• https://www.langdonparkatwestcovina.com/
  • Mbokslot
  • https://wise.wika.co.id/daftar-tamu
  • http://103.206.170.246:8080/visi/
  • https://ejeutap.edu.co/preguntas-frecuentes
  • https://slotplus777mantap.com/
  • https://www.thebraidsreleaser.com/pages/our-founders
  • https://apps.ban-pdm.id/sispena-paud/index.php/login
  • https://pmb.stkippgri-bkl.ac.id/info-prodi
  • https://pastiwin777.cfd/
  • mbokslot
  • https://solarcity.vn/mua/
  • https://wise.wika.co.id/syarat-dan-ketentuan
  • https://tbhconsultancy.com/join-us/careers/
  • https://www.langdonparkatwestcovina.com/floorplans
  • https://silancar.pekalongankota.go.id/newsilancar/
  • https://app.mywork.com.au/login
  • SLOT PULSA: Deposit Pulsa 100% Tanpa Potongan Gacor dan Slot Deposit 1000 Terpercaya
  • https://aeress.org/noticias/
  • https://aimtamagot.social//
  • https://naturf.net/ser-distribuidor/
  • https://perdami.or.id/web/perdami/1
  • https://tpfx.co.id/jurnal/
  • Mbokslot
  • http://103.81.246.107:35200/templates/itax/-/mbok/
  • https://alpsmedical.com/alps/
  • https://www.atrium.langdonparkatwestcovina.com/
  • https://elibrary.rac.gov.kh/
  • https://heylink.me/Mbokslot.com/
  • https://gentledentalharrow.co.uk/contact-us
  • https://www.capitainestudy.fr/quest-ce-que-le-mba/
  • Bhramon, Author at Bhramon Online https://www.bhramononline.com/author/bhramon/ Bengali Travel Tips & News | Bhraman Online Thu, 19 Feb 2026 19:19:06 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 https://www.bhramononline.com/wp-content/uploads/2018/07/cropped-logo-footer-1-1-32x32.png Bhramon, Author at Bhramon Online https://www.bhramononline.com/author/bhramon/ 32 32 181502987 পূর্ণিমার রাতে টয় ট্রেনে চা-বাগান ও জঙ্গল ভ্রমণ, নতুন উদ্যোগ ডিএইচআরের https://www.bhramononline.com/travel-news/darjeeling-toy-train-full-moon-charter-service-2026/ https://www.bhramononline.com/travel-news/darjeeling-toy-train-full-moon-charter-service-2026/#respond Fri, 20 Feb 2026 02:30:00 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=120300 পূর্ণিমার রাতে টয় ট্রেনে চা-বাগান ভ্রমণ, ট্রেকিং, লোকসংস্কৃতির অনুষ্ঠান ও বিশেষ ডিনার—নতুন চার্টার্ড পরিষেবা চালু করছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে।

    The post পূর্ণিমার রাতে টয় ট্রেনে চা-বাগান ও জঙ্গল ভ্রমণ, নতুন উদ্যোগ ডিএইচআরের appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    পূর্ণিমার জ্যোৎস্নায় পাহাড়, চা-বাগান ও বনভূমির সৌন্দর্য উপভোগ—এ বার সেই অভিজ্ঞতা মিলবে টয় ট্রেনে। নতুন পর্যটন প্যাকেজ নিয়ে আসছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। চা-পাতা তোলা দেখা, জঙ্গল ভ্রমণ, নাচ-গান-খাওয়াদাওয়া—সব মিলিয়ে এক অভিনব চার্টার্ড পরিষেবা চালু করতে চলেছে কর্তৃপক্ষ।

    রাজকন্যার সেই পূর্ণিমা রাত

    এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে ১৯২০ সালের এক স্মরণীয় ঘটনা। কোচবিহারের এক রাজকন্যা দার্জিলিং সফরে এসে উইন্ডমেয়ার হোটেলের অনুষ্ঠানে একঘেয়েমি বোধ করেন। পরে তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজারের সহায়তায় গোপনে বেরিয়ে পূর্ণিমার রাতে টয় ট্রেনে পার্টির আয়োজন করেছিলেন তিনি। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকেই ফের জীবন্ত করতে চায় ডিএইচআর।

    কী থাকছে নতুন পরিষেবায়?

    পর্যটকদের জন্য তিনটি নতুন চার্টার্ড টয় ট্রেন পরিষেবা চালু হবে। প্রতি পূর্ণিমার রাতে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় দার্জিলিং থেকে যাত্রা শুরু করবে নির্দিষ্ট ট্রেন। পথে তিনধারিয়া ওয়ার্কশপ পরিদর্শনের সুযোগ থাকবে। ট্রেনে পরিবেশন করা হবে তিব্বতি চা।

    রংটং, সুকনা হয়ে গুলমায় গিয়ে শেষ হবে যাত্রা। গুলমায় লোকসংস্কৃতির নাচ-গান ও রাতের ভোজের আয়োজন থাকবে। ভাগ্য ভাল থাকলে চাঁদের আলোয় চা-পাতা তোলার দৃশ্যও দেখতে পাবেন পর্যটকেরা।

    বন দফতরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ

    ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরীর কথায়, হেরিটেজ টয় ট্রেনের মাধ্যমে এখানকার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিবেশের সঙ্গে পর্যটকদের একাত্ম করার লক্ষ্যেই এই ভাবনা। নদী, পাহাড়, চা-বাগান ও পাহাড়ি বনভূমিতে ঘোরার পাশাপাশি ট্রেকিংয়ের সুযোগও থাকবে। স্থানীয় গোর্খা ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের হাতে তৈরি খাবার ও হস্তশিল্প সামগ্রীও পাওয়া যাবে।

    এই পরিষেবা চালুর জন্য বন দফতরের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ডিএইচআর। পাশাপাশি কার্শিয়াঙে টয় ট্রেন মিউজিয়াম দেখার সুযোগও মিলবে।

    গরমের ছুটিতে বাড়তি আকর্ষণ

    রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ধরনের উদ্যোগ দেশে প্রথম। গরমের ছুটিতে শৈলরানির পর্যটকদের জন্য এই প্যাকেজ বড় আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

    The post পূর্ণিমার রাতে টয় ট্রেনে চা-বাগান ও জঙ্গল ভ্রমণ, নতুন উদ্যোগ ডিএইচআরের appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-news/darjeeling-toy-train-full-moon-charter-service-2026/feed/ 0 120300
    দিঘা-মায়াপুর সরাসরি বাস পরিষেবা শুরু: মাত্র ২৫০ টাকায় জগন্নাথধাম ও মায়াপুর দর্শন; জানুন সময়সূচি https://www.bhramononline.com/travel-news/digha-mayapur-bus-service-spiritual-tourism-west-bengal/ https://www.bhramononline.com/travel-news/digha-mayapur-bus-service-spiritual-tourism-west-bengal/#respond Tue, 03 Feb 2026 03:30:00 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=120296 দিঘা থেকে সরাসরি মায়াপুর বাস পরিষেবা শুরু। ভাড়া মাত্র ২৫০ টাকা। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হওয়া এই পরিষেবার সময়সূচি ও বিস্তারিত তথ্য জানুন।

    The post দিঘা-মায়াপুর সরাসরি বাস পরিষেবা শুরু: মাত্র ২৫০ টাকায় জগন্নাথধাম ও মায়াপুর দর্শন; জানুন সময়সূচি appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    দিঘা: পশ্চিমবঙ্গের আধ্যাত্মিক পর্যটনের মানচিত্রে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো। সমুদ্রতীরবর্তী নবনির্মিত জগন্নাথধাম, দিঘা এবং বৈষ্ণব আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র মায়াপুরকে সরাসরি যুক্ত করতে চালু হলো নতুন বাস পরিষেবা। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক বলে বর্ণনা করেছেন ইসকন কলকাতার সহ-সভাপতি তথা দিঘা জগন্নাথধামের প্রধান পুরোহিত রাধারমণ দাস।

    পরিবহণ দফতর সূত্রে খবর, তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে আপাতত এই রুটে দুটি বাস চালানো হচ্ছে। যাত্রীপিছু ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২৫০ টাকা। দিঘা থেকে নবদ্বীপের উদ্দেশে বাস ছাড়বে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে। অন্যদিকে, নবদ্বীপ থেকে দিঘার দিকে বাস ছাড়বে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ৩টের মধ্যে। আপাতত প্রতিদিন এই পরিষেবা চালু থাকলেও, ভবিষ্যতে যাত্রীসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এর স্থায়িত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    রাধারমণ দাসের মতে, এই সরাসরি বাস পরিষেবা রাজ্যজুড়ে একটি ‘পবিত্র ভক্তি ও সংস্কৃতির করিডর’ তৈরি করবে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে আসা হাজার হাজার ইসকন ভক্ত, যাঁরা মায়াপুরের পাশাপাশি দিঘার জগন্নাথধাম দর্শনে আগ্রহী, তাঁদের জন্য এই যাত্রা হবে অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ। উল্লেখ্য, গত বছর অক্ষয় তৃতীয়ায় দিঘার এই জগন্নাথধাম সংস্কৃতি কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ইসকন।

    সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই উদ্যোগ কেবল আধ্যাত্মিক পর্যটনকেই চাঙ্গা করবে না, বরং পরিবহণ, হোটেল এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার ক্ষেত্রেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। ডিসেম্বর মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উদ্বোধনের মাত্র কয়েক মাসে প্রায় এক কোটি মানুষ দিঘার জগন্নাথধাম দর্শন করেছেন। নতুন এই বাস সংযোগ সেই ভিড়কে মায়াপুরের সঙ্গে যুক্ত করে রাজ্যের পর্যটন অর্থনীতিকে আরও গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    The post দিঘা-মায়াপুর সরাসরি বাস পরিষেবা শুরু: মাত্র ২৫০ টাকায় জগন্নাথধাম ও মায়াপুর দর্শন; জানুন সময়সূচি appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-news/digha-mayapur-bus-service-spiritual-tourism-west-bengal/feed/ 0 120296
    শীতে বারাণসী: আধ্যাত্মিকতা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক অনন্য অভিজ্ঞতা https://www.bhramononline.com/destination/winter-trip-to-varanasi-top-things-to-do/ https://www.bhramononline.com/destination/winter-trip-to-varanasi-top-things-to-do/#respond Fri, 30 Jan 2026 19:33:40 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=120284 ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: ভারতের প্রাচীনতম জীবন্ত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম বারাণসী। গঙ্গার তীরে অবস্থিত এই শহরটি শুধু ধর্মীয় গুরুত্বের জন্য নয়,

    The post শীতে বারাণসী: আধ্যাত্মিকতা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক অনন্য অভিজ্ঞতা appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: ভারতের প্রাচীনতম জীবন্ত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম বারাণসী। গঙ্গার তীরে অবস্থিত এই শহরটি শুধু ধর্মীয় গুরুত্বের জন্য নয়, তার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের জন্যও বিশ্ব জুড়ে বিখ্যাত। শীতকাল বারাণসী ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়, কারণ এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং তুলনামূলকভাবে ভিড়ও কম হয়। যারা আধ্যাত্মিক শান্তি, ঐতিহাসিক অনুসন্ধান ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার সন্ধানে আছেন, তাঁদের জন্য বারাণসী এক আদর্শ গন্তব্য।

    শীতকালে বারাণসীতে গেলে যে পাঁচটি অভিজ্ঞতা অবশ্যই নেওয়া উচিত, সেগুলি নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হল।

    দশাশ্বমেধে গঙ্গারতি দর্শন

    বারাণসীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল দশাশ্বমেধ ঘাটে অনুষ্ঠিত সন্ধ্যার গঙ্গা আরতি। প্রতিদিন সূর্যাস্তের সময় পুরোহিতদের সুশৃঙ্খল আচার-অনুষ্ঠান, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রোচ্চারণ এবং প্রদীপের আলো গঙ্গার বুকে এক অপূর্ব দৃশ্য সৃষ্টি করে। শীতের হালকা ঠান্ডা বাতাস ও কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ এই অভিজ্ঞতাকে আরও আবেগময় করে তোলে। এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করলে আত্মিক প্রশান্তি ও এক অনির্বচনীয় অনুভূতি লাভ করা যায়।

    নৌকায় বসে গঙ্গারতি দর্শন।

    গঙ্গায় নৌকাভ্রমণ

    শীতের সকালে গঙ্গায় নৌকাভ্রমণ বারাণসীর অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। কুয়াশার চাদরে ঢাকা নদী, সূর্যোদয়ের সোনালি আভা এবং ঘাটগুলিতে মানুষের প্রাতঃকালীন পূজা-পাঠ এক রহস্যময় পরিবেশ সৃষ্টি করে। নৌকা ভেসে চলে বিভিন্ন ঘাটের পাশ দিয়ে, যেখানে দেখা যায় স্নানরত তীর্থযাত্রী, সাধু-সন্ন্যাসী ও প্রার্থনায় নিমগ্ন সাধারণ মানুষ। এই মুহূর্তগুলো বারাণসীর আত্মাকে অনুভব করার এক অনন্য সুযোগ এনে দেয়।

    বিশ্বনাথ মন্দির দর্শন

    ভগবান শিবের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান কাশী বিশ্বনাথ মন্দির বারাণসীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। শীতকালে এখানে দর্শনার্থীদের জন্য পরিবেশ থাকে তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক। মন্দির চত্বরে ভক্তদের ভক্তিপূর্ণ আবেগ, ধূপ-ধুনোর সুবাস এবং ঘণ্টাধ্বনি মিলেমিশে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করে। এই মন্দির দর্শন বহু ভক্তের কাছে জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। বিশেষ টিকিটে সকাল-সন্ধ্যায় আরতি ও রাজবেশ দেখার প্রথাও আছে।

    বিশ্বনাথ মন্দির। ছবি উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া।

    বারাণসীর অন্যান্য দ্রষ্টব্য দর্শন

    বিশ্বনাথ মন্দির লাগোয়া উত্তরে জ্ঞানের কূপ জ্ঞানভাপী। বিশ্বনাথ মন্দিরের বিপরীতে গলিপথেই ১৭২৫-এ পেশোয়া বাজিরাও ১ম-এর তৈরি অন্নপূর্ণা মন্দির। মানমন্দির ঘাটের কাছে রাজা জয় সিংহের গড়া মানমন্দির তথা যন্তর মন্তর। বিশ্বনাথ মন্দির থেকে ৪ কিমি দূরে ১৮ শতকে বাংলার রানি ভবানীর তৈরি নাগারা শৈলীর দুর্গামন্দির অবশ্য দ্রষ্টব্য। কাছেই রামচরিত মানস স্রষ্টা তুলসীদাসের স্মৃতিতে ১৯৬৪-তে তৈরি শিখর-ধর্মী তুলসী মানস মন্দির। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রয়েছে আর এক বিশ্বনাথ মন্দির।

    বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিশ্বনাথ মন্দির।

    সরু গলি ও স্থানীয় বাজারে হাঁটা

    বারাণসীর সরু গলিপথ ও ঐতিহ্যবাহী বাজার ঘুরে দেখলে শহরের প্রকৃত রূপ ধরা পড়ে। এখানকার বাজারে বিখ্যাত বেনারসি সিল্ক, হস্তশিল্প, ধর্মীয় সামগ্রী ও নানা ধরনের স্মারক দ্রব্য পাওয়া যায়। শীতকালে এই গলিগুলোতে হেঁটে বেড়ানো বেশ আরামদায়ক। পথে পথে ছোট চায়ের দোকানে এক কাপ গরম মসলা চা পান করে স্থানীয় জীবনের স্বাদ নেওয়া এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আর চায়ের সঙ্গে মেলে জিভে জল আনা লোভনীয় খাবারদাবার।

    জিভে জল আনা খাবার — কচুরি-সবজি- জিলিপি ও লস্যি।

    সারনাথ ভ্রমণ

    বারাণসী থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সারনাথ বৌদ্ধ ধর্মের এক গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। এখানেই গৌতম বুদ্ধ প্রথম ধর্মোপদেশ দেন। শীতকালে মনোরম আবহাওয়ায় ধামেক স্তূপ, প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ এবং সারনাথ প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর ঘুরে দেখার সুযোগ বিশেষভাবে উপভোগ্য। শান্ত পরিবেশে ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধন সারনাথকে এক অনন্য গন্তব্যে পরিণত করেছে।

    ধামেক স্তূপ, সারনাথ।

    ঘুরে আসুন রামনগর

    দশাশ্বমেধ ঘাট থেকে নৌকায় বা গোধুলিয়া থেকে বাসে, অটোয় বা নিজস্ব গাড়ি ভাড়া করে চলুন ১৮ কিমি দূরে রামনগর। দেখে নিন ১৭ শতকের কাশীর রাজবাড়ি, অস্ত্রাগার ও প্রাচীন সংগ্রহশালা। ১৮৭২-এ মূলচাঁদের তৈরি ঘড়িটিও অভিনব। ওই ঘড়িতে চন্দ্র-সূর্যের অবস্থান, দিনক্ষণ-সময়, সবই নির্ভুল মেলে আজও। আর রয়েছে রাজপরিবারের রুপোর পালকি, হাওদা, হাতির দাঁতের মাদুর ইত্যাদি। প্রাসাদের পিছনে গঙ্গাকিনারে রয়েছে রাজা জৈৎ সিংহ নির্মিত দুর্গামন্দিরটিও দেখার মতো।

    কাশী-রামনগর পথে পড়ে ব্যাসকাশী। গঙ্গার পাড়ে ব্যাসদেবের মন্দিরে অষ্টধাতুর তিন মূর্তি – মাঝে ব্যাসদেব, দু’পাশে শুকদেব ও বিশ্বনাথ। মন্দিরে ২৫০ বছরের প্রাচীন ব্যাসদেবের একটি কল্পিত তৈলচিত্রও আছে।

