• https://www.langdonparkatwestcovina.com/
  • Mbokslot
  • https://wise.wika.co.id/daftar-tamu
  • http://103.206.170.246:8080/visi/
  • https://ejeutap.edu.co/preguntas-frecuentes
  • https://slotplus777mantap.com/
  • https://www.thebraidsreleaser.com/pages/our-founders
  • https://apps.ban-pdm.id/sispena-paud/index.php/login
  • https://pmb.stkippgri-bkl.ac.id/info-prodi
  • https://pastiwin777.cfd/
  • mbokslot
  • https://solarcity.vn/mua/
  • https://wise.wika.co.id/syarat-dan-ketentuan
  • https://tbhconsultancy.com/join-us/careers/
  • https://www.langdonparkatwestcovina.com/floorplans
  • https://silancar.pekalongankota.go.id/newsilancar/
  • https://app.mywork.com.au/login
  • SLOT PULSA: Deposit Pulsa 100% Tanpa Potongan Gacor dan Slot Deposit 1000 Terpercaya
  • https://aeress.org/noticias/
  • https://aimtamagot.social//
  • https://naturf.net/ser-distribuidor/
  • https://perdami.or.id/web/perdami/1
  • https://tpfx.co.id/jurnal/
  • Mbokslot
  • http://103.81.246.107:35200/templates/itax/-/mbok/
  • https://alpsmedical.com/alps/
  • https://www.atrium.langdonparkatwestcovina.com/
  • https://elibrary.rac.gov.kh/
  • https://heylink.me/Mbokslot.com/
  • https://gentledentalharrow.co.uk/contact-us
  • https://www.capitainestudy.fr/quest-ce-que-le-mba/
  • ভ্রমণ কাহিনি Archives - Bhramon Online https://www.bhramononline.com/category/travel-blog/travel-stories/ Bengali Travel Tips & News | Bhraman Online Mon, 27 Oct 2025 09:11:32 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 https://www.bhramononline.com/wp-content/uploads/2018/07/cropped-logo-footer-1-1-32x32.png ভ্রমণ কাহিনি Archives - Bhramon Online https://www.bhramononline.com/category/travel-blog/travel-stories/ 32 32 181502987 বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ৪: প্রকৃতি যেখানে আপনার সঙ্গে বসত করে https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/north-bengal-after-the-disaster-part-4-where-nature-stays-with-you/ https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/north-bengal-after-the-disaster-part-4-where-nature-stays-with-you/#respond Mon, 27 Oct 2025 09:11:29 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=120227 শর্মিষ্ঠা সেন যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় ও পারের পাহাড়মালা। আমরাও রয়েছি পাহাড়ের কোলে। এ পারে। মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে

    The post বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ৪: প্রকৃতি যেখানে আপনার সঙ্গে বসত করে appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    শর্মিষ্ঠা সেন

    যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় ও পারের পাহাড়মালা। আমরাও রয়েছি পাহাড়ের কোলে। এ পারে। মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে পাহাড়ি স্রোতস্বতী। নদীর বুকে অসংখ্য ছোটো-বড়ো পাথর। তাদের বাধা কাটিয়ে ছোটো ছোটো ঢেউ তুলে তির তির করে বইছে সেই নদী, নাম যার রেশিখোলা। সিকিমের ভাষায় খোলা মানে নদী।

    চারিদিকে সুউচ্চ পাহাড়ে ঘেরা এই জায়গাটার নামও রেশিখোলা — সিকিম আর পশ্চিমবঙ্গের সীমানায়। আমরা রয়েছি সিকিমে, সামনের পাহাড় পশ্চিমবঙ্গে। সবুজ পাহাড়ের কোলে পাহাড়ি স্রোতার ধারে অবস্থিত রেশিখোলায় সত্যিই প্রকৃতি বসত করে। এখানে যে রিসর্টটিতে এসে উঠেছি তারও ক্যাচলাইন — হোয়্যার নেচার স্টেস উইথ ইউ। সত্যিই তা-ই — এখানে প্রকৃতির মাঝে আপনার বাস বা আপনাকে নিয়ে প্রকৃতির বাস।

    এই ভ্রমণে পাহাড়ে আমাদের তৃতীয় গন্তব্য ছিল এই রেশিখোলা। দুটো দিন দাওয়াইপানিতে মন ভরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শনের পর তৃতীয় দিনে ছেড়ে চললাম তাঁর সঙ্গ। মনটা বড়ো খারাপ। প্রাতরাশ সেরেই রওনা হলাম।

    লাভার্স মিট। তিস্তা ও রঙ্গিতের সংগম।

    ‘হজমোলা রোডের’ আড়াই কিমি পথ ভেঙে এলাম পেশক রোডে। মিনিটখানেকের মধ্যে সিক্সথ মাইল — বেশ বড়ো গঞ্জ। আরও খানিকটা এগিয়ে বাঁ দিকে নেমে গেল তাকদার পথ। পেরিয়ে এলাম লামাহাট্টা, লপচু। খানিকক্ষণ পরেই তিনচুলের রাস্তা উঠে গেল ডান দিকে পাহাড়ের ঢাল দিয়ে। পেশক পেরিয়ে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পৌঁছে গেলাম ‘লাভার্স মিট’-এ।

    সত্যিই ‘লাভার্স মিট’ – প্রেমিক-প্রেমিকার মিলন। প্রেমিক রঙ্গিত, আর প্রেমিকা তিস্তা। এই অঞ্চলের লোককাহিনি এ কথাই বলে। দেখা হল তিস্তার সঙ্গে রঙ্গিতের। তিস্তার প্রেমেই নিজেকে সঁপে দিল রঙ্গিত। যত বার এ পথে যাই, একবার তিস্তা-রঙ্গিত সংগম না দেখলে সাধ মেটে না। এবারেও তার অন্যথা হল না। উপর থেকে দুই নদীর সংগমস্থলটি খুব সুন্দর লাগে। পশ্চিমবঙ্গ আর সিকিম এখানে একাকার।

    রিসর্ট থেকে রেশি নদী।

    ক্রমশ নেমে এলাম তিস্তাবাজারে। সাম্প্রতিক দুর্যোগে তিস্তা ভাসিয়ে দিয়েছিল এই এলাকা। নদীর ধার বরাবর যত নির্মাণ ছিল, সব নদীগর্ভে। এখানে পেশক রোডও একেবারে নদীর ধার ঘেঁষে গেছে। এই সড়কও যে জলে ভেসেছিল, তার প্রমাণ সর্বত্র। পেশক রোড ঘুরে উঠল ১০ নং জাতীয় সড়কে। পেরোলাম তিস্তা ব্রিজ। দার্জিলিং পাহাড় ছেড়ে এলাম কালিম্পং পাহাড়ে। রেশিখোলা যাওয়ার আদত রাস্তা গ্যাংটকগামী  জাতীয় সড়ক ১০ দিয়ে। কিন্তু এই সড়ক এখন অনিশ্চয়তার পথ। কখন খোলা থাকে, আর বন্ধ থাকে, দেবা না জানন্তি…। তাই আমরা চললাম ঘুরপথে, কালিম্পং দিয়ে। কালিম্পং ছাড়িয়ে লাভামুখী রাস্তা ধরলাম। না, লাভা হয়ে নয়, তার আগেই বাঁ দিকের রাস্তা ধরব। একটু পরেই বাঁ দিকে উঠে গেল ডেলোর রাস্তা। কিছুক্ষণ পরেই চলে এলাম আলাগাড়া। সোজা বেরিয়ে গেল লাভার রাস্তা। আমরা চললাম বাঁ দিকে।

    পথের পাঁচালী। আমাদের দু’দিনের আবাস।

    ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের অনিশ্চয়তার জন্য পেডং হয়ে সিকিম যাওয়ার বিকল্প রাস্তাটি এখন যথেষ্ট জনপ্রিয়। এটাকেও সম্ভবত জাতীয় সড়কের রূপ দেওয়া হচ্ছে। যথেষ্ট চওড়া এবং এখনও অনেক জায়গায় কাজ চলছে। পেডং পেরিয়ে এক জায়গায় সিকিমে ঢোকার ছাড়পত্র তৈরি করানো হল। তার পর নদী পেরোতেই সেই ছাড়পত্র পরীক্ষা করা হল সিকিম পুলিশের তরফ থেকে। পরে বুঝেছিলাম এই নদীই রেশিখোলা। কিছুক্ষণ পাহাড়ের ঢাল বেয়ে পাথুরে এবড়োখেবড়ো পথ ধরে নেমে এলাম। ঘণ্টাচারেকের যাত্রা শেষ হল রেশির ধারে সেই রিসর্টে, যেখানে প্রকৃতি বসত করে আপনার সঙ্গে।

    লগ হাউস — শাখা প্রশাখা।

    দু’দিন ছিলাম রেশিখোলায়। প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে তোলা রিসর্ট। ছড়িয়েছিটিয়ে কটেজগুলো। আর প্রত্যেকটা কটেজের একটি করে নাম – পথের পাঁচালী, অপুর সংসার, গুপী বাঘা ফিরে এলো, শাখা প্রশাখা, ঘরে বাইরে ইত্যাদি। ডরমিটরির নাম চিড়িয়াখানা, লগ হাউসের নাম শাখা প্রশাখা। যেখানে খাওয়াদাওয়া হচ্ছে, সেই ঘরের নাম জলসাঘর। রিসর্টচত্বরে একটি খোলা জায়গায় রয়েছে সকালের চা, প্রাতরাশ ও সন্ধের স্যানক্স খাওয়ার জায়গা – নাম, খাইবার বাস। রয়েছে একটি দোলনা – নাম, সেদিন দু’জনে। যুগলের বসার জায়গা রয়েছে – সেটির আকার হৃদয়ের, তাই নাম রব নে বনা দি জোড়ি। কাঠের তৈরি একটি বসার জায়গা রয়েছে, কাঠের সিঁড়ি দিয়ে উঠে পৌঁছোতে হয় সেখানে, নাম চার মূর্তি। রিসর্টে ঢুকে ‘পথের পাঁচালী’তে মালপত্র রেখে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম। মন ভরে গেল। আপাতত পর্যটক প্রায় নেই বললেই চলে। রিসর্টচত্বরে আর রেশি নদীর ধারে বিচরণ করে দিনটা কেটে গেল। এখান থেকে কয়েকটা জায়গা গেলেই হয়, বিশেষ করে আরিতার লেক। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য, পূর্ণ বিশ্রাম।

    ‘জলসাঘর’-এর অন্দরে — সত্যজিৎ রায়ের বিভিন্ন সিনেমার ছবি দিয়ে সাজানো।

    দ্বিতীয় দিন দশ-বারো জনের একটি পর্যটকদল এল। দেখে মনে হল মা-বাবা এবং তাঁদের এক বা একাধিক সন্তান। সন্তানরা শিশু থেকে কিশোরবয়সি। দলটি রিসর্টে ঢুকল। সেই দলেরই দুটি শিশুকন্যা গোটা রিসর্টচত্বর দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করল। কত বয়স হবে — চার-পাঁচ! আমরা এক জায়গায় বসে ওদের নজর করছিলাম। ওরা এক একটা কটেজের সামনে যাচ্ছে আর কটেজের নাম পড়ছে জোরে জোরে — পথের পাঁচালী, অপুর সংসার, চিড়িয়াখানা, গুপী বাঘা ফিরে এলো, শাখা প্রশাখা, ঘরে বাইরে। ওরা নাম পড়ছে আর অবাক হয়ে যাচ্ছে — এ কেমন নাম! কাছেই ছিলেন ওদের মা। ওরা মাকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে তুলল — এগুলো কী নাম, কেন এরকম নাম ইত্যাদি ইত্যাদি। ওদের মা ধৈর্য ধরে সব বুঝিয়ে দিলেন — এগুলো সিনেমার নাম, সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা, সত্যজিৎ রায় কে ইত্যাদি। সুন্দর করে বললেন। ওরা মন দিয়ে শুনল। প্রশ্নও করল। প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। আমরা গোটা ব্যাপারটা উপভোগ করলাম। সত্যজিৎ রায় সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞানটুকু ওদের হয়ে গেল। শুধু কি কটেজ, ‘জলসাঘর’-এর ভিতরেও স্মরণ করা হয়েছে সত্যজিৎকে – তাঁর বিভিন্ন সিনেমার ছবির মাধ্যমে। যা-ই হোক, রেশিখোলার রিসর্ট কর্তৃপক্ষকে অসংখ্য ধন্যবাদ, যাঁরা এইভাবে কটেজের নাম রেখে পরোক্ষে শিক্ষার ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন, যে শিক্ষা ভোলার নয়।

    প্রকৃতির সান্নিধ্যে দুটো দিন কাটালাম। মন ভরে বিশ্রাম করলেম। গভীর তৃপ্তি নিয়ে চললাম আমাদের পরবর্তী গন্তব্যে – পাহাড় থেকে নেমে ডুয়ার্সের অন্দরে। (চলবে)

    ছবি: শ্রয়ণ সেন  

    আরও পড়ুন

    বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ১:  ধ্বংসের চিহ্নের মাঝেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে পাহাড়

    বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ২: মিম থেকে ঘুরে এলাম নেপাল

    বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ৩: প্রতীক্ষার অবসান, অবশেষে দর্শন দিলেন তিনি

    The post বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ৪: প্রকৃতি যেখানে আপনার সঙ্গে বসত করে appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/north-bengal-after-the-disaster-part-4-where-nature-stays-with-you/feed/ 0 120227
    বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ৩: প্রতীক্ষার অবসান, অবশেষে দর্শন দিলেন তিনি https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/north-bengal-after-the-disaster-part-3-the-wait-is-over-he-finally-appeared/ https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/north-bengal-after-the-disaster-part-3-the-wait-is-over-he-finally-appeared/#respond Fri, 24 Oct 2025 12:29:47 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=120206 তখনও সে ভাবে ভোর হয়নি। আমাদের ঘুম থেকে তুলে জানলার পর্দা সরিয়ে দিল ঋভু। ঠিক মনে হল, টাইগার হিলে সানরাইজ দেখছি। একটু একটু করে সূর্যের প্রথম আলো পড়ছে কাঞ্চনশিখরে।

