The post শীতে বারাণসী: আধ্যাত্মিকতা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক অনন্য অভিজ্ঞতা appeared first on Bhramon Online.
]]>শীতকালে বারাণসীতে গেলে যে পাঁচটি অভিজ্ঞতা অবশ্যই নেওয়া উচিত, সেগুলি নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হল।
বারাণসীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল দশাশ্বমেধ ঘাটে অনুষ্ঠিত সন্ধ্যার গঙ্গা আরতি। প্রতিদিন সূর্যাস্তের সময় পুরোহিতদের সুশৃঙ্খল আচার-অনুষ্ঠান, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রোচ্চারণ এবং প্রদীপের আলো গঙ্গার বুকে এক অপূর্ব দৃশ্য সৃষ্টি করে। শীতের হালকা ঠান্ডা বাতাস ও কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ এই অভিজ্ঞতাকে আরও আবেগময় করে তোলে। এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করলে আত্মিক প্রশান্তি ও এক অনির্বচনীয় অনুভূতি লাভ করা যায়।

নৌকায় বসে গঙ্গারতি দর্শন।
শীতের সকালে গঙ্গায় নৌকাভ্রমণ বারাণসীর অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। কুয়াশার চাদরে ঢাকা নদী, সূর্যোদয়ের সোনালি আভা এবং ঘাটগুলিতে মানুষের প্রাতঃকালীন পূজা-পাঠ এক রহস্যময় পরিবেশ সৃষ্টি করে। নৌকা ভেসে চলে বিভিন্ন ঘাটের পাশ দিয়ে, যেখানে দেখা যায় স্নানরত তীর্থযাত্রী, সাধু-সন্ন্যাসী ও প্রার্থনায় নিমগ্ন সাধারণ মানুষ। এই মুহূর্তগুলো বারাণসীর আত্মাকে অনুভব করার এক অনন্য সুযোগ এনে দেয়।
ভগবান শিবের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান কাশী বিশ্বনাথ মন্দির বারাণসীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। শীতকালে এখানে দর্শনার্থীদের জন্য পরিবেশ থাকে তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক। মন্দির চত্বরে ভক্তদের ভক্তিপূর্ণ আবেগ, ধূপ-ধুনোর সুবাস এবং ঘণ্টাধ্বনি মিলেমিশে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করে। এই মন্দির দর্শন বহু ভক্তের কাছে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। বিশেষ টিকিটে সকাল-সন্ধ্যায় আরতি ও রাজবেশ দেখার প্রথাও আছে।

বিশ্বনাথ মন্দির। ছবি উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া।
বিশ্বনাথ মন্দির লাগোয়া উত্তরে জ্ঞানের কূপ জ্ঞানভাপী। বিশ্বনাথ মন্দিরের বিপরীতে গলিপথেই ১৭২৫-এ পেশোয়া বাজিরাও ১ম-এর তৈরি অন্নপূর্ণা মন্দির। মানমন্দির ঘাটের কাছে রাজা জয় সিংহের গড়া মানমন্দির তথা যন্তর মন্তর। বিশ্বনাথ মন্দির থেকে ৪ কিমি দূরে ১৮ শতকে বাংলার রানি ভবানীর তৈরি নাগারা শৈলীর দুর্গামন্দির অবশ্য দ্রষ্টব্য। কাছেই রামচরিত মানস স্রষ্টা তুলসীদাসের স্মৃতিতে ১৯৬৪-তে তৈরি শিখর-ধর্মী তুলসী মানস মন্দির। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রয়েছে আর এক বিশ্বনাথ মন্দির।

বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিশ্বনাথ মন্দির।
বারাণসীর সরু গলিপথ ও ঐতিহ্যবাহী বাজার ঘুরে দেখলে শহরের প্রকৃত রূপ ধরা পড়ে। এখানকার বাজারে বিখ্যাত বেনারসি সিল্ক, হস্তশিল্প, ধর্মীয় সামগ্রী ও নানা ধরনের স্মারক দ্রব্য পাওয়া যায়। শীতকালে এই গলিগুলোতে হেঁটে বেড়ানো বেশ আরামদায়ক। পথে পথে ছোট চায়ের দোকানে এক কাপ গরম মসলা চা পান করে স্থানীয় জীবনের স্বাদ নেওয়া এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আর চায়ের সঙ্গে মেলে জিভে জল আনা লোভনীয় খাবারদাবার।

জিভে জল আনা খাবার — কচুরি-সবজি- জিলিপি ও লস্যি।
বারাণসী থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সারনাথ বৌদ্ধ ধর্মের এক গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। এখানেই গৌতম বুদ্ধ প্রথম ধর্মোপদেশ দেন। শীতকালে মনোরম আবহাওয়ায় ধামেক স্তূপ, প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ এবং সারনাথ প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর ঘুরে দেখার সুযোগ বিশেষভাবে উপভোগ্য। শান্ত পরিবেশে ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধন সারনাথকে এক অনন্য গন্তব্যে পরিণত করেছে।