    শীতকালে বারাণসী ভ্রমণ মানেই ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য সমন্বয়। গঙ্গা আরতির আবেশ, ভোরের নৌকাভ্রমণের প্রশান্তি, মন্দিরের ভক্তিপূর্ণ পরিবেশ, সারনাথের শান্ত ধ্যানমগ্নতা এবং গলির কোলাহল—সব মিলিয়ে বারাণসী এমন এক অভিজ্ঞতা দেয়, যা জীবনে অন্তত একবার অবশ্যই গ্রহণ করা উচিত।

    গঙ্গা থেকে রামনগর ফোর্ট তথা রাজবাড়ি।

    কী ভাবে যাবেন

    বারাণসীর মূল শহর থেকে ২২ কিমি দূরে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে বিমান সংযোগ রয়েছে বারাণসীর। গুগুল সার্চ করলেই বিমানের সময়সূচি পেয়ে যাবেন।

    ট্রেনেও বারাণসী যুক্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে। কলকাতা থেকে একাধিক ট্রেন রয়েছে বারাণসী যাওয়ার জন্য। সময় দেখে নিন erail.in থেকে। IRCTC-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকিট বুক করতে পারেন।

    কলকাতা থেকে সড়কপথেও যেতে পারেন বারাণসী – দূরত্ব ৬৮৩ কিমি। সময় লাগে ১৪ ঘণ্টা মতো। নিজস্ব গাড়িতে যেতে পারেন। বাসেও যেতে পারেন। সব ধরনের বাস পাওয়া যায়। গুগুলে গিয়ে টিকিট বুক করতে পারেন।

    কোথায় থাকবেন

    বারাণসী থাকার জায়গার অভাব নেই। বারাণসী ও সারনাথে উত্তরপ্রদেশ পর্যটনের (UPSTDC) রাহী ট্যুরিস্ট বাংলো। বুকিং: upstdc.co.in/booking/HotelBooking।

    এ ছাড়াও বিভিন্ন দামের ও মানের অসংখ্য হোটেল-রিসর্ট আছে। আছে ধর্মশালা এবং বিভিন্ন আশ্রমের অতিথি ভবন। গুগুল সন্ধান করলেই পেয়ে যাবেন পেয়ে যাবেন এর হদিস।

    The post শীতে বারাণসী: আধ্যাত্মিকতা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক অনন্য অভিজ্ঞতা appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/destination/winter-trip-to-varanasi-top-things-to-do/feed/ 0 120284
    ভারতের দীর্ঘতম ফিউনিকুলার রেল চালু শ্রী মালঙ্গড়ে, দু’ঘণ্টার কঠিন পাহাড়ি আরোহণ এখন মাত্র ১০ মিনিটে https://www.bhramononline.com/travel-news/indias-longest-funicular-railway-inaugurated-at-shri-malanggad/ https://www.bhramononline.com/travel-news/indias-longest-funicular-railway-inaugurated-at-shri-malanggad/#respond Thu, 29 Jan 2026 11:30:00 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=120278 ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: আর দু’ঘণ্টার কঠিন পাহাড়ি পথ ভাঙতে হবে না। মাত্র ১০ মিনিটেই পৌঁছে যাবেন শ্রী মালংগড়ে, যেখানে রয়েছে

    The post ভারতের দীর্ঘতম ফিউনিকুলার রেল চালু শ্রী মালঙ্গড়ে, দু’ঘণ্টার কঠিন পাহাড়ি আরোহণ এখন মাত্র ১০ মিনিটে appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: আর দু’ঘণ্টার কঠিন পাহাড়ি পথ ভাঙতে হবে না। মাত্র ১০ মিনিটেই পৌঁছে যাবেন শ্রী মালংগড়ে, যেখানে রয়েছে হাজি মালং দরগা। মহারাষ্ট্রের কল্যাণের কাছে অবস্থিত পবিত্র শ্রী মালংগড়ে অবশেষে চালু হল ভারতের দীর্ঘতম ফিউনিকুলার রেল। বহু প্রতীক্ষার পর গত ১৮ জানুয়ারি এই রেলপথের উদ্বোধন হয়। তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এত দিন যেখানে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে ২৬০০ খাড়া সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হত, এখন সেখানে পৌঁছোনো যাবে মাত্র ৭-১০ মিনিটের আরামদায়ক যাত্রায়।

    এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন বিধায়ক কিসান কাথোরে, যিনি ২০০৪ সালে প্রথম এই প্রকল্পের প্রস্তাব দেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক সুলভা গায়কোয়াড়। নতুন এই পরিষেবা বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং শারীরিকভাবে অক্ষম তীর্থযাত্রীদের পক্ষে শ্রী মালংগড়ে পৌঁছোনো অনেক সহজ করে তুলেছে।

    ২৬০০ সিঁড়ি ভাঙার বদলে মনোরম রেলযাত্রা  

    এত দিন শ্রী মালংগড়ে যেতে হলে পাথরের গায়ে কাটা প্রায় ২,৬০০টি খাড়া সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হত। ভিড়ের দিন বা বর্ষাকালে এই পথ ছিল অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন ফিউনিকুলার রেল চালু হওয়ায় সেই দীর্ঘ আরোহণ এখন অতীত।

    এই রেলে একবারে ১২০ জন যাত্রী উঠতে পারবেন এবং প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১২০০ যাত্রী পরিবহণ করা সম্ভব হবে। ফলে উৎসব বা ছুটির দিনে ভিড় অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ফিউনিকুলার রেলপথ।

    ফিউনিকুলার রেল কী ভাবে কাজ করে

    ফিউনিকুলার রেল সাধারণ ট্রেনের মতো নয়। এখানে একটি তারের যুক্ত দুটি কোচ বিপরীত দিকে চলাচল করে—একটি ওপরে উঠলে অন্যটি নীচে নামে। এতে শক্তির সাশ্রয় হয় এবং খাড়া পাহাড়ি ঢালেও যাত্রা হয় মসৃণ ও নিরাপদ।

    শ্রী মালংগড় ফিউনিকুলার রেলে রয়েছে পাঁচ স্তরের সুরক্ষা ব্যবস্থা, যার মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং সিস্টেমও রয়েছে। ম্যানুয়াল কন্ট্রোল ব্যর্থ হলেও এই ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করবে।

    শ্রী মালংগড় কোথায়

    শ্রী মালংগড় বা হাজি মালং গড় মহারাষ্ট্রের ঠানে জেলায়। কল্যাণ থেকে ১৫ কিমি দূরে, মুম্বইয়ের উপকণ্ঠে। পাহাড়টির উচ্চতা স্থানবিশেষে ২৫৯০ ফুট থেকে ৩২০০ ফুট এবং তিনটি স্তরে বিভক্ত— পীর মাচি, সোনে মাচি এবং শিখর।

    চূড়ায় রয়েছে সপ্তম শতাব্দীর সুফি সাধক হাজি মালং-এর দরগা। এই স্থানটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক, যেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। তীর্থযাত্রীদের পাশাপাশি ট্রেকার ও প্রকৃতিপ্রেমীরাও এখানে ভিড় জমান।

    পাহাড়ের মাথায় হাজি মালং ফোর্ট।

    আগে কী ভাবে যাওয়া হত

    আগে কল্যাণ রেলস্টেশন থেকে প্রায় ২০ কিমি পথ বাস নম্বর ৪৫, অটো বা ব্যক্তিগত গাড়িতে গিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে পৌঁছোতে হত। সেখান থেকেই শুরু হতো দীর্ঘ ও কষ্টকর পাহাড়ি আরোহণ।

    ফিউনিকুলার রেলের সময়সূচি ও টিকিটের দাম

    প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত

    রাউন্ড ট্রিপ টিকিটের দাম

    প্রাপ্তবয়স্ক: ১৫০ টাকা

    শিশু: ৭৫ টাকা

    পার্কিং চার্জ (২ ঘণ্টা পর্যন্ত)

    দুই চাকা: ২০ টাকা

    গাড়ি: ৫০ টাকা

    টিকিট বুকিং কী ভাবে করবেন

    বর্তমানে ফিউনিকুলার রেলের টিকিট শুধুমাত্র অফলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। যাত্রীদের যাত্রার দিন নীচের স্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কাটতে হবে। অনলাইন বুকিংয়ের ব্যবস্থা এখনও চালু হয়নি।

    The post ভারতের দীর্ঘতম ফিউনিকুলার রেল চালু শ্রী মালঙ্গড়ে, দু’ঘণ্টার কঠিন পাহাড়ি আরোহণ এখন মাত্র ১০ মিনিটে appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-news/indias-longest-funicular-railway-inaugurated-at-shri-malanggad/feed/ 0 120278
    পাহাড়ের কোলে টাইম ট্রাভেল! ব্রিটিশ আমলের টয় ট্রেনে চাপার সুযোগ দিচ্ছে ডিএইচআর, জানুন কবে থেকে https://www.bhramononline.com/travel-news/darjeeling-himalayan-railway-restores-british-era-toy-train-coaches-tourism-boost/ https://www.bhramononline.com/travel-news/darjeeling-himalayan-railway-restores-british-era-toy-train-coaches-tourism-boost/#respond Fri, 23 Jan 2026 14:24:23 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=120271 দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে পর্যটকদের জন্য ব্রিটিশ আমলের ১৪টি হেরিটেজ কামরা মেরামত করে লাইনে নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এক বছরের মধ্যেই মিলবে এই নস্টালজিক সফরের সুযোগ। জানুন বিস্তারিত।