    The post বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ৩: প্রতীক্ষার অবসান, অবশেষে দর্শন দিলেন তিনি appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    শর্মিষ্ঠা সেন

    দিনচারেক হল দার্জিলিং পাহাড়ে রয়েছি। প্রথম দুটো দিন কাটল মিম টি এস্টেটে একটা হোমস্টে-তে। কিন্তু তিনি সে ভাবে দর্শন দেননি। কখনোসখনো মেঘের আড়াল থেকে উঁকি মেরেছেন। ঈষৎ আবছা দর্শন হয়েছে। তবে সেই দর্শনকে দর্শন না-বলাই ভালো। ঋভুর তরুণ চোখে তা ধরা পড়লেও, আমাদের ছানি কাটানোর পরবর্তী চোখে তা ধরা দেয়নি বললেই চলে। কিন্তু দার্জিলিং পাহাড়ে এসে যতক্ষণ না তিনি ধরা দিচ্ছেন, তৃপ্ত হচ্ছে না মন। মেঘ কাটছে না কিছুতেই।

    দ্বিতীয় দিন কন্যাম থেকে ফেরার পথে বরবোটা পেরিয়ে আসতেই তেড়ে বৃষ্টি নামল। আবার বৃষ্টি আর এত জোরে! আমরা চিন্তিত, আমাদের ভ্রমণ মাটি হবে না তো? ঋভু দেখছি বেজায় খুশি। আমাদের আশ্বস্ত করে বলল, একদম চিন্তা কোরো না। এই বৃষ্টিতে মেঘ পুরো কেটে যাবে। কাল থেকে কাঞ্চন দেখা দেবেই। আর আজ রাতেই আকাশ ভরে যাবে তারায়। ঋভু যতই বলুক, আমার মন মানছিল না। 

    পশুপতি পৌঁছোতে বৃষ্টির তোড় কিছুটা কমল। সীমানা থেকে বৃষ্টি বন্ধ। সুখিয়ায় দেখলাম রাস্তা শুকনো। এদিকে তা হলে বৃষ্টি হয়নি। আবার হতাশা চেপে ধরল। তার মানে এদিকে মেঘ কাটল না? আমার চোখমুখ দেখে ঋভু কিছু আন্দাজ করল — চিন্তা কোরো না। কাল কাঞ্চন দেখা দেবেনই। সন্ধেবেলায় ঋভু আমাদের নিয়ে গেল হোমস্টের সামনের মাঠে। দেখাল, আকাশভরা তারা। বলল, আজ তারাভরা আকাশ দেখালাম। কাল ভোরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখাব।

    দুপুরে। দাওয়াইপানি থেকে।

    তখনও সে ভাবে ভোর হয়নি। আমাদের ঘুম থেকে তুলে জানলার পর্দা সরিয়ে দিল ঋভু। ঠিক মনে হল, টাইগার হিলে সানরাইজ দেখছি। একটু একটু করে সূর্যের প্রথম আলো পড়ছে কাঞ্চনশিখরে। আর কুম্ভকর্ণ থেকে পান্ডিম — কাঞ্চনজঙ্ঘার সবকটি শিখর ধীরেধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে আমাদের চোখে। আমরা আপ্লুত। বহুবার দার্জিলিঙ পাহাড়ে এসেছি। কিন্তু কাঞ্চনজঙ্ঘাকে এই রূপে দেখেছি কতবার? বোধহয় হাতে গোনা যাবে। কিন্তু আমরা একটু পরেই বেরিয়ে যাব। পরবর্তী গন্তব্য দাওয়াইপানি। সেখানে কাঞ্চন থাকবেন তো? ঋভু বলল, দেখো হয়তো আরও ভাল পাবে।

    কাঞ্চনজঙ্ঘা — এই নামটা শুনেই আমরা মনে মনে সন্ধিবিচ্ছেদ করি — কাঞ্চন + জঙ্ঘা। না, এই সন্ধির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এই নামের। স্থানীয় ভাষায় ‘কাং চেং জেং গা’ কালক্রমে হয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। এর অর্থ ‘তুষারের পাঁচ ধনদৌলত’। এই ধনদৌলত ঈশ্বরের পাঁচ ভাণ্ডারের প্রতিনিধিত্ব করে — সোনা, রূপা, রত্ন, শস্য এবং পবিত্র পুস্তকের ভাণ্ডার।

    দার্জিলিং ম্যাল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘায় সূর্যাস্ত।

    সেই ‘তুষারের পাঁচ ধনদৌলত’ নিয়ে চললাম দাওয়াইপানি। আধঘণ্টা লাগল হজমোলা রোড পেরোতে। পড়লাম ঘুমগামী রাস্তায়। আট কিলোমিটার দূরের ঘুম পৌঁছে গেলাম। গোটা পথেই কাঞ্চন আমাদের সঙ্গ দিয়ে গিয়েছেন। এলাম জোড়বাংলোয়। এবার হিলকার্ট ছেড়ে ধরলাম বাঁদিকের পথ পেশক রোড। কিছুক্ষণ পর থার্ড মাইল পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম দাওয়াইপানি মোড়ে। সোজা বেরিয়ে গেল পেশক রোড। আমরা বাঁদিকে পাহাড়ের গা বেয়ে কিছুটা উঠে নামতে লাগলাম। রাস্তার অবস্থা কহতব্য নয়। এর অবস্থা কোনো অংশেই হজমোলা রোডের চেয়ে ভালো নয়। কিন্তু কাঞ্চন সবসময়েই সঙ্গে রয়েছেন, মাঝে ঘুম-জোড়বাংলো পথটুকু বাদ দিয়ে। ঘণ্টাদেড়েকের মধ্যে পৌঁছে গেলাম দাওয়াইপানির হোমস্টে-তে। তিনতলার যে ঘরে জায়গা পেলাম, তাতে মন ভরে গেল। সামনে যে কাঞ্চনকে দেখছি, তা যেন মিমের হোমস্টে থেকে দেখা কাঞ্চনের চেয়ে আরও বেশি বিস্তৃত, আরও যেন কাছের। বাঁদিকের পাহাড়ের মাথায় দার্জিলিং শহর, স্পষ্ট। আর ডানদিকের পাহাড়ের ঢালে তাকদা ভ্যালি। নিঃসন্দেহে, দার্জিলিং পাহাড়ের এই দাওয়াইপানির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। প্রায় সারা দুপুর কাঞ্চন আমাদের সঙ্গ দিয়ে গেলেন।

    দার্জিলিং ম্যাল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘায় সূর্যাস্ত।

    পরের দিন সকালে চললাম দার্জিলিঙে। ঋভুর এক বন্ধু দম্পতি দার্জিলিং স্টেশনের কিছু আগে হিলকার্ট রোডের কার্যত ধারেই হোমস্টে করেছে। তাদের আমন্ত্রণ, একবার যেতেই হবে তাদের হোমস্টে-তে। কথা দিয়েছিলাম, যাব। সেই কথা রাখতেই সেখানে যাওয়া। ডালি মন্যাস্টেরি ছাড়িয়ে খানিকটা যেতেই বাঁদিকে সিঁড়ি। সেই সিঁড়িপথে মিনিট আটেক লাগল তাদের হোমস্টে-তে পৌঁছোতে। আর সেখানে পৌঁছোতেই কাঞ্চন আমাদের বরণ করে নিল। উজ্জ্বল পরিষ্কার আবহাওয়ায় তুষারশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা সপরিবার হাজির। 

    সকাল থেকে সঙ্গ করলাম কাঞ্চনের সঙ্গে। দুপুর গড়াতে বিকেলের দিকে ডেকে নিলাম আমাদের সারথি দিলীপজিকে। এখনই দাওয়াইপানি ফিরে যাব শুনে দিলীপজি অবাক — এত দূর এলেন, একবার দার্জিলিঙের ম্যালে যাবেন না? আমার কোনো তাড়া নেই। আপনারা ম্যালে ঘণ্টাদুয়েক কাটান। সন্ধের পর ফিরব। ভাগ্যিস দিলীপজির কথা শুনেছিলাম। তাই তো, কাঞ্চনজঙ্ঘায় এক অভূতপূর্ব সূর্যাস্তের সাক্ষী থাকলাম। (চলবে)

    ছবি: শ্রয়ণ সেন

    আরও পড়ুন:

    বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ১:  ধ্বংসের চিহ্নের মাঝেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে পাহাড়

    বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ২: মিম থেকে ঘুরে এলাম নেপাল

    The post বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ৩: প্রতীক্ষার অবসান, অবশেষে দর্শন দিলেন তিনি appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/north-bengal-after-the-disaster-part-3-the-wait-is-over-he-finally-appeared/feed/ 0 120206
    বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ২: মিম থেকে ঘুরে এলাম নেপাল https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/kanayam-nepal-travel-diary-from-mim-to-pashupati-border/ https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/kanayam-nepal-travel-diary-from-mim-to-pashupati-border/#respond Mon, 20 Oct 2025 02:30:00 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=120182 দার্জিলিং পাহাড়ের পাশেই নেপালের নতুন জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র কন্যাম। মিম থেকে পশুপতি ফটক পেরিয়ে ২০ কিমি দূরে এই চা-বাগানে ঘেরা গ্রামীণ নেপাল যেন এক অন্য জগৎ। কাঞ্চনজঙ্ঘার দর্শন মেলেনি, তবু পাহাড়ের নীরব সৌন্দর্য আর বুদ্ধমূর্তির শান্তি ভরিয়ে দিল মন।

    The post বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ২: মিম থেকে ঘুরে এলাম নেপাল appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    শর্মিষ্ঠা সেন

    ঘুম ভাঙল বেশ সকালেই। মেঘের আড়াল সরিয়ে সূর্য দেখা দিল। ধীরে ধীরে রোদটা বেশ আরামদায়ক হয়ে উঠল। প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়লাম কন্যামের পথে।

    কন্যাম। নামটা নিশ্চয় খুব পরিচিত মনে হচ্ছে না? পরিচিত হওয়ার কথা নয়। কারণ এটা দার্জিলিং পাহাড়ের গন্তব্য নয়। কন্যাম নেপালের। এবং নেপালের এই গন্তব্য ইদানীং নাম করেছে। ভারত-নেপাল সীমান্তের পশুপতি ফটক থেকে কন্যাম ১৭-১৮ কিমি। আমাদের ভারতের দিকের গাড়ি নেপালে প্রবেশের অনুমতি পায় উপযুক্ত দক্ষিণা দিয়ে। এই সুবিধাটুকু মিলছে বলেই মিম থেকে কন্যাম ঘুরে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নেপালের ভেতরে প্রায় ২০ কিলোমিটার চলে যাওয়া মানে খুব একটা বুড়িছোঁয়া নয়। ভালোই দেখা হবে নেপাল।

    ফের সেই হজমোলা রোডে। নাচতে নাচতে এগিয়ে চলেছি। এই পথে মাঝেমাঝেই বেশ জঙ্গলও রয়েছে। তারই উপহার পেলাম একটু। বেশ কয়েকটা বনমোরগ আর বনমুরগি দর্শন দিল। বনমোরগগুলো ছোটখাটো ময়ূরের মতো। মন ভরে গেল। সাত কিলোমিটারের পথ পেরোতে আধঘণ্টা সময় লাগল। পড়লাম ঘুম-মিরিকের পথে।

    ডানদিকে ঘুরে কিলোমিটার দুয়েক যেতেই পৌঁছে গেলাম সুখিয়াপোখরি। বেশ জমজমাট জায়গা। একটু এগোতেই বাঁদিকের রাস্তা নেমে গিয়েছে তাবাকোশির দিকে। বালাসনের ধারে তাবাকোশির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে চার তারিখের বিপর্যয়ে। ফুঁসে ওঠা বালাসন অনেক কিছুই ভাসিয়ে নিয়েছে তাবাকোশির। যাই হোক, আর একটু এগোতেই রাস্তা দু’ভাগ। ডানদিকের পথ চলে গিয়েছে মানেভঞ্জং হয়ে সন্দকফু। আমরা ধরলাম বাঁদিকের পথ। এই পথ গিয়েছে সীমানা, পশুপতি ফটক,  মিরিক হয়ে শিলিগুড়ি। এখন অবশ্য শিলিগুড়ি যাওয়া সম্ভব নয়। কারণ দুধিয়ায় বালাসনের সেই ব্রিজ ভাঙা। এগিয়ে চললাম পশুপতির দিকে।

    আমরা নেপালে। কন্যামের পথে।

    এই পথে আমাদের গন্তব্য পশুপতি ফটক পর্যন্ত। তার পরে ঢুকে যাব নেপালের অন্দরে। সুখিয়া থেকে ৫ কিলোমিটার আসতে পৌঁছে গেলাম সীমানায়। এই জায়গা শুধু নামেই সীমানা নয়, প্রকৃতপক্ষে সীমানাই — ভারত-নেপাল সীমান্ত। তবে এই সীমানা দিয়ে নেপালে প্রবেশের কোনো পথ নেই। এখান থেকে মিরিকগামী রাস্তাটির ডানদিকটা মাঝেমাঝেই নেপালের মধ্যে পড়ছে। তাই রয়েছে সশস্ত্র সীমা বলের চৌকি। সীমানায় রয়েছে ভিউ পয়েন্ট। সুন্দর দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘাও। স্পষ্ট দেখা যায় পাহাড়শীর্ষে সন্দকফুও। শর্ত একটাই, মেঘ থাকলে চলবে না। ভাগ্য আমাদের খারাপ। কাঞ্চন তো দুরস্থান, সন্দকফুকেও বুঝতে পারলাম না।

    সীমানা থেকে পথ ক্রমশ নামতে শুরু করল। বেশ কয়েকটা বাঁক নেমে আরও ৫-৭ কিলোমিটার পথ এসে পৌঁছে গেলাম পশুপতি ফটক। এখানেই নেপালের সঙ্গে সীমান্ত। পশুপতি জায়গাটা আদতে নেপালে। এখান থেকে কিলোমিটার দুয়েক দূরে পশুপতি মার্কেট। একসময়ে এই পশুপতি ফটক দিয়ে ভারতের গাড়ি ঢোকার অনুমতি ছিল না। পশুপতি মার্কেট যেতে হলে এখান থেকে লোকাল গাড়ি করতে হত। যাই হোক, প্রথমে সশস্ত্র সীমা বলের জওয়ানরা আমাদের পরিচয়পত্র দেখলেন। তার পর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ নামধাম লিখিয়ে সই করাল। নেপাল পুলিশের হ্যাপা কম। ওরা ঋভুর সঙ্গে নামমাত্র কথা বলে নিল। এর পর দু’জায়গায় মোট ৮০০ টাকা দক্ষিণা দিয়ে এগিয়ে চললাম কন্যামের পথে।