ধামেক স্তূপ, সারনাথ।
দশাশ্বমেধ ঘাট থেকে নৌকায় বা গোধুলিয়া থেকে বাসে, অটোয় বা নিজস্ব গাড়ি ভাড়া করে চলুন ১৮ কিমি দূরে রামনগর। দেখে নিন ১৭ শতকের কাশীর রাজবাড়ি, অস্ত্রাগার ও প্রাচীন সংগ্রহশালা। ১৮৭২-এ মূলচাঁদের তৈরি ঘড়িটিও অভিনব। ওই ঘড়িতে চন্দ্র-সূর্যের অবস্থান, দিনক্ষণ-সময়, সবই নির্ভুল মেলে আজও। আর রয়েছে রাজপরিবারের রুপোর পালকি, হাওদা, হাতির দাঁতের মাদুর ইত্যাদি। প্রাসাদের পিছনে গঙ্গাকিনারে রয়েছে রাজা জৈৎ সিংহ নির্মিত দুর্গামন্দিরটিও দেখার মতো।
কাশী-রামনগর পথে পড়ে ব্যাসকাশী। গঙ্গার পাড়ে ব্যাসদেবের মন্দিরে অষ্টধাতুর তিন মূর্তি – মাঝে ব্যাসদেব, দু’পাশে শুকদেব ও বিশ্বনাথ। মন্দিরে ২৫০ বছরের প্রাচীন ব্যাসদেবের একটি কল্পিত তৈলচিত্রও আছে।
শীতকালে বারাণসী ভ্রমণ মানেই ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য সমন্বয়। গঙ্গা আরতির আবেশ, ভোরের নৌকাভ্রমণের প্রশান্তি, মন্দিরের ভক্তিপূর্ণ পরিবেশ, সারনাথের শান্ত ধ্যানমগ্নতা এবং গলির কোলাহল—সব মিলিয়ে বারাণসী এমন এক অভিজ্ঞতা দেয়, যা জীবনে অন্তত একবার অবশ্যই গ্রহণ করা উচিত।

গঙ্গা থেকে রামনগর ফোর্ট তথা রাজবাড়ি।
বারাণসীর মূল শহর থেকে ২২ কিমি দূরে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে বিমান সংযোগ রয়েছে বারাণসীর। গুগুল সার্চ করলেই বিমানের সময়সূচি পেয়ে যাবেন।
ট্রেনেও বারাণসী যুক্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে। কলকাতা থেকে একাধিক ট্রেন রয়েছে বারাণসী যাওয়ার জন্য। সময় দেখে নিন erail.in থেকে। IRCTC-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকিট বুক করতে পারেন।
কলকাতা থেকে সড়কপথেও যেতে পারেন বারাণসী – দূরত্ব ৬৮৩ কিমি। সময় লাগে ১৪ ঘণ্টা মতো। নিজস্ব গাড়িতে যেতে পারেন। বাসেও যেতে পারেন। সব ধরনের বাস পাওয়া যায়। গুগুলে গিয়ে টিকিট বুক করতে পারেন।
বারাণসী থাকার জায়গার অভাব নেই। বারাণসী ও সারনাথে উত্তরপ্রদেশ পর্যটনের (UPSTDC) রাহী ট্যুরিস্ট বাংলো। বুকিং: upstdc.co.in/booking/HotelBooking।
এ ছাড়াও বিভিন্ন দামের ও মানের অসংখ্য হোটেল-রিসর্ট আছে। আছে ধর্মশালা এবং বিভিন্ন আশ্রমের অতিথি ভবন। গুগুল সন্ধান করলেই পেয়ে যাবেন পেয়ে যাবেন এর হদিস।
The post শীতে বারাণসী: আধ্যাত্মিকতা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক অনন্য অভিজ্ঞতা appeared first on Bhramon Online.
]]>The post শহর ছেড়ে জঙ্গলের ডাক: রনথম্ভৌর বনাম জিম করবেট appeared first on Bhramon Online.
]]>রনথম্ভৌর জাতীয় উদ্যান বিখ্যাত তার তুলনামূলক সহজ টাইগার সাইটিং-এর জন্য। এখানে শুষ্ক পর্ণমোচী বন, পাথুরে পাহাড়, খোলা প্রান্তর এবং বড়ো বড়ো জলাশয় থাকায় প্রাণী দেখার সুযোগ অনেক বেশি। ঘন জঙ্গল না হওয়ায় প্রথমবার সাফারিতে আসা পর্যটকরাও ভালো দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন।
এর সঙ্গে রয়েছে ঐতিহাসিক রনথম্ভৌর দুর্গ, যা অরণ্যের ওপর দাঁড়িয়ে এক নাটকীয় পটভূমি তৈরি করে। ফোটোগ্রাফারদের কাছে এটি বিশেষ আকর্ষণ। এখানে আসা বেশির ভাগ পর্যটকই সাফারি-কেন্দ্রিক—ভোরে ওঠা, লং লেন্স হাতে জিপে চড়া এবং একটাই লক্ষ্য, বাঘ দেখা।

