্যাচার্য শিশির কুমার ভাদুড়ি বলতেন, আমাদের জাতীয় নাট্য বলিয়া যদি কিছু থাকে তাহাই যাত্রা।
উচ্চ শব্দ ও চড়া আলোর ব্যবহার যখন মঞ্চে ব্যবহার হয়, দর্শকদের মধ্যে আলোড়ন ফেলে দেয়। হাততালির জোয়ার আসে। মঞ্চে নাটকীয় উপস্থাপনায় ও যাত্রার গানে মানুষের ঘোর লাগে। গ্রামে গঞ্জে উপচে পড়ে ঠাসাঠাসি ভিড়। মুখ দেখে যাত্রার মালিকেরা।
উত্তর কলকাতার বাগবাজারে এই বছর শুরু হলো এক মাস ব্যাপী যাত্রা উৎসব। একবার যাত্রা মঞ্চে ঘুরে আসুন। যাত্রাপালা দেখে নস্টালজিক হয়ে পড়বেন। বাগবাজারের ফনিভূষণ বিদ্যাবিনোদ মঞ্চে যাত্রা উৎসব চলবে। ৬ মার্চ ‘আমি তালপাতার সেপাই’ পালা দিয়ে শেষ হবে যাত্রা উৎসব।
(চলবে)
The post অচেনা কলকাতা, পর্ব ২ appeared first on Bhramon Online.
]]>The post ব্রজের হোলি এ বছর ৪০ দিন আগে থেকে শুরু, নেমেছে ভক্তদের ঢল appeared first on Bhramon Online.
]]>লাঠমার হোলি, ফুলের হোলি, বাঁকে বিহারী মন্দিরে বিধবাদের হোলি আনন্দের সাথে এখানে উদযাপিত হয়। মথুরা কৃষ্ণের জন্মস্থান। তিনি হোলি খেলা এখানে শুরু করেছিলেন। স্বয়ং কৃষ্ণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পৌরাণিক কিংবদন্তি। মানুষের বিশ্বাস ভগবান এখানে ভক্তদের সঙ্গে হোলি খেলেন।
কখন যাবেন :
হোলি ও দোলযাত্রা উপলক্ষ্যে মথুরায় সাজো সাজো পরিবেশ গড়ে ওঠে। বেশ কিছুদিন আগে থাকতেই পৌঁছে যান। দ্বারকাধীশ মন্দির, রাধারানী মন্দির, মদনমোহন মন্দির, যমুনা ঘাট, মথুরার অলিতে গলিতে বহু মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। হোলির আগে থেকেই এখানে বহু আচার-অনুষ্ঠান নিষ্ঠা সহকারে পালন করা হয়। এই ধরনের অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ হলে সেটি খুবই সৌভাগ্যের।
কিভাবে যাবেন :
কলকাতা থেকে ট্রেনে মথুরা স্টেশন পৌঁছে যান। সেখান থেকে অটোরিকশা করে দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখুন।
The post ব্রজের হোলি এ বছর ৪০ দিন আগে থেকে শুরু, নেমেছে ভক্তদের ঢল appeared first on Bhramon Online.
]]>