    বুদ্ধ পার্কের পাহাড় থেকে।

    পথে পড়ল বুদ্ধ পার্ক। পাহাড়ের মাথায় বিশাল বুদ্ধমূর্তি। ঢাল বেয়ে সিঁড়ি উঠে গিয়েছে পাহাড়শীর্ষে। ওপর থেকে চারদিকের দৃশ্যাবলি অদ্ভুত সুন্দর। নজর চলে গেল ওদিকের পাহাড়ে। চা-বাগানের মাঝ দিয়ে সিঁড়ি পৌঁছে গিয়েছে পাহাড়ের টঙে। দুই পাহাড় যুক্ত পায়ে চলা লোহার ব্রিজ দিয়ে। চলে গেলাম ও পারের পাহাড়ের মাথায়। আবার যথারীতি চোখ চালিয়ে দিলাম চারদিকে। আশেপাশের সমস্ত পাহাড়ের ঢালে চা-বাগান। বুঝলাম, পূর্ব নেপালে চায়ের চাষ ভালোই হয়।

    বুদ্ধ পার্ক, নেপাল।

    খানিকক্ষণ চা-পানের বিরতি দিয়ে আবার যাত্রা শুরু। রাস্তা সুন্দর, মসৃণ। এঁকেবেঁকে, চড়াই-উতরাই ভেঙে এগিয়ে চলেছে গাড়ি। এটি কাঠমান্ডু রোড। এখান থেকে রাজধানীর দূরত্ব ৫০০ কিলোমিটারের কিছু বেশি। শান্ত, নিরিবিলি গ্রামীণ নেপাল। মাঝে মাঝে শহর — বরবাটো, ফিক্কল। জমজমাট শহর, কিন্তু সুশৃঙ্খল। দেখে বোঝার উপায় নেই, কিছু দিন আগেই জেন জি আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল নেপাল। সরকার বদল হয়েছে। 

    কন্যামের ভিউ পয়েন্ট থেকে।

    চার তারিখের প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে বাদ যায়নি নেপালও। বরং এখানে বিপর্যয় আরও বড়ো আকার নিয়েছিল। সেই বিপর্যয়ের চিহ্ন রয়েছে এখানেও। পাহাড়ের গা বেয়ে ধস নেমেছে বহু জায়গায়। তার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হলেও এখন স্বাভাবিক। কন্যাম যত এগিয়ে আসছে, হোটেল-রিসর্ট-হোমস্টের সংখ্যা তত বাড়ছে। কন্যাম যে ক্রমশই জনপ্রিয় পর্যটন-গন্তব্য হয়ে উঠছে, এটিই তার প্রমাণ।

    কন্যামের ভিউ পয়েন্ট থেকে।

    অবশেষে পৌঁছোলাম কন্যামে। বেশ চওড়া রাস্তা। তার দু’পাশে বেশ কিছু ভিউ পয়েন্ট। ভিউ পয়েন্টগুলো রাস্তার ধারেই। গাড়ি পার্ক করে আশেপাশের দৃশ্য দেখা হল। অজস্র পাহাড় আর প্রতিটির ঢালে চা-বাগান। চোখ জুড়িয়ে যায়। এমনই একটি ভিউ পয়েন্টে আমাদের তিনজনের ছবি তুলে দিলেন আমাদের সারথি রবার্ট। ফেরার পথে নজরে পড়ল  আর একটি ভিউ পয়েন্ট, পাহাড়শীর্ষে। বেশ উঁচুতে। তবে ওঠার জন্য রয়েছে বাঁধানো সিঁড়ি। শ’দুয়েক ধাপ তো হবেই। এই ভিউ পয়েন্টও বাদ থাকল না আমাদের দর্শন থেকে। কন্যাম থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘারও দুর্দান্ত দর্শন মেলে। কিন্তু এই ভ্রমণে যা চলছে, তাই ঘটল। কাঞ্চন চোখের আড়ালেই থাকলেন। ফিরে চললাম মিম। পথে বরবোটার বুদ্ধমন্দিরে প্রণাম করলাম বুদ্ধদেবকে। (চলবে)

    পাহাড়শীর্ষের ভিউ পয়েন্ট থেকে আরও এগিয়ে।

    ছবি: শ্রয়ণ সেন

    আরও পড়ুন: বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ১:  ধ্বংসের চিহ্নের মাঝেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে পাহাড়

    The post বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ২: মিম থেকে ঘুরে এলাম নেপাল appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/kanayam-nepal-travel-diary-from-mim-to-pashupati-border/feed/ 0 120182
    বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ১:  ধ্বংসের চিহ্নের মাঝেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে পাহাড় https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/north-bengal-after-the-disaster-part-1-the-hills-are-returning-to-normal-amidst-signs-of-destruction/ https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/north-bengal-after-the-disaster-part-1-the-hills-are-returning-to-normal-amidst-signs-of-destruction/#respond Thu, 16 Oct 2025 12:40:15 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=120172 একরাতের বৃষ্টির জেরে দার্জিলিঙ পাহাড় আর ডুয়ার্স বিধ্বস্ত। পাহাড়ে অসংখ্য ধস, কিছু সেতুও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত। যার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। আর ডুয়ার্স বানভাসি। আমাদের ভ্রমণে দার্জিলিং পাহাড় যেমন আছে, তেমনই আছে ডুয়ার্স। কী অবস্থা বিপর্যয়ের পরে রইল প্রথম পর্ব।

    The post বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ১:  ধ্বংসের চিহ্নের মাঝেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে পাহাড় appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    শর্মিষ্ঠা সেন

    পরিকল্পনাটা মাসদুয়েক আগের। সেটাই স্বাভাবিক। কারণ ট্রেনের আসন সংরক্ষণ তো দু’মাস আগেই করতে হয়। যাই হোক, পুজোর মধ্যেই স্কুলের কিছু কাজ সেরে যখন ভ্রমণের জন্য যখন প্রস্তুতি নিচ্ছি তখনই ঘটল বিপর্যয়। আচমকা অতি প্রবল বৃষ্টি দার্জিলিঙে। একরাতের বৃষ্টির জেরে দার্জিলিঙ পাহাড় আর ডুয়ার্স বিধ্বস্ত। পাহাড়ে অসংখ্য ধস, কিছু সেতুও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত। যার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। আর ডুয়ার্স বানভাসি। আমাদের ভ্রমণে দার্জিলিং পাহাড় যেমন আছে, তেমনই আছে ডুয়ার্স। আমাদের যাত্রা যদিও এক সপ্তাহ পরে, তবু আমি দ্বিধায়। তত দিনে পাহাড়-ডুয়ার্সের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হবে?

    “দেখোই না”, আমার পুত্র ঋভু তথা শ্রয়ণ সাহস জোগাল। পুত্র সাংবাদিক, পাশাপাশি, ভ্রমণ আয়োজক। তারই সঙ্গে আবহাওয়া চর্চা করে। হোয়াটসঅ্যাপে ওর গ্রুপ আছে — শ্রয়ণের আবহাওয়া স্টেশন। ওর কাছে সারাদিন ফোন আসছে — উত্তরবঙ্গ ভ্রমণ সংক্রান্ত। যাকে যা পরামর্শ দেওয়া উচিত, সেটা দিচ্ছে। ও বলল, আবহাওয়া কোনো বাগড়া দেবে না। বর্ষা বিদায় নেওয়ার আগে এটা একটা চরম ধাক্কা। আমরা যখন যাব, আবহাওয়া একদম পরিষ্কার হয়ে যাবে। আর বাকিটা হল রাস্তাঘাটের অবস্থা। আমাদের যে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার কথা সেই পাঙ্খাবাড়ি রোড খোলা আছে। আর যে সব জায়গায় যাব, সে সব জায়গা একদম ঠিক আছে। নিরাপদে যাওয়া যাবে। সেখানকার হোমস্টে-রিসর্টের মালিকরাও নিশ্চিন্তে চলে আসতে বলেছেন। সুতরাং এ বার ভাসাও তরী। ১১ অক্টোবর রাতে বেরিয়ে পড়লাম তিনজনে, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে।

    চড়াই পথ পাঙ্খাবাড়ি রোডে।

    কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস শিলিগুড়ি জংশনে পৌঁছোল নির্ধারিত সময়ের বেশ খানিকক্ষণ আগে। খুব সক্কালেই আমাদের সারথির সঙ্গে ঋভুর কথা হয়ে গিয়েছে। উনি স্টেশনে চলে এসেছেন।  স্টেশন থেকে বেরিয়ে কার পার্কিং এসে আলাপ হল রবার্ট গুরুংয়ের সঙ্গে। সুভদ্র মানুষটি আপাতত আমাদের ভ্রমণে প্রথম দিনকয়েকের সারথি। রওনা হলাম। আমাদের প্রথম গন্তব্য মিম টি এস্টেট, সুকিয়াপোখরির কাছে। স্টেশন থেকে বেরিয়ে পড়লাম হিলকার্ট রোডে। তেনজিং নোরগে বাসস্ট্যান্ড বাঁদিকে রেখে এগিয়ে চললাম। একটু পরেই ডানদিকে ঘুরলাম। আপাতত আমরা হিলকার্ট রোডে আছি। তবে এই পথে আমরা যাব না। যাব পাঙ্খাবাড়ি রোড দিয়ে। কার্শিয়াঙে মিলব হিলকার্ট রোডের সঙ্গে। বাতাসে ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব। রোদ উঠেছে। সপ্তাহখানেক আগেই যে সাংঘাতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল দার্জিলিং পাহাড় আর ডুয়ার্স, আপাতত তার কোনো চিহ্ন এখনও নজরে পড়েনি।

    পাশ দিয়ে চলেছে টয় ট্রেনের লাইন। কুয়াশা রয়েছে ভালোই।  ফলে অনতিদূরের পাহাড়ও দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। পেরোলাম শালবাড়ি। একটু পরেই বাঁদিকের রাস্তা ধরলাম। এই রাস্তাই কিছুটা গিয়ে ভাগ হয়েছে। একটি পাঙ্খাবাড়ি রোড, আর-একটি রোহিণী রোড। দু’পাশে বেশ জঙ্গল। মহানন্দা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের অংশ। পথের ধারে দুটো ময়ূরও দর্শন দিল। পেরোলাম বালাসন। এই বালাসনই খেপে উঠেছিল না? দেখে বোঝার উপায় নেই। আগের চেহারায় ফিরে গেছে। নুড়িপাথরে ভর্তি, সামান্য জল তিরতির করে বইছে।

    পেরোলাম সিমুলবারি টি এস্টেট। ডানদিকে বেরিয়ে গেল রোহিণী রোড। রাস্তা বন্ধ। বোর্ড লাগানো আছে। আমরা চললাম সোজা, পাঙ্খাবাড়ির দিকে।  এখনও সে ভাবে চড়াই শুরু হয়নি।  কিছুক্ষণ পরে বাঁদিকে বেরিয়ে গেল মিরিকের রাস্তা, দুধিয়া হয়ে। আপাতত এই রাস্তাও বন্ধ, দুধিয়ায় বালাসন নদীর ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার দরুন।

    দু’ধারে মহানন্দা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।

    এ বার পাঙ্খাবাড়ি রোড ধরে উপরে ওঠা শুরু হল। কিছুক্ষণ পরে পথের ধারে গাড়ি দাঁড় করিয়ে সেরে নিলাম প্রাতরাশ জবা’স কিচেনের পোহা দিয়ে। শিলিগুড়ির সুজিত-জবা তাদের কিচেন চালাচ্ছে। তাদের সরবরাহ করা খাবারের তুলনা নেই। পোহাও তার ব্যতিক্রম হল না। শিলিগুড়ি স্টেশনেই সুজিত প্রাতরাশের আহার দিয়ে গিয়েছিল। ব্রেকফাস্ট সেরে তাশি রেস্টুরেন্টে মকাইবাড়ির চা-এর স্বাদ নিয়ে শুরু হল আবার পাহাড় চড়া। এখান থেকে কার্শিয়াং ১২ কিলোমিটার, চড়ব অন্তত হাজারতিনেক ফুট। মালুম হচ্ছে তো, কতটা চড়াই?