রনথম্ভৌর দুর্গ।
ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যান জিম করবেট প্রকৃত অর্থেই একটি জীবন্ত অরণ্য। ঘন শাল বন, নদীর চর, ঘাসের মাঠ এবং আঁকাবাঁকা জঙ্গলপথ এই পার্ককে আলাদা করে তোলে। যারা পাখি দেখা, শান্ত প্রকৃতি আর বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণী উপভোগ করতে চান, তাদের কাছে করবেট আদর্শ।
এখানে হাতি, ভোঁদড়, কুমির ছাড়াও রয়েছে ৬৫০টিরও বেশি পাখির প্রজাতি। ঘন জঙ্গলের কারণে বাঘ দেখা তুলনামূলক কঠিন হলেও পুরো অভিজ্ঞতাটি অনেক বেশি গভীর ও আবেশময়। ভোরের কুয়াশা, গাছের ফাঁকে আলো-ছায়ার খেলা—সব মিলিয়ে করবেট এক আলাদা মুড তৈরি করে।
রনথম্ভৌর
রনথম্ভৌর অবস্থিত রাজস্থানের সওয়াই মাধোপুরে।
ট্রেনে: সওয়াই মাধোপুর রেলস্টেশন দিল্লি ও জয়পুর-সহ বড়ো শহরের সঙ্গে যুক্ত।
সড়কপথে: জয়পুর থেকে রনথম্ভৌর জাতীয় উদ্যান ১৭৫ কিমি, প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার ড্রাইভ।
বিমানপথে: নিকটতম বিমানবন্দর জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
জিম করবেট
জিম করবেট জাতীয় উদ্যান উত্তরাখণ্ডের রামনগর শহরের কাছে অবস্থিত।
ট্রেনে: রামনগর স্টেশন দিল্লি থেকে সরাসরি ট্রেনে পৌঁছোনো যায়।
সড়কপথে: দিল্লি থেকে জিম করবেট জাতীয় উদ্যান ২৭৫ কিমি, প্রায় ৫–৬ ঘণ্টার ড্রাইভ।
বিমানপথে: নিকটতম বিমানবন্দর পন্থনগর না হলে দিল্লি (যদিও বেশির ভাগ পর্যটক ট্রেন বা গাড়ি পছন্দ করেন)।

জিম করবেট জাতীয় উদ্যান, আমডণ্ডা গেট।
রনথম্ভৌর
অক্টোবর থেকে জুন রনথম্ভৌর ভ্রমণের আদর্শ সময়। বিশেষ করে মার্চ থেকে মে পর্যন্ত জলাশয়ের আশেপাশে প্রাণীদের আনাগোনা বেশি থাকায় টাইগার দেখার সম্ভাবনাও সর্বাধিক।
জিম করবেট
করবেট সারা বছর খোলা থাকলেও মূল সাফারি জোনগুলি নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত চালু থাকে। শীতকালে পরিষ্কার আকাশ ও ভালো দৃশ্যমানতা পাওয়া যায়, আর গ্রীষ্মে টাইগার ট্র্যাকিংয়ের সুযোগ বেশি। ঝিরনা ও ঢেলা জোন সারা বছর খোলা থাকে, যা অফ-সিজন ভ্রমণকারীদের জন্য সুবিধাজনক।

ঝুমর বাওরি, রনথম্ভৌর।
আপনি যদি চান—
তা হলে রনথম্ভৌর দিয়ে শুরু করুন।
আর যদি আপনার পছন্দ হয়—
তা হলে জিম করবেট হবে আদর্শ প্রথম গন্তব্য।