    The post পাহাড়ের কোলে টাইম ট্রাভেল! ব্রিটিশ আমলের টয় ট্রেনে চাপার সুযোগ দিচ্ছে ডিএইচআর, জানুন কবে থেকে appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    দার্জিলিং: কু ঝিক ঝিক শব্দে পাহাড়ি পথে টাইম ট্রাভেল! পর্যটকদের সেই নস্টালজিক অনুভূতি ফিরিয়ে দিতে এবার বড় উদ্যোগ নিল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR)। বাষ্পচালিত হেরিটেজ ইঞ্জিনের পর এবার ব্রিটিশ আমলের ১৪টি পুরনো কামরা মেরামত করে ফের ট্র্যাকে নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, আগামী এক বছরের মধ্যেই পর্যটকদের এই ঐতিহাসিক উপহার দেওয়া।

    ফেরার পথে ব্রিটিশ আমল ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশ-বিদেশের পর্যটকরা প্রায়শই জানতে চান, ব্রিটিশ আমলে ঠিক কীভাবে টয় ট্রেন চলত। সেই কৌতূহল মেটাতেই এই উদ্যোগ। ডিএইচআর-এর অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরী জানান, পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে ব্রিটিশ আমলের কামরাগুলি সংস্কার করা হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ১৪টি হেরিটেজ কামরা মেরামত করে যাত্রীদের জন্য প্রস্তুত করা হবে।

    ইঞ্জিন থেকে কামরা— সাজছে সবকিছু ইতিমধ্যেই মিউজিয়াম থেকে তিনটি ব্রিটিশ আমলের স্টিম ইঞ্জিন ফিরিয়ে এনে মেরামত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি এখন জঙ্গল সাফারিতে ব্যবহৃত হচ্ছে, বাকি দুটিও শীঘ্রই ট্র্যাকে নামবে। গত বছর বেঙ্গালুরু থেকে দুটি বাষ্পচালিত ইঞ্জিন আনা হয়েছিল এবং তিনধারিয়া ওয়ার্কশপে থাকা আরও একটি ইঞ্জিন সারাইয়ের কাজ চলছে। এবার ইঞ্জিনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পুরনো কামরাগুলি ফিরলে পর্যটকরা সম্পূর্ণ ব্রিটিশ আমলের আমেজ উপভোগ করতে পারবেন।

    খুশি পর্যটন মহল রেলের এই উদ্যোগে খুশি রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু। তিনি বলেন, “টয় ট্রেনের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। এটি পর্যটকদের কাছে একটি নস্টালজিক বিষয়। ব্রিটিশ আমলের প্রযুক্তি ও পাহাড়বাসীর শিল্পকলা জড়িয়ে আছে এই ট্রেনের সঙ্গে। ডিএইচআর-এর এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”

    আধুনিকতার ছোঁয়ায় টয় ট্রেনে ডিজেল ইঞ্জিন ও অত্যাধুনিক ভিস্তাডোম কোচ এলেও, বিদেশি ও ইতিহাসপিপাসু পর্যটকদের কাছে পুরনো দিনের টয় ট্রেনের কদর আজও আলাদা। ‘কুইন অফ হিলস’-এর সেই হানো গৌরব ফিরিয়ে আনতেই ডিএইচআর-এর এই প্রয়াস।

    The post পাহাড়ের কোলে টাইম ট্রাভেল! ব্রিটিশ আমলের টয় ট্রেনে চাপার সুযোগ দিচ্ছে ডিএইচআর, জানুন কবে থেকে appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-news/darjeeling-himalayan-railway-restores-british-era-toy-train-coaches-tourism-boost/feed/ 0 120271
    পশ্চিমবঙ্গ থেকে সাতটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, সাশ্রয়ী ভাড়ায় দেশের নানা প্রান্তে নতুন রেলসংযোগ https://www.bhramononline.com/travel-news/seven-amrit-bharat-express-from-west-bengal-three-from-kolkata-and-two-each-from-alipurduar-and-new-jalpaiguri/ https://www.bhramononline.com/travel-news/seven-amrit-bharat-express-from-west-bengal-three-from-kolkata-and-two-each-from-alipurduar-and-new-jalpaiguri/#respond Mon, 19 Jan 2026 19:16:30 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=120262 ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ থেকে দীর্ঘ দূরত্বের সাশ্রয়ী রেলযাত্রা আরও সহজ করতে সাতটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালু করতে চলেছে ভারতীয়

    The post পশ্চিমবঙ্গ থেকে সাতটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, সাশ্রয়ী ভাড়ায় দেশের নানা প্রান্তে নতুন রেলসংযোগ appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ থেকে দীর্ঘ দূরত্বের সাশ্রয়ী রেলযাত্রা আরও সহজ করতে সাতটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালু করতে চলেছে ভারতীয় রেল। আধুনিক, নন-এসি এই ট্রেনগুলির ভাড়া রাখা হয়েছে সরল ও সাশ্রয়ী—প্রায় প্রতি ১,০০০ কিলোমিটারে ৫০০ টাকা। রাজ্য থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাত্রীদের জন্য এটি একটি বড়ো সুবিধা বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।

    কলকাতা থেকে ৩টি অমৃত ভারত

    সাতটি পরিষেবার মধ্যে তিনটি ট্রেনের যাত্রা শুরু হবে কলকাতা থেকে।

    (১) সাঁতরাগাছি থেকে চেন্নাই – সাঁতরাগাছি–তাম্বরম (চেন্নাই) অমৃত ভারত এক্সপ্রেস প্রতি শুক্রবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে তাম্বরম ছাড়বে এবং পরদিন রাত ৮টা ১৫ মিনিটে সাঁতরাগাছি পৌঁছবে। ফেরার পথে শনিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে সাঁতরাগাছি ছাড়বে এবং তৃতীয় দিনে সকাল ১০টায় তাম্বরম পৌঁছোবে।

    (২) হাওড়া থেকে দিল্লি – হাওড়া–আনন্দ বিহার টার্মিনাল (নয়াদিল্লি) অমৃত ভারত এক্সপ্রেস প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ১০ মিনিটে হাওড়া ছাড়বে এবং তৃতীয় দিনে ভোর ২টা ৫০ মিনিটে আনন্দ বিহার টার্মিনালে পৌঁছোবে। ফিরতি ট্রেনটি শনিবার সকাল ৫টা ১৫ মিনিটে আনন্দ বিহার ছাড়বে এবং পরদিন সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে হাওড়া পৌঁছবে।

    (৩) শিয়ালদহ থেকে বারাণসী – শিয়ালদহ–বারাণসী অমৃত ভারত এক্সপ্রেস সপ্তাহে তিন দিন চলবে। বারাণসী থেকে শিয়ালদহ ট্রেনটি রবিবার, মঙ্গলবার ও শুক্রবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছাড়বে এবং পরদিন সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে পৌঁছোবে। শিয়ালদহ থেকে বারাণসী ট্রেনটি সোমবার, বুধবার ও শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ছাড়বে এবং পরদিন সকাল ৭টা ২০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছোবে।

    নিউ জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার থেকে ২টি করে অমৃত ভারত

    এ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য প্রান্ত থেকে চারটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালু হবে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দুটি ট্রেন উত্তরবঙ্গকে যথাক্রমে তামিলনাড়ুর  নাগারকোয়েল ও তিরুচিরাপল্লির সঙ্গে যুক্ত করবে।

    আলিপুরদুয়ার থেকে আরও দুটি ট্রেন সরাসরি সংযোগসাধন করবে এসএমভিটি বেঙ্গালুরু এবং মুম্বইয়ের পানভেলের সঙ্গে।

    ট্রেনের ভিতরের ছবি।

    অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের বিশেষত্ব

    ২২ কোচের অমৃত ভারত এক্সপ্রেসে থাকছে জেনারেল ও স্লিপার কোচের পাশাপাশি একটি প্যান্ট্রি কার। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য উন্নত আসন ও শয্যা, ভাঁজ করা স্ন্যাক টেবিল, রেডিয়াম ফ্লোর স্ট্রিপ, এলইডি আলো, সুরক্ষিত ফ্যান, চার্জিং পয়েন্ট এবং মোবাইল ফোন ও পানীয় জলের বোতল রাখার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এয়ার-স্প্রিং সাসপেনশন বগির ফলে যাত্রা আরও মসৃণ হবে। পাশাপাশি অনবোর্ড প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া যাবে।