    ঘুম স্টেশন থেকে ধরলাম বাঁদিকের পথ, সুখিয়ার দিকে।

    পেরিয়ে গেলাম মকাইবাড়ি, যার চায়ের স্বাদ নিলাম একটু আগেই। পড়লাম হিলকার্ট রোডে, কার্শিয়াং ট্যুরিস্ট লজের কাছে। ডান দিকে সঙ্গী হল টয় ট্রেনের লাইন। কিছুটা এগোতেই দিলারাম। হিলকার্ট রোড তেমনই জমজমাট। তবে মাঝেমাঝে বাঁদিক ঘেঁষে রাস্তার খানিকটা করে অংশ বন্ধ। সারথি বুঝিয়ে দিলেন, বৃষ্টিতে ভেঙেছিল, এখন সারাইয়ের কাজ চলছে। কথায় কথায় ঋভু জানতে চাইল, কেমন বৃষ্টি হয়েছিল। সারথি বললেন, বৃষ্টি প্রচুর হয়েছিল, তবে বাজ পড়েছিল সাংঘাতিক। এইটথ মাইল পেরিয়ে এলাম সোনাদা। রবিবারেও সোনাদার বাজার জমজমাট। জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ দেখে ভাল লাগল। এরই মাঝে রোদ-মেঘের খেলা চলছে। কখনো মেঘ ঢেকে দিয়ে যাচ্ছে দূরের পাহাড়, আবার কখনো রোদে ভেসে যাচ্ছে চতুর্দিক। ভালো লাগছে। এটাই তো পাহাড়ের আসল মেজাজ।

    মিমগামী রাস্তার দুরবস্থা।

    পেরোলাম রংবুল। চলে এলাম ঘুম। ৭২০০ ফুট উঁচু ঘুমের পর থেকে হিলকার্ট রোড সামান্য নেমেছে দার্জিলিঙের দিকে। হিলকার্ট রোড ধরে যাত্রা আমাদের এখানেই শেষ। ডান দিকে বেরিয়ে গেল জলাপাহাড়ের রাস্তা। হিলকার্ট রোড ছেড়ে ঘুম স্টেশনের বাঁ দিকের পথ ধরলাম। এই পথই গেছে সুখিয়াপোখরি হয়ে মিরিক। আমাদের গন্তব্য সুখিয়ার কাছে মিম টি এস্টেট। ঘুম স্টেশন থেকে দশ কিলোমিটার সুখিয়া। তার দু’কিমি আগে ডানদিকে বেরিয়েছে মিমের পথ। লেপচাজগত পেরিয়ে খানিকটা পথ গিয়ে মিমের পথ ধরলাম। অবর্ণনীয় অবস্থা। গাড়ি চলেছে লাফাতে লাফাতে। ঠিক করে বসে থাকতে দিচ্ছে না। বসে বসেই লাফাচ্ছি। সপ্তাহখানেক আগের দুর্যোগের জন্য কি রাস্তার এই দুরবস্থা? মৃদু হাসলেন সারথি। তাঁর কথায়, “আমরা একে বলি হজমোলা রোড। মিনি সুইৎজারল্যান্ডের হজমোলা রোড। এই রাস্তা এইরকম। সাত কিলোমিটার পথ এভাবে যেতে যেতে খাবারদাবার সব হজম হয়ে যাবে। এরকম বরাবর। তবে, এক সপ্তাহ আগের বৃষ্টিতে অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।”

    ধ্বংসের জন্য মিমের পথে।

    তার চিহ্ন পথে দেখলাম। প্রচুর জায়গায় পাহাড় ধসেছে। তবে সেই ধস খুব বড়ো নয় বলে এই রাস্তায় যাতায়াত বন্ধ হয়নি। ধ্বংসের এই চিহ্ন প্রত্যক্ষ করতে করতেই চলে এলাম মিমে। ঘড়িতে সাড়ে বারো। (চলবে)

    ছবি: শ্রয়ণ সেন

    আরও পড়ুন: মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ১: শুরুতেই বিপত্তি

    The post বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ১:  ধ্বংসের চিহ্নের মাঝেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে পাহাড় appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/north-bengal-after-the-disaster-part-1-the-hills-are-returning-to-normal-amidst-signs-of-destruction/feed/ 0 120172
    মরাঠাভূমে আবার, শেষ পর্ব: মায়ানগরী মুম্বইকে টাটা! https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/tour-to-maharashtra-last-part-goodbye-mumbai/ https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/tour-to-maharashtra-last-part-goodbye-mumbai/#respond Wed, 03 Sep 2025 05:00:49 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=120100 শ্রয়ণ সেন “মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।” বাবার কথায় কিঞ্চিৎ চমকৃত হলাম। এই তো কিছুক্ষণ আগেও খুব উৎসাহ নিয়ে হাঁটছিল,

    The post মরাঠাভূমে আবার, শেষ পর্ব: মায়ানগরী মুম্বইকে টাটা! appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    শ্রয়ণ সেন

    “মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।”

    বাবার কথায় কিঞ্চিৎ চমকৃত হলাম। এই তো কিছুক্ষণ আগেও খুব উৎসাহ নিয়ে হাঁটছিল, এখন কী হল হঠাৎ?

    কী হল বাবার? প্রশ্ন করতেই উত্তর এল, “এরা দোতলা বাসগুলো কী সুন্দর ভাবে ফিরিয়ে এনেছে দেখ! অথচ আমরা কী করেছি!”

    বুঝলাম। বাবা আসলে মুম্বইয়ের দোতলা বাসগুলো দেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছে। মুম্বইয়ের রাস্তায় ইতিহাস ফিরে এসেছে, পুরোনো দিনের সেই দোতলা বাসগুলো আবার নতুন ফর্মে নতুন রূপে ফিরে এসেছে, তা-ও আবার এসি!

    আমি আর বাবা ইতিমধ্যেই হেঁটে ফেলেছি ঘন্টাখানেক, আমাদের সেই পুরোনো তত্ত্বের সওয়ার হয়ে। কী সেই তত্ত্ব?

    ‘শহর চিনতে হলে হেঁটে দেখো বন্ধু।’

    সকাল দশটায় রওনা হলাম হোটেল থেকে। সে অর্থে কোনো টার্গেট নেই, জাস্ট হেঁটে হেঁটে শরীরকে বেশি চাপ না দিয়ে যতটা যাওয়া যায়, যে দিকে যাওয়া যায়, ততটাই যাব।

    ওভাল ময়দান। পিছনে হাই কোর্ট।

    শুরু হল যাত্রা। কিছুটা যেতেই পৌঁছে গেলাম ওভাল ময়দান। ময়দানের ও পারেই উঁকি দিচ্ছে বম্বে হাইকোর্টের আইকনিক বিল্ডিং। তার পাশেই ব্রিটিশ ঘরানার এক বিশাল অট্টালিকা – রাজাবাই ক্লক টাওয়ার।

    বাবা বলল, “হাঁটছি যখন, চল গেটওয়েটা দেখে আসি!” একপায়ে খাড়া আমি। বাবার কথামতো গুগল ম্যাপে নির্দেশিকা দিয়ে দেখলাম গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া এক কিলোমিটার মতো দূর। এগিয়ে চললাম।

    গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া।

    আরও মিনিট পনেরোর হাঁটা, পৌঁছে গেলাম গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া। এই নিয়ে তৃতীয় বার এলাম গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়ায়। কিন্তু এই প্রথম বার হেঁটে হেঁটে এলাম। ফলে আশেপাশের জায়গাগুলোর ব্যাপারে একটা ধারণা করতে পারলাম।

    শহরের প্রধান প্রধান রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ব্রিটিশ আমলে তৈরি বাড়িগুলো দেখে অবাক হয়ে যেতে হয়। কী স্থাপত্য! মুম্বইয়ের পথে পথে ব্রিটিশ আমলের একটা ‘ভাইব’ আসছে প্রচণ্ড ভাবে।

    গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়ায় এখন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। উল্টো দিকেই দাঁড়িয়ে রয়েছে তাজ হোটেল। কত ঘটনার যে সাক্ষী এই তাজ, সেটা বলাই বাহুল্য।

    তাজ হোটেল।

    “এই ভিটি যাবি?”

    বাবার দেখি উৎসাহে ভাটা পড়েনি। আমি তো এমনিতেই একপায়ে খাড়া সব সময়ই থাকি। রওনা হয়ে গেলাম আমাদের পরবর্তী রাউন্ডে।

    ১৭৩৫ সালে তৈরি ন্যাভাল ডকইয়ার্ডের ঐতিহাসিক ভবনকে পাশে রেখে শহিদ ভগৎ সিংহ রোড দিয়ে হেঁটে চলেছি। এই পাড়াটায় পুরোনো পুরোনো একটা গন্ধ রয়েছে।

    ১৭৮৪ সালে এশিয়াটিক সোসাইটি স্থাপিত হয়েছিল কলকাতায়। এর কুড়ি বছর পর মুম্বইয়ে এশিয়াটিক সোসাইটির ভবনটি তৈরি হয়েছিল। সেই বাড়িটার পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলাম, কত কত ইতিহাসের সাক্ষী এই গোটা অঞ্চল।

    ব্যালার্ড এস্টেটের পাশ দিয়ে হেঁটে বাড়িগুলোর দিকে মুগ্ধ চোখে তাকাতে তাকাতে খেয়ালই করিনি ভিটিতে পৌঁছে গেছি। ভিটি মানে ভিক্টোরিয়া টার্মিনাস। এখন তার নাম ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ টার্মিনাস, অর্থাৎ সিএসএমটি। এই বাড়িটাও দেখার মতো।

    এশিয়াটিক সোসাইটি।

    দীর্ঘক্ষণ হেঁটে বেশ ভালো ঘাম ঝরিয়ে সুন্দর আনারসের জুসে গলা ভিজিয়ে নিলাম আমি আর বাবা। তখনই পাশ দিয়ে একটার পর একটা দোতলা বাস যাচ্ছিল, যা দেখে বাবা ভীষণ আবেগতাড়িত হয়ে পড়ল।

    জুস খেয়ে কিছুটা চাঙ্গা হয়ে ফের হাঁটা লাগালাম। এ বার গন্তব্য আমাদের হোটেল। বড়ো বড়ো সব বটগাছের ছায়ার মধ্যে দিয়ে আমরা হেঁটে চলেছি হাজারিমল সোমালি রোড ধরে। পাশে পড়ল বোম্বে জিমখানা গ্রাউন্ড।

    এই তো সেই ঐতিহাসিক মাঠ, যেখানে প্রথম বার ভারতের মাটিতে আয়োজিত হয়েছিল টেস্ট ম্যাচ। তখন ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামও ছিল না, ব্রেবোর্ন স্টেডিয়ামও না। ১৯৩৩ সালে আয়োজিত ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে এই টেস্ট ম্যাচটি লালা অমরনাথের শতরানের জন্য আজও ইতিহাসের পাতায় রয়ে গেছে।

    এর পর হঠাৎ করেই তাঁর মূর্তি পেয়ে গেলাম, যিনি সমগ্র বাঙালির কাছে নমস্য হয়ে থাকবেন চিরকাল, গোপালকৃষ্ণ গোখেল। এই সেই মানুষ, যিনি বলেছিলেন, “বাংলা যা আজ ভাবে, গোটা ভারত সেটা ভাবে কাল!” অনেকে অনেক কিছু বলবেন হয়তো, কিন্তু মানসিকতার দিক থেকে বাংলা যে এখনও দেশের অনেকাংশে (বিশেষ করে দেশের উত্তরাংশের থেকে) এগিয়ে, সেটা বলাই বাহুল্য।

    ভিক্টোরিয়া টার্মিনাস, এখন যার নাম ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ টার্মিনাস।

    যা-ই হোক, আড়াই ঘণ্টার পদযাত্রা শেষ করে বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ হোটেলে ফিরে এলাম আমি আর বাবা। অ্যাপে চোখ মিলিয়ে দেখে নিলাম সাত কিলোমিটার হেঁটে ফেলেছি আমরা।

    জ্বরটা এসেছিল মঙ্গলবার। বাবা-মাকে বলিনি তখন। আসলে এই বিদেশবিভুঁইয়ে জ্বরটর হওয়ার কথা জানলে ওরা দু’জন চিন্তা করত প্রচণ্ড। তার ওপর ওই দুর্ঘটনার পর মা আগের থেকে একটু বেশিই টেনশন করে এখন। ওদের তাই আর বেশি টেনশন দিতে চাইনি।

    বরং ভরসা করেছিলাম ন্যাচরাল হিলিং-এ। ঠিক সেটাই হল, সাগরের হাওয়ার জোরে, কোনো ওষুধ না খেয়েই মঙ্গলবার সন্ধ্যাতেই শরীর ঠিক হতে শুরু করে আমার। বুধবার সকাল থেকে এক্কেবারে চাঙ্গা।

    সাগরের হাওয়ার গুণ আছে বলতে হবে। আর হাওয়ার টানেই মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভের ধারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেন কত শতশত মানুষ।

    এই মুম্বই একটা অদ্ভুত শহর। এখানে মানুষের চরমতম ব্যস্ততা রয়েছে, তবুও এখানে মানুষ ফ্রি টাইম কাটাতে জানে! এখানে অফিসযাত্রীদের লোকাল ট্রেন ধরার চূড়ান্ত তাড়া থাকে, কিন্তু তার মধ্যেও কোনো এক বয়স্ক মানুষের ব্যাগ তুলে দেওয়ার জন্য সাহায্যের অফারও থাকে। শহরটা চূড়ান্ত ব্যস্ত, কিন্তু তার মধ্যেও ভীষণভাবে মানবিক।

    এককালে খুব মনে হত চাকরি যদি করতেই হয় এই মুম্বইয়ে করব। কম বার তো হল না মুম্বই আসা, এই নিয়ে চতুর্থ বার। প্রথম বার মুম্বইকে নিয়ে যে অনুভূতি হয়েছিল, সেই অনুভূতি এতটুকু বদলায়নি।

    এ রকম হেরিটেজ বাড়ির ছড়াছড়ি পুরোনো মুম্বইয়ে।

    আগের তিনবারের থেকে এবার মুম্বইকে আরও কাছ থেকে চিনলাম। এর কারণ আমাদের হোটেলের অবস্থান। এক্কেবারে মেরিন ড্রাইভের ওপরে, চার্চগেট স্টেশনের কাছে। উঠতে বসতে মেরিন ড্রাইভ দেখছি, আট থেকে আশির মানুষজন দেখছি। রাত বারোটার পরেও কত নিরাপদে এখানে মানুষজন ঘুরে বেড়াতে পারে।

    মুম্বই আসার এবার পরিকল্পনা ছিল না সে ভাবে। মাকে নিয়ে শিরডি আসার পরিকল্পনা যে দিন থেকে শুরু করেছিলাম, মাথায় রেখেছিলাম যে বড়োজোর আর দুটো জায়গা ঘুরব। মে’র মাঝামাঝি প্ল্যান কিছুটা বদলে দিয়ে মুম্বইকে ঢোকানো হল। ভাগ্যিস ঢোকানো হল! নইলে কত কী যে মিস করে যেতাম।

    কিন্তু সব কিছুরই তো একটা সমাপ্তি থাকে, আমাদের এই সফরও সমাপ্তির দিকে চলে এল। এবার কলকাতার পথে রওনা হওয়ার পালা।

    গত ১২-১৩ দিন ধরে নতুন জায়গা দেখলাম, নতুন কত কী জানলাম, কর্মব্যস্ত ঘোরাঘুরির বাইরে নিজের মতো করে নিজের জন্য ঘুরলাম। এর পাশাপাশি নিজের লেখার হাত ঝালিয়ে তো নিলাম। কিন্তু সব থেকে বড়ো কথা, মাকে নিয়ে কনফিডেন্স আরও বাড়িয়ে দিল এই ট্যুর। আর এমন একটা ট্যুরের শেষ মুম্বইয়ের মতো শহরে হচ্ছে, সেটা আরও আনন্দের।