গুগুল সার্চ করলেই দু’জায়গাতেই বহু থাকার জায়গা পেয়ে যাবেন।
রনথম্ভৌর জাতীয় উদ্যানের খুব কাছেই সওয়াই মাধোপুরে রাজস্থান পর্যটনের (আরটিডিসি) দু’টি হোটেল আছে – বিনায়ক ও ঝুমর বাওরি।
বিনায়ক: যোগাযোগ – ০৭৪৬২-২২১৩৩৩, ০৭৪৬২-২২১৩২২, ৯৪১৪৩৪১৯৩৪; ইমেল – vinayak.rtdc@rajasthan.gov.in
ঝুমর বাওরি: যোগাযোগ – ০৭৪৬২-২২০৪৯৫, ৯৪১৪২৮৭৪৯১; ইমেল – cjb. rtdc@rajasthan.gov.in
জিম করবেট জাতীয় উদ্যানের খুব কাছেই কুমায়ুন মণ্ডল বিকাশ নিগমের (কেএমভিএন) দুটি হোটেল আছে – টিআরএইচ মোহন এবং টিআরএইচ রামনগর।
টিআরএইচ মোহন: যোগাযোগ – ৯৭৫৮৩৩০৮৬৭; ইমেল – crckmvn@gmail.com
টিআরএইচ রামনগর: যোগাযোগ – ৮৬৫০০০২৫২৭; ইমেল – crckmvn@gmail.com
The post শহর ছেড়ে জঙ্গলের ডাক: রনথম্ভৌর বনাম জিম করবেট appeared first on Bhramon Online.
]]>The post দার্জিলিংয়ে যেতে পারছেন না? সমস্যা নেই! বর্ষার রূপে মন ভরাবে দেওমালি, কৈমুর ও তুলিন—তিন বিকল্প পাহাড়ি গন্তব্য appeared first on Bhramon Online.
]]>ওড়িশার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ দেওমালি এখন সবুজে মোড়া। পূর্বঘাট পর্বতমালার কোরাপুট জেলার এই পাহাড়ে বর্ষার জল মিশেছে প্রকৃতির রঙে।
ঝরনা, উপত্যকা, নদী, মন্দির—সবই একত্রে দেখা যায় এখানে।
দেখার জায়গা
কী ভাবে যাবেন
হাওড়া থেকে সম্বলেশ্বরী এক্সপ্রেসে কোরাপুট নামুন। সেখান থেকে দেওমালি ৭০ কিমি দূরে।
ভুবনেশ্বর থেকেও রোড ট্রিপ করা যায় (৪৬৪ কিমি)।

বিন্ধ্য পর্বতমালার পূর্ব প্রান্ত কৈমুর রেঞ্জ, বর্ষায় হয়ে ওঠে এক টুকরো স্বর্গ।
সবুজ পাহাড়, উচ্ছ্বল জলপ্রপাত, প্রাচীন মন্দির আর দুর্গ—সবই মিলে ইতিহাস ও প্রকৃতির চমৎকার সংমিশ্রণ।
দেখার জায়গা:
কী ভাবে যাবেন
হাওড়া থেকে রাতে ট্রেন ধরুন — দুন এক্সপ্রেস, পূর্বা, নেতাজি এক্সপ্রেস বা মুম্বই মেল।
সাসারাম পৌঁছে ঘুরে নিতে পারেন কৈমুর ও রোহতাস জেলার সৌন্দর্য।

দূরে নয়, কাছেই যদি পাহাড় দেখতে চান, চলে যান পুরুলিয়ার ঝালদা মহকুমার তুলিনে।
বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তে সুবর্ণরেখার ধারে গাছপালা ঘেরা ছোট্ট গ্রামটি এখন অফবিট গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয়।
দেখার জায়গা
কী ভাবে যাবেন
হাওড়া থেকে ক্রিয়াযোগ এক্সপ্রেস বা রাঁচী শতাব্দী এক্সপ্রেসে মুরী জংশন নামুন।
মুরী থেকে তুলিন মাত্র ৫ কিমি। সড়কপথেও পুরুলিয়া হয়ে পৌঁছানো যায়।
দার্জিলিং আপাতত বিপর্যস্ত হলেও দেওমালির মেঘ, কৈমুরের ঝর্না আর তুলিনের অরণ্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা দিতে পারে।
এই তিন গন্তব্যে আপনি পাবেন প্রকৃতির প্রশান্তি, পাহাড়ি রোমাঞ্চ আর অফবিট সৌন্দর্যের ছোঁয়া—যা দার্জিলিংয়ের বিকল্প না হলেও ভ্রমণপিপাসুদের মন ভরাবে নিশ্চিতভাবেই।
আরও পড়ুন: পাহাড়ের গায়ে হেলান দিয়ে সমুদ্র, চলুন ভাইজ্যাগের কাছে অসাধারণ সুন্দর এই সৈকতে
The post দার্জিলিংয়ে যেতে পারছেন না? সমস্যা নেই! বর্ষার রূপে মন ভরাবে দেওমালি, কৈমুর ও তুলিন—তিন বিকল্প পাহাড়ি গন্তব্য appeared first on Bhramon Online.
]]>The post গঙ্গার তীরে নতুন বিলাসবহুল ঠিকানা, রায়চকে খুলল তাজ গঙ্গা কুটির রিসর্ট অ্যান্ড স্পা appeared first on Bhramon Online.
]]>আইএইচসিএল-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও পুণীত ছাটওয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, “গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলের কাছে রায়চকের অনন্য পরিবেশ বাংলার ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। তাজ গঙ্গা কুটির চালুর মাধ্যমে আমরা দেশের স্বতন্ত্র গন্তব্যগুলিতে প্রসারিত হওয়ার অঙ্গীকারকে আরও জোরদার করছি।”