    প্রতিটি কোচে চারটি করে ভারতীয় ও পশ্চিমি ধাঁচের শৌচালয় রয়েছে, যেখানে ইলেক্ট্রো-নিউম্যাটিক প্রেসারাইজড ফ্লাশিং সিস্টেম ও স্বয়ংক্রিয় সাবান সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে—বৈদ্যুতিক অংশ ও শৌচালয়ে অ্যারোসল-ভিত্তিক অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা, ধুলো ঢোকা কমাতে সিল করা গ্যাংওয়ে এবং অনির্ধারিত যাত্রাবিরতির সময় ব্যবহারের জন্য বাহ্যিক জরুরি আলো সংযোজন করা হয়েছে। আধা-স্বয়ংক্রিয় কাপলার ব্যবহারে কাপলিংয়ের সময় শব্দ ও ধাক্কা কমবে। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আঘাত শোষণের জন্য ডিফরমেশন টিউব এবং অপারেশনাল দক্ষতা বাড়াতে পুশ-পুল প্রযুক্তিও যুক্ত করা হয়েছে। এই পরিষেবাগুলিতে ডায়নামিক প্রাইসিং থাকছে না।

    রেল কর্তৃপক্ষের মতে, অমৃত ভারত এক্সপ্রেস রাজ্যের যাত্রীদের জন্য দীর্ঘদূরত্বে কম খরচে, নিরাপদ ও আধুনিক রেলযাত্রার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

    The post পশ্চিমবঙ্গ থেকে সাতটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, সাশ্রয়ী ভাড়ায় দেশের নানা প্রান্তে নতুন রেলসংযোগ appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-news/seven-amrit-bharat-express-from-west-bengal-three-from-kolkata-and-two-each-from-alipurduar-and-new-jalpaiguri/feed/ 0 120262
    শহর ছেড়ে জঙ্গলের ডাক: রনথম্ভৌর বনাম জিম করবেট https://www.bhramononline.com/uncategorized/which-wildlife-sanctuary-you-should-visit-first-ranthambore-or-jim-corbett/ https://www.bhramononline.com/uncategorized/which-wildlife-sanctuary-you-should-visit-first-ranthambore-or-jim-corbett/#respond Sat, 17 Jan 2026 16:20:32 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=120247 ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: শহরের কোলাহল ধীরে ধীরে পেছনে ফেলে যখন গাড়ি এগিয়ে চলে অজানার দিকে, তখনই শুরু হয় প্রকৃত ভ্রমণের

    The post শহর ছেড়ে জঙ্গলের ডাক: রনথম্ভৌর বনাম জিম করবেট appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    ভ্রমণ অনলাইন ডেস্ক: শহরের কোলাহল ধীরে ধীরে পেছনে ফেলে যখন গাড়ি এগিয়ে চলে অজানার দিকে, তখনই শুরু হয় প্রকৃত ভ্রমণের রোমাঞ্চ। ভারতের অসংখ্য অরণ্যের মধ্যে রনথম্ভৌর এবং জিম করবেট জাতীয় উদ্যান ভ্রমণপিপাসুদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি গন্তব্য। উভয় জায়গাতেই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দেখার সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু প্রকৃতি, পরিবেশ এবং অভিজ্ঞতার দিক থেকে এই দুই অরণ্য একেবারেই আলাদা। সেই ভিন্নতাই এই দুই জায়গাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

    কেন বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের প্রথম পছন্দ রনথম্ভৌর  

    রনথম্ভৌর জাতীয় উদ্যান বিখ্যাত তার তুলনামূলক সহজ টাইগার সাইটিং-এর জন্য। এখানে শুষ্ক পর্ণমোচী বন, পাথুরে পাহাড়, খোলা প্রান্তর এবং বড়ো বড়ো জলাশয় থাকায় প্রাণী দেখার সুযোগ অনেক বেশি। ঘন জঙ্গল না হওয়ায় প্রথমবার সাফারিতে আসা পর্যটকরাও ভালো দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন।

    এর সঙ্গে রয়েছে ঐতিহাসিক রনথম্ভৌর দুর্গ, যা অরণ্যের ওপর দাঁড়িয়ে এক নাটকীয় পটভূমি তৈরি করে। ফোটোগ্রাফারদের কাছে এটি বিশেষ আকর্ষণ। এখানে আসা বেশির ভাগ পর্যটকই সাফারি-কেন্দ্রিক—ভোরে ওঠা, লং লেন্স হাতে জিপে চড়া এবং একটাই লক্ষ্য, বাঘ দেখা।

    রনথম্ভৌর দুর্গ।

    কেন জিম করবেট একেবারে গভীর জঙ্গলের অভিজ্ঞতা দেয়

    ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যান জিম করবেট প্রকৃত অর্থেই একটি জীবন্ত অরণ্য। ঘন শাল বন, নদীর চর, ঘাসের মাঠ এবং আঁকাবাঁকা জঙ্গলপথ এই পার্ককে আলাদা করে তোলে। যারা পাখি দেখা, শান্ত প্রকৃতি আর বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণী উপভোগ করতে চান, তাদের কাছে করবেট আদর্শ।

    এখানে হাতি, ভোঁদড়, কুমির ছাড়াও রয়েছে ৬৫০টিরও বেশি পাখির প্রজাতি। ঘন জঙ্গলের কারণে বাঘ দেখা তুলনামূলক কঠিন হলেও পুরো অভিজ্ঞতাটি অনেক বেশি গভীর ও আবেশময়। ভোরের কুয়াশা, গাছের ফাঁকে আলো-ছায়ার খেলা—সব মিলিয়ে করবেট এক আলাদা মুড তৈরি করে।

    কী ভাবে যাবেন

    রনথম্ভৌর

    রনথম্ভৌর অবস্থিত রাজস্থানের সওয়াই মাধোপুরে।

    ট্রেনে: সওয়াই মাধোপুর রেলস্টেশন দিল্লি ও জয়পুর-সহ বড়ো শহরের সঙ্গে যুক্ত।

    সড়কপথে: জয়পুর থেকে রনথম্ভৌর জাতীয় উদ্যান ১৭৫ কিমি, প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার ড্রাইভ।

    বিমানপথে: নিকটতম বিমানবন্দর জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

    জিম করবেট

    জিম করবেট জাতীয় উদ্যান উত্তরাখণ্ডের রামনগর শহরের কাছে অবস্থিত।

    ট্রেনে: রামনগর স্টেশন দিল্লি থেকে সরাসরি ট্রেনে পৌঁছোনো যায়।

    সড়কপথে: দিল্লি থেকে জিম করবেট জাতীয় উদ্যান ২৭৫ কিমি, প্রায় ৫–৬ ঘণ্টার ড্রাইভ।

    বিমানপথে: নিকটতম বিমানবন্দর পন্থনগর না হলে দিল্লি (যদিও বেশির ভাগ পর্যটক ট্রেন বা গাড়ি পছন্দ করেন)।

    জিম করবেট জাতীয় উদ্যান, আমডণ্ডা গেট।

    ভ্রমণের সেরা সময়

    রনথম্ভৌর

    অক্টোবর থেকে জুন রনথম্ভৌর ভ্রমণের আদর্শ সময়। বিশেষ করে মার্চ থেকে মে পর্যন্ত জলাশয়ের আশেপাশে প্রাণীদের আনাগোনা বেশি থাকায় টাইগার দেখার সম্ভাবনাও সর্বাধিক।

    জিম করবেট

    করবেট সারা বছর খোলা থাকলেও মূল সাফারি জোনগুলি নভেম্বর থেকে জুন  পর্যন্ত চালু থাকে। শীতকালে পরিষ্কার আকাশ ও ভালো দৃশ্যমানতা পাওয়া যায়, আর গ্রীষ্মে টাইগার ট্র্যাকিংয়ের সুযোগ বেশি। ঝিরনা ও ঢেলা জোন সারা বছর খোলা থাকে, যা অফ-সিজন ভ্রমণকারীদের জন্য সুবিধাজনক।

    ঝুমর বাওরি, রনথম্ভৌর।

    আগে কোনটি ঘুরবেন – রনথম্ভৌর না জিম করবেট?  

    আপনি যদি চান—

    • বেশি বাঘ দেখার সম্ভাবনা
    • খোলা ও নাটকীয় ল্যান্ডস্কেপ
    • তুলনামূলক সহজ সাফারি অভিজ্ঞতা

    তা হলে রনথম্ভৌর দিয়ে শুরু করুন।

    আর যদি আপনার পছন্দ হয়—

    • ঘন জঙ্গল ও নদীর ধারে প্রকৃতি
    • পাখি ও বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণী
    • শান্ত, গভীর অরণ্যের আবেশ

    তা হলে জিম করবেট হবে আদর্শ প্রথম গন্তব্য।

    টিআরএইচ মোহন, কুমায়ুন মণ্ডল বিকাশ নিগম।

    কোথায় থাকবেন

    গুগুল সার্চ করলেই দু’জায়গাতেই বহু থাকার জায়গা পেয়ে যাবেন।

    রনথম্ভৌর জাতীয় উদ্যানের খুব কাছেই সওয়াই মাধোপুরে রাজস্থান পর্যটনের (আরটিডিসি) দু’টি হোটেল আছে – বিনায়ক ও ঝুমর বাওরি।

    বিনায়ক: যোগাযোগ – ০৭৪৬২-২২১৩৩৩, ০৭৪৬২-২২১৩২২, ৯৪১৪৩৪১৯৩৪; ইমেল – vinayak.rtdc@rajasthan.gov.in

    ঝুমর বাওরি: যোগাযোগ – ০৭৪৬২-২২০৪৯৫, ৯৪১৪২৮৭৪৯১; ইমেল – cjb. rtdc@rajasthan.gov.in