    যাই হোক, মায়ায় বেঁধে রাখা মায়ানগরী মুম্বই ছেড়ে যেতে একটু মন খারাপ তো হচ্ছে বটেই। তবুও জানি যে এই শহরে, এই রাজ্যে ফিরব জলদি।

    একইসঙ্গে এই ট্যুরের গল্পমালা এখানেই শেষ হল। এত দিন ধরে আমার লেখাগুলো যাঁরা মন দিয়ে পড়লেন আর সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করলেন, তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আবার ফিরব অন্য কোনো লেখা নেই। অন্য কোনো অভিজ্ঞতা নিয়ে। মুম্বই শহরকে বিদায় জানালে ‘টাটা’ বলা উচিত। কারণ এটাই তো টাটাদের শহর। তাই টাটা! (শেষ)

    ছবি: লেখক

    আরও পড়ুন

    মরাঠাভূমে আবার: পর্ব ১

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ২: মায়ের ইচ্ছাপূরণ

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৩: ঘৃষ্ণেশ্বর হয়ে কৈলাশে 

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৪: শিরডী থেকে কারলায়

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৫: পাওনা লেক দেখে লোনাভালায়

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৬: কোঙ্কণ রেলপথে তারকারলি যাত্রা

    মরাঠা ভূমে আবার, পর্ব ৭: একের পর এক সৈকত দর্শন

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৮: ভালো থেকো তারকারলি

    The post মরাঠাভূমে আবার, শেষ পর্ব: মায়ানগরী মুম্বইকে টাটা! appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/tour-to-maharashtra-last-part-goodbye-mumbai/feed/ 0 120100
    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৮: ভালো থেকো তারকারলি https://www.bhramononline.com/travel-blog/tour-to-maharashtra-part-8-stay-at-tarkarli-beach/ https://www.bhramononline.com/travel-blog/tour-to-maharashtra-part-8-stay-at-tarkarli-beach/#respond Sat, 23 Aug 2025 19:32:31 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=119953 শ্রয়ণ সেন   তারকারলির নাম নিলেই প্রথমে যেটা মাথায় আসে, এরকম মিহি বালির সমুদ্রসৈকত ভারতে খুব কমই আছে। এই কারণেই

    The post মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৮: ভালো থেকো তারকারলি appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    শ্রয়ণ সেন  

    তারকারলির নাম নিলেই প্রথমে যেটা মাথায় আসে, এরকম মিহি বালির সমুদ্রসৈকত ভারতে খুব কমই আছে। এই কারণেই অনেক ক্ষেত্রে একে ‘ট্যালকম পাউডার সিবিচ’ও বলা হয়। যা কানে শুনেছি, বা বই-পত্রপত্রিকায় পড়েছি, আজ চোখে দেখে তা মালুম হল। সত্যিই তারকারলি মিহি বালির সৈকত।   

    ষোলো বছর আগে যখন মহারাষ্ট্র ভ্রমণে এসেছিলাম, তখন এই কোঙ্কণ উপকূলে গণপতিপুলে পর্যন্ত নেমে ফিরে গিয়েছিলাম মুম্বইয়ের দিকে। তারকারলি অনেকটা দক্ষিণে হওয়াতে বাদ রাখতে হয়েছিল সে বার। কিন্তু মনে মনে একটা অতৃপ্তি থেকে গিয়েছি। ফলে এই তারকারলিতে একবার আসার সুপ্ত বাসনা মনের মধ্যে ছিলই।  

    সেই সুপ্ত বাসনা মায়ের জন্যই পূরণ হল এবার। মা বলল, শিরডি যাব সাইবাবাকে দর্শন করতে। মাকে সাইবাবা দর্শন করাতে এত দূর আসব, অথচ মহারাষ্ট্রের আরও কিছু জায়গা ঘুরব না, সে তো হতে পারে না। কারণ রথ দেখার সঙ্গে কলা বেচাই আমাদের ধর্ম। তাই যা ছিল শিরডি দর্শন, সেটাই দাঁড়িয়ে গেল ইলোরা, কারলা, তারকারলি, মুম্বই ভ্রমণে।  

    গত পরশু বিকেলে তারকারলি পৌঁছোতেই একরাশ ভালোলাগা ছুঁয়ে গিয়েছিল আমাকে। মহারাষ্ট্র ট্যুরিজমের রিসর্টের লাগোয়া সমুদ্রসৈকত। এটাকে রিসর্টের নিজস্ব বিচ বলাই যায়। দিগন্তবিস্তৃত মিহি বালিরাশি, তীব্র হাওয়ার কারণে ভেসে বেড়াচ্ছে।

    দূরে দেখা যাচ্ছে সিন্ধুদুর্গ। মহারাষ্ট্রের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে থাকা দুর্গের অন্যতম এই সিন্ধুদুর্গ। আরব সাগরের মাঝে অবস্থিত এই দুর্গ তৈরি করেন শিবাজী, ১৬৬৪ সালে। সাগরের মাঝে হওয়ার ফলে এখানে যেতে হয় নৌকায়। এখন অবশ্য বর্ষা, তাই নৌকা পরিষেবা বন্ধ আছে।

    আরব সাগরের ধারে এমটিডিসির তারকারলি রিসর্ট।

    বিকেল গড়িয়ে যাচ্ছে। সূর্য তখন পাটে নামার তোড়জোড় শুরু করেছে। সময়টা বর্ষাকাল, কিছুক্ষণ আগে বৃষ্টিও হয়েছে। কিন্তু তার পরেও সূর্যাস্তের এমন অসাধারণ মুহূর্ত তৈরি হবে, ভাবতেও পারিনি। প্রথম মুহূর্তেই তারকারলি ভালো লেগে গেল। বুঝতে পারলাম কেন এই সৈকতের এত নাম। তবে নাম হলেও এর পরিচিতি কিন্তু মহারাষ্ট্রের বাইরে খুব একটা ছড়িয়ে পড়েনি। তাই এখনও ভ্রমণপাগল বাঙালির পা সে ভাবে পড়ে না এখানে। টুরিস্ট যাঁরা এখানে আসেন, তাঁরা মূলত স্থানীয় মানুষজন।

    মহারাষ্ট্র ট্যুরিজমের রিসর্টগুলো আমার দুর্দান্ত লাগে, মূলত তাদের অবস্থানগত কারণে। বিশেষ করে, সমুদ্রসৈকতের রিসর্টগুলোর তো কোনওম তুলনা নেই।  সরকারি রিসর্ট যে হেতু, সে হেতু একটু অব্যবস্থা তো থাকবেই। কিন্তু সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে এই রিসর্টগুলোর অবস্থানটা অনুভব করতে হয়। এমন সুন্দর লোকেশন পাওয়া দুষ্কর।

    আমরা উঠেছি তারকারলি রিসর্টের কোঙ্কণী‌‌ প্রিমিয়াম কটেজে। এগুলো স্যুট রুম। কটেজে ঢুকলে প্রথমেই একটা ছোটো বারান্দা। তার পর ছোটো বসার ঘর, তার পর বেডরুম। বসার ঘরের সোফায় বসে বসেই সমুদ্র দেখে সময় কাটিয়ে দেওয়া যায়। আর বারান্দা তো আছেই। এখান থেকে অবাধ দৃষ্টি চালিয়ে সখ্যতা পাতা যায় সমুদ্রের সঙ্গে। ক্লান্তিহীন সমুদ্রের ঢেউভাঙা দেখতে দেখতেই হঠাৎ করে সন্ধ্যা নেমে যায়। মিশমিশে অন্ধকারে ঢেকে যায় চারপাশ। সাগরকে আর হয়তো আর চোখে দেখা যায় না, তবে তার গর্জন শোনা যায়, তার উপস্থিতি অনুভব করা যায়। তবে জ্যোৎস্নারাত হলে তো কথাই নেই। তার সৌন্দর্য অনন্য।  

    এ ভাবেই তিনটে দিন কাটিয়ে দিলাম তারকারলিতে। ঘরে বসেই আরব সাগরে দুর্দান্ত সূর্যাস্ত দেখলাম, সুন্দর ঝড়বৃষ্টি দেখলাম, পমফ্রেট মাছ দিয়ে দুরন্ত মালভানি থালি খেলাম, প্রাণভরে ল্যাদ খেলাম আর অবশ্যই ঘুরলাম। তিন তিনটে দিন কোথা দিয়ে কেটে গেল, টেরই পেলাম না।

    দেখতে দেখতেই তারকারলিকে বিদায় জানানোর সময় হয়ে এল আর আমাদের ভ্রমণের শেষ লগ্নও প্রায় চলে এল। ফিরে চললাম মুম্বইয়ের পথে, সেই মান্ডবী এক্সপ্রেসে। ভালো থেকো তারকারলি। দেখা হবে খুব তাড়াতাড়ি। (চলবে)

    ছবি: লেখক

    আরও পড়ুন

    মরাঠাভূমে আবার: পর্ব ১

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ২: মায়ের ইচ্ছাপূরণ

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৩: ঘৃষ্ণেশ্বর হয়ে কৈলাশে 

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৪: শিরডী থেকে কারলায়

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৫: পাওনা লেক দেখে লোনাভালায়

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৬: কোঙ্কণ রেলপথে তারকারলি যাত্রা

    মরাঠা ভূমে আবার, পর্ব ৭: একের পর এক সৈকত দর্শন

    The post মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৮: ভালো থেকো তারকারলি appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-blog/tour-to-maharashtra-part-8-stay-at-tarkarli-beach/feed/ 0 119953
    মরাঠা ভূমে আবার, পর্ব ৭: একের পর এক সৈকত দর্শন https://www.bhramononline.com/travel-blog/tour-to-maharashtra-part-7-visit-to-kunkeshwar-vengurla-sagareshwar-beaches/ https://www.bhramononline.com/travel-blog/tour-to-maharashtra-part-7-visit-to-kunkeshwar-vengurla-sagareshwar-beaches/#respond Wed, 20 Aug 2025 05:52:03 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=119942 শ্রয়ণ সেন দুপুরে পেট ভরে মাছভাত খেলে মনটার একটু ভাতঘুম দিতে ইচ্ছে করে বই-কি! তাই যখন দুপুর আড়াইটের সময়ে আমাদের

    The post মরাঠা ভূমে আবার, পর্ব ৭: একের পর এক সৈকত দর্শন appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    শ্রয়ণ সেন

    দুপুরে পেট ভরে মাছভাত খেলে মনটার একটু ভাতঘুম দিতে ইচ্ছে করে বই-কি! তাই যখন দুপুর আড়াইটের সময়ে আমাদের সারথি ফোন করে বলল, সে এসে গেছে, নিজের ওপর রাগ হচ্ছিল। কেন দুপুরে বেরোব ঠিক করেছিলাম?

    যা-ই হোক, ল্যাদ কাটিয়ে গাড়িতে উঠে রওনা হলাম কোঙ্কোণ উপকূলের নতুন এক অফবিট গন্তব্যের উদ্দেশে।

    তারকারলি থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে কুঙ্কেশ্বর। জায়গাটা সম্পর্কে জেনেছিলাম বছর ছয়েক আগে, মহারাষ্ট্র পর্যটনের ওয়েবসাইট ঘাঁটতে ঘাঁটতে। তখনই খুব পছন্দ হয়েছিল কুঙ্কেশ্বরকে। কিন্তু আজ ওখানে গিয়ে বুঝলাম, ছবির থেকেও বেশি সুন্দর এই কুঙ্কেশ্বর।

    মন্দিরচত্বর থেকে কুঙ্কেশ্বর সৈকত।

    তবে তার আগে পথের সৌন্দর্যের ব্যাখ্যাও করতে হয়। পশ্চিমঘাটের কোল বেয়ে ওঠানামা রাস্তা এগিয়ে গিয়েছে। সমুদ্রের এত কাছে পাহাড়ি ঘাটরাস্তা বোধহয় এই মহারাষ্ট্র উপকূলেই দেখা যায়। তিনটে নদীও পড়ল, এইগুলো সবই সমুদ্রপুষ্ট ব্যাকওয়াটার।

    কুঙ্কেশ্বরের অবস্থানটা স্বপ্নের মতো। পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এখানে সোজা আরব সাগরে গিয়ে মিশেছে। তৈরি হয়েছে একটা সুন্দর সমুদ্রসৈকত। আর তার ঠিক ধারেই রয়েছে অপূর্ব সুন্দর এক মন্দির। মন্দিরের অধিষ্ঠাতা দেবতা শিব। তবে মন্দিরের গঠনশৈলী ভীষণভাবে আকর্ষণ করল। গোয়ান গঠনশৈলী রয়েছে মন্দিরে। তবে সেটাকে গোয়ান না বলে কোঙ্কণী বলা ভালো।

    কুঙ্কেশ্বর মন্দির।

    ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ এই মন্দির তৈরি করেছিলেন বলে জানা যায়। মন্দিরের পরিবেশ ভীষণই শান্ত। মহাদেব এখানে স্বয়ম্ভু। একেবারে গর্ভগৃহে প্রবেশ করে মহাদেবকে ছোঁয়া যায়।

    এখানে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়ে তারকারলি ফেরার পথ ধরার সময় ভাবছিলাম, এখানে একটা রাত থাকলে বেশ হতো।

    তারকারলি ফেরার পথে নাম-না-জানা নদী।

    কুঙ্কেশ্বর থেকে ফিরতে ফিরতে ঠিক করে নিলাম, কাল আর দুপুরের পর নয়, সকালেই বেরিয়ে পড়ব এবং রিসর্টে ফিরে এসে লাঞ্চ করে বিশ্রাম নেব। সেইমতো সারথিকে জানিয়েও দিলাম।  

    সকাল-সকালই ঘুম থেকে উঠে পড়লাম। সমুদ্রের ধারে এই রিসর্টের চত্বরটা এমনই যে এখানে হেঁটে বেড়ালেই সময় কেটে যায়। প্রাতরাশ সেরে বেরিয়ে পড়লাম। কাল গিয়েছিলাম তারকারলির উত্তরে। আজকের গন্তব্য দক্ষিণ। রিসর্ট থেকে বেরিয়েই পাহাড়ি পথ শুরু হয়ে গেল। মহারাষ্ট্র উপকূলের এই হল মজা। এখানে যতটা সমুদ্র ঠিক ততটাই পাহাড়। পাহাড়ি পথ ধরে যেতে যেতে বুঝতেই পারবেন না যে আপনি সমুদ্রের সঙ্গে একেবারে সমান্তরাল ভাবে চলেছেন।