১০০ একর বিস্তৃত এই সম্পত্তিতে রয়েছে ১৫৫টি কক্ষ ও স্যুইট, যেখানে গঙ্গার অপরূপ দৃশ্যের সঙ্গে মিলবে গ্রামীণ বাংলার অনুরণন। অতিথিদের জন্য রয়েছে ‘মাচান’ ও ‘হাউস অফ মিং’-এর মতো স্বাক্ষর রেস্টুরেন্ট, রিভার ভিউ লাউঞ্জ, ইনফিনিটি-এজ পুল, আধুনিক ফিটনেস সেন্টার, ইনডোর-আউটডোর খেলার ব্যবস্থা এবং তাজের স্বাক্ষর স্পা— জে ওয়েলনেস সার্কেল।
৭০,০০০ বর্গফুট জুড়ে থাকা ব্যাঙ্কোয়েট স্পেস রিসর্টটিকে উপযুক্ত করে তুলেছে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং, কর্পোরেট রিট্রিট এবং বৃহৎ অনুষ্ঠানের জন্য।
অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নেওটিয়া বলেন, “আইএইচসিএল-এর সঙ্গে আমাদের সফল অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিয়ে এই উৎসব মরসুমে তাজ গঙ্গা কুটির উন্মোচন করতে পেরে আমরা গর্বিত। এটি শুধু আতিথেয়তায় উৎকর্ষতার প্রতিফলন নয়, বরং স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে প্রসারিত করার দিকেও এক বড় পদক্ষেপ।”

কলকাতা থেকে মাত্র আড়াই ঘণ্টার ড্রাইভ দূরে অবস্থিত রায়চককে নতুন করে সাজিয়েছে গঙ্গার তীরের আবহ, দুর্গসদৃশ স্থাপত্য, গ্রামীণ পথে হাঁটা, লোকসংস্কৃতির আসর এবং বাংলার বিখ্যাত চায়ের আস্বাদন। উৎসবের মরসুমে পর্যটন শিল্পে রায়চক যে বিশেষ মাত্রা যোগ করবে, তা বলাই বাহুল্য।
আরও পড়ুন: যমুনাসুল: ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে শান্ত সমুদ্রতটে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা
The post গঙ্গার তীরে নতুন বিলাসবহুল ঠিকানা, রায়চকে খুলল তাজ গঙ্গা কুটির রিসর্ট অ্যান্ড স্পা appeared first on Bhramon Online.
]]>The post শারদীয় ঐতিহ্যে ৬০০ বছরের সাক্ষী, নদিয়ার শান্তিপুরের জজ পণ্ডিত বাড়ির একচালা দুর্গাপুজো appeared first on Bhramon Online.
]]>দেবীপুরাণ মতে একচালা ঠাকুরের মৃন্ময়ী রূপের পূজা হয় এখানে। একচালা প্রতিমায় লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশের অনুপস্থিতি এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
সাড়ে চারশো বছরের গণ্ডি পেরিয়েছে অনেক আগে। কারও মতে, ইতিহাস আরও পুরনো—৬০০ বছরেরও বেশি। সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গেছে জমিদারির ঐশ্বর্য, কিন্তু প্রথা ও নিষ্ঠা আজও টিকে আছে নদিয়ার শান্তিপুরের তর্কবাগীশ লেনের জজ পণ্ডিত বাড়ির দুর্গাপুজোয়।
আদতে চৈতল মাহেশের বংশধর চট্টোপাধ্যায় পরিবার বিহারের গয়ার যদুয়াতে জমিদার ছিলেন। এই পরিবারের পীতাম্বর চট্টোপাধ্যায় ব্রিটিশ আমলে পান ‘তর্কবাগীশ’ উপাধি। প্রজাদের সমস্যা মেটানোর জন্য তাঁকে ‘জজ পণ্ডিত’ নামেও ডাকা হত। পরে পরিবারটি শান্তিপুরে চলে আসে এবং এখানেই শুরু হয় দুর্গার আরাধনা।
এখানে দেবী মহিষাসুরমর্দিনী রূপে একাই বিরাজ করেন। পরিবারের সদস্যরাই দেবীর পূজার্চনা করেন। বোধন হয় ঠাকুরবাড়ির কাছে পঞ্চবটি আসনে। মায়ের পাদদেশে রয়েছে পঞ্চমুণ্ডির আসন, সম্পূর্ণ মাটির তৈরি। পঞ্চবটি ও পঞ্চমুণ্ডির একত্র উপস্থিতি বাংলার পুজোয় বিরল দৃশ্য।