    জিম করবেট জাতীয় উদ্যানের খুব কাছেই কুমায়ুন মণ্ডল বিকাশ নিগমের (কেএমভিএন) দুটি হোটেল আছে – টিআরএইচ মোহন এবং টিআরএইচ রামনগর।

    টিআরএইচ মোহন: যোগাযোগ – ৯৭৫৮৩৩০৮৬৭; ইমেল – crckmvn@gmail.com

    টিআরএইচ রামনগর: যোগাযোগ – ৮৬৫০০০২৫২৭; ইমেল – crckmvn@gmail.com

    The post শহর ছেড়ে জঙ্গলের ডাক: রনথম্ভৌর বনাম জিম করবেট appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/uncategorized/which-wildlife-sanctuary-you-should-visit-first-ranthambore-or-jim-corbett/feed/ 0 120247
    পর্যটনের ভরা মরশুমে বন্ধ ভিস্তা ডোম! বুকিং তলানিতে ঠেকায় সাময়িক বিরতি, কবে ফিরবে ডুয়ার্সের ‘কাঁচের ট্রেন’? https://www.bhramononline.com/travel-news/doars-vista-dome-tourist-special-suspended-nfr/ https://www.bhramononline.com/travel-news/doars-vista-dome-tourist-special-suspended-nfr/#respond Sun, 14 Dec 2025 09:55:22 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=120240 ডুয়ার্স ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ভিস্তা ডোম ট্যুরিস্ট স্পেশাল ট্রেন হঠাৎ বন্ধ। পর্যটনের মরশুমেও বুকিং কমে যাওয়ায় সিদ্ধান্ত বলে সূত্রের দাবি। এনএফআর জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে ফের চালু হতে পারে ট্রেনটি।

    The post পর্যটনের ভরা মরশুমে বন্ধ ভিস্তা ডোম! বুকিং তলানিতে ঠেকায় সাময়িক বিরতি, কবে ফিরবে ডুয়ার্সের ‘কাঁচের ট্রেন’? appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    ডুয়ার্স ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ট্যুরিস্ট স্পেশাল ভিস্তা ডোম। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে আলিপুরদুয়ার জংশন পর্যন্ত এই ট্রেনে যাত্রাপথে পাহাড়, জঙ্গল, নদী ও চা-বাগানের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতেন পর্যটকেরা। কাঁচে ঘেরা কামরা ও ছাদের মাধ্যমে ৩৬০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ভিউ—সব মিলিয়ে এই ট্রেন ছিল ডুয়ার্স পর্যটনের বড় ইউএসপি। কিন্তু গত বুধবার পর্যন্ত চলার পর বৃহস্পতিবার থেকে আচমকাই এই ট্রেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    তাৎপর্যপূর্ণভাবে, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল (এনএফআর) এই সিদ্ধান্তের পিছনে প্রকাশ্যে কোনও স্পষ্ট কারণ জানায়নি। যদিও রেল সূত্রের দাবি, পর্যটনের ভরা মরশুম সত্ত্বেও ভিস্তা ডোমের বুকিং আশ্চর্যজনকভাবে তলানিতে এসে ঠেকেছিল। সেই কারণেই আপাতত ট্রেনটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কতদিন এই পরিষেবা বন্ধ থাকবে, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। তবে এনএফআরের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের ডিআরএম দেবেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে ফের ভিস্তা ডোম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এদিকে শীতের মরশুমে উত্তরবঙ্গ জুড়ে পর্যটকদের ঢল নামছে। পাহাড় ও ডুয়ার্স—দুই জায়গাতেই হোটেল, রিসর্ট ও হোম-স্টেগুলির বুকিং ভালোই রয়েছে। পর্যটন মহলের মতে, এই সময় ভিস্তা ডোমের বুকিং আকাশছোঁয়া হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি পর্যটকেরা ডুয়ার্স থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন? পর্যটন ব্যবসায়ীদের দাবি, হোটেল বুকিং সেই ধারণাকে সমর্থন করছে না।

    তাহলে ভিস্তা ডোমে আগ্রহ কমার কারণ কী? পর্যটন মহলের একাংশের মতে, পরিষেবার মান নিয়েই মূলত অসন্তোষ। ট্রেনে বিরতির সময় আদিবাসী লোকনৃত্য পরিবেশনের কথা ঘোষণা করা হলেও, এখনও পর্যন্ত বহু পর্যটকই সেই অভিজ্ঞতা পাননি। পাশাপাশি ভাড়ার বিষয়টিও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। যেখানে কাঞ্চনকন্যার মতো ট্রেনে এসি কামরায় ১১০০-১২০০ টাকায় কলকাতা থেকে ডুয়ার্স পৌঁছনো যায়, সেখানে ভিস্তা ডোমে শুধু এনজেপি থেকে আলিপুরদুয়ার জংশন পর্যন্ত ভাড়া ৮৮০ টাকা। পর্যটকদের প্রশ্ন, তুলনায় বেশি টাকা দিয়ে প্রত্যাশিত পরিষেবা না পেলে কেনই বা এই ট্রেনে চড়বেন তাঁরা?

    এই পরিস্থিতিতে ২০২১ সালে চালু হওয়া ভিস্তা ডোমের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মনে আশঙ্কা, তবে কি এই ট্যুরিস্ট স্পেশাল ট্রেন পাকাপাকি ভাবে বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে? যদিও সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছেন ডিআরএম দেবেন্দ্র সিং। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “ভিস্তা ডোম সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে ট্রেনটি পাকাপাকি ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।” তিনি আশাবাদী, আগামী সপ্তাহেই ফের ডুয়ার্সের রেলপথে ফিরবে পর্যটকদের প্রিয় এই কাঁচের ট্রেন।

    সব মিলিয়ে, পরিষেবার মান, ভাড়া ও পরিকল্পনার ঘাটতি কাটিয়ে ভিস্তা ডোম আদৌ আগের আকর্ষণ ফিরে পায় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে পর্যটন মহল ও ডুয়ার্স ভ্রমণপ্রেমীরা।

    The post পর্যটনের ভরা মরশুমে বন্ধ ভিস্তা ডোম! বুকিং তলানিতে ঠেকায় সাময়িক বিরতি, কবে ফিরবে ডুয়ার্সের ‘কাঁচের ট্রেন’? appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-news/doars-vista-dome-tourist-special-suspended-nfr/feed/ 0 120240
    বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ৪: প্রকৃতি যেখানে আপনার সঙ্গে বসত করে https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/north-bengal-after-the-disaster-part-4-where-nature-stays-with-you/ https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/north-bengal-after-the-disaster-part-4-where-nature-stays-with-you/#respond Mon, 27 Oct 2025 09:11:29 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=120227 শর্মিষ্ঠা সেন যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় ও পারের পাহাড়মালা। আমরাও রয়েছি পাহাড়ের কোলে। এ পারে। মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে

    The post বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ৪: প্রকৃতি যেখানে আপনার সঙ্গে বসত করে appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    শর্মিষ্ঠা সেন

    যেন হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় ও পারের পাহাড়মালা। আমরাও রয়েছি পাহাড়ের কোলে। এ পারে। মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে পাহাড়ি স্রোতস্বতী। নদীর বুকে অসংখ্য ছোটো-বড়ো পাথর। তাদের বাধা কাটিয়ে ছোটো ছোটো ঢেউ তুলে তির তির করে বইছে সেই নদী, নাম যার রেশিখোলা। সিকিমের ভাষায় খোলা মানে নদী।

    চারিদিকে সুউচ্চ পাহাড়ে ঘেরা এই জায়গাটার নামও রেশিখোলা — সিকিম আর পশ্চিমবঙ্গের সীমানায়। আমরা রয়েছি সিকিমে, সামনের পাহাড় পশ্চিমবঙ্গে। সবুজ পাহাড়ের কোলে পাহাড়ি স্রোতার ধারে অবস্থিত রেশিখোলায় সত্যিই প্রকৃতি বসত করে। এখানে যে রিসর্টটিতে এসে উঠেছি তারও ক্যাচলাইন — হোয়্যার নেচার স্টেস উইথ ইউ। সত্যিই তা-ই — এখানে প্রকৃতির মাঝে আপনার বাস বা আপনাকে নিয়ে প্রকৃতির বাস।

    এই ভ্রমণে পাহাড়ে আমাদের তৃতীয় গন্তব্য ছিল এই রেশিখোলা। দুটো দিন দাওয়াইপানিতে মন ভরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শনের পর তৃতীয় দিনে ছেড়ে চললাম তাঁর সঙ্গ। মনটা বড়ো খারাপ। প্রাতরাশ সেরেই রওনা হলাম।

    লাভার্স মিট। তিস্তা ও রঙ্গিতের সংগম।

    ‘হজমোলা রোডের’ আড়াই কিমি পথ ভেঙে এলাম পেশক রোডে। মিনিটখানেকের মধ্যে সিক্সথ মাইল — বেশ বড়ো গঞ্জ। আরও খানিকটা এগিয়ে বাঁ দিকে নেমে গেল তাকদার পথ। পেরিয়ে এলাম লামাহাট্টা, লপচু। খানিকক্ষণ পরেই তিনচুলের রাস্তা উঠে গেল ডান দিকে পাহাড়ের ঢাল দিয়ে। পেশক পেরিয়ে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পৌঁছে গেলাম ‘লাভার্স মিট’-এ।