    কারলি নদী।

    এর মধ্যেই দেখা পেলাম কারলি‌ নদীর। কিছুক্ষণের জন্য সঙ্গী হল সে। কেরালার মতো অসংখ্য ব্যাকওয়াটার রয়েছে এই দক্ষিণ মহারাষ্ট্র উপকূলে। কারলি নদীও সেই রকমই। নদীর ওপর সেতু পেরিয়ে এগোতে থাকলাম। পথেই পড়ল নতুন তৈরি হওয়া সিন্ধুদুর্গ বিমানবন্দর। আমরা যাচ্ছি বেঙ্গুরলা।

    বেঙ্গুরলা সৈকত।

    ঘন্টাখানেকের পথ পাড়ি দিয়ে বেঙ্গুরলা পৌঁছোতেই মোহিত হয়ে গেলাম জায়গাটার সৌন্দর্য দেখে। দাভোলি,‌ তুলাস আর‌ মোচেমার – উত্তর, পূর্ব আর দক্ষিণে এই তিন পাহাড় আর পশ্চিমে আরব সাগরকে কেন্দ্র করে রয়েছে বেঙ্গুরলার সমুদ্রসৈকত। এখানে সাগরের নীল জলরাশি থেকে বেরিয়েছে মন্দভি নদী (গোয়ার মান্ডবী নদী এটা নয়)। নদীর ওপর একটা ছোট্ট ব্রিজ পেরিয়ে নামলাম সৈকতের বালিরাশির ওপরে।

    সৈকতে লোকজনের আনাগোনা বিশেষ নেই। তবে রোদের তেজ যা সাংঘাতিক, তাতে লোকজন এই সময়ে ঘুরতে আসবে, এটা ভাবাও যায় না।

    সাগরেশ্বর মন্দির।

    এই সৈকতের লাগোয়া সৈকতের নাম সাগরেশ্বর সৈকত, যার নামকরণ হয়েছে সাগরেশ্বর মহাদেবের নাম থেকে। সৈকতের গায়েই রয়েছে এই মন্দির। মন্দিরটাকে বাইরে থেকে দেখলে কোনো মন্দির মনেই হবে না। কোঙ্কণী ঘরানার টালির চালের এক বাড়ি। ভীষণ শান্ত, নিরিবিলি পরিবেশ।

    বেঙ্গুরলা সৈকত ও সাগরেশ্বর মন্দির দেখে তারকারলি ফেরার পথ ধরলাম। পথে পড়ল আরো এক অজানা সৈকত, কাবানে। এর সৌর্ন্দযও অতুলনীয়। পাহাড় আর ব্যাকওয়াটারকে কেন্দ্র করেই হয়েছে এই সৈকত।

    কাবানে সৈকত।

    আসলে এই অঞ্চলে পরতে পরতে রয়েছে একের পর এক সুন্দর সৈকত। এ বলে আমায় দেখো তো ও বলে আমায়! কিন্তু সব কিছু খুঁটিয়ে দেখতে হলে অন্তত দুটো দিন হাতে রাখতেই হবে। কিন্তু আমাদের অত সময় নেই, তাড়াতাড়ি হোটেলে ফিরতে হল। কারণ পমফ্রেট মাছ আর দুপুরের ঘুম অপেক্ষা করছিল যে। (চলবে)

    ছবি: লেখক

    আরও পড়ুন

    মরাঠাভূমে আবার: পর্ব ১

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ২: মায়ের ইচ্ছাপূরণ

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৩: ঘৃষ্ণেশ্বর হয়ে কৈলাশে 

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৪: শিরডী থেকে কারলায়

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৫: পাওনা লেক দেখে লোনাভালায়

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৬: কোঙ্কণ রেলপথে তারকারলি যাত্রা

    The post মরাঠা ভূমে আবার, পর্ব ৭: একের পর এক সৈকত দর্শন appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-blog/tour-to-maharashtra-part-7-visit-to-kunkeshwar-vengurla-sagareshwar-beaches/feed/ 0 119942
    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৬: কোঙ্কণ রেলপথে তারকারলি যাত্রা https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/tour-to-maharashtra-part-6-on-way-to-tarkarli-via-konkan-rail/ https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/tour-to-maharashtra-part-6-on-way-to-tarkarli-via-konkan-rail/#respond Sat, 02 Aug 2025 14:56:12 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=119924 শ্রয়ণ সেন “কত নম্বর টানেল পেরোচ্ছি গো বাবা?” “২৩।” মনে পড়ে যাচ্ছে আজ থেকে আঠাশ বছর আগের কথা। শিমলা যাওয়ার

    The post মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৬: কোঙ্কণ রেলপথে তারকারলি যাত্রা appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    শ্রয়ণ সেন

    “কত নম্বর টানেল পেরোচ্ছি গো বাবা?”

    “২৩।”

    মনে পড়ে যাচ্ছে আজ থেকে আঠাশ বছর আগের কথা। শিমলা যাওয়ার পথে আমাদের টয়ট্রেনটা যখন একের পর এক সুড়ঙ্গ পেরোচ্ছিল, তখন ক্লাস ওয়ানে পড়া ছোট্ট আমি প্রশ্নবাণে কার্যত বিদ্ধ করেছিলাম বাবাকে। বাবা কিন্তু বিরক্ত হয়নি এতটুকু। আমার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে গিয়েছিল।

    এ বারও যে সেই রকম কিছুই হবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত সত্তর পেরিয়ে যাওয়া প্রৌঢ়। তাই আগে থেকে একটু বেশি সজাগ থাকতে হচ্ছে তাঁকে।

    জীবন পেরিয়ে গিয়েছে আঠাশ বছর, কিন্তু বাবার সঙ্গে আমার রসায়নে একটুকুও বদল হয়নি। তাই তো আজও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমরা কাটিয়ে দিতে পারি ভ্রমণ সংক্রান্ত নানা রকম গল্প করে।

    যে পথে আমরা এখন সফর করছি, সেটা কিন্তু আমাদের খুব একটা অচেনা নয়। কারণ ষোলো বছর আগে আমরা এই অঞ্চলে বেড়াতে এসেছিলাম। কিন্তু সে বার ভ্রমণ হয়েছিল সড়কপথে। এ বার রেলপথে।

    কোঙ্কণ রেল নিয়ে আমার আগ্রহ অনেক দিনের। ছোটো থেকে বিভিন্ন বই ঘেঁটে কোঙ্কণ রেলের ব্যাপারে জেনেছি। মুম্বই থেকে কর্নাটকের ম্যাঙ্গালুরু পর্যন্ত পথটা মূলত উপকূলীয় হলেও উঁচু পাহাড় আর একের পর এক নদীর কারণে তা বড্ড দুর্গম। সেই অঞ্চল দিয়ে রেলপথ তৈরি করা কার্যত এক বিস্ময়কর ব্যাপার।

    চলেছি কোঙ্কণ রেলপথে।

    পশ্চিমঘাটের দুর্গম পাহাড় এবং আরব সাগরের ঘন নীল জল যে ভাবে একের অপরের গা ঘেঁষে রয়েছে, তা উপভোগ করতে হলে ভারতের পশ্চিম উপকূলে, বিশেষ করে মহারাষ্ট্র থেকে গোয়া হয়ে কর্নাটক পর্যন্ত ভ্রমণ করতেই হবে। সেই পাহাড় এত বেশি দুর্গম যে এই অঞ্চলের কিছু প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছোতে হলে এখনও নিজের পায়ের ওপরেই ভরসা করতে হয় স্থানীয়দের। ট্রেন তো দূর, গাড়ি যাওয়ারও ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত হয়নি সেখানে। 

    পানভেল থেকে ট্রেনটা ছাড়ল পৌনে ন’টায়। জানলার ধারে আরও নড়েচড়ে বসলাম। আগামী আট ঘণ্টা জানলার ধার থেকে নড়ব না। প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে দরজার ধারে গিয়েও দাঁড়াতে পারি।

    পানভেল ছাড়াতেই পাতালগঙ্গা নদী পেরোল ট্রেনটা। তার পরেই পরিবেশ বদলে যেতে থাকল। আকাশচুম্বী অট্টালিকা পেছনে চলে গিয়েছে। কাছে এসে গিয়েছে পাহাড়। যে পাহাড়ের মাথায় লেপ্টে রয়েছে বর্ষার মেঘ। এখন অবশ্য বৃষ্টি হচ্ছে না। তবে বর্ষাকাল তো, তাই যে কোনো মুহূর্তেই সে নামতে পারে ঝেঁপে।

    ট্রেন এগোচ্ছে ধীরগতিতে, এরই মধ্যে কোঙ্কণ রেলের ইতিহাসটা একটু ঝালিয়ে নিলাম। এই পথটা এতটাই দুর্গম যে আধুনিক যুগেও এখানে রেলপথ নির্মাণের কোনো রকম পরিকল্পনা ছিল না। এই অঞ্চলে চিপলুন, রত্নাগিরি, ম্যাঙ্গালুরুর মতো বড়ো বড়ো শহর এবং গোয়ার মতো আস্ত একটা রাজ্য থাকলেও রেলপথ ছিল না। ভরসা ছিল শুধুমাত্র সড়কপথ।

    স্বাধীনতার পরে কোঙ্কণ উপকুল বরাবর রেলপথ নির্মাণের দাবি ক্রমশ জোরালো হতে থাকে। ১৯৫৭ সালে এই অঞ্চলে রেলপথ নির্মাণের জন্য মহারাষ্ট্রের দাসগাঁও এবং কর্নাটকের ম্যাঙ্গালুরুর মধ্যে একটি সমীক্ষা করা হয়। ১৯৯০ সালের ১৯ জুলাই, তৎকালীন ভিপি সিংহ সরকারের রেলমন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজ, অর্থমন্ত্রী মধু দন্ডবতে এবং প্ল্যানিং কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান রামকৃষ্ণ হেগড়ের উদ্যোগে তৈরি হয় কোঙ্কণ রেলওয়ে কর্পোরেশন লিমিটেড। এই দুর্গম পথ দিয়ে ট্রেন চালানোই ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য।

    কিন্তু বিষয়টি খাতায়-কলমে করা যতটা সহজ, মাঠে নেমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা ঠিক ততটাই কঠিন ছিল। এই অতি দুর্গম অঞ্চল দিয়ে রেলপথ নিয়ে গেলে তৈরি করতে হবে দু’হাজারেরও বেশি সেতু এবং ৯২টি সুড়ঙ্গপথ। পাহাড় কেটে এই সুড়ঙ্গ তৈরি না করলে কোনো ভাবেই ট্রেন চালানো যাবে না যে। 

    পাহাড়-জঙ্গলের মাঝে খেত।

    বিভিন্ন প্রতিকূলতাকে সামলে নিয়ে অবশেষে ট্রেন চলল এই পথে। ১৯৯৩ সালের মার্চে রেলপথের দক্ষিণ প্রান্তে প্রথম বার ট্রেন চালানো হয়, কর্নাটকের ম্যাঙ্গালুরু থেকে উদুপি পর্যন্ত। দ্বিতীয় ধাপে ট্রেন চালানো হয় উত্তর প্রান্তে। ওই বছরেরই জুনে ট্রেন চলে মহারাষ্ট্রের রোহা এবং বীরের মধ্যে।

    এর পর আরও পাঁচ বছর ধরে একটার পর একটা অংশ জুড়তে জুড়তে, অবশেষে ১৯৯৮ সালের মে মাসে মুম্বই থেকে ম্যাঙ্গালুরু পর্যন্ত পুরো রেলপথেই প্রথম বার যাত্রীট্রেন চালানো হয়। রেলপথে যুক্ত হয় মুম্বই-চিপলুন-রত্নাগিরি-গোয়া-কারওয়ার-উদুপি-ম্যাঙ্গালুরু।

    ইতিহাস ঝালাতে গিয়ে খেয়ালই হয়নি যে এই যাত্রাপথের প্রথম সুড়ঙ্গে ঢুকে গিয়েছে ট্রেনটা। চারিদিক মিশমিশে কালো, বদ্ধ জায়গা দিয়ে যাচ্ছে সে। গুমগুম একটা আওয়াজ হচ্ছে। মিনিটখানেক পর সুড়ঙ্গ থেকে ট্রেনটা বেরোতেই আশেপাশের পরিবেশ যেন আরও কিছুটা বদলে গেল।

    একটা স্টেশন এল। নাম কোলাড। জায়গাটা চেনা। ওই যে, আজ থেকে ষোলো বছর আগে এই অঞ্চল দিয়েই তো সড়কপথে ভ্রমণ করেছিলাম। সেই স্মৃতি মনে পড়ছে এ বার। রায়গড় কেল্লাটা কোলাডের কাছেই না? বাবাকে প্রশ্নটা করতেই সম্মতিসূচক উত্তর পেলাম।

    পাশ দিয়ে চলেছে মুম্বই-গোয়া জাতীয় সড়ক।

    ট্রেন চলছে কু-ঝিকঝিক। মুম্বই-গোয়া জাতীয় সড়কটার সঙ্গে লুকোচুরি খেলে চলেছি। সেই সড়ক কখনও রেললাইনের একদম ধারে এসে যাচ্ছে, কখনও ওপর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। আবার কখনও রেললাইন জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

    তিন নম্বর সুড়ঙ্গপথটা পেরিয়ে যেতেই বিশাল সাবিত্রী নদী। নদীটা চেনা। দেখা হয়েছিল সেই ষোলো বছর আগে। এখান থেকে হরিহরেশ্বর সমুদ্রসৈকত খুব একটা দূরে নয়। সেই হরিহরেশ্বরেই পশ্চিমঘাটের পাহাড় থেকে নেমে এসে আরব সাগরের জলে নিজেকে সোঁপে দেয় সাবিত্রী।

    চিপলুন স্টেশন।

    সকাল পৌনে ১২টা। ট্রেন থামল চিপলুনে। এতক্ষণে ১৮টা সুড়ঙ্গপথ এবং বেশ কয়েকটা নদী পেরিয়ে এসেছি। চিপলুনের সঙ্গেও ছোট্ট একটা স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। সে বার যখন সড়কপথে মহাবালেশ্বর থেকে গণপতিপুলে যাচ্ছিলাম, তখন মাঝপথে এই চিপলুনেই প্রাতরাশ করেছিলাম। এত অপূর্ব ধোকলা খেয়েছিলাম যে তার স্বাদ এখনও মুখে লেগে রয়েছে।

    চিপলুন ছাড়াতেই বশিষ্ঠ নদীর ওপর সেতু। এক একটা নদী কী বিশাল! এই সব নদী বৃষ্টিতেই পুষ্ট। পাহাড় থেকে নেমে আরব সাগরে মিশে যায়। অনিন্দ্যসুন্দর যাত্রাপথ প্রতি মুহূর্তে মুগ্ধতায় ভরিয়ে দিচ্ছে। চারদিকের নীলাভ সবুজ পাহাড়, আচমকা দেখা পাওয়া জলস্রোত আর সঙ্গে অসংখ্য সুড়ঙ্গপথের সাক্ষী থাকছে এই স্বপ্নিল ভ্রমণপথ।

    বশিষ্ঠ নদী।

    চিপলুনের পর সুড়ঙ্গ আরও বেড়ে গেল। একটা সুড়ঙ্গ থেকে বেরোতেই নিমেষের মধ্যে পরের সুড়ঙ্গে ঢুকে যাচ্ছে ট্রেন। আবার একটা সুড়ঙ্গ থেকে বেরোতেই সঙ্গে সঙ্গে নদীসেতু। আশেপাশের পাহাড়গুলো কী উঁচু! ভাবছি এতটা দুর্গম তো দার্জিলিং বা শিমলার টয়ট্রেন পথও নয়।

    “কতক্ষণ চলছে গো এই টানেলটা?”