একসময় নবমীর দিনে ১০৮ মোষ ও ২৮ পাঁঠা বলি হত। এখন প্রতীকী কুমড়ো বলি হয়। দশমীতে মায়ের ভোগে থাকে পান্তা ভাত।
আগে নবমীতে নাটমন্দিরের মাঠে কর্দমাক্ত উৎসব ও ফানুস উড়ানোর আয়োজন ছিল। এখন তা নেই, তবে ডগরের বাজনায় সেই ঐতিহ্যের ঝলক এখনও পাওয়া যায়।
এই পুজোয় একসময় এসেছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারের জামাতা ছিলেন কবি ভোলানাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (শোককাব্য ‘অশ্রু’ খ্যাত)। তাঁর প্রপৌত্র ড. শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভোলানাথের সঙ্গে বন্ধুত্বের সূত্রে বিভূতিভূষণ এসেছিলেন এই পুজোয়।
ড. সঞ্চারী চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই বাড়িতে দুর্গাপুজো আসলে এক মিলন উৎসব। পরিবারের সবাই একত্রিত হন, আর প্রথা-রীতির মধ্য দিয়েই আজও দেবীর পুজো হয়।”
কী ভাবে যাবেন
ট্রেন – শিয়ালদহ থেকে শান্তিপুর লোকাল → শান্তিপুর স্টেশন → টোটো/রিকশা → ডাকঘর মোড়।
বাস – কলকাতা থেকে শান্তিপুর বাস → ডাকঘর স্টপেজ/বাইপাস → টোটো/রিকশা।
গাড়ি – এনএইচ-১২ হয়ে রানাঘাট হয়ে শান্তিপুর → ডাকঘর মোড়।
The post শারদীয় ঐতিহ্যে ৬০০ বছরের সাক্ষী, নদিয়ার শান্তিপুরের জজ পণ্ডিত বাড়ির একচালা দুর্গাপুজো appeared first on Bhramon Online.
]]>The post যমুনাসুল: ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে শান্ত সমুদ্রতটে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা appeared first on Bhramon Online.
]]>পুজোর দিনগুলোতে কলকাতার কোলাহল সেরে যদি শান্ত সমুদ্রতটের খোঁজ করেন, তবে যমুনাসুল হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। দিঘা বা পুরীর মতো ভিড় নেই এখানে। ঢেউও তেমন জোরালো নয়। অথচ প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্যে ভরপুর এই জায়গা।
বালুতটে পা রাখলেই চোখে পড়বে ঝাউগাছের সারি, এখানে-সেখানে ছড়িয়ে থাকা শঙ্খ-ঝিনুক, আর সৈকতে অবাধে ছুটে বেড়ানো লাল কাঁকড়ার দল। সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের আলোয় এই সৈকতের রূপ মায়াবী হয়ে ওঠে। জোয়ার এলে সমুদ্রতটে ভেসে থাকা নৌকাগুলি দুলতে থাকে ঢেউয়ের স্রোতে।
যমুনাসুল থেকে সামান্য দূরেই চাউলটি— বিস্তীর্ণ সৈকত, ঝাউবন আর চাউলটি নদীর মিলন দৃশ্য যেন মোহনার মতো। কাছেই মাছের বাজার আর পাখিদের আনাগোনায় ভরে ওঠা প্রাকৃতিক পরিবেশ।
আরও খানিকটা এগোলেই কাসাফল। ঝাউবনের মধ্য দিয়ে হাঁটাপথ, শরতের সময়ে কাশফুলের সৌন্দর্য তার সঙ্গী। ঝাউবন পেরোতেই সামনে হঠাৎ উঁকি দেয় সমুদ্র।