    সত্যিই ‘লাভার্স মিট’ – প্রেমিক-প্রেমিকার মিলন। প্রেমিক রঙ্গিত, আর প্রেমিকা তিস্তা। এই অঞ্চলের লোককাহিনি এ কথাই বলে। দেখা হল তিস্তার সঙ্গে রঙ্গিতের। তিস্তার প্রেমেই নিজেকে সঁপে দিল রঙ্গিত। যত বার এ পথে যাই, একবার তিস্তা-রঙ্গিত সংগম না দেখলে সাধ মেটে না। এবারেও তার অন্যথা হল না। উপর থেকে দুই নদীর সংগমস্থলটি খুব সুন্দর লাগে। পশ্চিমবঙ্গ আর সিকিম এখানে একাকার।

    রিসর্ট থেকে রেশি নদী।

    ক্রমশ নেমে এলাম তিস্তাবাজারে। সাম্প্রতিক দুর্যোগে তিস্তা ভাসিয়ে দিয়েছিল এই এলাকা। নদীর ধার বরাবর যত নির্মাণ ছিল, সব নদীগর্ভে। এখানে পেশক রোডও একেবারে নদীর ধার ঘেঁষে গেছে। এই সড়কও যে জলে ভেসেছিল, তার প্রমাণ সর্বত্র। পেশক রোড ঘুরে উঠল ১০ নং জাতীয় সড়কে। পেরোলাম তিস্তা ব্রিজ। দার্জিলিং পাহাড় ছেড়ে এলাম কালিম্পং পাহাড়ে। রেশিখোলা যাওয়ার আদত রাস্তা গ্যাংটকগামী  জাতীয় সড়ক ১০ দিয়ে। কিন্তু এই সড়ক এখন অনিশ্চয়তার পথ। কখন খোলা থাকে, আর বন্ধ থাকে, দেবা না জানন্তি…। তাই আমরা চললাম ঘুরপথে, কালিম্পং দিয়ে। কালিম্পং ছাড়িয়ে লাভামুখী রাস্তা ধরলাম। না, লাভা হয়ে নয়, তার আগেই বাঁ দিকের রাস্তা ধরব। একটু পরেই বাঁ দিকে উঠে গেল ডেলোর রাস্তা। কিছুক্ষণ পরেই চলে এলাম আলাগাড়া। সোজা বেরিয়ে গেল লাভার রাস্তা। আমরা চললাম বাঁ দিকে।

    পথের পাঁচালী। আমাদের দু’দিনের আবাস।

    ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের অনিশ্চয়তার জন্য পেডং হয়ে সিকিম যাওয়ার বিকল্প রাস্তাটি এখন যথেষ্ট জনপ্রিয়। এটাকেও সম্ভবত জাতীয় সড়কের রূপ দেওয়া হচ্ছে। যথেষ্ট চওড়া এবং এখনও অনেক জায়গায় কাজ চলছে। পেডং পেরিয়ে এক জায়গায় সিকিমে ঢোকার ছাড়পত্র তৈরি করানো হল। তার পর নদী পেরোতেই সেই ছাড়পত্র পরীক্ষা করা হল সিকিম পুলিশের তরফ থেকে। পরে বুঝেছিলাম এই নদীই রেশিখোলা। কিছুক্ষণ পাহাড়ের ঢাল বেয়ে পাথুরে এবড়োখেবড়ো পথ ধরে নেমে এলাম। ঘণ্টাচারেকের যাত্রা শেষ হল রেশির ধারে সেই রিসর্টে, যেখানে প্রকৃতি বসত করে আপনার সঙ্গে।

    লগ হাউস — শাখা প্রশাখা।

    দু’দিন ছিলাম রেশিখোলায়। প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে তোলা রিসর্ট। ছড়িয়েছিটিয়ে কটেজগুলো। আর প্রত্যেকটা কটেজের একটি করে নাম – পথের পাঁচালী, অপুর সংসার, গুপী বাঘা ফিরে এলো, শাখা প্রশাখা, ঘরে বাইরে ইত্যাদি। ডরমিটরির নাম চিড়িয়াখানা, লগ হাউসের নাম শাখা প্রশাখা। যেখানে খাওয়াদাওয়া হচ্ছে, সেই ঘরের নাম জলসাঘর। রিসর্টচত্বরে একটি খোলা জায়গায় রয়েছে সকালের চা, প্রাতরাশ ও সন্ধের স্যানক্স খাওয়ার জায়গা – নাম, খাইবার বাস। রয়েছে একটি দোলনা – নাম, সেদিন দু’জনে। যুগলের বসার জায়গা রয়েছে – সেটির আকার হৃদয়ের, তাই নাম রব নে বনা দি জোড়ি। কাঠের তৈরি একটি বসার জায়গা রয়েছে, কাঠের সিঁড়ি দিয়ে উঠে পৌঁছোতে হয় সেখানে, নাম চার মূর্তি। রিসর্টে ঢুকে ‘পথের পাঁচালী’তে মালপত্র রেখে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম। মন ভরে গেল। আপাতত পর্যটক প্রায় নেই বললেই চলে। রিসর্টচত্বরে আর রেশি নদীর ধারে বিচরণ করে দিনটা কেটে গেল। এখান থেকে কয়েকটা জায়গা গেলেই হয়, বিশেষ করে আরিতার লেক। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য, পূর্ণ বিশ্রাম।

    ‘জলসাঘর’-এর অন্দরে — সত্যজিৎ রায়ের বিভিন্ন সিনেমার ছবি দিয়ে সাজানো।

    দ্বিতীয় দিন দশ-বারো জনের একটি পর্যটকদল এল। দেখে মনে হল মা-বাবা এবং তাঁদের এক বা একাধিক সন্তান। সন্তানরা শিশু থেকে কিশোরবয়সি। দলটি রিসর্টে ঢুকল। সেই দলেরই দুটি শিশুকন্যা গোটা রিসর্টচত্বর দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করল। কত বয়স হবে — চার-পাঁচ! আমরা এক জায়গায় বসে ওদের নজর করছিলাম। ওরা এক একটা কটেজের সামনে যাচ্ছে আর কটেজের নাম পড়ছে জোরে জোরে — পথের পাঁচালী, অপুর সংসার, চিড়িয়াখানা, গুপী বাঘা ফিরে এলো, শাখা প্রশাখা, ঘরে বাইরে। ওরা নাম পড়ছে আর অবাক হয়ে যাচ্ছে — এ কেমন নাম! কাছেই ছিলেন ওদের মা। ওরা মাকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে তুলল — এগুলো কী নাম, কেন এরকম নাম ইত্যাদি ইত্যাদি। ওদের মা ধৈর্য ধরে সব বুঝিয়ে দিলেন — এগুলো সিনেমার নাম, সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা, সত্যজিৎ রায় কে ইত্যাদি। সুন্দর করে বললেন। ওরা মন দিয়ে শুনল। প্রশ্নও করল। প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। আমরা গোটা ব্যাপারটা উপভোগ করলাম। সত্যজিৎ রায় সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞানটুকু ওদের হয়ে গেল। শুধু কি কটেজ, ‘জলসাঘর’-এর ভিতরেও স্মরণ করা হয়েছে সত্যজিৎকে – তাঁর বিভিন্ন সিনেমার ছবির মাধ্যমে। যা-ই হোক, রেশিখোলার রিসর্ট কর্তৃপক্ষকে অসংখ্য ধন্যবাদ, যাঁরা এইভাবে কটেজের নাম রেখে পরোক্ষে শিক্ষার ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন, যে শিক্ষা ভোলার নয়।

    প্রকৃতির সান্নিধ্যে দুটো দিন কাটালাম। মন ভরে বিশ্রাম করলেম। গভীর তৃপ্তি নিয়ে চললাম আমাদের পরবর্তী গন্তব্যে – পাহাড় থেকে নেমে ডুয়ার্সের অন্দরে। (চলবে)

    ছবি: শ্রয়ণ সেন  

    আরও পড়ুন

    বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ১:  ধ্বংসের চিহ্নের মাঝেই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে পাহাড়

    বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ২: মিম থেকে ঘুরে এলাম নেপাল

    বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ৩: প্রতীক্ষার অবসান, অবশেষে দর্শন দিলেন তিনি

    The post বিপর্যয়ের পরে উত্তরবঙ্গে পর্ব ৪: প্রকৃতি যেখানে আপনার সঙ্গে বসত করে appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-blog/travel-stories/north-bengal-after-the-disaster-part-4-where-nature-stays-with-you/feed/ 0 120227
    পর্যটনের নবজাগরণে প্রাণ ফিরে পেল মানস জাতীয় উদ্যান https://www.bhramononline.com/travel-news/manas-national-park-gets-new-life-after-renaissance-of-tourism-2/ https://www.bhramononline.com/travel-news/manas-national-park-gets-new-life-after-renaissance-of-tourism-2/#respond Mon, 27 Oct 2025 06:24:02 +0000 https://www.bhramononline.com/?p=120219 অরূপ চক্রবর্তী, গুয়াহাটি: পর্যটনের নতুন মরশুম শুরু হতেই যেন আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে অসমের অমূল্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য — মানস জাতীয়