    “এই তো সাত মিনিট হয়ে গেল।”

    “তা হলে এটাই বোধহয় সেই দীর্ঘতম টানেল!”

    ৩৯ নম্বর সুড়ঙ্গতে ঢুকেছিলাম সাত মিনিট আগে। ট্রেন কিন্তু বেশ স্পিডেই চলছে। তবুও সুড়ঙ্গটা শেষ হল না এখনও। কোঙ্কণ রেলপথ নিয়ে ইতিহাস ঘাঁটার সময় পড়েছিলাম যে রত্নাগিরির কাছে করবুডে রয়েছে এই রেলপথের দীর্ঘতম সুড়ঙ্গটি। দূরত্ব সাড়ে ছয় কিলোমিটার। একসময় এটিই ছিল ভারতীয় রেলপথে দীর্ঘতম টানেল। কিন্তু কাশ্মীরে পিরপাঞ্জাল পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে তৈরি হয়েছে দীর্ঘতম টানেল। যাই হোক মুশকিল হল, এক একটা সুড়ঙ্গে ঢোকার আগে সেই সুড়ঙ্গ সম্পর্কে বিশেষ কোনো পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে না, যেমনটা আছে কালকা-শিমলা রেলপথে। যার ফলে কতকটা আন্দাজেই বিষয়গুলো বুঝতে হচ্ছে। তবে এই ৩৯ নম্বর সুড়ঙ্গটাই যে এই রেলপথের দীর্ঘতম সেটা বুঝতে বিশেষ অসুবিধা হল না।

    কোঙ্কণ রেলপথে অসংখ্য টানেলের একটি।

    চলে এল রত্নাগিরি। চিপলুন থেকে রত্নাগিরির দূরত্ব ষাট কিলোমিটার মতো। এই অল্প রাস্তায় মোট ২৩টা সুড়ঙ্গপথ পেরোলাম। স্টেশনে ট্রেন থামতেই ট্রেন থেকে নেমে রত্নাগিরিকে অনুভব করার চেষ্টা করলাম। রত্নাগিরিও আমার কাছে নতুন জায়গা নয়।

    রত্নাগিরি হোক বা রত্নগিরি। এই কোঙ্কণী শহরটা ভারতের এক রত্নভূমি। ‘স্বরাজ আমাদের জন্মগত অধিকার এবং আমরা তা অর্জন করবই’- এই উক্তির মধ্যে দিয়ে লক্ষ লক্ষ ভারতীয়কে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন যিনি, ভারতের সেই বীরপুত্র লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের জন্মস্থান এই রত্নাগিরি।

    রত্নাগিরি শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সেই পুণ্যভূমি। খুব সাদামাটা কোঙ্কণী স্টাইলের বাড়ি। দু’তলা বাড়ির চাল তৈরি টালি দিয়ে। বর্তমানে পুরাতত্ত্ব বিভাগ এই বাড়িটির দেখভাল করে। ১৮৫৬ সালের ২৩ জুলাই এই বাড়িতেই জন্ম নেন কেশব গঙ্গাধর তিলক ওরফে বাল গঙ্গাধর তিলক।

    বৃষ্টিস্নাত রত্নাগিরি স্টেশন।

    ট্রেন ছেড়ে দিল। এখনও প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। এক একটা জায়গা যেন এক একটা ছোট্ট ছোট্ট টুরিস্ট স্পট। পাহাড়-জঙ্গলের মাঝে খাপছাড়া খাপছাড়া কিছু রিসর্ট তৈরি হয়েছে। সবুজ দেখার জন্য এই জায়গাগুলো আদর্শ।

    রত্নাগিরি ছাড়িয়ে কঙ্কভলি। তার পর ট্রেন থামল কুড়ালে। আমাদের যাত্রাপালা শেষ হল। তবে এর মধ্যেই পেরিয়ে এসেছি একাত্তরটা টানেল।

    ট্রেন থেকে নেমে বাবার আবার মনে পড়ে গেল ৩৬ বছর আগের একটা ঘটনা। তখন অবশ্য ট্রেন চালু হয়নি। মাকে নিয়েই বাসেই মুম্বই থেকে গোয়া গিয়েছিল বাবা – “জানিস, তখন ভোর পাঁচটা। একটা চায়ের দোকানের সামনে বাসটা থামল। আমরা সব হইহই করে চা খেতে নেমে পড়লাম। জায়গাটা সম্ভবত এই কুড়াল‌ই‌ ছিল।”

    তারকারলি রিসর্ট থেকে আরব সাগর।

    কুড়াল স্টেশনে নেমে এগিয়ে যাচ্ছি পার্কিং-এর দিকে। সমুদ্রসৈকত তারকারলি যাব, গাড়ি বলা আছে। সে এসেও গিয়েছে।

    এক অসাধারণ ট্রেনযাত্রা এবং জীবনের অন্যতম সেরা ট্রেনযাত্রা এখানেই শেষ হল। ট্রেনের লেট, কাজের তাড়ার জন্য বাধ্য হয়ে আমাদের প্লেনে সফর করতে হয়, কিন্তু ট্রেনযাত্রার আনন্দ যে সব কিছুর থেকে আলাদা, ফের একবার প্রমাণিত হল।

    “বাবা যাই বলো, মন এখনও ভরল না!”

    “কেন রে?”

    “এর পরের লক্ষ্য এই কুড়াল থেকে ম্যাঙ্গালুরু পর্যন্ত ট্রেনভ্রমণ। তা হলেই এই অতুলনীয় সৌন্দর্যের রেলপথটা চাক্ষুষ করা পূর্ণ হবে!”

    “ঠিক বলেছিস!” (চলবে)

    ছবি: লেখক

    মরাঠাভূমে আবার: পর্ব ১

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ২: মায়ের ইচ্ছাপূরণ

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৩: ঘৃষ্ণেশ্বর হয়ে কৈলাশে 

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৪: শিরডী থেকে কারলায়

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৫: পাওনা লেক দেখে লোনাভালায়

    The post মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৬: কোঙ্কণ রেলপথে তারকারলি যাত্রা appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/tour-to-maharashtra-part-6-on-way-to-tarkarli-via-konkan-rail/feed/ 0 119924
    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৫: পাওনা লেক দেখে লোনাভালায় https://www.bhramononline.com/travel-blog/tour-to-maharashtra-part-5-visit-to-pawna-lake-and-lonavala/ https://www.bhramononline.com/travel-blog/tour-to-maharashtra-part-5-visit-to-pawna-lake-and-lonavala/#respond Mon, 21 Jul 2025 05:00:51 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=119904 শ্রয়ণ সেন  মন্দার বোস যেমন রাজস্থান দেখে বলেছিলেন, এরা কি যেখানে পেরেছে একটা করে ফোর্ট বানিয়ে রেখেছে? ঠিক একই কথা

    The post মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৫: পাওনা লেক দেখে লোনাভালায় appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    শ্রয়ণ সেন 

    মন্দার বোস যেমন রাজস্থান দেখে বলেছিলেন, এরা কি যেখানে পেরেছে একটা করে ফোর্ট বানিয়ে রেখেছে? ঠিক একই কথা মহারাষ্ট্রের জন্যও প্রযোজ্য! এখানেও বিভিন্ন জায়গায় ফোর্ট দেখতে পাওয়া যায়। যেমন কারলাতে আমাদের রিসর্টের কাছেই রয়েছে লোহাগড় ফোর্ট।

    তবে শুধু ফোর্ট না, মহারাষ্ট্রে হ্রদের আধিক্যও রয়েছে বেশ ভালোই। বিশেষ করে সহ্যাদ্রি পর্বতের কোনায় কোনায় এমনই অসংখ্য লেকের সন্ধান পাওয়া যাবে। প্রাতরাশ সেরে সক্কাল সক্কাল সে রকমই একটি অনামী লেকের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লাম। পাওনা লেক। এই লেকের কথা আমি আমার এক দিদির কাছে শুনেছি। মুম্বই থাকাকালীন ওরা ঘুরে গিয়েছিল এই পাওনা লেকে। ও বলেছিল, কারলায় তোরা কোথাও যাস আর নাই যাস, পাওনা যাবিই। এর বিশেষত্ব হল নির্জনতা। ভালো লাগবেই। আর পাওনা লেকে যাওয়ার ব্যাপারে আরও বেশি করে উৎসাহ দিল আমার সদ্যপরিচিত এক বন্ধু।

    তবে শুধু পাওনাই নয়, আজ আমাদের আরও কিছু দেখার আছে – পাওনা লেকের পরে লোনাভালা এবং শেষে কারলা ও ভাজা গুহা।

    কারলায় মহারাষ্ট্র পর্যটনের রিসর্টটি মূল সড়ক থেকে একটু ভিতরে। রিসর্টের ফটকে গিয়ে রাস্তা শেষ হয়েছে। এই রাস্তাটিও ভারী সুন্দর। গাছগাছালিতে ছাওয়া এই রাস্তায় ভোরবেলায় বাবাকে নিয়ে ‘মর্নিং ওয়াক’ করে এসেছি।     

    পাওনা লেক থেকে অদ্ভুতদর্শন পাহাড়।

    রিসর্ট থেকে বেরিয়ে সেই রাস্তা ধরেই পড়লাম মুম্বই-পুণে পুরোনো হাইওয়েতে। তার পর পুণের দিকে এগিয়ে চললাম। কিছুটা গিয়ে কামশেঠ। সেখান থেকে ডান দিকে ছোটো একটা রাস্তা ধরলাম। পথের সৌন্দর্যে বার বার মোহিত হয়ে যেতে হচ্ছে। এই অঞ্চলে বর্ষা সবে শুরু হয়েছে। নতুন বৃষ্টির ছোঁয়া পেয়ে চারিদিক ভীষণরকম সতেজ হয়ে উঠেছে। স্বল্প উচ্চতার পাহাড়ের ওপর দিয়ে এগিয়ে চলল আমাদের গাড়ি। মাঝেমাঝে এক-একটি জনপদ আসছে। কিছুটা ব্যস্ততা। তার পর আবার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর নিরিবিলি পথ।  

    পাওনার দেখা পেলাম কিছুটা গিয়েই। চারিদিকে ঘেরা পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে পাওনা লেক উঁকি দিতেই অদ্ভুত একটা ভালোলাগা ছুঁয়ে গেল। আমাদের পথের ডান দিকে সেই লেক। এবার গাড়ি থামলেই হয়। কিন্তু গাড়ি আর থামছে না। নিশ্চয়ই কোনো ভিউ পয়েন্ট আছে, মনে মনে ভাবি। পথের বাঁ দিকে স্বল্প উঁচু পাহাড়ের গায়ে দু-একটা রিসর্টও চোখে পড়ছে। অবশেষে পৌঁছোলাম ফাগণে গ্রামে। একেবারে লেকের ধারে এই গ্রাম। আর গ্রাম পেরিয়েই আমাদের গাড়ি ডান দিকে পথের ঢাল ধরে নেমে এল লেকের প্রায় পাড়ে। কারলা থেকে খুব বেশি দূর আসিনি। গুগুল ম্যাপ বলছে সাড়ে ২৭ কিলোমিটার।

    পাওনা লেকে না এলে একটা অসাধারণ স্থান দেখা থেকে বঞ্চিত থাকতে হত। পুনে জেলার মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া পাওনা নদীকে বাঁধ দিয়ে তৈরি হয়েছে পাওনা লেক। গাড়ি থেকে নেমে উঁচুনিচু পাথুরে পথ ধরে হেঁটে পৌঁছে গেলাম লেকের একদম ধারে। পাহাড় দিয়ে ঘেরা পাওনা লেক আমাদের মাইথন-ম্যাসাঞ্জোরের কথা মনে করিয়ে দেয়। খুব মিল আছে। ফুরফুরে হাওয়া আর লেকের শান্ত ঢেউয়ে মন উতলা হয়ে উঠছিল। এখন লেকের জল কিছুটা কম। তবে বৃষ্টি বাড়লে জল ভরলে এর রূপ আরও খোলতাই হয়। দেখছি, লেকের ধারেই রাত্রিবাস করা যায়। অনেক টেন্ট অ্যাকমোডেশন রয়েছে এখানে।