কলকাতা থেকে যমুনাসুলের দূরত্ব প্রায় ২২৫ কিমি। গাড়িতে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় পৌঁছনো যায়।
রুট: কলকাতা → বাগনান → কোলাঘাট → বেলদা → দাঁতন → জলেশ্বর → বালিয়াপাল → যমুনাসুল।
দাঁতনের মনোহরপুরের রাজবাড়ি পথের মাঝে একবার ঘুরে দেখা যেতে পারে।
যমুনাসুলে এখনো পর্যটন খুব বেশি বিস্তার লাভ করেনি। হাতে গোনা কয়েকটি হোটেল রয়েছে। ঘরোয়া খাবারের পাশাপাশি টাটকা সামুদ্রিক মাছের স্বাদ নিতে পারবেন। তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থাও আছে, যা ভ্রমণকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলতে পারে।
The post যমুনাসুল: ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে শান্ত সমুদ্রতটে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা appeared first on Bhramon Online.
]]>The post পর্যটকদের চোখ এড়িয়ে যাওয়া হিমাচলের ৫ লেক, যাদের সৌন্দর্যে আপনি মুগ্ধ হবেনই appeared first on Bhramon Online.
]]>কুলু থেকে প্রায় ৭৫ কিমি দূরে অবস্থিত ছোট, বৃত্তাকার এই লেকটি যেন আয়নার মতো স্বচ্ছ। জলোরি পাস থেকে ট্রেক করে পৌঁছাতে হয় এখানে। স্থানীয় বিশ্বাস, এই লেকে এক দেবীর বাস, যিনি লেকের শুদ্ধতা রক্ষা করেন। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য আদর্শ এই লেক।
স্পিতি, কিন্নর ও লাহৌল জেলার সীমানায়, মানে ও মানেয়োগমা গ্রামের ওপরে অবস্থিত এই মৌসুমি লেকটি গ্লেসিয়ারের গলানো জলে তৈরি হয়। গ্রীষ্মে লেক পরিপূর্ণ থাকে, কিন্তু দেরিতে গেলে শুকনো অবস্থায় পাওয়া যেতে পারে। একেবারেই নিঃসঙ্গ, মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
তুষারঢাকা ধৌলাধার পর্বত ও উঁচু বৃক্ষের মাঝে নীল জলের এই লেকটির তীরে রয়েছে পরাশর মুনির নামে একটি প্যাগোডা আকৃতির মন্দির। কথিত আছে, প্রাচীন ঋষিরা এখানে দীর্ঘ সময় ধরে ধ্যান করতেন। এখানে একটি ভাসমান দ্বীপ রয়েছে যা এই লেককে আরও রহস্যময় করে তোলে।
চাঁদের মতো দেখতে এই লেক ‘মুন লেক’ নামেও পরিচিত। প্রায় ৪৩০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় ভ্রমণের উপযুক্ত। ট্রেকিং করে পৌঁছতে হয় এখানে, আর এই পথের প্রকৃতি আপনাকে বিস্ময়াবিষ্ট করে তুলবে।
ভারতের তৃতীয় উচ্চতম এবং বিশ্বের ২১তম উচ্চতম লেক এটি। হিন্দু পুরাণ অনুসারে সূর্যদেব এখানে স্নান করেছিলেন, তাই এটি পবিত্র বলে ধরা হয়। আশেপাশে জনবসতি নেই বললেই চলে, নিঃসঙ্গতায় প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চাইলে এটি আদর্শ গন্তব্য।
যদি আপনি প্রকৃতির কোলে কিছু সময় একান্তে কাটাতে চান, এবং পাহাড়ের বুকে এখনও অপরিচিত এমন সৌন্দর্যের খোঁজে থাকেন—তবে হিমাচলের এই পাঁচটি লুকনো লেক আপনার ভ্রমণ তালিকায় থাকতেই হবে। প্রচলিত রুট থেকে একটু সরে এলেই মিলবে অনন্য অভিজ্ঞতা।
আরও পড়ুন: চলুন সড়কপথে: জয়পুর থেকে জৈসলমের
The post পর্যটকদের চোখ এড়িয়ে যাওয়া হিমাচলের ৫ লেক, যাদের সৌন্দর্যে আপনি মুগ্ধ হবেনই appeared first on Bhramon Online.
]]>The post শ্রীধামে চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান, চার্লস ডি’অলির ছবি বলছে অন্য কথা appeared first on Bhramon Online.
]]>আজ দোল পূর্ণিমা। শ্রীধাম নবদ্বীপ ও মায়াপুর দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে মেতে উঠেছে। দোলের দিন গৌর নিতাইকে কেন্দ্র করে মুখরিত হয় নবদ্বীপ মায়াপুরের সকল মন্দির। এই সময় তিন দিন নিরামিষ আহার করেন নবদ্বীপবাসী। আজ এই বিশেষ দিনটিতে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব।
তিনি কোথায়? তাঁর জন্ম থেকে মৃত্যু আজও রহস্যে ভরা। পুরী ধামে মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের পর অনেকেই মনে করতেন তিনি জীবিত ছিলেন। আবার এক শ্রেণীর মানুষের বিশ্বাস পুরীতে চৈতন্যকে হত্যা করা হয়।

একসময় নবদ্বীপের চাঁদ কাজীর কোপ পড়ে চৈতন্যের ভক্তি আন্দোলনে। কিন্তু ভক্তিমূলক আন্দোলন কাজী থামাতে পারেননি। এরপর দেশব্যাপী হরি ভক্তি নামের ঢেউ ওঠে।
দোল ও হোলির সময় হাতে দু তিন দিন ছুটি আছে। নবদ্বীপ ভ্রমণ করতে চান? সকাল সকাল খুব অল্প খরচে হাওড়া থেকে কাটোয়া লোকাল ধরে নবদ্বীপ চলে আসুন। নবদ্বীপে চৈতন্যের জন্মস্থান অবশ্যই দর্শন করবেন।