    The post পর্যটনের নবজাগরণে প্রাণ ফিরে পেল মানস জাতীয় উদ্যান appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    অরূপ চক্রবর্তী, গুয়াহাটি: পর্যটনের নতুন মরশুম শুরু হতেই যেন আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে অসমের অমূল্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য — মানস জাতীয় উদ্যান। সকালের কুয়াশা সরতেই সূর্যের আলো পড়ছে নদীর ধারে, ঘাসজমির ওপরে ঝিকমিক করছে শিশিরবিন্দু, আর দূর থেকে শোনা যাচ্ছে হাতির তূর্যধ্বনি। এমন মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে ভিড় জমেছে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের।

    শীতের শুরুতেই ইউনেস্কো ঘোষিত এই বিশ্ব ঐতিহ্য স্থলটি আবার হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রিয় গন্তব্য। রাজ্যের বন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মরশুমে মানসে দর্শনার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। শুধুমাত্র দেশীয় পর্যটকই নয়, দেশের বাইরের ভ্রমণকারীরাও এখন এই অরণ্যের টানে ছুটে আসছেন। প্রকৃতির কোলে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা যেন নতুন করে জাগিয়েছে মানুষের মনে ভ্রমণপিপাসা।

    মানস জাতীয় উদ্যান। ছবি Manas Tiger Reserve ‘X’ থেকে নেওয়া।

    বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বছর বন্যপ্রাণীর দর্শনও আগের তুলনায় অনেক বেশি, যা সংরক্ষণমূলক প্রচেষ্টার এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। গন্ডার, হাতি, বাইসন, হরিণ, বুনো মহিষ, এমনকি বিরল প্রজাতির পাখিদের অবাধ বিচরণ এখন মানসের দৈনন্দিন দৃশ্য। এক দিকে নদীর ধারে গন্ডারের দল চরছে নিশ্চিন্তে, অন্য দিকে অরণ্যের পথে দেখা মিলছে হাতির পাল। বহু পর্যটক জানিয়েছেন, তাঁরা প্রথমবারের মতো এত কাছ থেকে বন্যপ্রাণীর জীবনযাত্রা প্রত্যক্ষ করেছেন। মানস যেন প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ পাঠশালা, যেখানে মানুষ শেখে সহাবস্থানের মানে।

    মানসের বিশেষ আকর্ষণ জিপ সাফারি। ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া মাটির রাস্তা ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অরণ্যের গভীরে ছুটে চলা সেই যাত্রাই পর্যটকদের কাছে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। কেউ কেউ একে বলেছেন “নগর জীবনের কোলাহল থেকে মুক্তির শান্ত আশ্রয়”। কেউ আবার বলেছেন, “এমন অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না, প্রকৃতিকে দেখতে হলে এখানে আসতেই হবে।”

    মানস জাতীয় উদ্যান কেবলমাত্র একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি অসমের গর্ব, বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের সাফল্যের প্রতীক। একসময় এই অরণ্য ছিল শিকারি ও অবৈধ কাঠচোরের আশ্রয়স্থল। তার পর স্থানীয় সম্প্রদায় ও বন বিভাগের যৌথ প্রচেষ্টায় মানস ধীরে ধীরে ফিরে পেয়েছে তার প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য। আজ এখানকার গন্ডারসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, হাতির দল আবারও নিয়মিত চলাচল শুরু করেছে, এবং পাখিরা ফিরে এসেছে তাদের প্রিয় আবাসে। বন কর্মকর্তারা বলছেন, “মানস আজ শুধু একটি উদ্যান নয়, এটি এক জীবন্ত সাফল্যের গল্প। স্থানীয় জনগণ এখন সংরক্ষণের অংশীদার। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এই পুনর্জাগরণ সম্ভব হত না।”\

    মানসের অন্দরে। ছবি Manas Tiger Reserve ‘X’ থেকে নেওয়া।

    আসলে সংরক্ষণ কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, এটি এক সামাজিক চেতনা — আর মানস সেই চেতনারই প্রতিফলন। অন্য দিকে পর্যটকরাও এখন মানসকে দেখছেন এক বিশেষ অনুভূতির জায়গা হিসেবে। শুধু প্রকৃতি নয়, এই সফরে অনেকেই খুঁজে পাচ্ছেন এক নীরব শ্রদ্ধার প্রতিচ্ছবি— প্রয়াত সংগীতশিল্পী ও পরিবেশপ্রেমী জুবিন গার্গের প্রতি। জুবিনদা-র হঠাৎ চলে যাওয়া এখনও ভক্তদের হৃদয়ে গভীর শোকের রেখা এঁকে দিয়েছে। তাঁর গানে যেমন প্রকৃতির ছোঁয়া ছিল, তেমনই তাঁর জীবনেও ছিল অরণ্যের প্রতি এক অনিঃশেষ ভালোবাসা। অনেক পর্যটকই জানিয়েছেন, তাঁরা মানসে এসে যেন জুবিন গার্গের উপস্থিতি অনুভব করেছেন—এই বন্যপ্রাণের রাজ্যে তিনি যেন এখনও জীবন্ত।

    এক পর্যটক আবেগভরে বলেন, “আমরা এখানে এসেছি শান্তি খুঁজতে। জুবিনদা প্রকৃতিকে যতটা ভালোবাসতেন, মানসে এসে আমরা তা আরও গভীরভাবে বুঝেছি। হাতি, গন্ডার, আর দুটি ছোট্ট হাতিশাবককে খেলতে দেখে মনে হল প্রকৃতি নিজেই যেন আমাদের সান্ত্বনা দিচ্ছে। এই ভ্রমণ আমাদের কাছে শুধু আনন্দ নয়, এটি ছিল এক আত্মিক অভিজ্ঞতা।” এই আবেগঘন সংযোগই হয়তো মানসকে আলাদা করে রেখেছে অন্যান্য উদ্যানের থেকে। এখানে শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, আছে মানুষের মনের সান্ত্বনা, আছে শিল্প ও অনুভূতির মিলন। পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ বন দফতরের কাছেও এক আশাব্যঞ্জক বার্তা। তাঁরা বিশ্বাস করেন, এটি শুধু পর্যটনের নয়, সংরক্ষণেরও সাফল্য।

    মানসে গন্ডার দর্শন। ছবি Manas Tiger Reserve ‘X’ থেকে নেওয়া।

    মানস জাতীয় উদ্যানের পুনর্জাগরণে স্থানীয় সম্প্রদায়ের ভূমিকা আজ উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে সারা দেশে। অনেক গ্রামবাসী আজ গাইড, সাফারি চালক বা সংরক্ষণকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। তাঁদের আয়ের উৎস যেমন বেড়েছে, তেমনি প্রকৃতি রক্ষার মানসিকতাও শক্তিশালী হয়েছে। স্থানীয় শিশুদের মধ্যে সংরক্ষণের শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রাকৃতিক শিক্ষা শিবির। এর ফলে এক নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠছে যারা প্রকৃতিকে দেখছে বন্ধুর চোখে, শিকারের চোখে নয়।

    মানসের এই সাফল্য শুধু একটি উদ্যানের গল্প নয়, এটি অসমের পুনর্জীবনের গল্প। প্রকৃতি, মানুষ ও প্রাণী—তিনের মধ্যে সহাবস্থানের যে সূক্ষ্ম সম্পর্ক, মানস তার সবচেয়ে সুন্দর প্রতিচ্ছবি। গন্ডারের পদচিহ্ন, হাতির হাঁটার পথ, নদীর ধারে বসে থাকা এক জোড়া পাখি—সব মিলিয়ে এই অরণ্য যেন জীবনেরই এক উপাখ্যান। দিনশেষে সূর্য যখন পাহাড়ের পেছনে হারিয়ে যায়, তখন মানসের নিস্তব্ধতা যেন বলে যায় একটাই কথা—প্রকৃতির সঙ্গে বন্ধুত্বই মানবতার পরম শিক্ষা। আর সেই শিক্ষাই আজ মানুষকে ফিরিয়ে আনছে মানসের বুকে, বারবার, নতুন করে।

    আরও পড়ুন

    তাজ তাল কুটিরে উপকূলের স্বাদ! কলকাতায় ‘গোয়া হাই-টি সোয়ারি’ ও ‘পন্ডিচেরি–অ্যা স্টোরি অন দ্য প্যালেট’ আয়োজন

    ঝাড়খণ্ডের প্রথম ব্যাঘ্র সাফারি প্রকল্প চালু হতে চলেছে বেতলা জাতীয় উদ্যানের কাছেই

    The post পর্যটনের নবজাগরণে প্রাণ ফিরে পেল মানস জাতীয় উদ্যান appeared first on Bhramon Online.

    ]]>
    https://www.bhramononline.com/travel-news/manas-national-park-gets-new-life-after-renaissance-of-tourism-2/feed/ 0 120219