    এই পাহাড়েই রয়েছে সেই পথ, যেখান থেকে নেমে এলাম পাওনার ধারে।

    পাওনা লেকে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে চললাম লোনাভালার পথে। লক্ষ্য টাইগার পয়েন্ট। পাওনা লেককে বেড় দিয়ে চলেছি। আমাদের ডান দিকে সে রয়েছে। স্বল্প উচ্চতার পাহাড়ি পথ ধরে এগিয়ে চলা। রাস্তায় গাড়িঘোড়া বিশেহ নেই। মাঝে মাঝে অনামী জনপদ। নির্জনতাই এই পথের সম্পদ। ধীরে ধীরে পথে লোকজন বাড়তে লাগল। রাস্তার ধারে গাড়ি পার্কিং করা। বুঝলাম উদ্দিষ্ট স্থানের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের সারথি বাঁ দিকে একটা পাথুরে মাঠে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিল। আরও কিছু গাড়ি পার্ক করা আছে। এটা তো টাইগার পয়েন্ট নয়। আমরা আগেও মুম্বই থেকে এখানে এসেছি। জায়গাটা কিছু কিছু চিনি। সারথিকে বলতেই ওঁর কথা, “এখানে কিছুক্ষণ সময় কাটান, টাইগার পয়েন্টে নিয়ে যাব।” হয়তো এ কথা বলে উনি মনে মনে হেসেছিলেন। গাড়ি থেকে নেমে একটু ঘোরাঘুরি করতেই বুঝলাম এই জায়গাটার নাম শিবলিঙ্গ পয়েন্ট। সামান্য হেঁটে একেবারে খাদের ধারে গিয়ে দাঁড়ালাম। কাছে-পিঠে-দূরে অজস্র ছোটো-বড়ো পাহাড়। অদ্ভুত আকারের সব শিখর। তারই মধ্যে একটি পাহাড়ের মাথায় দেখলাম পুরো শিবলিঙ্গ। বুঝলাম, কেন এই জায়গার নাম শিবলিঙ্গ পয়েন্ট। পাহাড়ের গা বেয়ে নেমেছে অনেক ঝরনা।

    বেশ কিছুক্ষণ সময় শিবলিঙ্গ পয়েন্টে কাটিয়ে চললাম টাইগার পয়েন্টের দিকে। কাছেই টাইগার পয়েন্ট। কিন্তু গাড়ি আর এগোতে চায় না। মানুষের ভিড়ে মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। মনে পড়ে গেল আজ তো রবিবার। কয়েকটা দিনের জন্য বেড়াতে বেরোলে বার-তারিখ সব গুলিয়ে যায়। টাইগার পয়েন্টে তিলধারণের জায়গা নেই। মুম্বই-পুণে থেকে সবাই চলে এসেছে ছূটির দিনটা কাটাতে। এমনই এক রবিবারে আমরাও তো মুম্বই থেকে এসেছিলাম এই লোনাভালা-খান্ডালায়।

    দর্শন হল শিবলিঙ্গের।

    সারথি জিগগেস করলেন, টাইগার পয়েন্টে আমরা নামব কি না। কোনো প্রশ্নই নেই। বুঝলাম, সারথি কেন আমাদের শিবলিঙ্গ পয়েন্টে নামিয়েছিলেন। ওখানে ভিড় যেমন কম এবং ভিড় কম বলেই জায়গাটা অনেকটাই পরিষ্কার। আর দৃশ্যেও কোনো ফারাক নেই। আসলে মুম্বই-পুণে থেকে যাঁরা আসছেন, তাঁরা প্রথমেই পাচ্ছেন টাইগার পয়েন্ট। তাই সেখানেই গাড়ি রেখে ঘোরাঘুরি করছেন। আমরা এলাম উল্টো দিক থেকে, কম পরিচিত রাস্তা ধরে। তাই সুযোগ পেয়ে গেলাম শিবলিঙ্গ পয়েন্ট থেকেই যা কিছু দেখার।

    কারলা আর ভাজা গুহা আমাদের রিসর্টের কাছেই। কিন্তু সেই রাস্তায় প্রবল জ্যাম। ঘড়িতে এখনই সাড়ে তিনটে। গুহা দেখে ফিরতে ফিরতে সন্ধে হয়ে যাবে। এ দিকে পেটেয় ছুঁচো ডন মারছে। দুপুরের খাওয়া এখনও হয়নি। ফিরে এলাম রিসর্টে।      

    রিসর্টে ফিরে এসে দেখলাম ময়ূরী আর বিপুলের বিবাহপর্ব মিটেছে। ব্যান্ডে‌ বাজতে থাকা মরাঠি আর কোঙ্কনি সুরে নাচতে ইচ্ছে করছিল খুব। সে ইচ্ছা সংবরণ করলাম। বিবাহবাসর শেষে আগামীকাল ওরা ফিরে যাবে নিজেদের বাড়ি। আমরাও যাত্রা করব পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশে। (চলবে)

    ছবি: লেখক

    আরও পড়ুন

    মরাঠাভূমে আবার: পর্ব ১

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ২: মায়ের ইচ্ছাপূরণ

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৩: ঘৃষ্ণেশ্বর হয়ে কৈলাশে 

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৪: শিরডী থেকে কারলায়

    The post মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৫: পাওনা লেক দেখে লোনাভালায় appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-blog/tour-to-maharashtra-part-5-visit-to-pawna-lake-and-lonavala/feed/ 0 119904
    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৪: শিরডী থেকে কারলায় https://www.bhramononline.com/travel-blog/tour-to-maharshtra-part-4-reaching-karla-from-shirdi/ https://www.bhramononline.com/travel-blog/tour-to-maharshtra-part-4-reaching-karla-from-shirdi/#respond Sun, 13 Jul 2025 04:56:30 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=119883 শ্রয়ণ সেন    “ঋভু, আমাদের রোড জার্নির তালিকায় এটা একটা নতুন সংযোজন বল?” বাবার আর আমার, দু’জনেরই সড়কযাত্রা ভীষণ পছন্দের।

    The post মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৪: শিরডী থেকে কারলায় appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    শ্রয়ণ সেন   

    “ঋভু, আমাদের রোড জার্নির তালিকায় এটা একটা নতুন সংযোজন বল?”

    বাবার আর আমার, দু’জনেরই সড়কযাত্রা ভীষণ পছন্দের। সেই একুশ বছর আগে রাজস্থানে রোড ট্র্যাভেল করতে করতে এর প্রেমে পড়েছিলাম। তার পর তামিলনাড়ু হোক বা হিমাচল, কর্নাটক হোক বা কাশ্মীর, গাড়িতে জার্নি করতে আমাদের বেশ লাগে। এমনকি ভরা কোভিডের‌ সময়ে কলকাতা থেকে দার্জিলিং গাড়িতে চলে যাওয়ার সাহসও নিয়েছিলাম আমরা।

    মহারাষ্ট্র আমাদের কাছে বড়ো চেনা। ২০০৯-এ আমি প্রথম বার এসেছি এ রাজ্যে, বাবা তারও আগে। এই নিয়ে এটা আমার ষষ্ঠ বার মহারাষ্ট্রে। তবে আজকের রোড জার্নিটা প্রায় নতুন আমার কাছে।

    দুটো দিন খুব সুন্দর কাটালাম সাইবাবার থান শিরডীতে। আমার এক পিসি আর পিসেমশাই সাইবাবার খুব ভক্ত। পিসেমশাই আদতে অন্ধ্রের মানুষ। কিন্তু খড়গপুরেই সব কিছু – জন্ম, পড়াশোনা, কর্মজীবন। ‘সাইবাবার জায়গায় এসে একবার কৃষ্ণমূর্তির (আমার পিসেমশাই) সঙ্গে যোগাযোগ করব না?’ – এরকম ভেবে মা পিসেমশাইকে ফোন করে অবাক হয়ে গেছে। অবাক হওয়ার মতোই ঘটনা। ওরা এই সময়ে শিরডীতেই আছে। ঘৃষ্ণেশ্বর-ইলোরা থেকে ফিরে সন্ধেটা কেটে গেল পিসিদের সঙ্গে।

    চলেছি শিরডী থেকে কারলা।

    আরও একটা সুন্দর অভিজ্ঞতা নিয়ে চললাম শিরডী থেকে। তা হল এখানকার খাওয়াদাওয়া। হেন খাবার নেই যা পাওয়া যায় না শিরডীতে। আমরা অবশ্য প্রাতরাশ ছাড়া বাকি খাওয়া সারছিলাম এমটিডিসি রিসর্টের উল্টো দিকে ‘মিনি পাঞ্জাব’ রেস্তোরাঁয়। এখানকার বেশির ভাগ কর্মীই দেখলাম বাঙালি। তবে শুধু এই রেস্তোরাঁই নয়, শিরডীর বহু রেস্তোরাঁতেই বাঙালিরা কাজ করে, যেমন দেখেছিলাম নাসিক রোড স্টেশনের পাশের রেস্তোরাঁয়।

    এই ‘মিনি পাঞ্জাব’-এই আলাপ হল আকাশ মণ্ডলের সঙ্গে। বাড়ি নদিয়ার কৃষ্ণনগরে। পরিবারের সবাই ওখানে। এখানে রয়েছেন ১১ বছর হল। এখানে কাজ করে রানাঘাটের কাছে গাংনাপুরে ৫ কাঠা জমি কিনে বাড়ি করেছেন। আকাশরা খ্রিস্টান। বড়োদিনের সময় বাড়ি যায় দু’ সপ্তাহের জন্য। আকাশের মতো এরকম অনেক বাঙালি শিরডীতে রয়েছেন।           

    প্রাতরাশ করে শিরডী থেকে রওনা হয়েছিলাম সাড়ে ন’টা নাগাদ। শিরডী থেকে দুশো কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসে পৌঁছোলাম লোনাভনার অনতিদূরে কারলায়। পথে পড়ল গ্রামীণ মহারাষ্ট্রের নানা রূপ। রুক্ষ জমি, টুকটাক চাষবাস, অদ্ভুত চেহারার সব পাহাড়, মারাঠি টুপি পরিহিত মানুষজন।

    মহারাষ্ট্রের পাহাড়ের রূপ বড্ড আকর্ষণ করে আমাকে। পাহাড়ের চূড়া অন্য রকম। মনে হয় সমতল। আঁকার খাতায় আমরা যে ভাবে পাহাড় আঁকি, তার থেকে একদমই আলাদা। সেই পাহাড় ভেদ করেই তৈরি হয়েছে হাইওয়ে। সাঁ সাঁ গতিতে ছুটে চলে আমাদের গাড়ি।

    গ্রামীণ মহারাষ্ট্রের এক রূপ, রুক্ষ জমি।

    হাইওয়ে দিয়ে যেতে যেতে কখনও বাঁ হাতে ছেড়ে আসি মালসেজঘাটের রাস্তা, তো কখনও ডান দিকে দেখতে পাই ভীমাশঙ্করের রাস্তা। বড্ড চেনা এই জায়গাগুলো। চাকানের পর আবহাওয়া বদলে গেল। পরিষ্কার আকাশে কোত্থেকে যেন একরাশ মেঘ হাজির। সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি মাথায় নিয়েই এসে পৌঁছোলাম কারলায়।

    লোনাভলার অনতিদূরে কারলায় মহারাষ্ট্র পর্যটনের রিসর্টে প্রবেশ করতেই একরাশ ভালোলাগা ছুঁয়ে গেল। এমন সবুজে ঘেরা রিসর্টে খুব কমই থেকেছি। মনে পড়ে গেল ১৬ বছর আগের মহাবালেশ্বরের স্মৃতি। ওই রিসর্টের চত্বরটাও তো এমনই। আরে দুটোই তো মহারাষ্ট্র পর্যটনের। একরকম তো হতেই পারে! কারলার রিসর্টটি আমার দেখা মহারাষ্ট্র পর্যটনের একাদশতম রিসর্ট।

    সমুদ্রতল থেকে হাজার দুয়েক ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই রিসর্টে যখন পৌঁছোলাম, তার আগেই একচোট জোরে বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। ফলে বাতাসে এক দিকে যেমন সোঁদা সোঁদা গন্ধ, তেমনই অন্য দিকে হালকা একটা ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব রয়েছে।

    গাছগাছালির মধ্যে বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে এই রিসর্ট। দেখলাম রিসেপশন বা রেস্তোরাঁ থেকে আমাদের কটেজে হেঁটে আসতে ৫ মিনিটের বেশি লাগছে। কিছু কিছু গাছ এতই পুরোনো যে রিসর্ট কর্তৃপক্ষ সতর্কতা দিয়ে রেখেছে যে কোনো গাছের তলায় গাড়ি যেন না রাখা হয়, কারণ একটু ঝড় হলেই নাকি গাছের ডাল ভেঙে পড়তে পারে।

    পাহাড় ভেদ করেই তৈরি হয়েছে হাইওয়ে।

    আচ্ছা ছাঁদনাতলাটা এমনই কোনো পুরোনো গাছের নীচে হয়নি তো?

    আজকাল ডেসটিনেশন ওয়েডিং বেশ নাম করেছে। এই রিসর্টেও এমনই এক বিবাহবাসরের আয়োজন হয়েছে। ছেলের নাম বিপুল, মেয়ের নাম ময়ূরী। বিয়ে উপলক্ষ্যে আমাদের কটেজের পাশেই একটা জায়গায় বেশ ধুমধাম করে আয়োজন করা হয়েছে সব কিছুর।

    বিকেলে গায়েহলুদ হয়েছে। এখন সংগীত আর মেহেন্দির পার্টি হচ্ছে। ব্যান্ডপার্টি গোয়ান সুর তুলেছে। দারুণ একটা পরিবেশ হয়ে রয়েছে। আগামীকাল বিবাহবন্ধনে বাঁধা পড়বে ওরা দু’জন। বিপুল আর ময়ূরীর আসন্ন জীবন খুব ভালো কাটুক। আমিও চেষ্টা করি আমার মহারাষ্ট্র ভ্রমণের এই গল্পগাথাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে। (চলবে)

    ছবি: লেখক

    আরও পড়ুন

    মরাঠাভূমে আবার: পর্ব ১

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ২: মায়ের ইচ্ছাপূরণ

    মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৩: ঘৃষ্ণেশ্বর হয়ে কৈলাশে 

    The post মরাঠাভূমে আবার, পর্ব ৪: শিরডী থেকে কারলায় appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-blog/tour-to-maharshtra-part-4-reaching-karla-from-shirdi/feed/ 0 119883