জানেন কি, এই চৈতন্যের জন্মস্থান নিয়েও রয়েছে এক গভীর রহস্য। মুর্শিদাবাদের কান্দির রাজা গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ নবদ্বীপের রামচন্দ্রপুরে এক সুবিশাল মহাপ্রভু মন্দির নির্মাণ করেন।
স্যার চার্লস ডি’অলি ছিলেন একজন ব্রিটিশ চিত্রকর। তিনি ভারতের বহু বিখ্যাত জায়গার ছবি এঁকেছিলেন। ডি’অলির তৈলচিত্রে নবদ্বীপে সেই মহাপ্রভু মন্দিরের ছবি পাওয়া যায়। বলা হয় যে গঙ্গার পাড়ে ওই জায়গাতেই ছিল মহাপ্রভুর আসল জন্মস্থান। গঙ্গার পাড়ে ১৮২৩ সালে মন্দিরটি ভেঙ্গে পড়ে। এরপর গঙ্গায় জায়গাটি বিলীন হয়। সেই ঘটনা আজও এক রহস্যে আবৃত।
অনেকেই বর্তমান মায়াপুর মহাপ্রভুর জন্মস্থান বলে দাবি জানান। অনেক ঐতিহাসিক এই দাবি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য মনে করেন। বর্তমানে নবদ্বীপে নিদয়ার ঘাটের কাছে চৈতন্যের জন্মস্থান বলে প্রচলিত জায়গাটিই সকলে দর্শন করতে আসেন।
The post শ্রীধামে চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান, চার্লস ডি’অলির ছবি বলছে অন্য কথা appeared first on Bhramon Online.
]]>The post শান্তিনিকেতনের বিখ্যাত মহামায়া পাইস হোটেল appeared first on Bhramon Online.
]]>
উইকেন্ডে কয়েক দিন হাতে ছুটি পেয়েছেন, ইচ্ছে আছে শান্তিনিকেতন যাবেন? নব ফাল্গুনের দিনে আপনার একমাত্র গন্তব্য হতেই পারে বোলপুর শান্তিনিকেতন। বসন্ত উৎসবে সকলের কাছে প্রিয় শান্তিনিকেতন। রবীন্দ্রনাথ এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের প্রচলন করেন। আর এইবার শান্তিনিকেতনে গেলে মহামায়া হোটেলে খেতে একদম ভুলবেন না। বাঙালিয়ানায় ভরপুর।
শান্তিনিকেতনের মহামায়া পাইস হোটেলটিতে কাঠ কয়লায় সব সময় রান্না করা হয়। ১৯৫০ সালে স্থাপিত হয়। পরিবেশন করা হয় শালপাতার থালায়। খোঁড়াতে করে জল। ভাত, ডাল, তরকারি, আলু পোস্ত, মাংস সহ আরো নানা রকমারি খাবার এখানকার বিশেষ আকর্ষণ।
গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য মহামায়া হোটেল প্রতিষ্ঠা করেন। আজও পরিবেশনের কায়দা একই রকম আছে। যা আপনার ভালো লাগবে। বসন্ত উৎসবের সময় বোলপুর গেলে একবার চেখে দেখবেন। উনুনে রান্নার স্বাদ আপনার স্বাদ বদল আনবে।
The post শান্তিনিকেতনের বিখ্যাত মহামায়া পাইস হোটেল appeared first on Bhramon Online.
]]>The post বেলুড় রাসবাড়ির পঞ্চদোল উৎসব appeared first on Bhramon Online.
]]>
১৮৯০ সালে শিবকৃষ্ণ দাঁ রাসবাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। রাসবাড়ি মূলত নবরত্ন মন্দির। ৪০ ফুট উঁচু। ভেতরে রাধারমণ জীউ বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত। নবরত্ন মন্দিরের দুপাশে রয়েছে দুটি নহবতখানা। এর সঙ্গেই আছে এক অপূর্ব রাসমঞ্চ। ছটি শিব মন্দির গঙ্গার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে। রাসবাড়ির পাশেই আছে এক চমৎকার ঘড়ি মিনার। ঘড়ির মধ্যে শ্রী শ্রী রাধারমণ জীউ এর নাম বসানো আছে। ঘড়ি মিনারটি ইউরোপীয় শৈলীতে নির্মিত।

এখানে সারা বছর রাস, দোল, জন্মাষ্টমী, ঝুলন উৎসব মহা ধুমধাম করে পালন করা হয়। তবে এর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণীয় হলো দোল উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে রাসবাড়ি চত্বর সেজে ওঠে।
বেলুড় রাসবাড়ির বিশেষ আকর্ষণ পঞ্চদোল। যা এখানকার এক অন্যতম বৈচিত্র্য। ফাল্গুনী পূর্ণিমায় দোল উৎসবের ঠিক পরেই পঞ্চদোলের শুভ সূচনা হয়। এই দিনের গুরুত্ব কি জানেন?
পঞ্চদোল গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের অন্যতম প্রধান এক উৎসব। বলা হয়, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এই দোলের সূচনা করেন। তাঁর পার্ষদ রামানন্দের সঙ্গে আলোচনা করে মনে করেছিলেন বিশেষ এই উৎসবটির প্রয়োজন আছে। বৃন্দাবনে রাধা কৃষ্ণ সখিদের নিয়ে এই দিনে লীলা করতেন।
বেলুড় রাসবাড়িতে পঞ্চদোল মহোৎসব পালিত হয়। রাধারমণ জীউ এর বিশেষ পুজো হয়। আরতি ও ভোগ নিবেদন করা হয়। রাসবাড়ি ঘিরে সকলে আনন্দে মেতে ওঠেন।
কিভাবে যাবেন:
হাওড়া থেকে ট্রেনে বেলুড় স্টেশন। সেখান থেকে টোটো নিয়ে চলে আসুন রাসবাড়ি। গঙ্গাবক্ষেও আসতে পারেন। লঞ্চে বেলুড় এসে, সেখান থেকে টোটোয় রাসবাড়ি আসতে পারেন।
The post বেলুড় রাসবাড়ির পঞ্চদোল উৎসব appeared first on Bhramon Online.
]]>